বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অঘোরনাথ লোকটা কেমন যেন ছোকছোকে গোছের, বেড়ালের মত l সেই প্রথম দিন থেকে লক্ষ্য করে আসছেন শ্যামা ঠাকরুন l তবুও ভৈরবীর যা ধর্ম, অন্তরের ভালবাসা দিয়ে সবাইকে আপন করে নেওয়া, তাই করেন শ্যামা, অন্যথায় বাবাজী রাগ করবেন l বাবাজী মানুষটিকে কাছে বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ সেরেছেন l খুব যে তৃপ্ত হয়েছেন উত্তরে, তা নয়, খালি মুখে বলেছেন – ‘বেটা তোকে অনেক শুদ্ধি করতে হবে রে, এ পথ বড় দুর্গম l’ মাথা নাড়িয়ে নাড়িয়ে হেসেছে মিচকে অঘোরনাথ l বলেছে, ‘যো হুকুম মালিক’ l বাবাজী তাকে একটা নর করোটি খুঁজে আনতে হুকুম করেছেন l যেখান থেকে পায়, একটি পূর্ণ সুন্দর মানুষের মাথার খুলি খুঁজে আনতে হবে অঘোরনাথ কে l ওই করোটি বা কপোলই সব, ওতেই খাওয়া দাওয়া, রান্না, সূচী কাজ করা, স্নান…. সব সব l ওই কপোল একজন অঘোরীর একমাত্র সম্পত্তি l না, না তাও সেটা সম্পূর্ণ ভাবে অঘোরীর নয়, সেটা হলো মহাকাল শিবের জিনিস, শুধুমাত্র ব্যবহারের জন্য তার কাছে থাকবে l এটা অঘোরনাথের প্রথম কাজ l তিন দিন ঘুরে ঘুরে একটি নর করোটি এনে হাজির সে l বাবা দেখেই নাক সিটকেছেন … ‘ইহ এতে কি হবে রে, একে ব্যবহারের যোগ্য কর l ঘষে মেজে এর খপরী থেকে মাল মসল্লা বের করে একে বাটির মত চকচকা করে নে, তবে, না তাতে কাজ হবে l’ অঘোরীর শিক্ষাকাল বার বছরের তার মধ্যে প্রথম ২১ দিন কঠোর শিক্ষা l সে সময় কেউ যদি ভীত হয়ে পিটটান দেয়, তবে তো তার হয়েই গেল l স্নান সেরে আসে অঘোর l এ কয়দিনে কপোলটি মেজে ঘরে ঝকঝকে করে ফেলেছে সে l নাহ কাজের আছে ছেলেটি, ভাবে শ্যামা l হয়ত পারবে, দেখাই যাক l
দেখা তো অনেক কিছুই গেল l আমরা ফিরে যাই সে তন্ত্র সাধনার রাতে l সেই যে যেইদিন শ্যামা ঠাকরুন পাঁজা পাঁজা রুটি করছিলেন সেইদিন l বিকেল তিনটে নাগাদ হুড়মুড় করে এসে পড়ল তান্ত্রিক আর ভৈরবীর দল l বাবার চরণে প্রণিপাত, এমনকি সাষ্টাঙ্গে প্রণিপাত করলো শ্যামা ভৈরবীকেও l দুই জন ভৈরবী আর জনা পাঁচেক তান্ত্রিক l বয়স সব চল্লিশের এধারেই মনে হলো l আজ অমাবস্যার নিশীথে পূজায় বসবেন ষষ্ঠী আচার্জী আর এদের তন্ত্র সাধনায় দীক্ষিত করবেন তিনি নিজে l এদিকে অঘোরনাথের দেখা নেই l মানুষ জন হইচই সে পচ্ছন্দ করে না l গেছে কোন চুলোয় l রাত্রি মধ্যযামে যখন হোমএর শিখা লকলকিয়ে উঠেছে শ্যামা ভৈরবী ঘরে ধ্যানএ l আজ তিনি বাইরে যাননি l বাবার আদেশ l অনেক অনেক রাত বড় ভয়াবহ, নি:সঙ্গ l সে সব রাতে পেচক, শিবাকুল গৃধ্নু রা শ্মশান ছেড়ে দুরে থাকে আপন ডেরায় l রাতের কাল নিকষ তমিস্রা ভেদ করে রোহিনী, স্বাতী, মৃগশিরারা কেউ বেরিয়ে আসেন না l
শুধু শ্মশান জেগে ওঠে l মৃতদেহের ঘাটতি থাকে না সেই রাতে, একটা যায়, আর একটা আসে l ধুনির আগুন জ্বলতে থাকে নিরন্তর l চারিদিকে শুধু শোনা যায় ষষ্ঠী আচার্জির ভৈরব কন্ঠ l বাদল, হারু, কানাইরা ঘরেই থাকে সেই রাতে, মায় ভুলু কুকুরটা পর্য্যন্ত l শুধু আজ রাতে শ্যামা ঠাকরুন দরমার জানলা দিয়ে উঁকি দেন বাইরে, বাবাজীর হাজার নিষেধ সত্তেও l ষষ্ঠী আচার্জী পুন: পুন: উচ্চারণ করতে থাকেন –
