বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
দৌড়াতে দৌড়াতে বাবার কাছে আসল সিয়াম।বলল,বাবা ৫ টাকা দাও না চকলেট খাব।বাবা বলে ঐ এইসব বাজে জিনিস এক্কেবারে মুখে নিবি না বলে দিলাম।চকলেট খেলে দাঁতে পোকা হয় এবং সেই পোকা মুখে কতটা বিচ্ছিরি দেখায়! সিয়াম বলে বাবা এত চিন্তা করো না আমার কিছু হবেনা। দাওনা, ৫ টাকা দাও।ছোট বাবুর কথা তো কোনো বাবা-মা ই না রেখে পারে না।শেষে, পকেট একটা ৫ টাকার নোট দিল, অনেক খুশি হল সিয়াম।বাবার কপালে এবং গালে পাপা দিয়ে দৌড় দিল দোকানের দিকে।বাবার চোখ সুখের অশ্রু পরছে।পিচ্ছিটা বাবার অনেক যত্ন ও করে।যেমন,বাবা ওযু করতে গেলে বাবাকে পানির বাটিটা এগিয়ে দেয়,কখনো বাবা চাবি ফেলে ঘর থেকে বের হয় গেলে এই পিচ্ছি সিয়াম বাবাকে ডাক না দিয়ে দৌড়ে গিয়ে বাবার হাতে দিয়ে আসে।বাবাও অনেক ভালোবাসে এই পুচকে টাকে।যার ফলে সিয়াম যখনি যেটা চায় বাবা সেটা পূরণ করতে সর্বাধিক চেষ্টা করে।বাবা একদিন সিয়ামকে একটা দুষ্টামির জন্য মেজাজ দেখিয়েছিল।এরপর সিয়াম তো বাবার সাথে আগের কথা বলে না,মুখটা সবসময় মলিন থাকে।বাবাও কষ্ট পাচ্ছে এটার জন্য কেননা,সিয়াম বাবার সাথে খেলাধুলা করত,বাবার ছোটখাটো প্রয়োজনীয় জিনিস বাবাকে এগোয়ে দিত।তার বাবা ছিল একজন রিকশাচালক।সারাদিন রিকশাচালিয়ে যা রোজগার হয় তা দিয়েই তাদের সংসার চলে।কোনো সময় টানা ৪-৫ বৃষ্টিপাত হলে সিয়ামের বাবা তখন ঠিকমতো রিকশাচালাতে পারে না রাস্তায় কেননা তখন রাস্তায় মানুষ খুব কম চলাচল করে।এভাবে কয়েকদিন বৃষ্টিপাত হলে ওদের পরিবারে অভাব-অনটন শুরু হয়ে যায়।কখনো বা তাদেরকে অর্ধাহারে,অনাহারে থাকতে হয়।সারাদিন রিকশাচালিয়ে তার বাবা যখন বাসায় আসে তখন তার বাবার মুখটা ধুলে মলিন দেখায় এবং চুলগুলো এলোমেলো থাকে।পড়নে একটা লুঙ্গি এবং গায়ে একটা জীর্ণ ফতুয়া এবং কাঁধে একটি গামছা ঝুলানো থাকে।সারাদিন তার বাবা রিকশাচালায় কিন্তু নামাজের সময় নামাজটুকু সে আদায় করে নেয় এবং বাসায় থাকলে সিয়ামকে নিয়ে একসাথে নামাজ আাদায় করে। তার বাবা এই রোদ্দুর দিনে রিকশাচালায়, মাথায় ঘাম পায়ে পড়ে তবুও নিজের পরিবারের কথা চিন্তা করে সে সারাটাদিন এই ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে রিকশাচালায়। তার বাবার জন্য সে রাত্রে অপেক্ষা করে যে তার বাবা কখন আসবে।তার বাবাও সিয়ামকে অনেক আদর করে। যার কারণে তার বাবা প্রতিদিন তার জন্য মজা নিয়ে আসতো।একদিন তার বাবা খালি হাতে আসলো অর্থাৎ তার বাবা তার জন্য আজ মজা আনেনি।বাবার মুখটা আজ আমাবস্যা অন্ধকারের মতো কালো হয়ে আছে।সিয়াম বলল,বাবা আমার জন্য কি আজ মজা আনো নি? বাবা লজ্জায় দাড়িয়ে আছে,একসময় বাবার দু'চোখ দিয়ে অশ্রু পরতে লাগল।বাবা সিয়ামকে কোলে তুলে নিয়ে কপালে এবং গালে চুমু দিয়ে বলে বাবা আজ বাসয় আসার সময় রাস্তার কয়েকটা অসৎ ব্যক্তি আমাকে ঘেরাও করে ছুরি দেখিয়ে আমার উপার্জিত টাকা নিয়ে গেছে রে।সিয়াম ও এতে কান্না শুরু করল এবং বলল বাবা তুমি মজা নিয়ে আসো নি এতে আমার এতে আমি রাগ করিনি বাবা আজ তুমি আমাদের ফিরে আসছো সুস্থ শরীরে আমরা এতেই খুশি,আলহামদুলিল্লাহ্। ছোট বাচ্চার মুখে এই কথাটা শুনে বাবা আরো জোরে কান্না করতে শুরু করলেন।বাবার পায়ে একজোড়া জুতা যা অর্ধছিড়া হয়ে আছে অথচ সিয়ামকে সবমসময় ভালো কিছু পরিধান করতে চায়।তার বাবা যেদিন ভালো টাকা ইনকাম করতে পারে সেদিন তাদের ঘরের বাজার খুব ভালো হয়।আল্লাহ যতটুকু দিয়েছে তার পরিবারকে তার পরিবার তাতেই সন্তুষ্ট।তার বাবা বছরে ২টা ঈদে তাকে নতুন জামা কিনে দেয়।হয়ত বাবার পড়নে সেই আগের পুরনো জামাটাই থাকে।সেটা দিয়ে ঈদটা কাটিয়ে দেয়।নিজের সন্তানের মুখে হাসি ফুটাতে পারলেই যেন নিজেরর মুখটা আনন্দঘন থাকে।বাবার কাছে তার সন্তান রাজপুত্রের মতো।তার বাবার ইচ্ছা সিয়ামকে একজন বড় আলেম বানানো যেন মৃত্যুর পর তার জানাজা টা তার ছেলে পড়াতে পারে।তার বাবার শত কষ্ট হউক তবুও তার বাবা তাকে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রাখত চায়।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now