বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
:-তোমার হাতটা একটু ধরি?(আমি)
আমার কথা শুনে মেঘা বাকা দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলো।এভাবে বাকা দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখে আমি আবারো মেঘার উপর ক্রাশ খেলাম।সুন্দরী মেয়েদের বাকা চোখে তাকানো দেখলে যেকোনো ছেলে ক্রাশ খাবে এটা ১০০% সত্যি।
:-আমি কী কখনো বলেছি তুমি আমার হাত ধরবেনা?(মেঘা)
:-বলোনি কিন্তু অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন আছে।
:-বুঝেছি তুমি এখন আমাকে পর ভাবো।
মেয়েদের এই একটাই সমস্যা কোনকিছু হতে না হতেই অভিমানী কথা বলা শুরু করে দেয়।
:-এত বেশি বুঝো কেনো তুমি?(আমি)
:-আমি বেশি বুঝিনা।যতটুকু বুঝার দরকার ততটুকুই বুঝি।আমি পুরনো হয়ে গেছি তাই আমাকে আর তোমার ভালো লাগেনা।
(মেঘা)
ধ্যাত কোথাকার কথা কোথায় নিয়ে যায়।আমি কী বললাম আর উনি কী বলছে। মেঘার একটা অভ্যস আছে প্রতিদিন আমার সাথে ঝগড়া করবেই।আমার সাথে ঝগড়া না করলে মনে হয় ওর পেটের ভাত হজম হয়না।
:-থামো আর একটা বাজে কথাও বলবেনা।(আমি)
:-তুমি চাইলে আমি তোমার থেকে দুরে চলে যাবো।
বলে কী এই মাইয়া?জানে আমি ওকে ছাড়া এক মূহুর্তও থাকতে পারিনা তারপরেও আবার এই কথা বলে।
:-আরেকটা বাজে কথা বললে তোমার খবর আছে।একদম চুপ থাকো।
:-আমি জানি----
:-ওই তোমাকে চুপ থাকতে বলিনি।(ধমকের সুরে)
মেঘা আমার ধমক শুনে নিচের দিকে মুখ করে বসে রইলো।আমার খুব হাসি পাচ্ছে।মেয়েটার মাথায় নিশ্চই কোনো সমস্যা হয়েছে নাহলে হঠাৎ এসব কথা বলবে কেনো!
আমি মেঘার গা ঘেসে বসলাম।আমাকে এভাবে বসতে দেখে ও ওঠে যেতে চাইলো কিন্তু আমি দুহাত দিয়ে আমার বুকে টেনে নিলাম।প্রথমে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলো কিন্তু পারলো না।যখন নিজেকে ছাড়াতে পারলো না তখন চুপটি মেরে বসে রইলো।
:-আমার দিকে তাকাও?(আমি)
:-নিশ্চুপ
:-কীহলো তাকাও?
