বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভৈরবী ৭

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X তন্ত্র সম্পর্কিত পাঠের ২য দিন, সেই সোনাঝুরি গাছের তলায়, বাবাজীর আসন পাতা হয়েছে l দুপুরের রোদ পড়ে আসছে l হেমন্তের শেষ বেলা, একটু একটু ঠান্ডা বাতাস বয় l ভৈরবী শ্যামা বাবার দিকে মুখ করে বেদির নিচে একটি অজিনের উপর আসীনা l বাবাজী আজ জানাবেন, “অবিদ্যা কি?” ষষ্ঠী আচার্জী তাঁর গমগমে গলায় বলতে শুরু করলেন l ‘শোন রে মা, তন্ত্র সাধনা আসলে দুই রকমের, বিদ্যা আর অবিদ্যা রূপী সাধনা l নিজের কুন্ডলিনী শক্তির জাগরণে, যে অপার আনন্দময় অনুভূতি লাভ করেন একজন মানুষ, তাই বিদ্যা রূপ সাধনা l এই বিদ্যা, শুধুমাত্র জীবনের উন্নতিকল্পে নিয়োগ করা হয়ে থাকে l অবিদ্যা সাধনা হলো সেই সব নিকৃষ্ট মানের সাধনা, যার ফলে, অনেক স্বার্থ সিদ্ধি হয় এবং নানারকম আভিচারিক কাজকর্ম করা হয়ে থাকে l তন্ত্র সাধনার একটা বিরাট হিড়িক চারিদিকে l তান্ত্রিকরা সবাইকে বশীকরণ করতে পারেন, এমন কথা প্রচলিত আছে l এতে প্রতারণাই বেশি l এতেই বিশ্বাস নষ্ট হয় l তন্ত্র বিদ্যা এক প্রাচীন বিজ্ঞান l আর তন্ত্র জানতে গেলে বিজ্ঞানের সাহায্য দরকার l এর অন্য কোনো পদ্ধতি নেই, সুতরাং যারা মানুষের বিশ্বাস নিয়ে ছেলেখেলা করে, ধিক্কার সেই সমস্ত ভন্ড লোভী মানুষদের l এই সমস্ত তান্ত্রিকদের ভন্ডামি থেকে দুরে থাকার দরকার আছে l’ বাবাজী এইসব বলে খুব ঘন ঘন নিশ্বাস ফেলতে লাগলেন l শ্যামা জানেন, বুজরুকি প্রতারণা বাবার স্বভাব বিরুদ্ধ, তিনি অত্যন্ত কঠোর তপস্বী l তাই এইসব আলোচনা করতেও তাঁর মানসিক ক্লেশ ও শারীরিক উদ্বেগের সৃষ্টি হয় l কাছে, ঘটিতে রাখা মিছরির সরবত খেয়ে আবার বাবাজী শুরু করলেন ব্যাখ্যা l ‘যে তান্ত্রিক পৃথিবীর সকল প্রাণীর ভালো চান, জগতের যে কোনো প্রাণীর অল্প দু:খ কষ্টেও তার হৃদয় বিগলিত হয় l তিনি বিশ্বের সাথে একাত্ম হয়ে সেই দু:খকে উপলব্ধি করতে পারেন l সুখ দু:খে তিনি সমদর্শী l তিনি জানেন শত্রুর বিনাশ কোনো তন্ত্র মন্ত্র বা অস্ত্রতে হয় না l নিজেকে পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে হয় l তন্ত্র বিদ্যা স্বয়ং মহাদেব মহাকাল ভৈরবের প্রসাদ স্বরূপ l মহাদেব এই বিদ্যা দানে কোনো অর্থ নেবেন কি ?’ বাবাজী বলে চলেন, ‘বুঝলি মা, তন্ত্র কোনো ঠুনকো ব্যাপার নয় l এই মহাবিদ্যা যদি সঠিক ভাবে আচরণ করে চলা যায়, জীবন ও জগত কে বুঝতে পারে মানুষ l তার চোখের থেকে অজ্ঞানতার সমস্ত আবরণ উন্মুক্ত হয়ে যায় l আর পৃথিবীর সকল রহস্য উন্মোচন হয় l এর ফলে সে অন্ধকার থেকে আলোকে আসে – তোকে তো আগেই বলেছি, অসতো মা সদগময়, তমস মা জ্যোতির্গময় ,,,, মনে আছে তো? শ্যামা মাথা নাড়লেন, তাঁর মনে আছে, তিনি তো দু বেলা এই প্রার্থনা করেন l এই পথ যে আলোর পথ তা তিনি বেশ টের পেয়ে গেছেন l’ বাবা বলে চললেন ‘এই তন্ত্র প্রনেতা মহাজ্ঞানী হলেন কাল ভৈরব দেবাদিদেব মহাদেব যিনি কৈলাসের সর্বজ্ঞ বিজ্ঞানী l তন্ত্র মানেই কিন্তু শরীর সম্বন্ধীয় নয় l এই ধারণা ভুল l তন্ত্র হচ্ছে সমস্ত জাগতিক ব্যাপারস্যাপার কে ব্যাখ্যা করে জগত সম্পর্কে আমাদের যত ভুল ধারণা গুলি সঠিক ভাবে উপস্থাপন করা l এই অজ্ঞানতা থেকে উদ্ধার মানুষকে মুক্তি দেয়, ত্রান করে l সেই পঞ্চ ইন্দ্রিয় সদাধিবের পঞ্চ মুখ যার জন্য তাঁর অপর নাম পঞ্চানন l আর এই পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়েই