বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভৈরবী ৮

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X ভৈরবী শ্যামা এখন ষষ্ঠী আচার্জীর নির্দেশেই লোক শিক্ষে দিয়ে থাকেন l অঘোরনাথের ঘটনাটির পরে বাবাজী খুব চুপচাপ হয়ে গেছেন l অঘোরনাথ অবশ্য আর আখড়ায় ফেরেনি l শোনা যায়, ছয় মাস হাজত বাসের পরে, যথেষ্ট প্রমানের অভাবে তার দোষ মকুব হয়ে যায় এবং সে হয়ত যে স্থান থেকে এসেছিল সেখানেই ফিরে গেছে l বাবা ওর নাম কাউকেই মুখে আনতে দেন না আর l একটা বিরাট বড় দু:স্বপ্নের মতই সবাইকে ভুলে যেতে আদেশ করেছেন ওই ঘটনাটি l দিনে দিনে মায়ের মন্দিরের শ্রী বৃদ্ধি ঘটেছে l যাঁরা এই শ্মশানের তারা মায়ের জাগ্রত রূপটির দ্বারা উপকৃত হয়েছেন তাঁরা একত্রিত হয়ে মায়ের ভোগের এবং নাম সংকীর্তনের এক মস্ত দালান নির্মান করিয়ে দিয়েছেন l সেইখানে পূজা পাব্বনে ভোগ বিতরণ হয় l প্রচুর মানুষ প্রসাদ পান l এই সবের দায়িত্বে এখন আখড়ার প্রধান মা শ্যামl ভৈরবী l বুক দিয়ে আগলে থাকেন সমস্ত কিছু l বাবাজীর যত বয়স বাড়ছে শরীর ক্ষয় হচ্ছে l অত দায়িত্ব আর পারেন না নিতে l শ্যামা মা তাঁর আদেশ অনুযায়ী চলেন সর্বদা l রোজ দুপুরবেলা গ্রামের বউ ঝিরা হাতের কাজ কর্ম সেরে এসে হাজির হন, ঠাকুর দালানে; সেইখানেই বসে শ্যামা ভৈরবীর পাঠশালা l মেয়েদের সই করতে শেখান, অক্ষর পরিচয় শেখান, বই পড়তেও শেখান ধীরে ধীরে l বাবাজী বলেন, স্ত্রী জাতি হলেন শক্তি, তাঁরা অবলা হয়ে থাকলে চলবে কেন ? তাঁরা যাতে স্বয়ং সম্পূর্ণ হতে পারেন, কেউ তাঁদের ঠকাতে না পারে, সেই শিক্ষা দেন শ্যামা মা l তাঁর মনে খুব আনন্দ হয় l প্রশান্তি আসে এই কাজে l এতদিনে তাঁর বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেখা, কাজের লেগেছে l এ ছাড়াও হাতের কাজ যা জানেন সব মেয়েদের বউদের শেখাতে থাকেন l কার্পেট এর আসন বোনা, সুঁচের কারুকাজ, গরম জামা বোনা এইসব l বড়ি পাপড়, তৈরী, রান্না করা, এইসব নিয়েও অনুশীলন হয় l গ্রামের মেয়েরা খুব উত্সাহিত l দুপুরবেলা ঘুমিয়ে না নষ্ট করে, মায়ের কাছে আসা, এই সব শেখা, এ তো তাদের পরম ভাগ্য l এ ছাড়াও আছে লোক শিক্ষা, ছোট ছোট গল্পের মাধ্যমে, জীবন বেদ শেখান শ্যামা ওদের l কি জানি কখন এই সব মনি মুক্ত কাজে লেগে যায় l এ সব তাঁর ঠাকুরমা, দিদিমায়ের, মায়ের কাছেই শেখা l তদুপরি আছে আচার্জীর শিক্ষাদান l বেশ ভালই চলে শ্যামা ভৈরবীর এই পাঠ মন্দির l সংসারে কোনো জিনিসপত্র নষ্ট না হয়, সেই সব শিক্ষা বড় কার্য্যকরী l ছোট ছোট মেয়ে বউরা কত আর জানে l তাই শ্যামা মা তাদের সেখান কেমন করে আলুর খোসা ভাজা করে, লাউএর খোসা ভাজা খেতে কত ভালো লাগে l এই সব না ফেলে দিয়ে যত্ন করে তুলে রাখলে একটা দিব্য পদ রান্না হয়ে যায় l পাটের যে অংশটি লম্বা দড়ির মত, ফেলে টেলে দেওয়া হয়, সেই গুলি পুরনো কাপড়ে বসিয়ে সেলাই করে নিলে, কেমন পাটের পা-মোছা বা আসন হয় তার থেকেই l শ্যামা মা শেখান – ‘মা রে সব জিনিসের ব্যবহার শিখে রাখতে হয়, কোনো কিছুই নষ্ট করতে নেই l খড় টুকুও গরুর খাদ্য হতে পারে l যে মেয়ে যত শ্রীমতি সে ততই ছোট ছোট ব্যাপার দেখে শুনে কাজে লাগে আর তুলে রাখে l’ সেলেট পেন্সিল নিয়ে বউ ঝি যারা আসে তারা হা করে শোনে l ভৈরবী মায়ের কি অদ্ভূত শক্তি l সবাইকে একত্রিত করেন কেমন, কেমন শেখান আবার মাঝে মাঝে নাড়ু, তক্তি বানিয়ে রাখেন l একটা একটা দেন হাতে l ওরা আনন্দ করে খায়, হেসে ঢলে পরে আনন্দে আর শ্যামা মায়ের মুখখানি আনন্দস্বরূপা মহামায়া হয়ে জেগে থাকে সবার মাঝে l পাগলি মা এসে বসেন l মাথার ঠিক থাকলে দুটো কথাও বলেন ভালো মত , গান ধরেন চমত্কার – ‘আমার মায়ের পায়ের জবা হয়ে ওঠ না ফুটে মন ‘ আর মা ওদের শেখান শক্তির গান, আত্মসম্মান আত্মমর্যাদার গান , রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান, কাজী নজরুলের গান – ‘ সংকোচের বিহ্বলতা নিজেরে অপমান, সংকটের কল্পনাতে হয় না ম্রিয়মান ‘ ‘ চল চল চল, উর্ধ গগনে বাজে মাদল, নিম্নে উতলা ধরনীতল … অরুণ প্রাতের তরুণদল’ মেয়েরা গলা মেলায় – চল রে চল রে চল ……. এ একা আনন্দঘন পরিবেশ l হিংসা দ্বেষ রহিত এমন এক নির্মোহ নির্বেদ আবহই ছিল বাবাজীর বহুদিনের স্বপ্ন l শ্যামা ঠাকুরানীর একান্ত পরিশ্রম ও উত্সাহে যা এক আনন্দ নিকেতনে পরিণত হয়েছে l বাবাজী বহুদিন জানেন এ এক অসামান্য নারী, ওই শ্যামা ভৈরবী, যাঁকে প্রথম দর্শনেই চিনে ফেলেছিলেন ষষ্ঠী আচার্জী l শ্যামার উদ্দেশ্যে মন্ত্রোচ্চারণ করতে থাকেন তিনি – নম : দেব্যই মহা দেব্যই শিবায়াযই সততম নম : নম: প্রক্র্ত্যই ভদ্রাযই নিয়তা প্রনতাহ সমা তাম


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভৈরবী ৮
→ ভৈরবী ৭
→ ভৈরবী ৬
→ ভৈরবী ৪
→ ভৈরবী ৩
→ ভৈরবী ২
→ ভৈরবী ১
→ ভৈরবী ৫

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now