বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
শ্যামা ঠাকরুন রান্না করতে বসেছেন l এ কথা, সে কথা মনে আসছে l বাবা অঘোরনাথের যত বুকনি বাবাজীর পাল্লায় পড়লে চুপসে যাবে, জানেন শ্যামা l এমন অনেক তিনি দেখেছেন l বাবাজী ঠিক বুঝতে পারবেন এ লোকের কুন্ডলিনী জাগরণ হয়েছে কি না l কুন্ডলিনী জাগরণ তন্ত্রের এক মোক্ষম ব্যাপার l মুখে মুখে যত কথাই এই সাধু সন্তরা বলুক না কেন, প্রকৃত সাধু আসলে যোগী মহাপুরুষ l তাদের সব গেছে l দেহবোধ নেই, নিত্য শুদ্ধ বুদ্ধ মুক্ত আত্মন তেনাদের l এ সব শ্যামা বাবার কাছে থেকে শুনে বুঝে উপলব্ধি করে জেনে গেছেন l তাছাড়া তিনিও তো কম দিন শ্মশানবাসী হলেন না l বাবা বলেন, গলার কাছে যখনি একটা ধুক্পুকি অনুভব করে মানুষ তখনি শুরু হয়ে যায় প্যাঁচ খোলা অর্থাত গ্রন্থী উন্মোচন l শ্যামা জানেন, সে কেমন অনুভূতি l প্রথম যেবার হযেছিল বেশ ভয় পেয়েছিলেন শ্যামা – এই রে প্রাণটা বুঝি ধর ফর করে বেরিয়ে গেল l কিছুক্ষণ পরে প্রকৃতিস্থ হতেই তিনি ছুটেছিলেন বাবাজির কাছে – উনি বললেন – ‘মা রে, ওই শুরু হয়েছে এবার, কুলকুন্ডলিনী জাগরণ l’
‘সে কেমন গো বাবাজি?’ জানতে চেয়েছিলেন শ্যামা l
ষষ্ঠী আচার্জি শ্যামার দিকে স্থীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে কি বলেছিলেন, স্পষ্ট তা মনে আছে শ্যামার l ‘তন্ত্র অনুসারে, আমাদের মেরুদন্ডে আগাগোড়া পথ আছে যা অতি সুক্ষ্ম l এই পথেই প্রাণ বা নাড়ীর বিচরণ l চোখের পলকে ওই নাড়ী বা প্রাণ ওই পথে ওঠা নামা করতে থাকে l কতবার যে সেই যাতায়াত হয় মানুষের জীবিতকালে তা ভাবা যায় না l এই প্রাণ শক্তি হলেন “মা” আর গতিটি হলো “নৃত্য” l এই নৃত্যের তাই বিরাম নেই l মেরুদন্ডের শেষ প্রান্তে যে ছিদ্র তাকেই বলেই মুলধার চক্র l এই নামগুলি তান্ত্রিক নাম l সবশেষের ছিদ্রটি স্বাধিষ্ঠান চক্র l সেইরকমই হৃৎপিণ্ডের সমসূত্রে মেরু পথটির ছিদ্রটির নাম অনাহত চক্র, তার একটু নিচেই রয়েছে মনিপুর চক্র l কন্ঠে বিশুধা চক্র, দুই ভ্রুর মাঝে আজ্ঞা চক্র আর সবার উপরে যেখানে পরমাত্মার নিবাস বা রাজ্য, সেটি হলো সহস্রার l তন্ত্র মতে, সাধনায় এই ছয়টি চক্র ভেদ করে তবে জীবাত্মার সাথে পরমাত্মার মিলন সম্ভব l শরীরের গোপন শক্তির কত না উৎস!
