বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভানগড় রহস্য (৩)

"ভূতুড়ে অভিজ্ঞতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ToXiC (০ পয়েন্ট)

X পূর্বের পর্ব না পড়ে এটা দেখলে লাভ নাই gj ৩য় পর্ব ‘ বাহ ! এদিকটার ইতিহাসটা তুমি বেশ জানো দেখছি ‘ – প্রশংসা মিঃ গৌরের মুখে । জগজিৎ হাসলেন – ‘ ইতিহাস মানুষের বলুন বা ভূতের দুটোই জানি ! আপনি যেটা শুনতে চান, শোনাতে পারি ।’ মিঃ গৌর হাসলেন – ‘ওই যে দূরে ওই ভাঙা বাড়িটা… ‘ ‘… মোড়ো কি হাবেলী ‘- বলল জগজিৎ । ‘ভেতরে একটু বসা যায়? অসহ্য রোদ ‘। ‘হ্যাঁ, চলুন না ! ‘ ‘ মোড়ো – কি-হাবেলী ‘ শহরের মূল ফটকের বাইরে যে একটা ছোট্ট প্রাসাদ জাতীয় কিছু ছিল, তা তার জীর্ণ চেহারায় ধরা পড়ে । এখন অবশ্য রাশি রাশি ইঁটের সারির মাঝে মাঝে বিশাল গবাক্ষগুলো দেখলে মরা খুলির মতো লাগে সেটাকে । তখনকার দিনে রাজ্যগুলি যদি দূর্গ নগরী হতো, তাহলে সেই নগরের একটা বিশেষ প্যাটার্ন থাকতো । মূল নগরের নীচে দিকে অর্থাৎ মূল ফটকের বাইরে থাকতো বাজার ও নিম্নশ্রেনীর গ্রামবাসীর আবাসস্থল । মূল ফটকের ভেতরে একে একে সেনা ছাউনি, মন্ত্রী, সেনাপতিদের আবাসস্থল এবং তারপর নগরের উপকন্ঠে থাকতো মূল রাজপ্রাসাদ । একেই বলা হয় ‘ সিটাডেল এরিয়া ‘ (Citadel Area) । এরূপ নির্মাণের একটা কারণ অবশ্যই বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে মূল রাজপ্রাসাদ বা রাজত্বকে যাতে প্রতিহত করা যায় । ধূসর পাহাড় ঘেরা এই পরিত্যক্ত প্রেতপুরীও ঠিক একইরকমের, চোখ বুঝলেই যেন অতীতটা দেখা যায় । পরিত্যক্ত হাবেলির ভেতরটা অসম্ভব থমথমে । কথা বলে তা যেন দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে শূন্যতার বুকে আছড়ে পড়ে গুরুগম্ভীর দামামা ধ্বনির মতো শোনায় । পায়ের বুটের খটখট শব্দ কানে এসে লাগে । সামনের একটা ভাঙা স্ল্যাপের দিকে আঙুল দেখিয়ে জগজিৎ বলে – ‘ ওইখানটায় বসি চলুন ‘ । হাত দিয়ে ধূলোর পারদ সরিয়ে বসার যোগ্য করে দিল জগজিৎ । ছেলেটা বেশ চটপটে । সঙ্গে বিস্কুট ছিল, প্যাকেট কেটে জগজিতের দিকে এগিয়ে দিলেন মিঃ গৌর । তারপর নিজেও একটা কামড় বসিয়ে জল দিয়ে চিবতে চিবতে বললেন – ‘ মান সিং- র ভাই মাধো সিং-এর সম্পত্তির অংশ এই প্রাসাদ, অন্তত ইতিহাস তো তাই বলছে । অার সময়কালটা ১৫৭৩ থেকে ১৬৩১ এর মাঝামাঝি । অর্থাৎ রাজপুত সাম্রাজ্যের দীর্ঘ ইতিহাসের পাতায় এই নগরের স্থায়িত্বকাল মাত্র ৬০ বছর । খুব অবাক লাগছে এ নগর কি গড়ে ওঠার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ধ্বংসের পথে পতিত হয়? জগজিৎ হাতের বিস্কুট দুটো শেষ করে, এক নিঃশ্বাসে বোতলের অনেকটা জল নিঃশেষ করে তারপর উত্তরটা দিল- ‘ এটাই তো