বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
জিসান,মারুফ আর শাহরুখ তিনবন্ধু একটা লেকের ধারে
বসে আছে।
এমন সময় জিসানের ফোনটা বেজে উঠলো
--জান কি করো?(পুজা)
--কিছুনা জান (জিসান)
--একটা কথা বলি?
--বলো
--আমি তোমাকে ভালোবাসি
--হুম
--কি হুম?
--আমিও ভালোবাসি।
আচ্ছা রাখোতো একজন ফোন দিয়েছে
,
--বাবু কেমন আছো?(দীপা)
--হ্যা বাবু ভালো (জিসান)
--সেদিনের উত্তর তো পেলামনা
--তুমি বুঝনা ভালোবাসি কিনা?
--না বুঝিনা
--থাক বুঝতেও হবেনা।
কলটা হোল্ড করোতো একজন ফোন দিয়েছে।
,
--হ্যালো টুনুমুনু (জয়িতা)
--হ্যালো কুচিপুচি (জিসান)
--আচ্ছা তুমি কি আমাকে সত্যি ভালোবাসো?
--তুমি ভালোবাসলে আমিও ভালোবাসি
--হুম বাসিতো
--তাহলে আমিও ভালোবাসি।
আচ্ছা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি
পরে ফোন দাও কেমন?
--ওকে জান
.
--জিসান তুই মানুষ?(শাহরুখ)
--কেন বলতো?(জিসান)
--এই যে এতগুলো মেয়ে কি কি নাম পুজা দীপা জয়িতা
নন্দিনী এদের জীবনটা নষ্ট করছিস তোর বিবেকে
বাধেনা?(শাহরুখ)
--দেখ শাহরুখ,না যেনে কিছু বলাটা ঠিক না(মারুফ)
--চুপ কর মারুফ ওকে বলতে দে(জিসান)
--না চুপ করবোনা,আমি চাইনা ও তোকে ভুল বুঝুক।
শোন শাহরুখ জিসান কোন চিট করছেনা ও ভালোবাসার
কাঙ্গাল,যে ওকে ভালোবাসে তাকেই ও ভালোবাসে
শুধুমাত্র একটি আশায়,শুনলিনা ও বললো তুমি সত্যি সত্যি
ভালোবাসলে আমি তোমাকে ভালোবাসি?(মারুফ)
--মানে?(শাহরুখ)
--তাহলে শোন (মারুফ)------
,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
আজ থেকে ৬বছর আগের জিসান আর এখনকার জিসানের
মধ্যে আকাশ পাতাল তফাৎ।
জিসানেরা দিনাজপুর থেকে যখন প্রথম রংপুরে আসে
তখন জিসান ছিলো অনেকটা সাদামাটা ধরনের।
কারো সাথেই বেশী কথা বলতো না,মিশতো
না,খেলাধুলা করতো না,অনেকটা চুপচাপ স্বভাবের
ছিলো।তখন জিসান সবেমাত্র অষ্টম শ্রেনীতে পড়ছে,সে
সময় তার কিশোর জীবনে একটি মেয়ে আসলো নাম
জেসমিন।
সেদিন ছিলো সপ্তমী।দুর্গা মন্ডপে কিছু বাচ্চারা
নাচানাচি করছিলো,জিসান সেখানে দাড়িয়ে তাদের
নাচানাচি দেখছিলো,তার বিপরীদ দিকে একটি ছোট
মেয়ে দাড়িয়ে দাড়িয়ে জিসানের দিকে
তাকাচ্ছিলো,আর মিটিমিটি হাসছিলো।জিসান
সেদিকে দেখে না দেখার ভান করে থাকলো।এভাবে
পুজো চলে গেলো,বছর ঘুরে আবার দূর্গা পুজা
এলো,জিসান জেসমিন কে একদম ভুলেই গিয়েছিলো,সে
পুজো মন্ডপে বন্ধুদের সাথে নাচানাচি করছিলো,হঠাৎ
তাকে ধাক্কা দিয়ে তার পাশে কেউ নাচতে শুরু
করলো,জিসান ভীষন রেগে গিয়ে থাপ্পর তুললো,কিন্তু
একি এযে জেসমিন,তাই আর কিছুই বললোনা।এভাবে
আরো একটা বছর গেলো ,মজার বিষয় হলো তারা একই
পাড়ায় থাকলেও শুধুমাত্র পুজোতেই তাদের দেখা হতো।
.
জিসান এবার মাধ্যমিক পরিক্ষা দিবে।পুজো শুরু হলো
আবার জেসমিন কে দেখতে পেলো,এখন জিসানের মনে
এক অজানা অনুভূতি দোলা দিতে লাগলো।
জিসান নিজেকে সামলাতে না পেরে সাহস করে
জেসমিনের মাসতুতো ভাই তাপসকে সবকথা বললো।
তাপস সেসব জেসমিন কে বললো,জেসমিন বললো
আগে আমার পরীক্ষা শেষ হোক তার পর ভেবে দেখবো
এর কয়েকদিন পর জেসমিন তার এক ছোট বোনকে
জিসানের কাছে পাঠালো তার ফোন নম্বর পাঠাতে।
এর কয়েকদিন পর,জিসানের ফোনে একটা অচেনা নম্বর
থেকে ফোন আসলো,হ্যা ঠিক ভেবেছেন জেসমিনের
ফোন।
এর পর থেকে চলতে লাগলো তাদের ফোনালাপ।
এভাবে আবারো বছর পেরিয়ে পুজো চলে এলো,এতোদিন
কথা হলেও তারা একসাথে কোথাও বের হয়নী,আজ
সপ্তমী,জিসান বায়না ধরেছে আজ তার সাথে বেড়াতে
যেতে হবে,জেসমিন রাজি হলো,কিন্তু তাতে একটা শর্ত
আছে,শর্তটা হলো এই যে,
জেসমিন শুধুমাত্র এক ঘন্টার জন্য বের হবে।
এতঃপর তারা তাজহাট জমিদার বাড়িতে দেখা করলো
.
