বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভারত অভিযান (১ম খন্ড)

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান গেস্ট ইউজার(guest) (০ পয়েন্ট)

X বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম __________________________ ভারত অভিযান ১ম খন্ড পর্বঃ৬ (পূর্বে প্রকাশের পর.....) সবুক্তগীন ছেলের নাম রাখলেন "মাহমুদ"।দেখতে তার ছেলে খুব একটা হৃদয়গ্রাহী চেহারার না হলেও পিতার সব চিন্তা ও আগ্রহের কেন্দ্র ছিল এই সন্তান। অতি শৈশবেই পিতা ছেলেকে কুরআন হেফজ করালেন।বার বছরের মধ্যে জরুরী কিতাবাদির ইলম শেখার পর্ব শেষ করিয়ে ফেললেন।পনেরো বছরে পদার্পণ করলে সবুক্তগীন ছেলেকে হিন্দু রাজার বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাঠিয়ে বললেন , "তোমাকে মুর্তিসংহারী হতে হবে।" গজনীর শহরতলী থেকে একটু দূরে মাঠের মধ্যে একটি মনোরম বাগান। বাগানের মাঝখানে এক দৃষ্টিনন্দিত বা inলাখানা। বাগানের মনোহরী গাছগাছালী, রং বেরঙের হাজারো ফল ফুলের সমারোহ আর এর পরিপাটি সাজানো গোছানো পরিবেশ বহুদূর থেকেই মানুষের নজর কাড়ে। প্রথমেই তারা ভাবত আলীশান এর কাজ কোনো সাধারণ জমিদারের নয়। অবশ্যই কোনো শাহজাদা কিংবা উজির গড়ে তুলেছে এ বাগান ও সুরম্য সৌধ।অথচ কিছুদিন আগেও জায়গাটা ছিলো ধূ ধূ প্রান্তর,ছিলো গাছপালা শূন্য। গজনীর মানুষ দলবেঁধে এই বাগান ও বালাখানা দেখতে যেত।পথিকেরা এর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হতো,পথিক এখানে এসে থমকে দাড়াতো। দর্শকদের মুখে  সবুক্তগীনের পুত্র মাহমুদের প্রশংশা ও গুণকীর্তন শুনে জনতা তার প্রতি আরো সশ্রদ্ধ হতো। এই বাগান বাড়ি,অবকাশ কেন্দ্র মাহমুদ তার বাবা সবুক্তগীনের অজ্ঞাতে তার মায়ের অনুমতি নিয়ে গড়ে তুলেছিলো। মাহমুদ ছিলো তার মা বাবার কদাকার ও বেঢপ চেহারার কাঙ্ক্ষিত পুত্র।মাহমুদের তুলনায় তার ছোট ভাই দৈহিকভাবে ছিলো দারুণ আকর্ষণীয়।কয়েক বছর আগে মাহমুদ যখন তার মাকে বলেছিলো ,সে একটি মনোরম বাগানবাড়ি বানাচ্ছে ,একথা শুনে তার মা তার আপাদমস্তক নিরীক্ষণ করে কেঁদে ফেলেছিলেন। মায়ের চোখে পানি দেখে মাহমুদ বলল,মা আমি যদি একথা বলে আপনাকে কষ্ট দিয়ে থাকি তাহলে আমাকে মাফ করে দিন।আমি আর বাগানবাড়ি বানাচ্ছি না। না বেটা, বাগানবাড়ি তোমাকে আমিই বানিয়ে দিবো।  তাহলে, আপনার চোখে পানি কেনো? বেটা , আমার মনে পড়ছে সেই স্মৃতি । তোমার বাবার সাথে তখন আমার বিয়েও হয়নি। আমি ছিলাম এক বড় কর্মকর্তার বাগদত্তা। কিন্তু তোমার বাবার প্রতি মনের প্রচন্ড টান অনুভব করছিলাম।আমি তার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েছিলাম।আমি বাগদত্তাকে সেজন্য পছন্দ করতে পারছিলাম না।সে আমাকে হেরেমের চার দেয়ালে বন্দি করে রাখতে চেয়েছিল।সে হেরেমের সৌন্দর্য বর্ধনের সামগ্রী মনে করতো নারীকে।আমার ঘুরে বেড়ান,ঘোড়ায় সওয়ার হওয়া ও সাঁতার কাটায় ও তার ছিলো চরম আপত্তি।আমি নিজেকে হেরেমের শোভা করে রাখতে মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না।আমি তোমার আব্বাকে বলেছিলাম, আমি এমন স্বামী চাই, যে আমার সাথে ঘোড়ায় দৌড়াবে , নদীতে সাঁতার কাটবে। আমি তোমার আব্বাকে বলেছিলাম, হেরেমের রক্ষিতা-নারীদের গর্ভজাত সন্তান কখনো ইসলামের প্রহরী হয় না।আমি এমন ছেলের মা হতে চাই,যে সুদূর ভারত  পর্যন্ত ইসলামের পয়গাম প্রচার ও ইসলামী সালতানাত সম্প্রসারিত করবে।মুবাল্লিগের বেশে নয়,বিজয়ী সুলতান বাহাদুর হিসেবে, শুধু কূটনীতির বলে নয়, তরবারির জোরে।তোমার আব্বু হেসে বলেছিলেন,"তোমার মতো আমার আম্মুও একই কথা বলতেন, "কিন্তু আমি তো দাস দাসীর হাটে বিক্রি হওয়া এক গোলাম।" তোমার আব্বুকে আমি বলেছিলাম,"ইসলামের অতন্দ্র প্রহরী তোমার মতো কর্তব্যনিষ্ঠ গোলামরাই হতে পারে।দৌলতওয়ালা আমীর উমারা শ্রেনী ইসলামের রক্ষক হবে তো দূরে থাক ইসলামকে তারা ডুবাচ্ছে।দেখো না আমার আব্বাও তোমার মতো হাটে গোলাম হিসেবে বিক্রি হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি নিজের কর্মনিষ্ঠা ও চেষ্ঠায় আজ বুখারার শাসক পদটি অলংকৃত করে আছেন।আরো একটি কথা আমি তোমার আব্বুকে বলেছিলাম ।বলেছিলাম,আমি যে মহানায়কের কথা ভাবি ,সেই সন্তান তোমার ঔরসে আমার গর্ভে সঞ্চারিত হোক,তা আমি একান্তভাবে কামনা করি।আমি সেই কাঙ্খিত সন্তানের গর্বিত মা হতে চাচ্ছি। তোমার আব্বুর প্রতি আমার এই আকর্ষণ ও ভালোবাসায় বিন্দুমাত্র যৌবনের তাড়না আর কৈশরের উন্মাদনা ছিলো না।ছিলো নির্ভেজাল পবিত্র আকাঙ্ক্ষার হৃদয়তন্ত্রী ছেড়া যন্ত্রনার জীবন্ত ছবি আঁকার এক বিনীত নিবেদন।আমার মনের গহীনে আশৈশব লালিত স্বপ্নের বাস্তবচিত্র দেখতে মনটা বেকারার ছিলো।আল্লাহর ইচ্ছায় ও তোমার আব্বার দূরদর্শিতায় আমার সাথে তার বিয়ের সব বাধা অল্পতে দূর হয়ে যায়।দাসের হাটে বিক্রিত গোলাম সবুক্তগীন একদিন গজনীর সুলতান হিসেবে আমার আব্বার স্থলাভিষিক্ত হলেন। তোমার আব্বুকে আল্লাহ তায়ালা বিস্বয়কর এক স্বপ্ন দেখালেন ।এরপর দিনেই তুমি জন্মগ্রহণ করলে । আমি তাকে বললাম, আপনার গতকালের স্বপ্নের ব্যাখ্যা আজ মুর্তি না হয়ে আমার কোলে ঘুমিয়ে আছে। সেদিন ছিলো আশুরা।