মিস্ট্রি স্যার । অবশ্য মতবাদ অনেক অাছে । কিছু ইতিহাসের, আবার কিছুটা মানুষের মন গড়া, এসব একসাথে মিলে জায়গাটা এখন টুরিস্টদের কাছে বেশ দেখবার মতো জিনিস হয়ে উঠেছে । প্রতিবছর এখানে লোকের ভীড় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আর সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং কি জানেন, যত টুরিস্ট এখানে আসে, তার অধিকাংশই অাসে এই জায়গাটির ভুতুড়ে ইতিহাস আর এই ফাঁকা ধু ধু গা ছমছমে পরিবেশটা অনুভব করতে । কাজেই এই জায়গার গুরুত্ব যে ইতিহাসের পাতায় নয় বরং উর্বর মস্তিষ্কের কোন লেখকের ভুতুড়ে গল্পের প্লটে মানায় – তা বোধহয় এতক্ষণে বুঝে গেছেন । তবে কি জানেন কয়েকটা ব্যাপার আছে বলি আপনাকে .. যেগুলো ইন্টারনেট কিংবা বইয়ের পাতায় পাবেন না । মিঃ গৌর এতক্ষণ বেশ টানটান হয়ে বসেছেন, তিনি যেন এবার একটা দূর্দান্ত ভুতুড়ে গল্পের একদম কার্টেন রাইজারে এসে পড়েছেন, তা উপলব্ধি করেই বোধহয় এরকম আচরণ । জগজিৎ একটানা কথা বলে এবার একটু থেমেছে । আবার অসম্ভব শান্ত চারপাশটা । দূরে কোথাও একটা কাক বিশ্রী সুরে ডেকে উঠলো । তারপর আবার সব চুপচাপ । এবার মিঃ গৌরের মনে হল জগজিৎ বোধহয় ভাবনার মধ্যে খেই হারিয়ে ফেলেছে, তার চোখ দুটো বোজা, ঠোঁট নড়ছে না, সে স্থির । মিঃ গৌর এবার তাকে ডাকতে যাবেন ঠিক তখনই জগজিতের মুখে কথা শোনা গেল । হ্যাঁ জগজিৎ- ই বলল বটে, তবে প্রথমটাই শুনলে মনে হয় কথাটা হাবেলীর ভেতরের কোন ঘর থেকে আসছে । তার গলার স্বর আগের চেয়ে এখন বেশ গম্ভীর , থমথমে । ‘ মিঃ গৌর আপনি আর্শীবাদ-অভিশাপ -এসবে বিশ্বাস করেন? ‘ মিঃ গৌর ঘাড় নাড়লেন । উপর নীচে নয় পাশাপাশি অর্থাৎ , না । জগজিৎ এবার একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল- ‘ জানি, মিঃ গৌর, আমিও এসবে খুব একটা … , বুঝতেই পারছেন পড়াশোনা করেছি, শিক্ষিত মানুষ । চাকরি করি, এসব কি মানা চলে? তবে কি জানেন তো মাঝেমধ্যে এমন অনেক কিছু ঘটে, যার ব্যখ্যা দিতে শিক্ষিত মানুষও বোকা বনে যায় । এ শহরের ইতিহাস আপনি পড়ে এসেছেন । যারা পড়ে সবাই জানে । ১৫৭৩ -এ কচ্ছ রাজপু্ত শাসক জয়পুরের ভগবন্ত দাস তার সৎ ছেলে মাধো সিং কে এ শহর উপহার দেন । তার বড় ছেলে মান সিং -এর তখন বিশাল নামডাক । সে তখন মোগল দরবারে আকবরের চিফ কমান্ডার । তবে প্রচুর প্রতিপত্তি । তাই দাদার প্রতি একপ্রকার ঈর্ষা এড়াতেই ভগবন্ত তাকে এ নগর ভেট দেন । ছবির মতো সাজানো এ নগর । মাত্র ৬০ বছরের মধ্যেই পরিত্যক্ত হয়ে পড়ল । তার কারণ কোন বহিঃশত্রুর আক্রমণ নয় । বরং… এক অভিশাপ ‘ ‘ অভিশাপ ?