বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভেসে আসা মেঘ-(৫+৬)-শেষ পর্ব

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ♥Imran khan♥ (০ পয়েন্ট)

X #ভেসে_আসা_মেঘ #ইমরান খান #পর্ব_৫ , ♥♥♥♥♥ আজ আদিবার জন্মদিন। তার জন্মের একবছর পূর্ণ হলো। রকি তার মেয়ের জন্মদিন টা বেশ যাক জমক ভাবেই করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিজের আত্মীয়দের দাওয়াত করেছে সেই সাথে অধরার বাবার বাড়ির লোকজনসহ তাদের আত্মীয়দের ও দাওয়াত করেছে। অধরা কেন জানি আবিরের পরিবারকে দাওয়াত করলো। হয়তো ইচ্ছা হয়েছে আর নয়তো অপমান করার জন্য। সে যাইহোক, সন্ধ্যার পর থেকে লোকজন আসতে শুরু করেছে আদিবার জন্মদিনের জন্য। , অধরা ছাদে বসে ছিল তখন রকি তার কাধে হাত রাখলো। অধরা কোন প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে চুপচাপ বসে রইলো। "কি হলো মন খারাপ নাকি? একা একা ছাদে বসে রয়েছ যে? অধরা বলতে লাগলো, না এমনিতেই। অনেক লোকজন এসেছে বাসায় তাই কেমন জানি লাগছে। " ওহহ এই ব্যপার!! চল নিচে যাই, সবাই চলে এসেছে। তোমার মেয়ের জন্মদিনের কেক কাটতে হবে।" " হুম চলুন।" , রকির হাতে হাত রেখে ছাদ থেকে নিচে গেল। প্রায় অনেক লোক এসেছে। আবিরের মা'ও এসেছে তবে সেটা এখনো অধরা বা রকি কেউ ই খেয়াল করেনি। অধরার মা বলতে লাগলো, কিরে কই ছিলি এতক্ষণ? সেই কখন থেকে তোর জন্য অপেক্ষা করছিলাম। "এই তো মা একটু ছাদে গিয়েছিলাম। চল কেক কাটি?" "হুম চল।" , অধরা তার শ্বাশুড়ির থেকে আদিবাকে কোলে নেয়। তারপর কেক কাটার জন্য প্রস্তুত হয়। সকলে অধরা, রকি আর তাদের মেয়ে আদিবাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে। আদিবার হাতে একটা কেক কাটার ছুরি হাতে দিয়ে সেটা শক্ত করে অধরা চেপে ধরলো। তারপর ছুরি দিয়ে কেক কাটতে লাগলো। এক টুকরো কেক হাতে উঠিয়ে নিয়ে আদিবাকে খাইয়ে দিল অধরা। তারপর রকিও আদিবাকে এক টুকরো কেক খাইয়ে দিল। অধরা রকিকে আর রকি অধরাকে কেক খাইয়ে দিল। আজ তারা অনেক খুশি। তাদের একমাত্র মেয়ের আজ জন্মদিন। সবার সাথে মিলেমিশে আজকের দিনটা কাটাতে পারছে!! এমন সময় আবিরের মা'কে দেখতে পায় অধরার বাবা। তারপর তার কাছে অধরার বাবা গিয়ে দাঁড়িয়ে বলতে থাকে, তো আপনি এখানে কি করছেন? আর আপনার ছেলে কোথায়? আবিরের না বলতে লাগলো, আমার ছেলে অনেক ভাল আছে যেখানেই থাকুক আর আমি এখানে এসেছি কারন আমাকে এখানে দাওয়াত করা হয়েছে। "ওহহ ভাল। মনে আছে তো কি বলেছিলাম আমি গত ২বছর আগে? থাক আমি মনে করিয়ে দিচ্ছি, আমি চ্যালেঞ্জ নিয়ে বলেছিলাম আবিরের থেকে ভাল ছেলের সাথে আমার মেয়েকে বিয়ে দেব এবং দিয়েছিও। ওয়েট আমার মেয়ে জামাইয়ের সাথে আপনাকে পরিচয় করিয়ে দেই। " অধরার বাবা তখন রকি সেখানে ডেকে আনে সাথে অধরা আর আদিবাকেও। "এই হচ্ছে আমার মেয়ে আর মেয়ে জামাই, আর কোলে এটা হচ্ছে