দশই মুহাররম। ইতিহাসের বহু শ্রেষ্ঠ ঘটনা আজ ঘটেছে। আমার এই ছেলের জীবন কাহিনী ও ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিখা থাকবে। আপনি বিশ্বাস করুন, "আমি সেই বাহাদুর কাঙ্ক্ষিত ছেলের জন্ম দিয়েছি।যে পৃথিবীতে ইসলামের ঝান্ডাবুলন্দ করবে। বাতিল ধ্বংস করবে,মুর্তিসংহাসী হবে‌।" "মা! এসব কাহিনী এর আগেও আপনি আমাকে শুনিয়েছেন কিন্তু আজ আপনি এত আবেগাপ্লুত কেন?" "বাবা আমার চোখ থেকে আজ পানি ঝড়ছে এই আশঙ্কা করে যে, তোমার মন যেন বিলাসব্যাসন ,আরাম আয়েশ, সুন্দর বাগান আর অট্টালিকার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে না পড়ে। তুমি শাহজাদা হলেও আমি চাই , তোমার আকর্ষণ থাকবে ময়দানে,যুদ্ধে ,পাহাড় মরুর কঠিন রণক্ষেত্রে।আমি তোমাকে এ কথাই স্বরণ করিয়ে দিতে চাই,প্রাসাদ সরগরম ও সুসজ্জিত করার জন্য তোমার জন্ম নয়। তুমি দুনিয়ায় এসেছ ময়দানে লড়াই করতে।বাগানবাড়ি গড়ে তোলায় আপত্তি নাই।আমি তার সব ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। ভবিষ্যতে যুদ্ধ শেষে যখন ক্লান্ত হয়ে গজনী ফিরে আসবে তখন এখানে তুমি আরাম করবে । আমার কাম্য এটাই। মায়ের অনুমতি আর সহযোগিতায় বাগানবাড়ি তৈরি শুরু করে দিলো মাহমুদ। বিভিন্ন এলাকা থেকে অট্টালিকা ও বাগান তৈরির অভিজ্ঞ লোকদের আনা হলো।দ্রুত গতিতে শেষ করা হলো অবকাশ যাপন কেন্দ্রের কাজ।রাজা জয়পাল  যখন গজনী আক্রমণ করতে এলো তখন বাগান বাড়ির মনোরম দৃশ্য ও সুরম্য অট্টালিকার চারপাশে বাহারী ফুলের সমারোহ ও সবুজের মেলা তার চোখ ধাঁধিয়ে দিয়েছিলো।পাঞ্জাবের রাজা জয়পাল গজনী আক্রমণ করে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হল।সবুক্তগীনের বাহিনী আগাম খবর পেয়ে শহরের বাইরেই রাজার বাহিনীকে মোকাবেলায় বাধ্য করে।জয়পালের বাহিনী গজনী অবরোধের সময়টুকুও পায়নি‌‌।জয়পালের সাথে সুলতান সবুক্তগীনের কঠিন লড়াই হলো। কিন্তু জানবাজ সবুক্তগীনের সেনাবাহিনী মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে জয়পালের বিশাল সমর সজ্জাকে গুড়িয়ে দেয়।ডজন ডজন হাতি , হাজারো অশ্বারোহী যোদ্ধা ও তোপ কামানের সহযোগিতা নিয়েও গজনীর সবুক্তগীনের রনকৌশলের কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়ে পালাতে বাধ্যহয় জয়পাল। সবুক্তগীনের আশাতীত এ বিজয়ে এতো বিপুল পরিমাণ মালে গণিমত হস্তগত হয় যে,জয়পালের রেখে যাওয়া হাতি ,অসংখ্য ঘোড়া,ও মাল আসবাব গোছাতে পনের ও দিনের ও বেশি সময়ের প্রয়োজন হয়।বিজয়ী সবুক্তগীন যুদ্ধ শেষে গজনী ফিরে এলে মাহমুদ তাকে জানালো তার অবকাশ কেন্দ্রের কাজ শেষ হয়েছে।মনোরম বাগান বাড়ি দেখে আপনি অবশ্যই মুগ্ধ হবেন।