বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমি,
সালমান আল রিয়াদ
খুব ছোটবেলায় বাবা মারা গেছেন। তারপর মা আগলে রেখেছেন আমাকে । তার স্নেহ, মমতা আর ভালোবাসার জোরে এম.এ পাশ করলাম। একটা প্রাইভেট ফার্মে ভালো জব পেলাম। মাকে নিয়েই আমার দুনিয়া। তিনি অনেক
কষ্ট করে আমাকে এই
পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন। তাই মা আমার সব কিছু, বলতে গেলে তিনিই আমার পৃথিবী ।
একজন খালাও আছেন। তিনি গ্রামে থাকেন। মা, প্রায়ই তার কথা আমায় বলেন।
তিনিও নাকি আমাকে অনেক আদর করতেন। আমাদের
অভাবের সময় যথেষ্ট সম্ভব
উপকার করেছেন।
.
আজ অফিসে যাওয়ার আগে আম্মু আমাকে ডাকলেন। তার রুমে গেলাম।
--আম্মু আমাকে ডেকেছো?
--হ্যা, বাবা।
--কিছু বলবা নাকি?
--একটা কথা ছিল।
--হুম, বলো।
-তোর খালার কথা মনে আছে?
--হ্যা,আছে তো। খালাকে কি করে ভুলি।
--খালাতো বোনের কথা মনে আছে?
--আজব তো, মনে থাকবে না কেন !!!
--তামান্নার কথা তোর মনে আছে?
--হুম, আছে। কি বলবা তাড়াতাড়ি বলো।
অফিসে লেট
হয়ে যাচ্ছে।
--তামান্নার এইচ.এস.সি. পরীক্ষা শেষ। বলছিলাম যে,
মেয়েটা তো শহর দেখেনি তাই এবার আমাদের বাসায়
বেড়াতে আসতে বলে দিয়েছি। তুই কি বলিস?
--হ্যা আসুক। আমাকে জিজ্ঞেস করার কি আছে?
--ও আমাদের বাসা চেনে না। আবার শহরে
নতুন আসবে। কিছুই চিনবে না। তুই ওকে স্টেশন থেকে নিয়ে
আসবি।
--আচ্ছা, ঠিক আছে। এখন আসি, অনেক লেট করে ফেলেছি।
--ঠিক আছে বাবা, সাবধানে যাস।
.
তিন দিন পরে আম্মু ডেকে বলল। আজ তামান্না আসবে।
বিকেলে যেন তাকে স্টেশন থেকে রিসিভ করি। আর
তাই হাফ বেলা ছুটি নিতে হবে । আমি রাজি হয়ে অফিসে
গেলাম।
.
বিকেলের দিকে স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।
আম্মু তামান্নার মোবাইল নাম্বারটা দিয়ে দিয়েছেন। যেন ওকে
সহজে খুজে পাই। আস্তে আস্তে স্টেশনে চলে আসলাম।
তারপর, তামান্নাকে ফোন দিলাম।
.
--হ্যালো, তামান্না।
--হ্যা, রিয়াদ ভাইয়া।
--কতোদুর তুমি এখন?
--আর মনে হয় ১৫মিনিট লাগবে।
--আচ্ছা, আমি স্টেশনে আছি।
--ওকে।
.
১৬/১৭ মিনিট পরে তামান্না আসলো। প্রথমে চিনতে
পারছিলাম না।
তারপর, ভালো ভাবে খেয়াল করে বুঝতে পারলাম এটা
তামান্না।
.
--তুমি তামান্না?
--হ্যা, রিয়াদ ভাইয়া । আমিই তামান্না।
--অনেক বড় গেছো, দেখছি।
--সে তো বটেই । আর আপনিও তো কম না। যেভাবে দাড়ি আর
গোফ রাখছেন, কত মাস ধরে সেভ করেন না !!! বলে হাসতে লাগলো।
--আচ্ছা,আচ্ছা। আর দুষ্টামি না করে বাসায় চলো।
--ওকে, আসেন।
.
এরপর, বাসার দিকে রওনা হলাম। আর মনে মনে
ভাবতে
লাগলাম, কি দুষ্টু মেয়েরে বাবা !!! এত্তো দিন পরে দেখা হলো,
কেমন আছি, কি খবর, জিজ্ঞাসা না করে সোজাসুজি
দুষ্টামি
শুরু করে দিলো !!! তবে হ্যা, প্রথম দেখাতেই ওকে খুব ভালো লেগে গেছে। ওর টোল পড়া গালের হাসিটা ভীষণ কিউট। মন ছুঁয়ে যায়।
.