… কিসের অভিশাপ? এটা কি ইতিহাস বলছে? মনে ইতিহাস এর কোন উল্লেখ… ‘ -উত্তেজিত মিঃ গৌর । তিনি শরীরটাকে আগের চেয়ে আরো টানটান করে বসেছেন । স্বভাবতই বোঝা যায় তিনি একই সাথে রোমাঞ্চিত ও উত্তেজিত । ‘ অবশ্য অভিশাপ একটা না দুটো, তা নিয়ে অবশ্য মতভেদ আছে । ভনিতা না করে বরং আপনাকে গল্পটা শোনাই … ৫০০ বছরের এক অভিশাপ, আজও বয়ে চলেছে এই ধূ ধূ মৃত শহরটি । ‘ এরপর জগজিৎ বলে চললো – ‘ প্রথমেই বলেছিলাম অভিশাপ একটা নয় বরং অনেকে বলে দুটো । তাই দুটোই শোনাব আপনাকে । তবে প্রথমটির থেকে দ্বিতীয়টি বেশ ইন্টারেস্টিং । প্রথম কাহিনীটি এই বিশাল নগরীর প্রতিষ্ঠা নিয়ে । রাজা ভগবন্ত সিং যখন প্রথম দূর্গ নির্মাণের জন্য ফাঁকা জমির সন্ধান করছিলেন, তখন এই বিশাল জায়গাটি তার চোখে পড়ে । এমন জায়গা যেকোন শাসকেরই দূর্গ নির্মাণের জন্য প্রথম পছন্দ হবে সেটাই স্বাভাবিক এবং তার একটি বিশেষ কারণ চারপাশের এই বিশাল পর্বত বেষ্টনী । বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে খুব সহজেই রক্ষা পাওয়া যায় তাতে । ভগবন্ত সিং-ও তাই এখানেই দূর্গ বানানোর সিদ্ধান্ত নিলেন । কিন্তু সে কাজে বাধা সাধলেন এক সাধু । বিস্তৃত জমির এক প্রান্তে তার পত্রকুঠির । রাজা তার সাথে সাক্ষাত করে তাকে সমস্ত বিষয়টি জানাতেই তিনি বললেন -‘ দূর্গ নির্মাণে তার আপত্তি নেই কিন্তু সে দূর্গের ছায়া যেন তার কুটিরে এসে না পড়ে । অর্থাৎ দূর্গ বানাও, তার উচ্চতা যেন না বাড়ে । কিন্তু রাজ-রাজাদের মর্জি । তিনি থরি পাত্তা দেবেন এক ভষ্মে মাখা সাধুর কথায় । অতএব সে আর্জি রাখা হলো না । রাজার দূর্গ আকাশ ছুঁলো । আর ঠিক তখনই ক্রুদ্ধ সাধু রাজাকে অভিশাপ দিলেন বছর ঘুরতেই সব শেষ হয়ে যাবে, ধুলোয় মিশে যাবে তার ঔদ্ধত্যের দূর্গের চূড়া । শেষটায় নাকি তাই হয়েছিল । অনেক মনে করেন সাধুর নিষেধাজ্ঞা বোধহয় শুনলেই ভালো করতেন রাজা ভগবন্ত সিং ।’ ‘ আর দ্বিতীয়টা? ‘ – প্রশ্নটা প্রায় সঙ্গে সঙ্গে করেছেন মিঃ গৌর, তাকে যে গল্পে পেয়েছে তা বুঝেই বোধহয় মৃদু হাসলেন জগজিৎ । ‘ ঘড়িতে আড়াইটে বাজে সেটা দেখেছেন? এ বেলায় লাঞ্চটা সেরে নিন, এখনও অনেক কিছু দেখার বাকি ।’ দুটো টিফিন কৌটায় শুকনো রুটি, আলুর তরকারি আর সন্দেশ । খাওয়াটা জমিয়ে না হলেও বেশ কিছুক্ষণ পেট ভর্তি রাখাতে যথেষ্ট। খাওয়া শেষ করে উঠে পড়লেন দুজনে । বাইরে বেরোতেই দেখলেন মাথায় উপর একটা মেঘ এসে পড়াতে রোদের তেজ বেশ খানিকটা কমেছে । কিছুটা এগিয়ে যেতেই পাশাপাশি ছোট ছোট এক কামরার বাড়ির ভগ্নস্তূপ । প্রশ্ন করায় জগজিৎ বলল- এ হচ্ছে জহুরি বাজার । সে সময় নাকি বিশাল হাট বসতো এখানে । দামী গয়না-পাথর বিক্রি হতো এখনে । আজ অবশ্য সেটা যেন ফোকলা দাঁতের সারি, তাদের দেখে হাসছে । ‘ লোকে বলে রাত বাড়লে এখানে নানা অদ্ভুত সব কান্ড ঘটে ।