আব্বু, আপনি কি একবার বাগান বাড়িটি দেখতে যাবেন? আরজ করলো মাহমুদ। মাহমুদের মা সবুক্তগীনকে বাগানবাড়ি সম্পর্কে আগেই অবহিত করেছিলেন । পিতা ভেবেছিলেন, খেয়ালের বশে ছেলে হয়তো কিছু গাছগাছালি রোপণ করে ওখানে একটি ছোট্ট ঘর তৈরি করেছে। কিন্তু মাহমুদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বাগান দেখতে গিয়ে তিনিও বিস্মিত হলেন। সুরম্য অট্টালিকা আর রাজসিক উদ্যানের কারুকার্য ও বিন্যাস মাহমুদের উন্নত কর্মকুশলতার সাক্ষর বহন করছিলো।মুগ্ধ হলেন সুলতান সবুক্তগীন।ছেলের উদ্দেশ্য বললেন_ "মাহমুদ! তোমার এই উদ্যান ,মহল ও আয়োজন মোবারক হোক।স্থাপত্যকলায় তোমার রুচি ও দক্ষতা প্রশংসার যোগ্য । তোমার এ কাজ এক শাহজাদার পরিচয় বহন করছে । কিন্তু মনে রেখো , তুমি কিন্তু একজন শাহজাদা নও,এক মুসলিম যোদ্ধার ঔরসজাত সন্তান। তুমি ভুলে যেও না , প্রকৃতপক্ষে, তুমি এক নগণ্য গোলামের ছেলে।আল্লাহ তায়ালা মেহেরবানী করে তোমার বাবাকে গজনীর সিংহাসনে অভিষিক্ত করেছেন। সেই সাথে জন্মসূত্রে এক মহান দায়িত্ব আমাকে বহন করতে হচ্ছে।যা আমার বাবার সাথে বিয়ে হবার আগে থেকেই আমার মা বহন করছিলেন।এ গুরুদায়িত্ব জাগতিক সব কিছু থেকে আমার কাছে বেশি প্রিয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ যে ,আল্লাহ তায়ালা এই মহান কর্তব্য পালনের দায়িত্ব আমার ও আমার উত্তরসূরীদের কাঁধে ন্যস্ত করেছেন। তোমার মা ও আমার মুখে বহুবার তুমি শুনেছ যে, তোমার জন্ম অন্য সাধারণ শাহজাদাদের মতো আদৌ মামুলি নয়। তোমার জন্মের ইঙ্গিত বহু পূর্বে তোমার দাদা ও দাদী আন্দাজ করতে পেরেছিলেন।তিন পুরুষ ধরে আমার বাপ দাদা তোমার আগমন আকাঙ্খায় ধীর অপেক্ষায় সময় কাটিয়েছেন। আমাদের বিশ্বাস ও আশা তুমি মুর্তিসংহারীরূপে ইসলামের ঝান্ডাবাহী শাসক হিসেবে বিশ্বজোড়া খ্যাতি বয়ে আনবে। আব্বু! আপনি বলছেন যে, এই সুরম্য অট্টালিকা আর হৃদয়কারা বাগানবাড়ি তৈরি করা আমার উচিত হয়নি!একটু ম্লান মুখে বলল মাহমুদ। না, মাহমুদ! এই বাগানবাড়ি তৈরি করা তোমার উচিত , কি উচিত নয়,সে ভিন্ন কথা।আমি তোমাকে বোঝাতে চাচ্ছি ,যে কোনো সম্পদশালী লোকের পক্ষেই এমন প্রাসাদ ও উদ্যান তৈরি খুব সহজ। কিন্তু তোমার কাঁধে যে গুরু দায়িত্ব অর্পিত রয়েছে তা যে কারো পক্ষে পালন করা সম্ভব নয়।রাজা-বাদশা ও শাহজাদারা উঁচু প্রাসাদ,মহল,অট্রালিকা ও স্মৃতিস্বারক এজন্যই তৈরি করে যে, মানুষ তাদের দীর্ঘদিন মনে রাখবে। কিন্তু মনে রেখো ইট পাথরের এই দালান-কোঠা চিরস্থায়ী নয়।মাটির উপরে নয়, মানুষের হৃদয়ে এমন স্মৃতি সৌধ নির্মাণ কর যার জন্য মানুষ তোমাকে অনাদিকাল স্বরণ করবে। ইতিহাসের পাতায় তোমার কীর্তি চিরদিন জীবন্ত হয়ে বিরাজ করবে।