বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রোমান্টিক ভালোবাসা_____♥♥♥
রাত ১২ টা।আবিদা গাল ফুলিয়ে বসে আছে।হয়ত ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না করছে।আমি অফিসের কাজ করছি ল্যাপটপে।
একটু আগে আবিদা এসে আমাকে বলল- এই শোন।
--হুম বল।
--চল ক্ষিদা লাগছে ভাত খাব।
--আমি পরে খাব তুমি খেয়ে নাও।
--তুমি যখন খুশি খাও।আমি এখন খাব।চল।
--যাও খেয়ে নাও।
--খেয়ে নিব মানে।তুমি জান না।আমি নিজের হাতে খেতে পারি না।
--না খেতে পারলে সারারাত না খেয়ে থাক।
--সত্যিত।
--প্লিস আবিদা সব সময় এই ছেলেমানুষি ভাল লাগে না।এখন তুমি কত বড় হয়েছ? তুমি এখন আরেকজনের বউ।কয়েকদিন পর তুমি সন্তানের মা হবা।এখনো যদি নিজের না খেতে পার!!!!!!!!!
--আমি এত কিছু বুঝি না।আমাকে খাইয়ে দাও।আমার ক্ষিদালাগছে।
--নিজের হাতে না খেতে পারলে যাও এখান থেকে।(ধমক দিয়ে)
.
আবিদা চলে গেল।আমিও আমার কাজে মনযোগ দিলাম।কাজ শেষ হতে প্রায় ১টা বেজে গেল।শোবার রুমে গিয়ে দেখি আবিদা ঘুমিয়ে গেছে।আমি একটা প্লেটে ভাত আর তরকারী নিয়ে আবিদাকে ডাক দিলাম।
--আবিদা,ঘুমিয়ে গেছ।
--আমি ঘুমালে আর না ঘুমালেই বা কার আসে যায়।
--আচ্ছা ঘুমাতে হবে না।শুধু ভাতটুকু খেয়ে নাও।
--আমি ভাত খেলে বা না খেলে কার কি আসে যায়?
--প্লিস রাগ করে না মনা।আমি কাজ করছিলাম তখন।নাও খেয়ে নাও।
--আমি খাব না।তুই তর কাজ কর গিয়া।তর বউ থেকে তর কাজ বড়।
--ছিঃছিঃছিঃ।নিজের স্বামী কি কেউ তুই করে বলে?
--আমার কোন স্বামী নাই?
--তাহলে আমি তোমার কে?
--তুই আমার কাজের লোক।
--আচ্ছা ঠিক আছে আমি তোমার কাজের লোকে।মেম সাহেবা ভাতটুকু খেয়ে নেন।তা না হলে শরীর খারাপ করবে যে।
.
কথাটা শুনেই আবিদা ফিক করে হেসে দিল।আমি ভাতের একটা লোকমা আবিদার মুখে পুরে দিলাম।মেয়েটা ভাত চিবুতে লাগল আর চোখের পানি মুছতে লাগল।মেয়েটা খুবি সরল মনা।অল্পতেই কাদেঁ আবার অল্পতেই হাসে।বিয়ে হয়েছে আমাদের প্রায় দেড় বছর। এই দেড় বছরে যতদিন আমি বাসায় ছিলাম ততদিন মেয়েটা আমার হাতে ছাড়া ভাত খায়নি।এমনকি আবিদার আম্মু আসলে তার সামনেও আমার হাতে খেয়েছে।এটা ছিল আমাদের বাসর রাতে আবিদার প্রথম শর্ত।মাঝেমাঝে চিন্তা করি।যখন আমাদের বাচ্চাকাচ্চা হবে তখন তাদের কে খাইয়ে দিবে।
.
দেড় বছর আগের কথা।একটা বিয়ের অনুষ্ঠানের গায়ে হলুদে আবিদাকে দেখলাম।বেশ ভাল লাগল তাকে।আমি একটু দুর থেকে আবিদার দিকে তাকিয়ে আছি।আম্মু এসে আমাকে বলল
--পছন্দ হয়েছে নাকি।
--আরে ধুর।
--তাহলে এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন?
--তাকিয়ে থাকলেই কি পছন্দ হয়ে যায় নাকি?
--মেয়েটা কিন্তু সুন্দর আছে।
--হুম এটা সত্য।
--তাহলে কথা বলি।
--কিসের কথা।
--তোর বিয়ের কথা।
--আম্মা তুমি কি পাগল হইছে?
--মেয়েটাকে আমার ছেলের বউ করব কারন মেয়েটাকে আমার পছন্দ হইছে।
.
যেই কথা সেই কাজ।আম্মু শেষ পর্যন্ত মেয়েটাকে আমার গলায় ঝুলিয়ে দিল।তারপর থেকে এই আবিদ নামক মেয়েটাকে নিয়ে হাটিহাটি পাপা করে দেড়টা বছর পার করেদিলাম।
.
সাড়ে তেত্রিশ বছর পরের কথা।আজ আমাদের পঁয়ত্রিশতম বিবাহ বার্ষিকী।আমাদের একটা ছেলে এবং একটা মেয়ে হয়েছে।সবাই সবার সংসার নিয়ে ব্যস্ত।কিন্তু আজ সবাই এসেছে আমাদের বিবাহ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে।
আবিদা এবং আমি রুমের ভিতর বসে আছি।বাহিরে ছেলে-মেয়ে আমাদের নাতি-নাতনী সবাই অপেক্ষা করছে কেক কাটার জন্যে।
আমি আবিদাকে বললাম
--বাহিরে চল সবাই অপেক্ষা করছে।
--তার আগে দাড়াও আরেকটা কাজ বাকী।
--আবার কি কাজ বাকী রইল?
আবিদা আলমারি থেকে একটা কেক বের করল।হাতে একটা চাকু নিয়ে বলল কেকটা কাট।
কেকটা দুজনে মিলে কাটার পর আবিদা বলল--এবার আমাকে খাইয়ে দাও।
--এটাত সবার সামনেও করতে পারতাম।
--হুম পারতা কিন্তু দুজনে মিলে করাটা আর সবার সাথে করাটা এক না।
.
রাত প্রায় ১টা।সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে।আবিদা রাতে খায়নি।কেন খায়নি সেটা আমার জানা আছে? আমার হাতে তাকে খাইয়ে দিতে হবে এই জন্যে খায়নি।
আমি এক প্লেট ভাত আর তরকারী নিয়ে রুমে প্রবেশ করলাম আবিদাকে খাইয়ে দিব বলে।এত বছর পরেও আবিদার সেই ছেলেমানুষিগুলি যায়নি।
.
আসলে কিছুকিছু ভালবাসা সারাজীবন থেকে।বয়সের কারনে সেটা কোন বাধা হয়ে দাড়ায় না।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now