:-নিশ্চুপ
:-ওইতো সামনে দিয়ে একটা মেয়ে যাচ্ছে যাই ওই মেয়েকে প্রপোজ করে আসি।
:-একদম ওঠবেনা এখান থেকে।আমাকে ছেড়ে যদি এখান থেকে এক পা ওঠেছো তাহলে তোমাকে খুন করে ফেলবো।(আমার কলার চেপে ধরে বললো মেঘা)
কাজ হয়েছে তাহলে।মেয়েরা আর যাই দিক না কেনো নিজের ভালোবাসার মানুষের ভাগ আর কাউকে দিবেনা।প্রয়োজন হলে যুদ্ধ করবে তবুও দিবেনা।
:-বাসায় যাবেনা?(আমি)
:-আরেকটু সময় থাকি?(মেঘা)
:-সন্ধা হয়ে এসেছে প্রায়।চলো
:-আচ্ছা চলো।
লেকের ধার থেকে ওঠে দুজন রাস্তায় চলে আসলাম।একটা রিক্সা ঠিক করে দুজন তাতে ওঠে বসলাম।রিক্সাতে ওঠে মেঘা আমার কাঁধে মাথা রাখলো।বাতাসে মেঘার চুলগুলো উড়ে এসে আমার মুখে পড়ছে আর আমি অদ্ভুদ দৃষ্টিতে মেঘার দিকে তাকিয়ে দেখছি।
:-এভাবে কী দেখো?(মেঘা)
:-একটা পরীকে দেখছি।(আমি)
:-থাক আর পাপ দিতে হবেনা।আমি দেখতে ভালোনা সেটা আমি জানি।
:-তুমি কী টায়ার যে পাম দিবো?হি হি হি হি হি
:-ওই একদম হাসবেনা।(আমার গলা দুহাত দিয়ে ধরে)
:-কী ডায়নি মেয়েরে বাবা নিজের বয়ফ্রেন্ডকে গলা চেপে ধরে মেরে ফেলতে চায়।
এইযা কী বলে ফেললাম!নিশ্চিত আমার কপালে দুঃখ আছে।
মেঘা আমার গলা ছেড়ে দিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে থাকলো।আমি অনেকবার সরি বললাম কিন্তু কোন কাজ হলোনা।মেঘাদের বাসার সামনে রিক্সা থামতেই মেঘা নেমে বাসার মধ্যে চলে গেলো।অন্যদিন রিক্সা থেকে নেমে দাঁড়িয়ে থাকতো আমি যতসময় না চোখের আড়াল হয় ততসময় একদৃষ্টিকে তাকিয়ে থাকতো।আজ তার উল্টো কাজ করলো।সব দোষ আমার!কেনো যে রাগাতে গেলাম।যা হবার হয়েছে একটু পরে নিজে থেকেই ফোন দিতে।আমিও বাসায় চলে এলাম।
আমি হুসাইন।অনার্স ২য় বর্ষের ছাএ।আর মেঘা আমার গালফ্রেন্ড+ক্লাসমেট+বেষ্টফ্রেন্ড+হবু বউ+আমার বাবার বন্ধুর মেয়ে সবগুলোই একসাথে।মেঘা আর আমার বিয়ে ছোটবেলা থেকেই আমার বাবা আর মেঘার বাবা মিলে ঠিক করে রেখেছে।যখন থেকে বুঝতে শিখেছি প্রেম ভালোবাসা কী তখন থেকেই মেঘাকে ভালোবাসি।মেঘাও আমাকে ভালোবাসে।বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের ভালোবাসাও বৃদ্ধি পেয়েছে।মেঘার জন্য আমার কোন মেয়ে ফ্রেন্ড নেই।তেমনি আমার জন্য মেঘার কোন ছেলে ফ্রেন্ড নেই।
বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে মেঘাকে ফোন দিলাম।একী ফোন অফ কেনো?অনেক বেশি অবাক হলাম।কারণ আমি কখনো মেঘার ফোন অফ পায়নি।মেঘার ছোট ভাইয়ের নম্বরে ফোন দিলাম।একবার রিং হওয়ার পরেই রিচিভ হলো।
:-হৃদয় তুমি কোথায়?(আমি)
:-বাসায়।কেনো ভাইয়া?(হৃদয়)
:-তোমার আপুর ফোন অফ তাই তোমাকে ফোন দিলাম।তোমার আপুর কাছে ফোনটা দাওতো।
