বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কোন এক বিকেলে বাসে করে ফিরছিলাম বাড়ির উদ্দেশ্যে। সারাদিনের ক্লান্তিতে চোখের পাতা খোলা রাখতেই হিমসিম খাচ্ছিলাম। মনে মনে খুশি কারণ বাসে একটা সিট পেয়েছি। এর ভেতর কখন যে চোখে তন্দ্রা চলে আসে বুঝতে পারিনি। ঘুম ভাংগে হেল্পারের ডাকে। ভাড়া দিতে হবে, হেল্পারের চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করতে করতে পকেটে হাত বাড়ালাম। হাত দিতেই আমি টাস্কি, মানিবেগ গায়েব। এখন? সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল পাশে থাকা মেয়েটি। বলার আগেই হেল্পারকে ১০ টাকার একটি নোট বাড়িয়ে দিলো। ধন্যবাদ দিয়ে হাল্কা কথা বলতেই জানতে পারলাম আমরা একই কাম্পাসের আলাদা ডিপার্টমেন্টে পড়ি। নেমে যাওয়ার আগে সাহায্যের জন্য আবার ধন্যবাদ দিয়ে নেমে পড়লাম।
সেই বিকালের ঘটনাটা ভুলেই গিয়ে ছিলাম সেদিনের পর। একদিন বই মেলায় একটা স্টলে বই কিনতে যেয়ে সেই মেয়েটিকে দেখলাম কিন্তু কোনভাবেই মনে করতে পারছিলাম না কোথায় দেখেছিলাম, অবশেষে গিয়ে বলেই ফেললাম…..
: আমি আপনাকে কথাও দেখেছি।
: দেখতেই পারেন, মাথায় তো আর হেলমেট থাকে না যে মুখ দেখা যায় না।
: (আমি তো কথা শুনে ব্যাপক টাস্কি) না.. মানে আপনার সাথে আমার আগে কখনো কথা হয়েছে
: জী জী অবশ্যই
: এইতো
: তো আগের জন্মে আমাদের কি নাম ছিলো
: ( এই প্রশ্ন শুনে সিউর হলাম আমাকে সে চিনে নি, আর আমিও তো মনে করতে পারছি না) সরি….
বলেই ঘুরে হাটা শুরু করলাম, মেলার কোণে ঘাসে বসে ঘাস ছিড়ে ভাবতে লাগলাম কি কাহিনিটাই না হল। এমন সময় সামনে ঝুপ করে কে জানি বসলো। তাকাতেই দেখি সেই মেয়েটি, মুখে বিজয়ীর হাসি……. কি জানি হল আমার……. সময় যেন থেমে গেলো….. হার্টবিট মনে হয় দু-একটা মিস হল। হুশ হল হাতে চিমটি খেয়ে।
: সরি তোমাকে একটু জালানোর জন্য, তোমাকে দেখেই চিনতে পেরেছিলাম তুমি বাসের সেই ছেলেটি
: (আমারও সব মনে পড়ল) তো তখন বললে না কেন?
: প্রতিশোধ নিলাম….
: কিসের প্রতিশোধ?
: সেদিন বাসে হেল্প করলাম আর আমার নাম্বার না নিয়েই চলে গেলে।
: সরি, আমি জনি
: আমি জানি
: কিভাবে?
: খবর নিয়ে জানসি আরকি….. আমি স্মৃতি
দু এক কথাতেই বুঝে গেলাম আমি আমার মনের সেই মানুষকে পেয়ে গেছি। কখন যে ভালোবাসা শব্দটির বেড়াজালে আটকে পড়ি আমরা নিজেরাও জানি না।
চলতে থাকে আমাদের সুন্দর জীবন। কাম্পাসে ক্লাসের ফাকে দুজনের এক সাথে বাদাম খাওয়া, ছুটির দিনে দুজনের পার্কে হাত ধরে গল্প করা….. এভাবেই কেটে যায় আরো দুটি বছর।
কাম্পাস জীবনের ইতি ঘটে, ঢুকে যাই একটি চাকরিতে। বাসাতে তখনও বলা হয়নি। বলবো বলবো করেও বলা হচ্ছিলো না।
একদিন অফিসের এক ট্যুরে ঢাকার বাইরে যেতে হয়। আগের রাতে হুট করে ঘুমিয়ে পড়াতে ফোনে চার্জ দিতে আর খেয়াল থাকে না। আর কাজের চাপে স্মৃতির কথা ভুলেই যাই। রাত ১২ টায় বাসার বেল বাজাই, ভাবতে থাকি মা দরজা খুলে বিরক্তির চোখে তাকাবে। কিন্ত ভাবনার সাথে কিছুই মেলে না দরজা খোলার পর।
খোলার সাথে সাথে জোরে আমার নামটা কানে আসে আর বুকে কয়েক ঘা ঘুসি পরে, আর তারপর কাদতে কাদতে স্মৃতি আমাকে জড়িয়ে ধরে। ওর পেছনে দেখি মা আর বাবা আর দুজন হাসছে….. ভালো করে তাকাতেই বুঝতে পারি ইনারা স্মৃতির বাবা-মা।
বুঝতে পারি পাগলীটা আমাকে কতটা ভালোবাসে। সারাদিন আমার খবর না পেয়ে আমার বন্ধুদের কাছে আমার বাসার ঠিকানা জেনে চলে আসে আমার বাসায় মা বাবাকে নিয়ে। এরপর?
আর কি…… একটা শুভদিনে পাগলীটাকে লাল শাড়ি সমেত আমার বউ করে বাসায় নিয়ে আসি……
ভালোই চলছে…..
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now