আমার মেয়ের মেয়ে মানে আমার নাতনি। " "বাহ অনেক মিষ্টি হয়েছে তো দেখতে। অধরা মা, একটু কোলে দাও তো দেখি। বাচ্চা মানুষ খুব ভাল লাগে কোলে নিতে৷" আবিরের মা দুটো হাত বাড়িয়ে আদিবাকে কোলে নিতে যায় কিন্তু অধরার বাবা বাধা দিয়ে বলে ওঠে, হাত দেবেন না আমার নাতনির শরীরে। আপনাদের মতো মানুষের হাত আমার নাতনির গায়ে পড়তে দিতে চায় না। নিজের ছেলের সন্তানের শরীরে হাত রেখে আদর করেন গিয়ে।" অধরা বলতে লাগলো, বাবা তুমি ওনার সাথে এমন ভাবে কথা কেন বলছো? উনি তো শুধু আদিবাকে কোলে নিয়ে একটু আদর করতে চেয়েছে এর থেকে বেশি কিছু তো আর নয়৷ "সেটা তোর থেকে আমায় শুনতে হবে না। এক্ষুনি এই মহিলাকে এখান থেকে চলে যেতে বল। এরকম মহিলাকে দাওয়াত দেওয়ার আগে ১বার অন্তত ভেবে নেওয়া উচিত ছিল তোদের। " "সরি, আসলে আমি বুঝতে পারিনি আপনারা এতটা মাইন্ডে নেবেন। আমি এটা কখনো ভাবিনি যে, আমাকে এখানে দাওয়াত করে এনে এভাবে অপমান করা হবে জানলে হয়তো কখনো আসতাম না। অধরাকে নিজের মেয়ে ভাবি বলেই তার মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে এখানে এসেছিলাম। যাইহোক ধন্যবাদ আপনাদের কে এখানে ডেকে এনে অপমান করার জন্য।" আবিরের মা আর কিছু না বলে হাটতে শুরু করলো। অধরার বাবা সেখান থেকে চলে যায় অন্য কোথাও গিয়ে দাঁড়ায় আর রকিও সেখান থেকে গিয়ে তার বন্ধুদের সাথে কথা বলতে থাকে। অধরা সেখানেই দাঁড়িয়ে রইলো। একটুপর হঠাৎ করে কোন ফোনে কল বাজার আওয়াজ শুনতে পায় অধরা। হয়তো ভেবে ছিল নিজের ফোনটাই বাজছে, তার ধারনা ভুল হল। তার ফোন রুমে রেখে এসেছে সে। আশাপাশে তাকিয়ে দেখতে লাগলো লোকজন তার থেকে অনেক দূরে দাঁড়িয়ে আছে। সেখানে থেকে এত স্পষ্ট ভাবে কলের আওয়াজ শোনা যাবে না। কল টা কেটে যায় কিন্তু আবারও কল বাজতে লাগলো। অধরার চোখ তখন নিচে পড়লো। ফ্লোরে একটা ফোন পড়ে রয়েছে আর সেই ফোনেই কল বাজছে। অধরা ফোনটা হাতে তুলে নেয়। যেই নাম্বার থেকে কল এসে সেটা অন্যদেশের নাম্বার আর নাম্বারটা সেভ করা My Baby লিখে। আজকাল এটাই নিয়ম, নিজের ভালবাসার মানুষের নাম্বার My Love, My Heart, My Baby, My Sweetheart লিখে সেভ করে রাখে সবাই। কার না কার ফোন ভেবে অধরা কল টা রিসিভ করতে সাহস পেল না। হয়তো কল রিসিভ করা তার উচিত হবে না। কল টা কেটে গিয়ে আবারও বাজতে লাগলো। অধরা আর কিছু না ভেবেই কলটা রিসিভ করে ফেলে আর ওপাশ থেকে একটা কণ্ঠ ভেসে আসতে লাগে, হ্যালো মা, এতক্ষণ লাগে কল রিসিভ করতে তোমার? জানো তোমার জন্য কত চিন্তা হচ্ছিল কল রিসিভ করছো না বলে৷ যাইহোক কি করছো এখন তুমি? অধরার আর তার স্বামী সন্তানের কি খবর? তারা ভাল আছে তো? কি হল কথা বলছো না কেন? হ্যালো মা, শুনতে পাচ্ছো আমাকে? কথা বল মা। অধরা এপাশ থেকে কল টা কেটে দেয় আর চোখ দিয়ে একলাই জল গড়িয়ে পড়তে থাকে৷ ফোনের ওপাশ থেকে যে, আবিরের গলার কণ্ঠ ভেসে আসছে। এ যে তার চির চেনা সেই গলার স্বর৷ তাকে তো অধরা পুরোপুরি ভুলে গেছে তাহলে তার চোখ দিয়ে কেন জল পড়ছে!! তাহলে কি আবিরকে সে এখনো ভুলতে পারেনি? আসলে নিজের চোখের উপর কখনোই বিশ্বাস করা যায় না। কারন চোখ সবসময়ই সত্য কথা বলে। আবারও ফোনে কল বাজতে লাগলো। কিন্তু অধরার সাহস হচ্ছে না কল টা রিসিভ করতে। কিন্তু কলটা তাকে রিসিভ করতে হবেই। কারন একটা ছেলে তার মায়ের জন্য হয়তো চিন্তা করছে। তাকে বলা উচিত তার মা ফোনটা ফেলে রেখে গেছে। তাই কলটা রিসিভ করলো আর ওপাশ থেকে আবির বলতে লাগলো, মা, তোমার কি কিছু হয়েছে? কি হলো কথা বল মা। অধরা কোন জবাব দিতে পারছে না। কেন জানি তার মুখ দিয়ে কোন আওয়াজ বেরিয়ে আসছে না। " দেখ মা, আমার কিন্তু খুব চিন্তা হচ্ছে। ফাজলামি রাখো আর কথা বল৷ নইলে কিন্তু খুব খারাপ হয়ে যাবে।" অধরা কেন জানি কান্না করা শুরু করে দেয়। আর চোখ দিয়ে জল পড়া যেন বন্ধই হচ্ছে না। তখন অধরার দিকে রকির চোখ পড়ে। অধরা মুখ চেপে চেপে কান্না করছে যেন, তার কান্নার আওয়াজ আবিরের কাছে না পৌঁছায়৷ তাহলে যে, আবির তাকে চিনে ফেলবে। অধরা অজ্ঞান হয়ে ফ্লোরে পড়ে যেতে নেয় আর রকি এসে তখনই অধরা আর তার কোলে থাকা আদিবাকেও ধরে। অধার এমন অবস্থা দেখে সবাই এগিয়ে আসে। অধরার পাশে পড়ে থাকা ফোনটা রকি পকেটে ঢুকিয়ে নেয়। তখনো আবির ওপাশ থেকে কথা বলছে মা মা করে, সে তার মায়ের জন্য চিন্তা করতে থাকে। তার মায়ের আবার কিছু হলো না তো? কল কেটে দিয়ে তখন তার বাবা কে সে কল করে। ওর বাবার থেকে জানতে পারে তার মা অনেক আগেই অধার বাসা থেকে চলে এসেছে আর তখন তার মায়ের সাথে কথাও বলে নেয়। তার মায়ের থেকে সে জানতে পারে তার মায়ের ফোনটা কোথায় যেন পড়ে গেছে। হয়তো হারিয়ে গেছে। আবিরের চিন্তা এখন একটু কমে গেল। তাই কলটা কেটে দেয় আবির৷ কিন্তু কলটা রিসিভ করলো কে ওপাশ থেকে? এই চিন্তা টা এখনো তার মাথা থেকে নামেনি। রকি অধরাকে কোলে করে নিজেদের রুমে শুইয়ে দেয়৷ তারপর তার পকেটে থাকা ফোন টা বেজে ওঠে। বের করে দেখতে পেল মাই বেবি লিখে সেভ করা নাম্বার। আর এই ফোনটা হাতে নিয়ে অধরা কারো সাথে কথা বলছিল। কিন্তু অধরার ফোন এইটা না। কিন্তু কার ফোন এটা? এই ফোনে কথা বলতে বলতেই তো অধরা অজ্ঞান হয়ে যায়। রকি আর কিছু না ভেবে কলটা রিসিভ করে। "হ্যালো, কে বলছেন?" "আসলে এই ফোনটা হারিয়ে গেছে ভাই, ফোনটা আমার মায়ের। মায়ের সাথে কথা বলার জন্য একটু আগে কল দিয়েছিলাম কিন্তু ওপাশ থেকে কেউ একজন কল রিসিভ করে কথা বলেনি। তাই আবার কল করলাম।" "ওহহ আচ্ছা। আপনি এসে তাহলে ফোনটা নিয়ে যান ভাই।" "সরি ভাই, আসলে আমি দেশের বাইরে থাকি। আপনি এক কাজ করেন ফোনটা আপনার কাছে রেখে দেন আর আপনার ঠিকানা টা আমাকে দেন। আমার বাবা গিয়ে আপনার থেকে ফোনটা নিয়ে আসবে।" " আচ্ছা ঠিক আছে। " , তারপর রকির থেকে আবির ঠিকানা নিয়ে তার বাবার ফোনে মেসেজ করে