চার দেয়াল ও ইট পাথরের দালানে নিজেকে আবদ্ধ করো না। নিজের মেধা ও কর্ম দিয়ে ইতিহাসের পাতা দখল করো। নিজের নাম এমন ভাবে প্রতিষ্ঠিত করো যা কোনোদিন ম্লান হবে না,রং হারাবে না,নষ্ট হবে না। মানুষ তোমাকে শ্রদ্ধাভরে স্বরণ করবে চিরকাল। ***মাহমুদ! সম্পদের প্রাচুর্য, সুন্দরী নারী আর সুরম্য প্রাসাদ সৎ নেতৃত্বের জন্য বড় বাধা। মানুষের বড় দূর্বলতা , এসবের মধ্যে কেউ নিজেকে আটকে ফেললে সে ভোগ বিলাসিতার শিকলে বাঁধা পড়ে যায়।সে শয়তানের ক্রীনড়কে পরিণত হয়। এখন তুমি পূর্ণ যুবক। তারুণ্য ও যৌবনের মিলন মোহনায় তুমি উপনীত।এ এক কঠিন ক্রান্তিকাল।***অধিকাংশ মানুষ এ সময়ে লক্ষ্যচ্যুত হয়, জীবন ও কর্মের পরিণতি ভুলে যায়।তুমিও যদি এই সময়ে আরাম আয়েশ ,রঙিন স্বপ্ন ও বিলাসিতায় গা ভাসিয়ে দাও, ভোগের গভীরে নিজেকে তলিয়ে দাও,তবে সেখান থেকে ফিরে আসা আর সম্ভব নয়।❄️***বিলাসী শরীরের তন্ত্রীগুলো মরে যায়। এই মরা মানুষ দিয়ে কি পৃথিবীর ইতিহাস গড়া সম্ভব?? ❄️ ***এজন্য প্রয়োজন ত্যাগী মানুষের,জীবন্ত মানুষ। love ।তোমাকে আমি আদর্শ মানুষ রূপে দেখতে চাই। এসব কথা শুনে মাহমুদ বলল, আব্বু! আপনি আমাকে ওই বাগান বাড়িতে আর দেখবেন না। আমি আমার পূর্বসূরিদের উত্তরাধিকার কখনো বিস্মৃত হবো না। এ কথা আমি মনে গেঁথে নিয়েছি ,আমি ময়দানের লোক,রনাঙ্গনের লড়াকু সৈনিক,যুদ্ধক্ষেত্র আমার আসল ঠিকানা। তুমি যদি ইসলামের ঝান্ডা বুলন্দ করতে গিয়ে লড়াই করে শাহাদাত বরণ করো ,তবে,আমি তোমার তৈরি উদ্যানে তোমাকে সমাহিত করবো।তোমার কবরের চারপাশে বাহারী রংয়ের অগণন ফুলের সমারোহ ঘটবে।এই বাহারী বাগানে চিরসুখে শুয়ে থাকবে।এ বাগান হবে তোমার চিরসুখনিদ্রার ঠিকানা। পিতার উপদেশ ও অর্পিত দায়িত্ব যথাযথ পালন করেছিলেন শাহজাদা।সবুক্তগীনের কথা অক্ষরে অক্ষরে প্রতিফলিত হয়েছিলো তার জীবনে।সতের বার ভারত আক্রমনের স্মৃতিবাহক সতেরো স্তম্ভের এখন আর কোনো খোঁজ নাই।সুলতান মাহমুদের বাগান বাড়ির ও এখন কোনো হদিস নাই। কিন্তু ইতিহাসের পাতায় জীবন্ত হয়ে আছে সুলতান মাহমুদ ও তার ঐতিহাসিক ভারত অভিযান।এখন ও পৌত্তলিক হিন্দুদের কাছে ,মুর্তিপূজারীদের কাছে সুলতান মহা আতঙ্ক,মূর্তিসংহারী,বিজয়ী অবয়ব। পৃথিবীর মানুষ তাকে স্বরণ করবে চিরকাল। চলবে ইনশাআল্লাহ


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভারত অভিযান (১ম খন্ড)
→ ভারত অভিযান (১ম খন্ড)
→ ভারত অভিযান (১ম খন্ড)
→ ভারত অভিযান (১ম খন্ড)
→ ভারত অভিযান (১ম খন্ড)
→ ভারত অভিযান (১ম খন্ড)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now