বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এদিকে অঘোর নাথের শিক্ষা দীক্ষা সব চলছে নিয়মমাফিক l বাবাজীর কথার একটু অবাধ্য হলেই উনি তিরষ্কার করে আর কিছু রাখেন না l অঘোরনাথ এখন অনেক বশংবদ হয়েছে l প্রথম ২১ দিন মৌনীব্রত ধারণ করে সে সমস্ত আচার বিচার পালন করেছে l বাবাজী তাকে মন্ত্র দীক্ষা দিয়েছেন l কপোলএ কারণ বারি পান, শব মাংস ভক্ষণ, এই সব চলছে ইদানিং কালে l এ সব বাবাজী ছাড়া আর কারো সামনে নয়, তবে শ্যামা এইসবের খেয়াল রাখেন l তিনি জানেন কখন কি হয় l আরো একটা ব্যাপার, শ্যামা খুব লক্ষ্য করছেন তাঁর নিজের মধ্যে l অনেক কিছু তিনি আগের থেকে বুঝতে পারেন, মানুষ চিনতে পারেন, কোনো কোনো সময় ভবিষ্যত দেখতে পান l বাবাজী কে বলতেই, তিনি হঠাত খুব রেগে উঠলেন, বললেন, ‘মা এই সব ছোট মোট ব্যাপারে এক্কেবারে ভুলিস না ; এ সব প্রলোভন l ভোজবাজির প্রলোভন এ পথে এমন অনেক থাকবে l এগুলি কে বলে সিদ্ধাই, এতে যে সাধু মজে যায়, সে এসব ছেড়ে বেরোতেও পারে না, এসবের উর্ধেও উঠতে পারে না l শেষ কালে, তার বিনাশ হয় l কোনো ছোট জাদু, ভেলকিবাজিতে মজবি না l তোর অনেক বড় কর্ম আছে সামনে, এগিয়ে যা l তারপর থেকে আর শ্যামা কিচ্ছুটি বলেন না l প্রয়োগ ও করেন না কারো উপর l তবে তিনি বেশ বোঝেন, এ সব হলো চক্র গ্রন্থীর উন্মোচনের সুফল l ক্রমাগত নাম, মন্ত্র, যন্ত্র, তন্ত্রের সাধনে এই উন্নতি ঘটে l কুণ্ডলিনী আজ্ঞা চক্রে উঠলে বিভিন্ন ঈশ্বরীয় বিষয় দর্শন হয় l
অঘোরনাথকে আজকাল ঠিক মানুষ মানুষ লাগে না l যেন, এক প্রাগৈতিহাসিক যুগের ভয়ংকর প্রাণী ইতিহাসের পাতা থেকে উঠে এসেছে l এধারে সে আসে কম, থাকে ওই দুরে নদীর মোহনার কাছে l সেখানেও শ্মশান বিস্তৃত l যাঁরা সতকার করতে পারেনা ঠিক মত, ওখানে সব ফেলে রেখে চলে যায় আর সেই শবের সত্কার করে অঘোরনাথ l বাসী পচা শব দেহ, মল, মুত্র ও নাকি ফল মূল ভেবে, কাল ভৈরবের প্রসাদী ভেবেই খায় l কানাই আর হারু জানায় l বাদল ভয়ে ওদিকে যায় না l মাঝে মাঝে অমাবস্যার রাতে অঘোর নাথের অট্টহাসি শোনা যায় – হা হা হা হা হা হা হা হা … সেই হাসিতে যেন মহাকাল ভৈরবের পূজার বেদী কেঁপে ওঠে … আর ষষ্টি আচার্জী তাঁর গমগমে গলায় ঘোষণা করেন – ওই মহাকাল ভৈরব জেগেছে l
ওম সর্প -রাজায়া ভিদ্মাহে
পদ্মা হাস্থায়া ধিমাহী
থান্ন ভাসুকি প্রাচদায়াথ
শিবানন্দ রূপা ….