দেয় ঠিকানাটা। আর বলে সকালে যেন ঐ ঠিকানায় গিয়ে ফোনটা নিয়ে আসে। , ######## #ভেসে_আসা_মেঘ♥ #ইমরান খান #পর্ব_৬_(শেষ) , ♥♥♥♥♥ হঠাৎই আবির চিৎকার দিয়ে ঘুম থেকে উঠে পরে আর জোরে জোরে নিশ্বাস নিতে থাকে। কি ভয়ানক স্বপ্ন ছিল! এটা কি করে সম্ভব? অধরা আর তার বিচ্ছেদ এটা ভাবার বাইরে। নাহ, অধরা ঠিক আছে তো? ওর কিছু হয়নি তো আবার? আবির নিজের ফোনটা খুঁজতে লাগলো অধরাকে কল করার জন্য। ফোনটা যে, কোথায় রেখেছে খুঁজেই পাচ্ছে না। সকাল ৭টা বাজে মাত্র। ফোনটা বিছানার আশেপাশেই থাকা উচিত ছিল, কিন্তু ফোনটা গেল কই? নিশ্চয়ই মিলি নিয়ে গেছে। মিলি আবিরের ছোট বোন। হয়তো গেইম খেলার জন্য নিয়েছে। মিলিকে ডাকতে লাগলো আবির। একটু পর ফোন হাতে করে আবিরের রুমে মিলি ঢুকলো। , মিলিকে ধমক দিয়ে বলতে লাগলো, সকাল সকাল তোর ফোন নিতে হবে নাকি? ফোনের প্রয়োজন হতে পারে এটা ভেবে দেখেছিস? মিলি বলতে লাগলো, প্রত্যেকদিনই তো নেই কিছু বলিস না৷ তাহলে আজ কেন রাগ করছিস ভাইয়া? সত্যিই তো আজ কেন সে রাগ করছে? হয়তো অধরাকে নিয়ে চিন্তা হচ্ছে বলেই এমনটা হচ্ছে। আবির বলতে লাগলো, সরি রে বোন। কিছুই মাথায় ঢুকছে না। ফোনটা দে, একটু দরকার আছে। মিলি ফোনটা দিয়ে চলে যায় আর আবির অধরাকে কল করে। কিন্তু কল বেজেই যাচ্ছে অধরা কল রিসিভ করছে না। ধ্যাত!! দরকারের সময় কল কেন সে রিসিভ করছে না? আবির কয়েকবার চেষ্টা করার পর অধরা কল রিসিভ করে বলতে লাগে, কি হয়েছে, এতো সকাল সকাল কল কেন করেছ? আবির রেগে গিয়ে বলতে থাকে, কল কেন দিয়েছি সেটা পরে বলি৷ আগে বল তুমি কেমন আছো? তুমি ঠিক আছো তো? -একে তো সকাল সকাল কল দিয়ে ঘুমটা ভেঙে দিয়েছ এবং দ্বিতীয় তো এখন আবার আবোলতাবোল বলছো। তুমি ঠিক আছো তো আগে সেটা বল? - আমি যে প্রশ্ন করেছি তার উত্তর দাও। অধরা, তুমি আমার সাথে আজ সকাল ১০টার সময় পার্কে দেখা করবে। -আরে বাবা সে না হয় আসলাম। কিন্তু কারনটা তো বল। - তখন আসলেই বুঝবে এখন রাখছি। , আবির কল টা কেটে দিয়ে ফ্রেশ হতে চলে যায়। আর অধরা মাথায় হাত দিয়ে বসে পরে। আবির হঠাৎ করে এভাবে কেন কথা বলছে আর তাকেই বা কেন দেখা করতে বলছে? কোন কিছুই সে বুঝে উঠতে পারছে না। সেও ফ্রেশ হতে চলে যায়। ১০ টা বাজার আগেই আবির পার্কে গিয়ে অধরার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। অনেক্ষণ হয়ে গেছে কিন্তু অধরা এখনো আসছে না। আবিরের খুব চিন্তা হচ্ছে। অপেক্ষার প্রহর খুবই কষ্টের সেটা আবার যদি হয় প্রেমিক-প্রেমিকাদের বেলায়!! আবিরের কপাল দিয়ে ঘাম ঝড়তে থাকে। কেন জানি সব চিন্তা তার মাথাতেই এসে ভর করেছে। অধরাকে নিয়ে এত চিন্তা কেন সে করছে। ১০টা ১৫ বেজে গেছে কিন্তু অধরা এখনো আসছে না। তাই আবির তাকে কল করতে যাবে তখনই দেখতে পেল অধরা রিক্সা থেকে নামছে। পার্কে ঢুকা মাত্রই আবির তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে, যাতে