বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
♥ভেসে_আসা_মেঘ♥
#ইমরান খান#
,
Part : 1
,
>>>♥>>>
-আমি বুঝতে পারছি না!! যেখানে ৭বছর রিলেশনে একবারও রিলেশন ভাঙ্গার কথা ওঠেনি সেখানে আজ কেন সেটা উঠছে?
প্রায় রেগে গিয়েই কথাটা আবিরকে বললো অধরা। আবির আর ওর রিলেশন আজ ৭ বছর পূর্ণ হলো, অথচ আবির এই দিনে রিলেশন ভাঙ্গার কথা বলছে। এই ৭ বছরে একবারও রিলেশন ভাঙ্গার কথা ওঠেনি, সেখানে আজ আবিরের মুখে এমন কথা শুনে ও অবাক হয়ে যায় আর কিছুটা রেগে যায়।
,
আবির বলতে লাগলো.....
-আমার ইচ্ছা তাই রিলেশন ভাঙ্গতে চাইছি। তোমার সাথে আমার থাকা পসিবল নয়। সো, তোমার থেকে মুক্তি পেলেই বেঁচে যাই।
-তুমি কি আমার সাথে ফাজলামি করছো? তোমার মুখে এই কথাটা কেন জানি আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। আর যাই বল না কেন, এই কথাটা তুমি কখনো বলতে পারো না। (হতাশা হয়ে বললো অধরা)
,
-সময় কখনো কারো জন্য বসে থাকে না। সময়ের সাথে সাথে আমিও পরিবর্তন হয়ে গেছি। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে চাইছি। সেজন্য যতটা সম্ভব তোমার থেকে দূরে চলে যেতে চাইছি।
,
-আবির, আমি জানি তুমি আমার সাথে মজা করছো। কি ঠিক বললাম না, আমি?
,
রেগে গিয়ে উত্তর দিল আবির.....
-নাহ, ঠিক বলনি। আমি কথা গুলো সিরিয়াস ভাবে বলেছি। পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিও সাথে আমাকে ভুলে যেও।
,
-তুমি আমার সাথে এমনটা করতে পারো না।
,
- আমি সব কিছুই পারি। তোমার সাথে ৭বছর থেকে বোর হয়ে গেছি। সময় এসেছে নিজেকে বদলানোর।
,
কান্না জড়িত কণ্ঠে অধরা বলতে লাগলো.....
-কই আমি ভেবেছিলাম আমাদের রিলেশনের আজ ৭বছর হলো সেই উপলক্ষে তুমি আমাকে বড় কোন উপহার দেবে। কিন্তু আমি ভাবতে পারিনি যে, তুমি আমার জন্য এত বড় একটা উপহার নিয়ে অপেক্ষা করছো। তুমি ঠিক বলেছ সময়ের সাথে মানুষ পরিবর্তন হয়ে যায়, আমিও চেষ্টা করব তোমাকে ভুলে থেকে নিজেকে গুছিয়ে নেবার। তোমাকে ভুলে থাকতে পারবো কি না, জানি না। তবে চেষ্টা করব। ভালো থেকো তুমি, তোমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই আমার।
,
অধরার কথা শেষ হতে না হতেই আবির হাটতে হাটতে চলে যেতে লাগলো। একবারের জন্যও পিছনে ফিরে তাকায় নি আবির। ওর চলে যাওয়া অধরা দুচোখ ভরে দেখতে লাগলো। হয়তো এটাই ওদের শেষ দেখা। দুচোখ দিয়ে একাই জল পড়তে লাগলো। হাটু ভেঙ্গে পার্কের মাটিতে বসে পড়লো অধরা। ইচ্ছা মতো কান্না করতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো।
,
একসময় অধরার সামনে তার বেস্টফ্রেন্ড মিনি এসে হাজির হয়।
মিনি বলতে লাগলো.....
-কিরে আজ এই খুশির দিনে তুই কান্না করছিস কেন? আবিরের সাথে ঝগড়া করেছিস? নাহ, আবির আর তোর মাঝে ঝগড়া হওয়া পসিবল নয় সেটা আমি খুব ভাল করে জানি। কি হয়েছে বলতো।
অধরা কোন উত্তর না দিয়ে কান্না করতে লাগলো।
আবারও মিনি বলতে লাগলো....
-কিরে কি হয়েছে বলবি তো। তোর এভাবে কান্না মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।
অধরা কান্না করতে করতে উত্তর দিল, আবির আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে। আমার সাথে নাকি ওর আর চলে না। আমাদের ৭বছরের রিলেশন ওকে একটুও ভাবালো না।
অবাক হয়ে মিনি বলতে লাগলো, কি বলছিস তুই এসব? আবির তোর সাথে এমনটা কেন করবে?