বাসায় যেতেই আম্মু, তামান্নাকে জড়িয়ে ধরে
কাঁদতে শুরু করলো।
কতোদিন পরে দেখলাম রে, মা তোকে। কতো সুন্দর হয়ে গেছিস, বাহ। ঠিক যেনো পরী একটা।
তামান্না লজ্জা পেয়ে আম্মুর বুকে মুখ লুকালো।
খালাকে ভুলে কিভাবে থাকতে পারলি? ছোট বেলায় কতো
আদর করতাম তোকে। আমি বললাম, আম্মু অনেক হইছে। ওকে এবার ভেতরে নিয়ে যাও।
এসব না বলে
কিছু খেতে দাও।
আমার রুমে এসে বসলাম। বসে বসে ভাবছিলাম ওর কথা। আব্বু মারা যাওয়ার পরে বেশি একটা যাওয়া হতো না ওদের বাড়ি। বাড়ি থেকে শহরে চলে আসি। ক্লাস ফাইভে থাকাকালীন। তারপর, আর তামান্নার সাথে দেখা হয় নি। আম্মু সেলাই মেশিনে ড্রেস তৈরি করে সংসারের খরচ চালাতেন। আর আমি, দশম শ্রেণি থেকেই টিউশনি করে নিজের পড়ালেখা চালিয়েছি।
.
রাতে, ছাদে বসে আছি। আজকের
চাঁদটা অনেক সুন্দর লাগছে। মনোরম, মন মাতানো পরিবেশ। সিগারেট খাচ্ছিলাম। একটা শেষ করে
আরেকটা ধরিয়ে খেতে লাগলাম।
পরিবেশটা অনেক ভালো লাগছে।
.
--আপনি সিগারেট খান?
পেছন থেকে মেয়েলী কন্ঠের আওয়াজ পেলাম।
--কে !!! তাড়াতাড়ি সিগারেট টা ফেলে দিয়ে বললাম।
--ভাইয়া, আমি তামান্না। আপনি সিগারেট খান?
--কই না তো, আমি ওসব ছুঁয়েও দেখিনা।
--দেখলাম তো, ছুঁয়েও দেখেন না।
কিন্তু দুইটা খেয়ে ফেলেছেন !!
--আরে না, কে বলল।
-- নিজের চোখে দেখলাম।
--আসলেই আমি সিগারেট খাই না। তবে যখন কিছু ভালো লাগে না, মন খারাপ থাকে, তখন দু একটা খাই।
--হুম, বুঝতে পেরেছি। আর খাবেন না।
আবার যদি দেখি, তাহলে কিন্তু খালাম্মাকে বলে দেবো, বুঝতে পেরেছেন, ভাইয়া !!!
--আচ্ছা, আর খাবো না।
--আপনাদের বাসাটা কিন্তু অনেক সুন্দর।
--তাই নাকি, ভালো তো।
-- হুম, ভালো না, ভালোই তো।
--সবচেয়ে বেশি সুন্দর ছাদের এই পরিবেশ টা।
--ও আচ্ছা। ঠিক আছে। এখন রুমে যাও। অনেক রাত হয়েছে।
.
এই বলে আমি আমার রুমে চলে আসলাম। আর তামান্না
গেল আমার আম্মুর রুমে। মনে হয় আম্মুর সাথে থাকবে।
.
কিছুদিনের মধ্যে আস্তে আস্তে বুঝতে পারলাম,
ওকে আমার ভালো লাগতে শুরু করেছে। আর আমার প্রতিও ওর দুর্বলতা রয়েছে। ওর টোল পরা হাসিটাই
আমায় কাবু করে দিয়েছে।
আম্মু, হয়তো পুরো ঘটনাটাই চুপ করে উপলব্ধি করতে পারছেন। আমরা একে অপরকে পছন্দ করতে শুরু করেছি।
.কিছুদিন পরে,
--রিয়াদ, বাবা রিয়াদ।
--হ্যা, আম্মু বলো।
--বলছিলাম কি, এভাবে আর কতোদিন। এবার তুই বিয়ে কর। একা একা ঘর সামলাতে আমার খুব কষ্ট হয়। তাছাড়া একা একা ভালোও লাগে না।
--কেন মা, আমার বয়স কি খুব বেশি হয়ে গেছে।
--না, বয়সের ব্যাপার না। আমি মরে যাওয়ার আগে নাতি - নাতনীর মুখ দেখতে চাই। খুব তাড়াতাড়ি তোকে বিয়ে করাবো।
--কিন্তু আম্মু, এতো তাড়াতাড়ি তুমি মেয়ে পাবে কোথায়?
