বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আসবেন একটু....
সুপ্তির কথায় আমি একটু চুপ করেই রইলাম।সত্যি ই কি সুপ্তি আমাকে আসতে বললো নাকি অন্য কেও।আমি ফোনের স্ক্রিনের দিকে আবারও তাকালাম।হ্যা সুপ্তির নামটাই তো ভেসে উঠেছে সাথে ওর নাম্বারটাও।আমি কিছু বলার আগে সুপ্তি আবারও বললো,
-আসবেন?
সুপ্তির কথায় আমি এবারও চুপ করে রইলাম।যে মেয়েটা বিয়ের পর নিজ থেকে আমাকে একবারও কল দেয়নি সে আজ নিজ থেকে কল দিয়ে আসতে বলছে।তবে ওর কণ্ঠে কেমন যেন ভয়ের ছাপ দেখতে পেলাম।আমি একটু চুপ থেকে বললাম,
-কোন সমস্যা?
আমার কথায় সুপ্তি একটু চুপ থেকে বললো,
-এখানে বেশ গণ্ডগোল হচ্ছে,বের হতেও ভয় পাচ্ছি।আপনি যদি একটু আসতেন।
সুপ্তির কথায় আমি উঠে দাড়ালাম।মেয়েটা তাহলে বেশ ভয় পাচ্ছে বলেই আমাকে ফোন করেছে।আমি আর দাঁড়ালাম না।অফিস থেকে বের হয়ে বাইকে চেপে বসলাম।
.
আমাদের বিয়ে হয়েছে মাস ছয়েক হবে।সুপ্তির মেডিকেলের ফাইনাল এক্সামের কিছুদিন পরেই।হুট করেই বিয়েটা হওয়াতে মেয়েটার সম্পর্কে আমার সবকিছুই ছিল অজানা।আর এটার জন্যেই বাসর রাতে আমাদের মাঝে প্রতিদিনের মত কোলবালিশটা বেশ আরামেই ছিল।
সুপ্তি যে হাসপাতালে ইন্টার্নি করছে সেখানে আমি বেশ কয়েকবার গিয়েছি।তবে লুকিয়ে।যেন মেয়েটা আমায় দেখতে না পায়।সেদিন বাসর রাতে সুপ্তি যখন বললো,
আমার ইচ্ছে ডাক্তার হওয়া,আর সেটা পুরোপুরো ডাক্তার।তাই ইন্টার্নি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই কোলবালিশটা মাঝখানেই থাকবে।আশা করি আমি কি বুঝাতে চেয়েছি এইটা আপনি বেশ ভালভাবেই বুঝেছেন।
সুপ্তির কথায় সেদিন কিছু বলতে পারিনি।তবে কোলবালিশটাকে অনেক কথা শুনিয়েছি।কিন্তু তার কোন রিএকশন নেই।মনে হচ্ছে মাঝখানে বেশ আরামেই আছে।
এরপর আমিও আর সুপ্তিকে কোনকিছুতে জোর করিনি।মাঝে মাঝে ওকে হাসপাতালে নামিয়ে দিতে চাইলেও মেয়েটা আমার সাথে যেতো না,বাইকের পেছনের সিটটা সবসময় ফাকাই থাকতো।তাই আমিও অপেক্ষায় আছি মেয়েটার ইন্টার্নি শেষ হওয়ার।পুরোপুরি ডাক্তার হওয়ার।অন্তত ফ্রি চিকিৎসা তো নেওয়া যাবে।আর ওই কোলবালিশকে ইনজেকশনের ভয় দেখিয়ে সরিয়েও দেওয়া যাবে।
.