আমরা এই জগত সম্পর্কে সব জ্ঞান আস্বাদন করে থাকি l’ বাবাজীর সবে সবে অবিদ্যা পাঠ শেষ হয়েছে, এমন সময়ে দুরে কোলাহল শোনা যায় l বাবা কানাই বাদলকে পাঠান দেখে আসতে l কিন্তু না, গোলমাল এদিকেই আসছে মনে হয় l গ্রামের লোক সব, কাকে যেন একটা বেঁধে আনছে l আর সেই লোক রীতিমত হাত পা ছুড়ছে, ঘুষিও চালাচ্ছে এদিক সেদিক l কাছে আসতেই ব্যাপারটাও পরিষ্কার হলো, লোকটি আর কেউ নয়, আমাদের অঘোরনাথ বাবাজী l ষষ্ঠী আচার্জীর দরবারে এসে আর্জি জানালে লোকজন l ‘বাবাজী, বেশ কয়েকদিন থেকেই বুঝতে পেরেছিলাম কিছু বলিনি l এই সাধু আমাদের গ্রামের ভেতর ঢুকে, বউ ঝি দের দেখে খারাপ অঙ্গভঙ্গী করত l’ হুঙ্কার ছাড়লেন ষষ্ঠী আচার্জী – ‘শুওরের বাচ্চারা, এখন জানাতে এসেছ, আমাকে আগে বলনি কেন ?’ ‘বাবাজী ভেবেছি শুধরে যাবে, আমরা ভয় ও দেখিয়েছি আপনাকে বলে দেব l’ অঘোর নাথের কোনো বিকার নেই, সে গোজ হয়ে বসে বসে বাবার দিকে ঠায় তাকিয়ে l শ্যামা ভৈরবী প্রমাদ গুনছেন, কি জানি বাবাজী কি করে বসবেন l আজ না নর বলি হয়ে যায় মায়ের মন্দিরে l বাবার চোখ ভাঁটার মত জ্বলছে l রাগে অপমানে বাবা কাঁপছেন রীতিমত l শোনা গেল, অঘোর নাকি ওই গ্রামের কোনো বউ এর সাথে খারাপ সম্পর্ক স্থাপন করেছে, ধরা পড়ায় বউটি আজি দুপুরে আত্মঘাতী হয় l তার ফলে তার বাড়ির লোকেরা অঘোরকে খুঁজে বের করে ধরে এনেছে l বাবাজী ব্যাপারটা বুঝে নিতে মানুষজনের সাথে চললেন গ্রামে l অঘরকে পাহারা দেবার ইশারা করে গেলেন হারু বাদলদের, শ্যামা কে বললেন কড়া নজর রাখতে l বাবাজী ফিরলেন অনেক রাতে, অঘোরনাথ তখন নেশার ঘোরে আছন্ন l এসেই মায়ের মন্দিরে ঢুকে, আকুল হয়ে কাঁদতে লাগলেন l খালি বলতে লাগলেন – ‘এ যে ঘোর অবিদ্যা মা, এ আমার কি করলি … আমার শিষ্য হয়ে আমার মুখ ডোবাল এমন করে …’ অত বড় পর্বত প্রমান মানুষটিকে এমন ভাবে ভেঙ্গে পড়তে আখড়ার সবাই নিশ্চুপ হয়ে রইলো l ভুলুও চুপ l কেবল পাগলি মা কোত্থেকে এসে গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে বলতে লাগলো, ‘তোমার কর্ম তুমি করেছ বাপ, ফল এর হিসেব করে কি করবে … জগতের কোনো কিছুই যে তোমার হাত নয় বাবা l যাও উঠে পড় খাও দাও …’ ভোর হতে না হতেই পুলিশের গাড়ি এলো আখড়ার দরজায় l অঘোর নাথ কে কোমরে রশি বেঁধে নিয়ে চলল l তাতেও সে বোধ হীন … ফ্যাল ফ্যাল করে তাকাতে লাগলো চারিদিকে l শ্যামার সম্যক জ্ঞান হলো অবিদ্যা কি, অবিদ্যা কিসে ? যে বউ আত্মঘাতি হয়ে প্রাণ দিল, অবিদ্যা তো তার ও l মানুষের সত্ব্ব গুনের অভাব অবিদ্যা …. মাথার মধ্যে বসে গেছে শ্যামার l কিন্তু তবু মনে হতে লাগলো, এমন না হলেই হত … প্রায় ৫ বছরের সাধনা অঘোরনাথ এক লহমায় চূর্ণ করে ফেলল l মানুষের মন, না মতি l বাবাজী কোন ভোরে উঠে বেরিয়ে গেছেন বনে l তিনদিন তাঁর দেখা নেই, বোধহয় প্রায়:স্চিত্ত করছেন শিষ্যর ভূলের জন্য l শশ্মানএ অবশ্য চিতার বিরাম নেই l দিবারাত্র বহ্নিমান ওই চিতা জ্বলেই চলেছে, জ্বলেই চলেছে l সব কিছুর মাঝে মৃত্যুই যে একমাত্র সত্য, তা যেন প্রমান করে দিচ্ছে চোখে আঙুল দিয়ে l মহা দেবম মহা আত্মানম মহা ধ্যানম পরায়ান্নম মহা পাপ হরম দেবম মকর্য নম নম:


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভৈরবী ৮
→ ভৈরবী ৭
→ ভৈরবী ৬
→ ভৈরবী ৪
→ ভৈরবী ৩
→ ভৈরবী ২
→ ভৈরবী ১
→ ভৈরবী ৫

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now