শোন রে মা, প্রথম স্তরের পশুবৃত্তিসম্পন্ন মানুষজনের ক্ষেত্রে হয় কি এই জীবাত্মা প্রাণশক্তিকে অবলম্বন করে থাকে সুপ্ত অবস্থায় একটি সাপের মত কুন্ডলী পাকিয়ে অতি সুক্ষ্ম দেহে l তবে জীবাত্মা কখন পুরোপুরি বিকশিত হয়? যখন মানুষের চৈতন্য বা সম্যক জ্ঞান হয় ঠিক তখনই l তখন মূলাধার চক্রের গ্রন্থী উন্মোচন হতে থাকে l তারা ঈশ্বরের জন্য এক অন্যরকম ছটফটানি অনুভব করতে থাকেন l প্রথম স্বাধিস্থান, পরে মনিপুর চক্রতে গ্রন্থী উন্মোচন, এই অবধি থাকে যা কিছু বিত্তবাসনার টান l এই তিন চক্র ছাড়াতেই জিভ বেরিয়ে যায় মানুষের l এ বড় কঠিন পথ l স্থুল ভাবের পশুপ্রবৃত্তিসম্পন্ন প্রথম স্তরের মানুষে এই জীবাত্মা প্রাণশক্তিকে অবলম্বন করে সাড়ে তিন পাক দিয়ে সাপের মতো কুণ্ডলি পাকিয়ে, মূলাধার চক্রে অতি সূক্ষ্ণ দেহে থাকে। চৈতন্য বা সম্যক জ্ঞান পেলে জীবাত্মা পূর্ণ বিকশিত হয়। মূলাধার চক্রের গাঁট যাদের খোলে, তারা ঈশ্বরের টানে ছটফট করতে শুরু করে। গিয়ে ঠেকে প্রথমে স্বাধিষ্ঠান, পরে মণিপুর-চক্রে। এই অবধিই যা কিছু বিত্তবাসনার টান। প্রথমের এই তিন চক্র ছাড়ানোই ভীষণ কষ্টের। ব্যাপারটা আরও ভাল বুঝিয়েছেন শ্রীরামকৃষ্ণ, বলেছেন ‘‘যখন সংসারে মন থাকে, তখন, লিঙ্গ, গুহ্য ও নাভি মনের বাসস্থান। মনের চতুর্থ ভূমি হৃদয়। তখন প্রথম চৈতন্য হয়েছে। তখন আর নীচের দিকে মন যায় না। মনের পঞ্চম ভূমি কণ্ঠ। মন যার কণ্ঠে উঠেছে, তার ঈশ্বরীয় কথা বই অন্য কোনও কথা শুনতে বা বলতে ভাল লাগে না। মনের ষষ্ঠ ভূমি কপাল। সেখানে অহর্নিশি ঈশ্বরীয় রূপ দর্শন হয়। শিরোদেশে সপ্তম ভূমি। সেখানে মন গেলে ব্রহ্মের প্রত্যক্ষ দর্শন মেলে।এই আমাদের সাধনা। গাঁটটা পুরো খুললে ‘আমি’ বোধ আর থাকে না— যেন গলে পাতলা হয়ে ছড়িয়ে গেল— তার মধ্যে কোনও দিকের ব্যাপার নেই।’
নিবিষ্ট মনে এই সব ভাবছেন আর নিজের মনেই হাসছেন শ্যামা l হারু বসে বসে যোগান দিচ্ছে এটা ওটা l আজকাল আর সে শ্যামার এই যখন তখন হাসি কান্নাতে পাত্তা দেয় না l কখন কি মনে থাকেন তেনারা, ভাব হয়, ভর হয় যখন তখন l হারুও জানে যখন তখন ভগমানের সাথে কথোপকথন লীলা বিলাসে মগ্ন থাকেন শ্যামা ঠায়রেন l তা বলে তার দৃষ্টি সব দিকেই l কে না খেয়ে আছে l শ্মশানে কে আসে, কে যায় l শেষ প্রান্তে যে পাগলিনী মা বাস করে, যার ছেলেরা তাকে ঘরে নেয় না, ত্যাগ দিয়েছে, আচার্জিকে বলে দু বেলা তার দু মুঠো খাবারের সংস্থান করে দিয়েছেন শ্যামা মা l শাড়ি কাপড়েরও l পাগলি দিনরাত ভজন করেন, সন্ধ্যাবেলা এদিকটায় এসে বসেন l মড়া পোড়ানো দেখেন কাঁদেন কাটেন, নাচেন, গান l ওকে কেউ কিচ্ছু বলে না l মাঝে মাঝে ভাঙ্গা মালসায় খানিকটা আলতা নিয়ে পরতে বসেন l সেই কবে তার স্বামী নিখোঁজ হয়েছিলেন, পাগলি ভাবেন তিনি ফিরবেন একদিন l তাই শ্মশানে নতুন কেউ এলে তার মুখ দেখতে ছুটে আসেন l এমনকি মৃতদেহ দেখলেও l যদি তাঁর স্বামী হয় ….. বলা তো যায় না l এ ভবের খেলা যে নিরন্তর চলে গো !
কোনদিন প্রাণ খুলে গান ধরেন –
‘ খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আইসে যায়, তারে ধরতে পারলে মন বেড়ি দিতাম পাখির পায় ‘
ঘরের ভেতর থেকে ষষ্ঠী আচার্জি মাথা নাড়েন আর বলেন – বাহ বেড়ে গায় আমার পাগলি মা টা, না রে’ l
গান শেষ হলে কোন খেয়ালে পাগলি উঠে চলে যায় – বলতে বলতে যায়, শালা সব চালাকি, সব ফাঁকা ……
‘মা আমার আনন্দময়ী, নিরানন্দ করিস নে…………’
সেই গানের রেশ লেগে থাকে শ্যামা ভৈরবীর মনে আর তাঁর মুখে এক অলৌকিক হাসি খেলে যায় ….
আনন্দ! এই প্রথম, এই শেষ কথা ….. মানুষকে আনন্দ দেবার মধ্যে খুব শান্তি আছে, জানেন শ্যামা, দু:খ দেবার মধ্যে কিচ্ছু নেই …. তাই তো তিনি সবাইকে টেনে রাখেন, আনন্দ দিতে চেষ্টা করেন ….
সর্বদাই আজকাল ডুবে থাকেন আনন্দসাগরে l
ওম
সত চিত আনন্দ পরব্রহ্ম
পুরুশোত্তম পরমাত্মা
শ্রী ভগবতী সমেথা
শ্রী ভগবতে নম :
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now