--মেয়ে আমি ঠিক করে রেখেছি।
--কোন মেয়েকে !!!
--তোর জানতে হবে না।
--বিয়ের সময় দেখিস।
.
বিয়ে শেষ হয়ে গেলো। কিন্তু, বউয়ের মুখ এখনো দেখিনি।
একটি স্বনামধন্য কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ের সব কাজ শেষ হয়েছে।
মনে মনে ভাবতে লাগলাম, কে জানে, কেমন মেয়ে!!! তবে আম্মুর ওপর যথেষ্ট ভরসা ছিলো। তিনি আমার জন্য ভালো কাউকেই এনে দেবেন।
সিগারেট ধরিয়ে ছাদে চলে গেলাম।একটা একটা করে
চারটা সিগারেট খেয়ে ফেললাম।
নাহ, অনেক রাত হয়ে গেছে। এবার রুমে যাই। নয়তো নতুন বউ বিরক্ত হয়ে যাবে।
ধীরে ধীরে রুমের দিকে গেলাম।
.
রুমে ঢুকেই তো লুল হয়ে গেছি !!!
তামান্না দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
লাল শাড়ী পড়ে বউ সাজা অবস্থায়। অপূর্ব সুন্দরী লাগছে ওকে আজ। ঠিক জেনো জান্নাতের পরী।
রুমের ভেতর উকি মেরে বউকে খুঁজতে লাগলাম, ও মুচকি হেসে বললো, কি ভাইয়া, কাকে খুজছো?
না মানে, তোর ভাবী কোথায় !!!
ও রাগে,
চোখ লাল করে বললো, ভাইয়া তুমি আবার সিগারেট খেয়েছো !!!
ইয়ে মানে, হে হে হে। মা বউ ঠিক করে দিয়েছে তো, চিনি না, জানি না, এখন অবধি দেখি নি। তাই একটু টেনশন হচ্ছিলো।
-- ও আচ্ছা। বউ দেখার এতো শখ?
-- শখ মানে !!! বিয়ে করেছি, আর বউকে দেখতে পারবো না?
-- হ্যা, পারবেন। অবশ্যই পারবেন। কেনো পারবেন না? তার আগে যান, হারপিক দিয়া দাত ব্রাশ কইরা আসেন। সিগারেট এর দুর্গন্ধ আমার একেবারে অসহ্য।
কি আর করবো। দাত ব্রাশ করে এসে দেখি। তামান্না খাটের ওপর বসে আছে। খুব সুন্দর করে ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে বাসর ঘরটা। চারদিকে মিষ্টি একটা সুগন্ধ ছড়িয়ে আছে।
-- তামান্না, তোর ভাবী কোথায়?
-- কেনো, রিয়াদ ভাইয়া, আমায় কি তোমার পছন্দ হয় না?
-- মানে !!! কি বলছিস এসব?
-- যা বলেছি, ঠিক ই বলেছি।
-- আমি, থতমত খেয়ে পাশে থাকা চেয়ারটায় বসে পড়ি।
ও আমায়, চেয়ার থেকে টেনে নিয়ে খাটের ওপর বসালো। তারপর, শাসনের সুরে বলতে লাগলো, নিষেধ করার পরেও সিগারেট খেয়েছো কেনো?
দাড়াও, আজ তোমার একদিন কি, আমার একদিন।
একথা বলে ও টেবিল থেকে এক গ্লাস দুধ আর কিছু কাজুবাদাম নিয়ে বললো।
নাও খাও তাড়াতাড়ি, আজেবাজে জিনিস খেয়ে না জানি পাকস্থলী টার কি বেহাল দশা বানাইয়া রাখছো !!!