কেউ তাদের আলাদা করতে না পারে। এত শক্ত করেই জড়িয়ে ধরে আছে যে, অধরার নিশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে। অধরা ছোটাছুটি করার চেষ্টা করছে কিন্তু সে ব্যর্থ আবিরের শক্তির কাছে। এক সময় আবির কান্না করতে করতে অধরাকে ছেড়ে দেয়। আবিরের এমন কান্না দেখে অধরা বলতে থাকে, কি হয়েছে? হঠাৎ এভাবে ডাকলে আবার এখন কান্না কেন করছো? আবির কান্না করতে করতে বলে, আমি তোমাকে ছাড়া একমুহূর্ত থাকতে পারবো না। আমার নিশ্বাস জুরে শুধুই তুমি, আমাকে ছেড়ে যেও না কোনোদিন প্লিজ৷ তুমি ছাড়া আমার জীবন মূল্যহীন। -দেখ আবির তোমার এই হাংকি পাংকি কথা আমার ভাল লাগছে না। সত্যি করে বলতো তুমি এমন কথা কেন বলছো? আমার মোটেও তোমার কথা সুবিধার ঠেকছে না। -আগে বল তুমি আমাকে ছেড়ে কোনোদিন যাবে না। - তোমাকে ছেড়ে আমি কোথায় যাব? আর তোমাকে আমি ছেড়েই বা যাব কেন? - আগে বল আমাকে কোনোদিন একলা করে কোথাও যাবে না। যেখানে যাবে আমাকে সাথে করেই নিয়ে যাবে। - আচ্ছা ঠিক আছে। তোমার সাথেই চিরদিন থাকবো, কোনোদিন ছেড়ে যাব না। এখন বলতো তোমার এই উৎফুল্ল হওয়ার কারন কি? - আসলে আমি গতকাল রাতে একটা খারাপ স্বপ্ন দেখেছি৷ যেখানে আমি তোমাকে ছেড়ে আমেরিকা চলে গেছি আর তোমার বিয়ে রকি নামের একটা ছেলের সাথে হয়ে গেছে। তোমাদের একটা সন্তানও হয়েছে। তোমাকে কি জন্য ছেড়ে আমেরিকা চলে গেছি সেটাও জানি না। আমি বুঝতে পারছি না, এমন স্বপ্ন আমি কি জন্য দেখলাম। সত্যি বলনা, আমাদের কখনো বিচ্ছেদ আসবে না তো? -কিহহ! এরকম ফালতু স্বপ্ন কেমনে দেখতে পারো তুমি? তোমাকে ছাড়া আমাকে আমি কখনো ভাবিনি। আর তুমি কি না কি সব ফালতু মার্কা স্বপ্ন দেখছো? - তোমার কাছে ফালতু মনে হতে পারে। কিন্তু আমার কাছে সিরিয়াস। স্বপ্ন দেখে আমি প্রচুর কান্না করেছি। তোমাকে আমি কিছুতেই হারাতে পারবো না। - হুম বুঝতে পারছি তোমার ফালতু মার্কা স্বপ্ন টা। এখন তো শান্ত হউ। এখন তো আমি তোমার সাথে আছি তাইনা? - হুম। আমাদের কখনো বিচ্ছেদ আসবে না তো? -আসবে কি না জানি না। তবে যদি কোনোদিন আসে সেটা হবে মৃত্যুর পর। যতদিন বেঁচে আছি ততদিন তোমার সাথেই আছি, ভরসা রাখতে পার। তোমাকে কখনো ছেড়ে যেতে দেব না। -হুম, ভালবাসি তোমাকে অনেকটা। তোমাতেই মিশে থাকতে চাই চিরদিন। কি থাকবে তো? -হুম। ভালবাসি, ভালবেসে যাব তোমায় মরণের আগ পর্যন্ত। , , ---------- সমাপ্ত------------ বি:দ্র: ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। আসলে গল্পটার সম্পূর্ণ কাহিনী আবির স্বপ্ন দেখে। যেখানে তার আর অধরার বিচ্ছেদ হয়। শেষ পর্বে তার ঘুম ভেঙে যাওয়ায় তার স্বপ্নও ভেঙে যায়। তারপর তো পড়লেন ই। গল্পটা কেমন হলো অবশ্যই জানাবেন


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভেসে আসা মেঘ-(৫+৬)-শেষ পর্ব

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now