-আমি জানি না ও আমার সাথে কেন এটা করলো। কোন কারন ছাড়া কিভাবে রিলেশন ভাঙ্গতে পারে ও। আমি ওকে ছাড়া থাকতে পারবো না। নিজেকে শেষ করে ফেলবো। ওকে ছাড়া আমার এ জীবন মূল্যহীন।
-আমি কিছুই বুঝতে পারছি না, আবির হঠাৎ করে এমন টা কেন করলো সেটাই বড় রহস্যের বেপার? ও এমনি এমনি এমনটা কখনো করবে না। হয়তো তোর সাথে মজা করে করেছে এটা।
-আমাদের ৭বছরের রিলেশন এ একবারও এমনটা হয়নি। আজ হঠাৎ এমনটা হবে কেন? তাও আবার ৭বছর হওয়ার দিন?
,
,
অন্য দিকে আবির বাসায় গিয়ে নিজের রুমে ফ্লোরের উপর বসে দুই হাটুর মাঝে মুখ গুজে কান্না করছে। ওর কান্নার আওয়াজ শুনে পাশের রুম থেকে ওর মা আসে।
এসেই বলতে লাগে, কিরে এভাবে কান্না কেন করছিস? অধরার সাথে কিছু হয়েছে নাকি?
আবির ওর মাকে জড়িয়ে ধরে আরও কান্না করতে করতে বলতে থাকে, মা আমি অধরাকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না। ওকে ছাড়া প্রতিটা নিশ্বাস আমার কাছে বিষাক্ত মনে হয়।
-কি হয়েছে অধরার? অধরা ঠিক আছে তো?
- ও ঠিক আছে মা। কিন্তু কতক্ষণ ঠিক থাকবে সেটা শিওর দিতে পারছি না। আমি জানি, ও আমাকে ছাড়া একটা মুহুর্ত কল্পনাও করতে পারে না। ওর প্রতিটা নিশ্বাসের সাথে আমি মিশে আছি।
- কি বলছিস এসব তুই, আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না। একবার বলছিস তোকে ছাড়া অধরা বাঁচবে না, আবার বলছিস অধরাকে ছাড়া তুই থাকতে পারবি না। সবটা খুলে বলতো আমাকে, কি হয়েছে তোদের মধ্যে?
-মা, আমি অধরার সাথে রিলেশন ভেঙ্গে দিয়েছি। কিন্তু সত্যি বলছি মা, আমি অধরাকে ছাড়া থাকতে পারবো না।
- থাকতেই যেহেতু পারবি না, তাহলে ওকে ছেড়ে আসলি কেন? আর এখন এসে এভাবে কান্না করছিস কেন? যা, অধরার কাছে যা।
ওর মাকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে করতে বললো, মা, আমি ইচ্ছা করে ওকে ছেড়ে আসিনি। ওকে ছেড়ে আসতে বাধ্য হয়েছি।
- মানে? কি বলছিস এসব তুই?
-তোমাকে মা আমি পড়ে সবটা খুলে বলবো। আমাকে কিছুটা সময় দাও, আমি এখনই সব কিছু বলতে পারবো না।
-তোর কথার আগাগোড়া কিছু বুঝে উঠতে পারছি না। তোর এমন অবস্থা যে, মা হয়ে আমি সহ্য করতে পারছি না। মায়ের সামনে তার সন্তান কান্না করলে যে মায়ের কতটা কষ্ট লাগে সেটা তুই বুঝবি না।
- আমাকে কিছু সময় দাও, পরে সবটা জানাবো।
-আচ্ছা ঠিক আছে। কথাটা বলে আবিরের রুম থেকে তার মা বেরিয়ে যায়।
,
,
রাতের বেলা অধরা হাত কেটে সুইসাইড করার চেষ্টা করে। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মিনি আবিরের ফোনে কল করলো বিষয়টা জানানোর জন্য। কিন্তু আবিরের ফোন বন্ধ বলছে। কয়েকবার ট্রাই করে আর কল করলো না মিনি।
অনেক টা ব্লাড ক্ষয় হয়েছে অধরার শরীর থেকে। সেজন্য বেপারটা অনেক সিরিয়াস হয়ে যায়। রক্ত জোগাড় করে তার শরীরে রক্ত দেওয়া হয়।
পরেরদিন সকালে ওর জ্ঞান ফেরে..... জ্ঞান ফেরা মাত্রই আবির আবির বলে চিৎকার করতে থাকে।
ডাক্তার রা এমন অবস্থা দেখে অধরাকে ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেয়।
ডাক্তার অধরার বাবাকে বললো, আবির কে? আপনার মেয়ের জ্ঞান ফেরার পরই তার নাম বলে চিৎকার করছে?
অধরার বাবা বলতে লাগলো, আসলে কি যে বলি ডাক্তার। ঐ ছেলেটা আমার মেয়ের প্রেমিক। ঐ ছেলেটা গতকাল রিলেশন ভেঙ্গে চলে গেছে। সেজন্যই অধরা সুইসাইড করেছে রাতে।
-বেপারটা ভেরি সিরিয়াস। আপনার মেয়ের অবস্থা অনেকটাই খারাপ। ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে দিয়েছে, দুপুরে জ্ঞান ফিরবে। তখন আপনারা ওকে সামলান কষ্ট করে।
,
,
চলবে...........
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now