বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

bhoot ar awaaj

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Rafi Orton (০ পয়েন্ট)

X মধ্যরাত। গভীর ঘুমে আছি। ঘোমের ঘোরে আবছা টের পাচ্ছি, কে যেন কনুই দিয়ে গুতোচ্ছে। ফিসফিস করে বলছে, 'এই...এইই...আরে এইইই...'। ঘুম ভেঙ্গে যায়। দেখি আমার বউ বিড়ালের মতো গুটিসুটি হয়ে আছে। ঘাবড়ে গেলাম। বললাম, কি হয়েছে? বউ ফিসফিস করে বললো, 'চুপ, আস্তে কথা বলো।' আমিও ফিসফিস করে বললাম, 'সমস্যা কি? আরে ভূত। ধুত! -ধুত না, ভূত। খেয়াল করো আওয়াজ হচ্ছে! কান খাড়া করলাম। হুম, সত্যিই আওয়াজ হচ্ছে। কখনো টুং টুং টাং টাং, কখনো ঘরোর ঘরোর ঘরোর, কখনো ঠন ঠন ঠন। পৃথিবীতে ভূত আছে, এটা আমি বিশ্বাস করিনা। যে কোনো কারণেই শব্দ হতে পারে। কিন্তু বউ বললো, 'তুমি তো পুরো সাউন্ড পাও নাই। একটু আগে নূপুরের শব্দ পেয়েছি, মশলা বাটার শব্দ পেয়েছি।' আমি বললাম, 'সম্ভবত ভূতদের বিয়ে-শাদীর অনুষ্ঠান হচ্ছে। তাই নূপুর পায়ে দিয়ে নাচানাচি করছে। মশলা বেটে খাবার রান্না করবে। ওয়েট করো, একটু পর কান্নার শব্দ পাবা। ওটা হচ্ছে, 'বিয়ের সময় বিদায়বেলার কান্না।' বউ ক্ষেপে গেল, 'আমি ভয়ে মরে যাচ্ছি, আর তুমি ফাজলামো করো'? -ফাজলামো করছি না, ব্যাপারটি আন্দাজ করছি। কাহিনী বানাচ্ছো? তুমি ক্যামনে আন্দাজ করো, ভূত-টুথ জীবনে দেখছো? -ভূত দেখি নাই, টূথ দেখছি। -টূথ দেখছো মানে? যারা শব্দ করছে ওরা ভূত, আর ওই শব্দ শুনে এতরাতে যে ঘ্যানর ঘ্যানর করছে সে টূথ। আমার ভয় পাওয়াকে তুমি ঘ্যানর ঘ্যানর বললে? বললাম, একটু পর প্যানর প্যানর বলবো, তারপর চ্যানর চ্যানর বলবো। আমি ভূতের ভয়ে মরে গেলেও তোমার কিচ্ছু যায় আসে না, হুহ...। তুমি কম্বল মুড়ি দিয়ে কানে আঙ্গুল চেপে শুয়ে পড়ো। ভয় চলে যাবে। বউ তাই করলো, আমিও ঘুমানোর চেষ্টা করলাম। কিন্তু ঘুম আসছে না। কারণ বউ ফিসফিস স্বরে কি যেন বলতে শুরু করলো। সম্ভবত গুণ্ডা, পাষণ্ড, ফাজিল টাইপের গালি-গালাজ হবে। যেই চোখ লাগে, বউয়ের ফিসফিস শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যায়। সঙ্গে সেই ভূতের শব্দ তো আছেই। ঘরোর ঘরোর শব্দটা একটু বেড়েছে। তাড়পর ঘটাং শব্দ হলো। এরপর চুপ, কোনো শব্দ নেই। ওদিকে বউও ফিসফিস করতে করতে ঘুমিয়ে গেছে। দুই যন্ত্রনা মিটিয়ে আমি শান্তিতে ঘুমালাম। সকালবেলা বাড়িওয়ালা আংকেল বিশাল সাইজের একটা হাসি দিয়ে আমাদের বউ-জামাইকে জানালেন, 'ছয় তলায় থাকো তো, কিছু টের পাও না। রাতে নীচতলায় চুরি হইছে। বাসায় কেউ আছিল না, এই সুযোগে গ্রিল কাইট্টা ঢুকছে।' বলেই আংকেল চলে গেলেন। আমি বউয়ের দিকে তাকিয়ে বললাম, 'ছিঃ, ভূতও আজকাল চুর হয়ে গেছে'। আমার বউ বিস্ময় নিয়ে প্রশ্ন করলো, 'ওটা তাহলে গ্রীল কাটার সাউন্ড ছিল?' এখন তো তাই মনে হচ্ছে। আমার বউ লজ্জায় মাথা নিচু করে ফিক করে হেসে দিলো। তারপর ছুটে চলে গেলো। বউ এখন ধুমধাম রান্না-বান্না করছে। রান্না শেষ হলে সমস্ত খাবার আমার সামনে এনে রাখবে। তারপর আমার প্লেটে খাবার দিয়ে গতরাতের জন্য ইনিয়ে-বিনিয়ে সরি বলতে থাকবে। এটা ওর স্বভাব। সরাসরি সরি বলতে পারেনা, আয়োজন করে সরি বলে। আয়োজন করে সরি বলার রহস্যটা আমি আজও জানিনা। জানতে চাইও না। কিছু কিছু রহস্যকে রহস্যের মধ্যে রাখাই ভালো। কি বলেন আপনারা?


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ bhoot ar awaaj

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now