:-আচ্ছা দিচ্ছি।
:-ফোন দিয়েছেন কীজন্য?(মেঘা)
:-এটা কী ধরণের কথা?আমার বউকে আমি ফোন দিবো তাতে কার কী?(আমি)
:-আমি কারো বউ না।ফোন রাখেন আপনি।আর কখনো ফোন দিবেন না।
:-সরি বললামতো।আচ্ছা বলো কী করলে তুমি খুশি হবে।
:-আমার জন্য আপনাকে কিছুই করতে হবেনা।আমি ডায়নি, খারাপ মেয়ে।আমার থেকে অনেক ভালো মেয়ে আছে তাদেরকে খুজে নিন।
টুট টুট
ওপাশ থেকে ফোন কল কেটে গেলো।মেজাজটা পুরোই খারাপ হয়ে গেলো।ছোট্ট একটা বিষয় নিয়ে এতকিছু।আমিও ফোন অফ করে রাখলাম।দেখি কত সময় আমার সাথে কথা বলে থাকতে পারে।
ডিনার করে শুয়ে পড়লাম।প্রতিদিন মেঘার সাথে কথা বলতে বলতে রাত ২ টা,কোনদিন ৩ টা বেজে যায় কিন্তু আজ তাড়াতাড়িই ঘুমিয়ে গেলাম।
আযানের শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেলো।বিছানা ছেড়ে ওঠে ফ্রেশ হয়ে ওযু করে নামাজে চলে গেলাম।নামাজ শেষ করে ড্রয়িংরুমে ঢুকতেই আমার চোখ কপালে।একী এত সকালে মেঘা এখানে কীভাবে এলো?আম্মু আব্বু সবাই বসে মেঘার সাথে আড্ডা দিতে ব্যস্ত।হঠাৎ রাতের ঘটনা মনে হতেই মেঘার উপর রাগ হলো।আমি ড্রয়িংরুম দিয়ে সোজা নিজের রুমে চলে আসলাম।এমন একটা ভাব নিয়ে সবার সামনে দিয়ে এলাম যেনো মেঘা এসেছে আমি দেখতেই পায়নি।রুমে এসে টেবিলের উপর টুপি খুলে রেখে বেলকনিতে এসে দাঁড়ালাম।
আমার বেলকনিটা মেঘার কথামতই সাঁজানো।৪টা গোলাপের গাছ,৩টা গাঁধা ফুলের গাছ,আরো অনেক রকমের গাছ।আমার যখন মন খারাপ থাকে তখন বেলকনিতে এসে দাঁড়ালেই মনটা ভালো হয়ে যায়।আমার পিছনে কারো উপস্থিতি টের পেলাম।জানি মেঘা এসেছে।আমি প্রশ্ন করলাম
:-কেনো এসেছেন?
:-আমার শুশুর বাড়িতে আমি আসবো তাতে কার কী শুনি?(মেঘা)
:-আপনি ভুল বাসায় এসেছেন।এই বাড়ির কেউ আপনাকে চেনেনা।আপনি চলে গেলে খুশি হবো।
পিছন থেকে আর কোন জবাব এলোনা।৪০ কী ৫০ সেকেন্ড পর পিছন থেকে মেঘা আমাকে জরিয়ে ধরলো।আমি নিজেকে মেঘার কাছ থেকে ছাড়িয়ে বললাম
:-আপনি চলে গেলে খুশি হবো।আর আমি আপনাকে চিনিনা।
আমার কথা শুনে মেঘা এবার কেঁদে ফেললো।মেয়েরা এই কাজটা খুব ভালো পারে।কেউ যদি কোন মেয়েকে একটু বকা দেয় তাহলেই চোখের পানি টপটপ করে পড়তে থাকে।আমার মনে হয় মেয়েদের চোখের সাথে কোন একটা নদীর সরাসরি লিংক আছে।নাহলে এত পানি কোথা থেকে পায়।আমার সবথেকে বড় দুর্বলতা হলো মেঘার চোখের পানি আমি সহ্য করতে পারিনা আর মেঘা সেটার সুযোগ নেয়।আমি একটু রাগ দেখালেই ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কাঁদতে শুরু করে দেয়।
:-কাল রাতে আমার সাথে ওমন খারাপ ব্যবহার করলে কেনো?(আমি)