একবার দুটো ছেলে ওস্তাদি করে ভাঙা পাঁচিল টপকে রাতের আঁধারে ঢুকে ছিল । পরদিন সকালে বদ্ধ উন্মাদ অবস্থায় একজনের দেখা মেলে । অন্যজনের সন্ধান মেলেনি । সে ছেলে নাকি বলেছিল এ বাজার নাকি রাতের বেলা এক থাকেনা । কারা যেন এ বাজারে আজও কেনাকাটি করতে আসে । প্রতি জ্যোৎস্না রাতে আজও নাকি সেখানে বাজার বসে । কেনাকাটি হয়, লোকজন আসে… ‘ মিঃ গৌর পাশের ভাঙা ইটগুলো দিকে তাকিয়ে বিরবির করে বললেন – ‘ সে লোকজন যে আদৌ বিংশ শতাব্দীর মানুষ নয়, তা বলাই বাহুল্য ‘ । তারপর আরো দুটো মন্দির পেরিয়ে যখন তারা মূল্ ফটকের সামনে এসে দাঁড়ালেন তখন ঘড়িতে সময় চারটে। জগজিৎ বলল- ‘ স্যার একটু দাঁড়ান । রাতের খাবার অার চায়ের ফ্ল্যাক্সটা নিয়ে নিই । ‘ মিঃ গৌর প্রশ্ন করার জগজিৎ বলল – ‘ তার এক দূরসম্পর্কের ভাই এখানে গেট কিপারের কাজ করে, তাকেই বলা হয়েছে রাতের খাবারের কথা । এখনই এসে পড়বে সে । ‘ বেঁটে খাটো ছোট্টূ খাবার নিয়ে যখন ফটকের কাছে পৌঁছালো তখন ঘড়িতে পৌনে পাঁচটা ।সূর্য পাহাড়ের আড়ালে মুখ লুকোবার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে ততক্ষণে । ছটার মধ্যে সন্ধ্যে নেমে যাবে । তার অাগে পুরোটা আগে দেখে নেওয়া দরকার । আর সেটা আলো থাকতে থাকতেই । জগজিৎ আশপাশের জায়গাগুলোর একটা সংক্ষিপ্ত টিপ্পন্নী দিয়ে শেষমেশ মিঃ গৌর কে নিয়ে হাজির হল তার আল্টিমেট ডেসটিনেশনে, অর্থাৎ তাদের সামনে এখন সেই আকাশচুম্বী ভানগড় দূর্গ , যার ছায়া সাধুর কুটিরে পড়ায়, সব শেষ হয়ে গেছিল । শতাব্দীর পাথুরে পথ,মাঝে মাঝে সুদূর্গ প্রাচীর চূড়া, তা যেন দুহাত দিয়ে আড়াল করে রেখেছে সেই বিশাল দূর্গটিকে । আজও সেদিকে তাকালে তার অতীতের জৌলুস চোখে পড়ে । চোখ বুঝলেই ধরা পড়ে ৫০০ বছর আগের তার প্রকৃতস্বরুপটা। খানিকটা এগিয়ে যেতেই প্রাচীরের গায়ে একটা বিশাল গর্ত দেখিয়ে জগজিৎ তাকে জিজ্ঞাসা করলেন – ‘এটা কি বুঝতে পারছেন? ‘ ‘ সুরঙ্গ বলে মনে হচ্ছে… ‘ ‘ হ্যাঁ ঠিকই সুরঙ্গই বটে, তবে এখন যদি এর ভেতরে ঢোকেন, বাদুড় আর চামচিকি ছাড়া কিছুই পাবেন না ‘ ‘আগেকার দিনে রাজ-রাজা এইসব গুপ্ত সুরঙ্গের প্রকোষ্ঠেই ধনরাশি লুকিয়ে রাখতেন বলে শুনেছি ।’ – প্রশ্ন মিঃ গৌরের মুখে । ‘ সে সব থাকলেও আর পাবার আসা নেই । একসময় বহুমূল্য পাথর ছিল এখানকার মন্দিরের গায়ে । সব গেছে ।’ ‘ কি চুরি? ‘ ‘ তা ছাড়া ! ভ্যান্ডালিজম বোঝেন তো? ‘ তারা এগিয়ে গেলেন কেল্লার মূল ফটকের দিকে ।