শিবহাম
শিবহাম
সেদিন হলো কি, এক ভীষণ কান্ড ঘটল l দুপুর বারোটা l ঠা ঠা রোদ্দুর মাথার উপরে l ভৈরবী শ্যামা সবে মা তারার ভোগ মন্দিরে দিয়ে এসেছেন l অপেক্ষা শুধু ষষ্ঠী আচার্জীর এসে মা কে নিবেদন করবেন সেই ভোগ l ভোগ সমাপন মহাকাল ভৈরবের মন্দিরে l এমন সময় হই হই শুনে শ্যামা বেরিয়ে আসেন l সেই পাগলিl উঠে গিয়ে মন্দিরে উবু হয়ে বসে দু হাতে মায়ের সেই ভোগ মাখা খাচ্ছে l হারু কানাইরা রই রই করে তাকে মারতে উঠেছে l ষষ্ঠী আচার্জী ও খুব ক্রুদ্ধ l পাগলীর উপর দেহে বস্ত্র নেই l কাপড়টা কোনো মতে পেঁচানো দেহে l শুকনো স্তন ঝুলে পড়েছে l তার মাথা ন্যাড়া l সম্প্রতি উকুনের জ্বালায় শ্যামাই নাপিত ডেকে মাথা ন্যাড়া করেছেন, অনেক আপত্তি সত্তেও ; তাতে ডগ্ডগ করছে সিন্দুর, কোটরাগত চক্ষু দুটি খেতে খেতে যেন ঠেলে বেরিয়ে আসছে l কিন্তু শ্যামা ঠাকরুন দেখলেন এক অবাক দৃশ্য l স্বয়ং তারা মা যেন সেই ভোগ খাচ্ছেন l ছুটে গেলেন তিনি l বললেন ‘বাবা পায়ে ধরছি, ওকে খেতে দিন আমি আবার রেঁধে দেব … দেখছেন না, ও যে মা….’ জড়িয়ে ধরলেন শ্যামা পাগলি কে – দুই চোখে তার অশ্রু, বললেন, ‘খা মা .. প্রাণ ভরে খা… ওরে তোর মধ্যেই যে তিনি বিরাজ করছেন রে l’ বাবাজীও আপ্লুত, দরবিগলিত চোখে বললেন … ‘মা গো তুই যে আজ আমার থেকে বড় সাধক হলি মা…. মানুষের মাঝে সেই চিন্ময়ী চিদানন্দরুপা কে দর্শন করেছিস তুই …. কজন পারে এমন …… যাহ, তুই তন্ত্রসিদ্ধ হয়েছিস … .আর কোনো রকম সিদ্ধাই এর তুই ধার ধরিস না…. প্রাণীর মধ্যে যে ঈশ্বর দর্শন করে, ভালো বাসতে পারে, ঈশ্বর জ্ঞানে সেবা করে…. সেই যে পরম যোগী রে l’
এই সব বলে ষষ্ঠী আচার্জী এক অদ্ভূত কান্ড করে বসলেন l যেখানে শ্যামা ভৈরবী জড়িয়ে ধরেছিলেন পাগলি মা কে, প্রসাদ খাবার সময়ে, ঠিক সেইখানে জবাফুলের মালা পরিয়ে পুজো করতে লাগলেন সেই দুই নারীকে l বললেন ‘মা কৃপা কর l এ শক্তির জাগরণ হয়েছে ; এর মধ্যেই তোমার প্রকাশ মা, দয়া কর, ভক্তি দাও শক্তি দাও, মা গো l’
আর মন্ত্র ধ্বনিত হলো তাঁর মেঘ-নিন্দিত কন্ঠে –
যা দেবী সর্বভুতেষু মাতৃ রুপেন সংস্থিতা
নমস্তস্যই নমস্তস্যই নমস্তস্যই নম: নম: ll
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now