:-তুমি আমাকে ডায়নি বললে কেনো?(মেঘা)
:-আমি নাহয় মুখ ফসকে বলে ফেলেছি তার জন্য এতকিছু করতে হয়!তাছাড়া আমিতো সরিও বলেছিলাম।
:-শুধু সরিতে কারো রাগ ভাঙ্গেনা।আমি ভেবেছিলাম রাগ করে ফোন অফ করে রাখলে তুমি আমাদের বাসায় গিয়ে আমার রাগ ভাঙ্গিয়ে কপালে ছোট্র একটা আদর দিয়ে বলবে--আর কখনো এমন কথা বলবোনা বাবু।কিন্তু তুমি সেটা করোনি।
মেঘার কথা শুনে এবার না হেসে পারলাম না।আমাকে হাসতে দেখে মেঘা ভ্রু-কুঁচকে বললো
:-হাসলে আপনাকে বানরের মত লাগে।হি হি হি হি।
একটু আগেই যেই মেয়ে কাঁদছিলো সে এখন হাসছে।কী অদ্ভুূদ।আমি মেঘার খুব কাছে এসে মেঘাকে আমার বুকে টেনে নিলাম।মেঘার নিঃশাসের শব্দ আমি টের পাচ্ছি।মেঘার ঠোঁটগুলো কাঁপছে। যেই মেঘার আরো কাছে যেতে চাইলাম ওমনি মেঘা নিজেকে আমার কাছে ছাড়িয়ে নিয়ে একটা ভেংচি কেঁটে দৌঁড়ে বেলকনি থেকে চলে গেলো।আমিও মেঘাকে পিছন থেকে তাড়া করলাম।তবে ধরতে পারলাম না।আমি ধরার আগেই আম্মুর কাছে চলে গেলো।কী আর করার আমি নিজের রুমে চলে আসলাম।
কিছুক্ষণ পর।
আমি রুমে বসে ল্যাপটপে গেম খেলছি এমন সময় মেঘার প্রবেশ
:-ওই বাচ্চা মানুষের মত গেম খেলো কেনো?(মেঘা)
:-আমাকে তোমার বাচ্চা মনে হয়?(আমি)
:-তুমিতো বাচ্চাই।
আমি ল্যাপটপ রেখে বিছানা থেকে ওঠে দাঁড়ালাম।মেঘা আমাকে ওঠতে দেখে চলে যেতে যাওয়ার জন্য পা বাড়ানো। সামনে দু পা যেই আমি পিছন থেকে হাত ধরে ফেললাম।হেচকা টান দিয়ে কাছে টেনে নিলাম।
:-আমাকে বাচ্চা মনে হয় তোমার?(আমি)
:-ওই ছাড়ো কেউ দেখে ফেলবে।(মেঘা)
:-দেখলে দেখুক।আমাকে বাচ্চা বলার শাস্তি পেতে হবে তোমাকে।
:-ওই একদম দুষ্টুমি করবেনা বলে দিলাম।
আমি মেঘার কথার জবাব না দিয়ে ওর কপালে ছোট্র করে একটা ভালোবাসার পরশ এঁকে দিলাম।মেঘা অনেক লজ্জা পাচ্ছে।মেঘার মুখে একধরণের লাল আভা সৃষ্টি হয়েছে যা ওর সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।
:-ওই এভাবে তাকিয়ে কী দেখো?(মেঘা)
:-লজ্জা পেলে তোমাকে অনেক সুন্দর লাগে।(আমি)
:-তাই?
:-হুম।তোমার ঠোঁটের লিপস্টিক নষ্ট করি?
:-ওই একদম না।বেশি দুষ্টুমি করা ভালোনা।
:-কে বলেছে ভালোনা?
:-তোমার পিছনে আম্মু।
আমি আম্মুর কথা শুনে তাড়াতাড়ি মেঘাকে ছেড়ে দিলাম।আর মহারাণী ছাড়া পেয়ে একদৌঁড়ে দরজার কাছে।দরজার কাছে গিয়ে মুখ ভাঙ্গিয়ে চলে গেলো।আর আমি গাধার মত তাকিয়ে ওর চলে যাওয়া দেখছি।তবে মনে মনে ভাবছি পরেরবার কাছে পেলে আর সহজে ছাড়বোনা।
*সত্যিকারের ভালোবাসাগুলো খুব মধুর হয়।কেউ কাউকে ছাড়া থাকতে পারেনা*
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now