বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

"ভার্চুয়াল এবং আমি"

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Merina Afrin Mou (০ পয়েন্ট)

X আজ অনেকদিন হয়ে গেলো অনলাইনে আসিনা, আসলে অনেকটা ব্যস্ততার মধ্যে আছি তাই ফেসবুক, স্ক্যাইপি,ওয়াটসআপ, ইমু কিছুতেই আসা হয়না এতটাই ব্যাস্ততা। আজ সব ব্যস্ততাকে ছুটি দিয়ে ডেটা নিয়ে ফেসবুকে আসলাম, এসেই যা দেখলাম তাতে আমি একটুও প্রস্তুত ছিলাম না এবং এরকম কল্পনাও কখনো হয়নি, মেসেজ এসেছে ২৩টি আস্তে আস্তে সবগুলা মেসেজ চেক করতে লাগলাম। সবাই পরিচিত এবং কাছের বন্ধুগুলোর মেসেজ তারা অনেকেই জানতে চাচ্ছে কেমন আছি, অনলাইনে কেনো আসিনা? আগের মতো কেনো লিখিনা। তারা চাইলে হয়তো সরাসরি বা মুঠোফোনেও এই কথাগুলো বলতে পারতো। . আসলে দিন বদলাইছে তাই বন্ধুদের সাথে কমিউনিকেট সিস্টেমও তারা বদলিয়ে নিয়েছে। এখন এই বর্তমান তত্ত্ব ও প্রযুক্তির যোগ। সেটা একদিক থেকে ভালো বলা গেলেও অপর দিকে অনেকটাই খারাপ দিক রয়েছে। এখন আর বন্ধুদের সাথে আগের মতো কুশলতা বিনিময় করা হয়না, দেখা হয়লে আগের মতো বুকে টেনে নেওয়া হয়না। বিদেশের বন্ধুগুলাও এখন আর মুঠোফোনে কল দেইনা, ইমুর অপেক্ষায় বসে থাকে। আসলে তত্ত্ব প্রযুক্তির কল্যাণে যতটা লাভ হচ্ছে তেমনি পারস্পারিক ঘনিষ্ঠতা ও দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে। আগের দিনে কারো সাথে দেখা হলেই কোলাকোলি করতো। এখন সবারই অনলাইনে বিচরণ, অনালাইনে দেখাদেখি কথাবার্তা হয় ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে তাই এখন আর আগের মতো মানুষের মধ্যে রসায়ন নেই! . অহ আমি আসলে কি বলতে এসে কি বলে পেলেছি তবে মিথ্যা বলেনি, কেউ কেউ হয়তো আমার এই বক্তব্য শুনে বলতে পারে, আমি তত্ত্ব ও প্রযুক্তির বিরোধিতা করি। না মোটেও আমি তত্ত্ব ও প্রযুক্তির বিরোধিতা করিনা, কারন তত্ত্ব প্রযুক্তি আমমাদের জীবনটাকে অনেকটাই সহজ করে দিয়েছে, যেমন তত্ত্ব প্রযুক্তির কল্যাণে এখন ঘরে বসেই পছন্দমত জিনিষ কেনাকাটা করতে পারছি, ঘরে বসেই আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করতে পারছি, এগুলো আমাদের জন্য অনেকটাই কল্যাণময়। তবে তত্ত্ব ও প্রযুক্তির কারনে কিছু কিছু প্রিয় জিনিষ ও আমাদেরকে হারাতে হচ্ছে, জ্ঞানীরা একটু পজিটিভলি ভাবলেই বুঝতে পারবেন, সে বিষয়ে আমি আর বিস্তারিত বলছিনা। . আমি আসলে একটু অন্যরকম প্রকৃতির মানুষ, মাথায় একটা জিনিষ চুলকাইলে সেটা আর না বলে থামিনা এই যে আজ বসেছি আমার ঐদিনের ঘটনা লিখবো বলে আর তত্ত্ব প্রযুক্তি নিয়ে কতগুলো বলে পেলেছি। এখন আসল কথাই আসি, ঐদিন মেসেজ চেক করতে করতে হটাৎ একটি মেসেজ দেখে চোখগেলো আটকে। মেসেজটি লিখেছে আমার কাছেরই একজন ছোট ভাই। মেসেজটি হলো এইঃ ভাইয়া আমাদের ফ্যামিলির অবস্থাতো আপনি জানেনই, তবুও মা-বাবা আমার ফর্ম ফিলাপের জন্য পাচঁ হাজার টাকা ধার করে এনে আমাকে দিয়েছে, কিন্তু টাকাটা আমার ব্যাগ থেকে চুরি হয়ে গেছে, ভাই হাউমাউ করে অনেক কেঁদেছি কেউ রাজি হয়নি, কে নিয়েছে এমন কাউকে সন্দেহ হচ্ছেনা ভাই আমারতো আর কেউ নেই আপনি যদি এখন পাচ হাজার টাকা দেন আমি পরে দিয়ে দিবো, ২৭ তারিখ লাস্ট ডেট। তৎক্ষণাৎ ওরে ফোন দিলাম কিছুক্ষণ রিং হওয়ার পরে ফোনটা ধরলো। - আসসালামু আলাইকুম ভাই, - ওয়ালাইকুম.... কিরে এত্ত বড় একটি ঘটনা ঘটে গেলো আর তুই আমাকে জাস্ট মেসেজে বললি? তাও আবার ফেসবুকে? আমি যে ফেসবুকে আসবো এর নিশ্চয়তা কোথায় পেলি তুই? - ভাই ভয় করছিলো কিভাবে বলবো আপনাকে! - ভয়? কিসের ভয়? সবসময় ভয় চলেনা আজ যদি আমি ফেসবুকে না আসতাম টাকা পেলি কোথায়? পরীক্ষা ক্যামনে দিতি? ফোন দিলে হয়তো কয়েকটা ঝাড়ি দিতাম তাই বলে ফোন দিবিনা? আর আমিতো আগের মতো ফেসবুকে আসিনা। - সরি ভাই আমি আসলে জানতাম না। হ্যা ঐদিন ওরে ফর্ম ফিলাপ করিয়ে দিছিলাম। আসলে আমি যেটা বলতে চাচ্ছি মানুষ আধুনিক তত্ত্ব ও প্রযুক্তির উপর কতটা নির্ভর হয়ে পড়েছে। মানুষ ভাবেনা যে আধুনিক তত্ত্ব ও প্রযুক্তির যুগে অন্তত কিছু মানুষও হয়তো আদিম যুগের চিন্তাভাবনা নিয়ে বসে আছে, যেমনটা আমি।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ "ভার্চুয়াল এবং আমি"

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now