সেখানে একটি বিশাল গেট দেখে প্রশ্নটা করলেন মিঃ গৌর- ‘ এটাতো পরে লাগানো তাই না? এ structure তো… ‘ ‘ হ্যাঁ, এটা রাতে কেল্লায় অযাচিত প্রবেশ আটকাতে । এসব পরিত্যক্ত কেল্লা দুষ্কৃতীর আখড়া, জানেন তো? ‘ কেল্লার ফটক পেরোতেই অনেকগুলো সিড়ি নানা দিকে সোজা উপরে উঠে গেছে । উপরের দিকে তাকালে মাথা ঘুরে যায় । এই বিশাল দূর্গের পেটের মধ্যে নিজেকে নিরীহ একটা পিঁপড়ে বলেই মনে হচ্ছে । মিঃ গৌর মাথা উঁচিয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখছেন । তার মুখ দিয়ে অস্ফুট স্বরে ‘বা-ব্বা! ‘ কথাটা বেড়িয়ে এল । জগজিৎ ততক্ষণ বেশ কয়েকটা ধাপ এগিয়ে গেছে । পিছু ঘুরে ডাক দিলেন – ‘আইয়ে, গৌর -সাব! ‘ দুটো ঘর পেরিয়ে একটা ছাদের অংশ । অবশ্য একে আধুনিক যুগের ব্যালকনির সাথে তুলনা করলেও বিশেষ ভুল হয়না । ছাদের ডান দিকে একটা ছোট্ট মন্দির । জগজিৎ কে জিঞ্জাসা করায় সে বলল – ‘ এটা রানী রত্নাবতীর মন্দির । এই কেল্লার দ্বিতীয় গল্প এই রানী রত্নাবতীকে নিয়েই । রানী রত্নাবতী ছিলেন রাজা মাধো সিং এর স্ত্রী । এই রূপবতী রানীর নাম তখন তামাম রাজপুতানায় । তিনি একাধারে রূপবতী এবং বুদ্ধিমতী । বহু রাজ্যের রাজার মাধো সিং এর প্রতি ঈর্ষার এক অন্যতম কারণ তিনি । আর এই রূপের ঈর্ষাই এক অভিশপ্ত ইতিহাসের জন্ম দিয়েছিল । রানীর রূপের কথা যখন সমগ্র রাজপুতানায় ছড়িয়ে পড়েছে তখন তার রূপে আকৃষ্ট হন এক তান্ত্রিক , নাম সিন্দিয়া । সে রানীকে বশ করবার জন্য বহু প্রচেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় । শেষটায় তিনি চাললেন তার মক্ষম অস্ত্র । একটি মন্ত্রপুত শিশিতে তেল ভরে তিনি ছলেবলে তা রানীর কাছে পাঠান । সেই তেল ব্যবহার করলে রানী তার প্রতি আকৃষ্ট হবেন । কিন্তু রানী রত্নাবতী ছিলেন বিচক্ষন । আসন্ন বিপদ বুঝতে পেরে উল্টো মন্ত্র উচ্চারন করে সেই শিশিকে একটা শিলাখন্ডে রূপান্তরিত করে ছুঁড়ে দেন সেই তান্ত্রিকের দিকে । শোনা যায় , রানী রত্নাবতীও তন্ত্রবিদ্যায় সিদ্ধহস্ত ছিলেন । চাল ঘুরলো , মারা গেলেন তান্ত্রিক । কিন্তু মারা যাবার আগে রানীকে অভিশাপ দিয়ে গেলেন , তার এই বিশাল রাজবংশ চোখের নিমেষে মিশে যাবে মাটিতে … ছাড়খার হয়ে যাবে সব সৌন্দর্য , তার রূপ । আর তারপর … বাকিটা ইতিহাস । গল্পটা এক নিঃশ্বাসে বলে গেল জগজিৎ । দূর্গের ছাদ পেরিয়ে সূর্য এখন বিদায় নিয়েছে দূরের পাহাড়ের কোন গোপন আস্তানায় । সন্ধ্যা নামছে । দূর্গের ছাদ থেকে দূরের আকাশে মিলিয়ে আসা সূর্যের শেষ রক্তাভ রেখাটা যেন একটা লাল নিশান হয়ে আকাশে উড়ছে । রাজপুত ইতিহাসে সেটা জয়ের নিশান হলেও এই নির্জন দূর্গের ছাদে সেটা যেন মিঃ গৌর এর মনে অন্য কথা বলছে – এ লাল নিশান যেন কোন আসন্ন বিপদের , সেটা পুব থেকে পশ্চিমে ছড়িয়ে বার বার যেন কেউ তাদের নিষেধ করছে – ফিরে যাও ! ফিরে যাও !


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভানগড় রহস্য (৩)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now