আমি যখন সুপ্তির হসপিটালের সামনে আসলাম তখন চারিদিকে অনেকটা ফাকা বললেই চলে।তবে মাঝে মাঝে কয়েকজন করে জটলা বেধে দাঁড়িয়ে আছে।বেশ কিছু পুলিশ তাদের সরিয়ে দেওয়ার ও চেষ্টা করছে।তবে এখানের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে কিছুক্ষন আগে হয়তো বেশ ঝামেলা হয়েছে।পিচের রাস্তায় মাঝে মাঝে রক্তের দাগ দেখা যাচ্ছে।কিন্তু হসপিটালের সামনে পুলিশ যেভাবে আটকে রেখেছে তাতে মনে হচ্ছে না তারা আমাকে ভেতরে যেতে দেবে।হলোও তাই।
আমি একটু এগুতেই একজন সার্জেন্ট এসে আটকে দিল।ওনাকে সবকিছু বললেও উনি ভেতরে যেতে দিতে নারাজ।তবে ওনার কথায় এটুকু বুঝলাম যে, ভেতরে যারা আছে তারা সুরক্ষিতই আছে।এখানের পরিবেশটা হালকা হলে গেইট খুলে দেবে।
কিন্তু সুপ্তি তো আছে আমার অপেক্ষায়।মেয়েটা আজ প্রথম আমাকে নিজে থেকে আসতে বলেছে আর আমি যদি এখন ওর সাথে দেখা না করি তাহলে নিজের কাছেই কেমন লাগবে।তাছাড়া সুপ্তিই বা কি ভাববে।আমি ওর বিপদের সময় ওর পাশে থাকতে পারবো না।মেয়েটা ভয়ে আমার উপরই আস্থা রেখেছে।আর আমি কি না কিছু করতে পারবো না।তবে এখান থেকে যাওয়া যাবে না।আমি বাইকটা ঘুরিয়ে হসপিটালের পাশে এসে দাড়াতেই পেছন থেকে কেও একজন আমার নাম ধরেই ডাক দিল।ভেবেছিলাম সুপ্তিকে একবার ফোন করে বলবো আমি এসেছি,এতে হয়তো মেয়েটার ভয় একটু কমবে কিন্তু তার আগেই আমি কারও ডাকে পেছনে তাকালাম।
আমি ঘুরতেই একজন পুলিশ সার্জেন্ট আমার সামনে এসে হাসি মুখে দাঁড়িয়ে বললো,
-আহাদ সাহেব,কেমন আছেন?
আমি লোকটার মুখের দিকে এবার বেশ ভালভাবেই তাকালাম।কেমন যেন চেনা চেনা লাগছে।কোথায় যেন দেখেছি কিন্তু মনে করতে পারছি না।আদও দেখেছি কিনা সেটাও ভুলে গেছি।বয়সটাও আমার থেকে বেশি হবে না।কিন্তু উনি আমাকে কিভাবে চেনেন!
আমার চুপথাকা দেখে লোকটা মুচকি হেসে বললো,
-চিনতে পারছেন না তো?
আমি পুলিশ সার্জেন্টের কথায় মাথা নাড়িয়ে বললাম,
-আসলে মনে করতে পারছি না।
-ফেসবুকে গল্প লিখেন,আপনি সেই আহাদ সাহেব ই তো?
সার্জেন্টের কথায় আমি মাথা নাড়িয়ে বললাম,
-হ্যা,আমিই সেই আহাদ।কিন্তু আপনি?
আমার কথায় লোকটা যেটা বললো তাতে আমি রিতিমত বেশ ভালই অবাক হলাম।ওনার কথায় যেটুকু বুঝতে পারলাম এতে ওনার সাথে আমার সম্পর্কটা হচ্ছে ফেসবুক ফ্রেন্ড।আমার লিষ্টেই আছে,এমনকি আমার গল্পের বেশ বড় একজন ফ্যান।
লোকটার কথায় আমি কি বলবো ভেবে পেলাম না।তবে ওনার পরিচয় দেওয়ার পর বেশ ভালভাবেই চিনলাম।আমি কিছু বলার আগেই উনি বললেন,
-এসময় এখানে,কোন সমস্যা?
আমি ওনাকে সবকিছু বলতেই উনি আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললেন,
-আচ্ছা আসুন আমার সাথে?
-কোথায়?
-যার কাছে এসেছেন।আজ আপনার জন্যে কিছু করতেও পারবো,সাথে আপনার গল্পের মেয়েটাকেও দেখতে পাবো।
লোকটার কথায় আমি মাথা নাড়িয়ে বললাম,
-আচ্ছা চলুন।
.
আমি যখন হাসপাতালের ভেতরে গিয়ে সুপ্তিকে পেছন থেকে ডাক দিলাম তখন ওর মুখের অবস্থাটা দেখার মত ছিল।আমাকে দেখে দৌড়ে এসে বললো,
-তুমি কিভাবে ভেতরে আসলে,তোমার কিছু হয়নি তো?