শান্তম পদ্মাসানাস্থাম শশীধারামাকুতাম
পন্চাভাক্ত্রাম হ ত্রিনেত্রাম্হ শুলম .হ ভাজ্রাম্চা খোদ্গাম . হ
পরশুমাভায়াদাম হ দক্শাভাগে মহানতম
শিবানন্দ রূপায
শিভহাম
শিভহাম
শিভহাম
সেই দুর্জয় তান্ত্রিকের দল তখন নর কপোল থেকে সুরা পানে ব্যস্ত l তারা আচার্জী কে পূজার্চনা করছে আর কারণ পান করছে মহা উল্লাসে l আচার্জী স্থীর, কখনো দাঁড়িয়ে, কখনো বসে l তার দুই চক্ষু রক্ত জবার মত লাল l খর্পর্ধারিনি, নৃমুন্ডমালিনী দেবী স্বয়ং তাঁর শরীরে আজ অবতীর্না l অপরদিকে জটাজুটধারী মহাকাল ভৈরব তাঁর মাঝে l বম ববম ভোলে নিনাদে কেঁপে উঠছে কেবল দশদিক l একই ভাবে দুই ভৈরবী ও সুরা পানে মত্ত l তারা সব্বাই বিবস্ত্র, কিন্তু ইহলোকের বাহ্যিক চেতন তাদের কারো মধ্যেই যেন নেই l শ্মশানে যেই দিকে এই হোম যোগ জাগ হয়, সেখেনে বাইরের লোক আসতে পারে না l এই সব দৃশ্য সবার জন্য প্রশস্ত নয় l এর পর শ্যামা দেখতে পেলেন, ভৈরবীরা একে একে এক একজন ভৈরবের কোলে আসীনা হলেন l সঙ্গমে লিপ্ত হলেন তারা l ষষ্ঠী আচার্জীর বাহ্যিক জ্ঞান লুপ্ত, তিনি হাসছেন, কাঁদছেন, মা মা করে আকুল হয়ে ডাকছেন কখনো আর এই রতি ক্রীড়া, যা সৃষ্টির আদি কথা, কুল কুন্ডলিনী জাগরণ হয়েই চলেছে সাধক্দলের মধ্যে l রক্তিম অগ্নিশিখা বিদীর্ণ করছে শ্মশানের বক্ষ, আকাশ, বাতাস l নর নারীর শীতকারে ও চিত্কারে বাতাস আকুল হয়ে উঠেছে l এই ষষ্ঠী আচার্জীকে শ্যামা চেনেন না l যেন এক অতিকায় পর্বত, বা জটাজুটধারী কাল ভৈরব নটরাজ স্বয়ং অবতীর্ণ হয়েছেন মর্তভূমিতে ….
“ক্রীম ক্রীম ক্রীম হুং হুং হ্রীম হ্রীম দক্ষিনে কালিকে
ক্রীম ক্রীম ক্রীম হুং হুং ক্রীম ক্রীম স্বাহা”
কতক্ষণ যে শ্যামা চিত্রার্পিতের ন্যায় দাঁড়িয়ে ছিলেন জানা নেই l তারপর এক সময়ে এসে কখন জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে এলিয়ে পড়েছেন আখড়াতেই l ঘুম ভেঙ্গেছে কানাই এর ডাকে, ‘ওমা ভোর হলো, বনে যাবেন নাই ?’ ধর মর করে উঠে বসতেই মনে পড়েছে গত রাতের কথা সব l ‘হা রে বাবাজি কোথায়?’
‘এগ্গে তিনি নিজের ঘরে বিশ্রাম কচ্ছেন, বলছেন পরে বেরুবেন আর তেনারা সবাই চলে গেছেন গিয়ে l’ তা যান তেনারা, শ্যামা জানেন, কোত্থেকে আসেন, কোথায় যে যান বলা ভারী মুশকিল l বাবাজীকে জিজ্ঞাসা করেও সদুত্তর মেলে না l মাঝে মাঝে, মনে হয় সবই বুঝি ভোজবাজি, ভানুমতির খেল l এতে কি উত্তরণ হয় শ্যামা বোঝেন না l মনে মনে ভাবেন, কুলকুন্ডলিনীর জাগরণ ভালো কাজেও হয় গো, মানুষকে পরান ভরে ভালোবাসলে, দান দাক্ষিণ্য করলে ঈশ্বর দর্শন হয় l আর সে ঈশ্বর তাঁর নিজের মধ্যেই l শ্যামা নিজের মধেই তাঁকে খুঁজে নেন l বাবাজী বলেন ‘তত ত্ভম অসি – অর্থাত তুমিই সেই l তুমি আলাদা নও তুমি আমি সব একাকার …..’
নানতাম না মধ্যম ন পুনস্তবাদিম
নমামি ত্ভাম তব অনন্ত রুপম ….
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now