আমি যখন এসেছি, তোমাকে এবার সুতার মতো সোজা বানিয়ে ফেলবো, হুম।
বুঝেছো, রিয়াদ ভাইয়া !!! একটা মুচকি হাসি দিলো।
ওর এই হাসিটাই আমার মন কেড়ে নেয়।
আর হ্যা, প্রতিদিন, নিয়মিত দুধ খেতে হবে। আজেবাজে কিছু খাওয়া যাবে না। তাইলে তোমার খবর আছে, মিস্টার রিয়াদ, পাটোয়ারী, হা হা হা হা হা হা।
ও হাসতে লাগলো। আর আমি মন্ত্রমুগ্ধ এর মতো ওর কথা শুনে যাচ্ছি।
চমক ভাঙতে বেশি দেরী হলো না।
হঠাৎ ও বলে উঠলো, আগে আজকের সিগারেট খাওয়ার শাস্তি টা দিয়ে দিয়ে নিই, নইলে তুমি সোজা হবে না।
অবাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে রইলাম।
-- হা করে তাকিয়ে দেখছো কি, হুম? যা বলেছি তাড়াতাড়ি করো। একশো বার কান ধরে ওঠবস করো। এক্ষুনি !!!
--আমি....এক, দুই, তিন, পঞ্চাশ, আশি, নব্বই, একশো।
তামান্না শুধু বসে বসে হাসতে লাগলো। ওর এই হাসির জন্য আমি অনেক কিছু করতে পারি। আর এটা তো সে তুলনায় কিছুই না।
ভাবলাম, ওকে একটু মজা দেখাবো।
-- ওরে বাবারে, গেছি রে !! ও মাগো, গেছি গো !!!
-- কি হলো !! তুমি এমন করতাছো কেনো !! ব্যথা পেয়েছো, বুঝি। কই, কোথায় ব্যথা পেয়েছো, দেখি !!
-- ওরে বাবারে, কোমরে ব্যথা পেয়েছি। ও মাগো ও ওও
-- ইসসসিরে, সরি, রিয়াদ ভাইয়া। বেশি হয়ে গেছে। আচ্ছা, আমি মালিশ করে দিচ্ছি। একটু বসো।
আমাকে খাটের ওপর বসিয়ে, তামান্না লাইট অফ করে দিলো।
ডিম লাইট টা অন করে দিয়ে,আমার পাশে এসে বসলো।
ডিম লাইটের মৃদু আলোতো ওকে অপরুপ সুন্দরী লাগছে।
-- কোথায় ব্যথা? কই দেখি?
-- হে হে হে, ব্যথা নেই। সেরে গেছে।
-- কি !! আমার সাথে মিথ্যে বলা? দাড়াও, দেখাচ্ছি মজা।
ও আমার বুকের ওপর চেপে বসলো। তারপর এক হাতে আমার মুখ চেপে ধরে বলতে লাগলো। ভাইয়া, তুমি আমার জীবনের সেরা উপহার। তোমাকে ছাড়া আমি বাচবো না।
সত্যি, তখন এতো খুশি লাগছিলো যে, মনে হচ্ছিলো আমি পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী একজন।
এরপর, ও আমার বুকের ওপর শুয়ে ভবিষ্যৎ জীবনের স্বপ্নময় সুখের গল্প করতে লেগে গেলো।
তারপর? তারপরে তো আপনারা বুঝতেই পারছেন, হে হে হে হে হে....
বাসর রাতে কি কি হয়।
ভোরে, তামান্নার ডাকে ঘুম ভাঙলো। আমার বুকের ওপর হাতের কনুইয়ের ভর দিয়ে ঝুকে আছে। সবেমাত্র গোসল করে চা নিয়ে এসেছে। আধভেজা চুলে অপূর্ব সুন্দরী লাগছে ওকে।
-- এই যে, মিস্টার। আর কতো ঘুমাবেন? এবার উঠে পড়ুন।
-- উফফফ, আর একটু ঘুমাতে দাও না, প্লিজ। পরে উঠবো।
-- না, আর একটুও না। এক্ষুনি উঠবা। ওঠো !!
-- না, উঠবো না। কি করবা তুমি ?
-- কি করবো, দেখবা?
-- হুম, দেখাও। আমিও একটু দেখি, কি করতে পারো।
--তামান্না, আমার কম্বল গায়ের ওপর থেকে সরিয়ে ফেললো। ওকে হঠাৎ, ডান হাত দিয়ে,একটা ঝটকা টান মেরে, বুকের ওপর টেনে নিলাম।
তারপর, মিষ্টি ঠোটের মধু পান করে সকালের শুভ সূচনা করলাম।
ব্যস, এভাবেই আমাদের ভালোবাসায় পূর্ণতা আসতে লাগলো।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now