সুপ্তির কথায় আমি কিছু বললাম না।মেয়েটা যে কখন আপনি থেকে তুমিতে নেমে এসেছে সে খেয়ালই নেই।আমি সুপ্তির দিকে তাকিয়ে বললাম,
-আমি ঠিক আছি।কিছু হয়নি।
আমি সুপ্তির সাথে পুলিশ সার্জেন্টের পরিচয় করিয়ে দিতেই লোকটা আমাকে ধন্যবাদ দিল।কিন্তু করার কথা ছিল উলটো।ধন্যবাদটা ওনারই প্রাপ্য।
আমি এখানে আর দাড়ালাম না।সুপ্তিকে নিয়ে যখনি বের হতে যাব তখনি মেয়েটা আমার ধরে বললো,
-আমার খুব ভয় করছে।বাইরের অবস্থা একটু ভাল হোক তারপর বের হই।
সুপ্তির কথায় আমি যখনি কিছু বলতে যাব তখনি পুলিশ মশাই বললেন,
-ভাবি আমি আছি তো,কোন টেনশন নেই।চলুন।
এবার সুপ্তির মুখের অবস্থাটা পরিবর্তন না হলেও একটু সাহস অন্তত পেয়েছে।যেখানে স্বয়ং পুলিশ ওকে আশ্বাস দিচ্ছে সেখানে ভয় পাওয়াটা বোকামি।
.
পুলিশ সার্জেন্টকে ধন্যবাদ দিয়ে আমি সুপ্তির পাশে এসে বললাম,
-তুমি এখানে একটু দাড়াও,আমি দেখি রিক্সা পাই কি না।
-আজ রিক্সা লাগবে না।
-কেন?
-কেন আবার,তোমার বাইকে আমাকে বসতে দিবা না?
সুপ্তির কথায় আমি কি বলবো ভেবে পেলাম না।আজ আমার সাথে কি হচ্ছে কিছুই বুঝতেছি না।সুপ্তি নিজ থেকে আমার পেছনে বসতে চাচ্ছে।আমি আর দেড়ি করলাম না।মেয়েদের মন চেঞ্জ হতে সময় লাগে না।কখন আবার বলে ফেলে যাও রিক্সা নিয়ে আসো।
আমি বাইকে বসতেই সুপ্তি আমাকে ধরে বাইকে বসে বললো,
-ফুলের দোকানের সামনে চলো।
-হঠাৎ ফুল দিয়ে কি হবে?
-সেটা তোমার ভাবতে হবে না।
-আচ্ছা।
আমি বাইক নিয়ে একটু এগুতেই সুপ্তি আমাকে পেছন থেকে শক্ত করে ধরে বললো,
-আজ আমাদের বাসর হবে।তাই ফুলের দোকানে যাওয়া।
সুপ্তির কথায় আমি কি বলবো আমার জানা নাই।হঠাৎ মেয়েটার এত চেঞ্জ কেমন যেন স্বপ্নের মত মনে হচ্ছিলো।আমি বাইকের গতিটা আরও একটু বাড়িয়ে দিতেই সুপ্তি আমাকে শক্ত করে ধরে বললো,
-এই আস্তে চালাও।
সুপ্তির কথায় আমি বললাম,
-এভাবে শক্ত করে ধরে রাখলে বাইকের স্পিড কমবে না।কোন ভাবেই না,কোন মতেই না।
আমার কথায় সুপ্তি আমাকে আরও একটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললো,
-স্পিড না কমলে তোমার বাইকে আর উঠবো না,কোন ভাবেই না, কোন মতেই না।
সুপ্তির কথায় বাইকের স্পিডটা হুট করেই কমে গেলো।এদিকে আমার মুখ থেকে অজান্তেই বেরিয়ে এলো,
এই পথ যদি না শেষ হয়
তবে কেমন হতো তুমি বলো তো।
আমার গান শুনে সুপ্তি হাসছে আর আমি ভাবছি অন্য কথা।এই বাইকের স্পিড বাড়িয়ে আজকের বাসর রাতটা আমি হারাতে চাই না।কোন ভাবেই না,কোন মতেই না।
.
(লিষ্টে দু একজন পুলিশ সদশ্য থাকলে মন্দ হয় না।অন্তত বিপদে হুট করে পাশে পাওয়া যেতেই পারে)
.
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now