--তোমার হাতটা একটু ধরবো?(জিসান)
--না,খবরদার।(জেসমিন)
--প্লিজ
--না
--ওকে থাক ধরবোনা(অভিমানি সুরে)
--বাবুটা কি রাগ করলো(জিসানের হাতটা কাছে টেনে
নিয়ে)
এই প্রথম নারীর কোমল স্পর্শ পেয়ে,জিসানের মনে এক
অজানা শিহরণ দোলা দেয়।
.
.
একবছর পর
.
.
কিছুদিন থেকে জেসমিন আর জিসানের মাঝে একটা
বিষয় নিয়ে ঝগড়া চলে আসছে,সেটা হলো বিশাল।
বিশাল সম্পর্কে জেসমিনের মাসতুতো ভাই,ইদানিং সে
প্রাই জেসমিনদের বাসায় যাতায়াত করে,জেসমিনের
সাথে ঘুরে বেড়ায় যেটা জিসানের মোটেও পছন্দ নয়।
আগে জেসমিন বাহিরে বেড় হলে জিসানকে ফোনদিয়ে
বের হতো কিন্তু এখন তা করেনা।
আজও ঠিক তেমনি জেসমিন জিসান কে না বলে রিকশায়
করে বের হলো,পথে জিসান তাকে দেখতে পেলে,জিসান
কে ফোন দিয়ে সুরভী উদ্যানে আসতে বললো।
জিসান সেদিন জেসমিনের জন্য একটা পায়েল আর
অনেক গুলো গোলাপ নিয়ে গিয়েছিলো।
.
এর কিছুদিন পর বিশালের সাথে জিসানের কথা হয়
বিশাল বলে জেসমিন তাকে ভালোবাসে,কথাটা
জিসানের মোটেও বিশ্বাস হচ্ছিলোনা।
পরের দিন জেসমিন হঠাৎ ফোন করে জিসান কে তার
স্কুলের সামনে ডাকে সেখানে বিশাল ও ছিলো,জিসান
সেখানে গিয়ে কোন কথা না বলেই সোজা জেসমিন কে
জিঙ্গাসা করলো,
বলো তুমি কাকে ভালোবাসো??
জেসমিন কিছুক্ষন পর মুখ খুললো সরি বিশাল ভাই আমি
জিসান কে ভালোবাসি।
জেসমিনের মুখে এ কথাশুনে বিশাল সেখান থেকে চলে
যায়।
এরপরেও জেসমিনের বাসায় বিশালের আসা যাওয়া
কমেনা,বড়ং বেড়ে যায়।ধীরে ধীরে জিসান বুঝতে পারে
যে, তাঁর জেসমিন আর তাঁর নেই।
.
--ও বুঝলাম (শাহরুখ)
--না কিছুই বুঝিস নি (মারুফ)
--মানে
-- হুম,এর পরের ঘটনাটা আরো মর্মান্তিক শোন তাহলে
,
জিসানের জীবন থেকে জেসমিন চলে যাওয়ার পর
জিসানের জীবনে অন্য একটা মেয়ে আসে নাম অনুরাধা।
এক্ষেত্রে জিসানের দোষটাই একটু বেশী,অনুরাধা
জিসানের বন্ধু হওয়া সত্যেও জিসান অনুরাধাকে
ভালোবাসে।
একথা শোনার পর অনুরাধা জিসানকে জানিয়ে দেয় সে
অন্য একটা ছেলেকে ভালোবাসে।কিছুদিন পর ঐ
ছেলেটার সাথে ব্রেকাপ হওয়ায় অনুরাধা নিজ থেকেই
জিসানকে ভালোবাসে জিসানো অনুরাধাকে
ভালোবাসতো তাই কোন সমস্যা হলোনা।এর কিছুদিন পর
.
--এটা তুমি কি বলছো এটা কি করে সম্ভব? (জিসান)
--কেন সম্ভব না,তুমি কি আমাকে ভালোবাসোনা?(অনু
রাধা)
--আরে বাবা বাসিতো,তাই বলে এখন কি বিয়ে করা
সম্ভব?আমি সবেমাত্র এইচ.এস.সি দিলাম
--আমি কিছু জানিনা আমি চাই তুমি আমাকে সিদূর
পরিয়ে বিয়ে করো
--ওকে চলো
[অতঃপর জিসান আর অনুরাধা বিয়ে করে]
একমাস পর অনুরাধা জিসানকে জানিয়ে দেয় তার
পুরোনো প্রেমিক ফিরে এসেছে তাই তারপক্ষে আর
জিসানের সাথে থাকা সম্ভব নয়।
.
--হোয়াট,তার মানে জিসান বিবাহিত??(শাহরুখ)
--হ্যা (মারুফ)
--সরিরে জিসান না জেনে তোকে এসব বলেছি,ক্ষমা
করিস দোস্ত।
[শাহরুখ পিছন ফিরে আর জিসান কে দেখতে পায়না।
জিসান অনেকক্ষন আগেই চলে গেছে,হয়তো
পুজা,দীপা,রিনা,মিনা,টিনা কোন একজনের
কাছে,সত্যিকার "ভালোবাসার সন্ধানে"]
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now