বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভালোবাসা সিনিয়র - জুনিয়র মানে না

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আর.এম. রকি মাহমুদ (০ পয়েন্ট)

X একবার আমার ভীষন জ্বর হলো। একশ ডিগ্রির উপরে জ্বর..! সেদিন স্কুলেও গেলামনা। মা বললো আজ প্রাইভেট পড়তে যেতে হবেনা। কিন্তু আমি মায়ের কথা শুনিনি। জেরিন আপুর কাছে পড়তেই হবে আমাকে। হোক জ্বর! তাতে কি..! একদিন প্রাইভেট পড়া মিস হওয়া মানে, জেরিন আপুকে একটা ঘন্টা কাছ থেকে দেখা মিস করা। এমন মিস আমি করতে পারবোনা বলেই একশ দুই ডিগ্রি জ্বর নিয়েই জেরিন আপুর কাছে প্রাইভেট পড়তে গিয়েছিলাম। . জেরিন আপু আমাকে দেখেই তো হতভম্ব হয়ে গেল.! বললো... --তুই এত জ্বর নিয়ে পড়তে এসেছিস..! --কৈ জ্বর কমে গেছে তো...! জেরিন আপু আমার কপালে হাত দিয়ে জ্বরটা অনুভব করলো, আর বললো.. --তোর গা তো পুড়ে যাচ্ছে জ্বরে! যা আজ পড়তে হবেনা..! এই জ্বরের সুবাদে জেরিন আপুর হাত আমাকে প্রথম বারের মতো স্পর্স করলো..! আমি মনে মনে বললাম... "ইস্ যদি বছরের বারোটা মাসই আমার জ্বর হতো..! তাহলে জেরিন আপুর ছোঁয়া প্রতিদিন অনুভব করতে পারতাম..!" আমি জেরিন আপুকে বললাম... --এই জ্বরে কিচ্ছু হবেনা। এই সামান্য জ্বর আপনার কাছে পড়া থেকে আমাকে বিরত রাখতে পারবেনা..! . তারপরের দিনও জ্বর নিয়ে পড়তে গেলাম.. জেরিন আপু বললো.. --তুই কি পাগল.!? এত জ্বর নিয়ে কেউ পড়তে আসে.!? --হ্যা, ঠিকই বলেছেন, আমি পাগল। আমি আপনার পাগল! (মনে মনে বললাম) জেরিন আপু বললো.. --কিরে কথা বলছিসনা কেন..? --আমার জ্বর হোক, আর যা'ই হোক, আপনি আমাকে পড়ান..! --আজ তোর ছুটি যা! --না, আমি ছুটি নিবো না। আমি পড়তে চাই..! আমি আপনার কাছে পড়া মিস করতে পারবোনা। আপনার কাছে না পড়লে আমার ভালই লাগেনা..! (আমার মুখ ফসকে বেরিয়ে গেল কথাটা) জেরিন আপু আশ্চার্য্য হয়ে বললো... --কি..! আমার কাছে না পড়লে তোর ভাললাগেনা..!? --আচ্ছা, আপনার কি মনে পড়ে যে, একদিনও আপনার কাছে পড়া মিস করছি..? আপনার কাছে পড়াটা আমার নেশা হয়ে গেছে! জেরিন আপু হি! হি! করে হেসে দিলো। আর তার হাসিতে তো আমি খুন হয়ে যেতাম..! আমি জেরিন আপুকে একটা কথা জিজ্ঞাসা করলাম.. --আচ্ছা আপু, একটি ছেলের চেয়ে মেয়েটি তিন চার বছরের বড়, ছেলেটি যদি মেয়টির প্রেমে পড়ে যায়, এটা কি দোষের কিছু..? --মোটেই দোষের না। প্রেম-ভালবাসা কোনো বয়স মানেনা। কেন তুই কি এমন কারো প্রেমে পড়েছিস নাকি..? পজেটিভ আনসার পেয়ে আমি মনে মনে ভীষন খুশি হলাম। বললাম.. --আরে না.. আমি আবার কার প্রেমে পড়বো..!! --যা'ই করিস, পড়ালেখাটা যেন ঠিক থাকে..! সামনে তোর এসএসসি পরীক্ষা..! --ইন-শা-আল্লাহ্..! . জেরিন আপু যে কথাটা বলতো, আমি তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতাম। আর তার কথা রাখতে গিয়ে আমি এসএসসিতে এত ভাল রেজাল্ট করেছিলাম যে, সবাই অবাক হয়ে গিয়েছিলো..! আব্বু আম্মু এত খুশি হয়েছিলো যে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। আর জেরিন আপুতো খুশিতে আমাকে জড়িয়ে ধরেছিলো, আর বলেছিলো.. "তুই আমার কথা রেখেছিস, তুই যা চাইবি আমি তাই দিবো। " আমি শুধু বলেছিলাম.. "ঠিক আছে, পাওনা থাকলো, সময় মত চেয়ে নিবো।" . একদিন আব্বু অফিস থেকে এসে যা বললো, তাতে আমার বুকের ভেতরটা ভেঙেচুরে যাচ্ছিলো..! আমাদের নাকি ঢাকা চলে যেতে হবে। আব্বুর আবার ঢাকায় ব্রাক ব্যাংকের শাখায় ট্রান্সফার হয়ে গেলো। এ কথা শুনে জেরিন আপুর মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছিলোনা। আমরা যেদিন জেরিন আপুদের বাড়ি ছেড়ে চলে আসলাম, জেরিন আপুর মা বাবা আমাদের বলেছিলো... "আপনাদের মতো এত ভাল ভাড়াটিয়া আজ পর্যন্ত পাইনি, আর হয়তো পাবোওনা..!" চলে আসার সময় আমি অনেক কেঁদেছিলাম। জেরিন আপুর দুচোখও অশ্রুতে টলমল করেছিলো। . প্রিয় পাঠক পাঠিকা, আপনারা হয়তো ভাবছেন এটা কি হলো..! তাইনা..? এবার দেখুন মজা.. . ঢাকায় আসার কয়েকদিন পর আমার ব্যাগের পকেটে ছোট একটা চিঠি পেয়ে চমকে যাই..! জেরিন আপুর লেখা, মনে হচ্ছে তাড়াহুড়ো করে লিখেছে। চিঠিটা ছিলো.... "আমি জানি তুই আমাকে ভালবেসে ফেলেছিস। কিন্তু মুখফুঁটে বলতে সাহস হয়নি তোর। তুইকি জানিস তোকেও আমি অনেক ভালবাসি..! আমি জানি তোর চেয়ে কেউ আমাকে ভালবাসতে পরবেনা। সত্যই অনেক ভালবাসি তোকে। তোর উত্তরের অপেক্ষায় থাকলাম। নিচে ঠিকানা দিলাম।" চিঠিটা পড়ে সেদিন খুশিতে অনেক কেঁদেছিলাম। . অদ্ভুত ব্যাপার হলো.., জেরিন আপুদের বাড়ি থেকে আসার সময় জেরিন আপুর বইয়ের মধ্যে আমিও একটা চিঠি লিখে রেখে এসেছিলাম..! জেরিন আপুও বইয়ের মধ্যে আমার চিঠিটা পেয়ে কেঁদেছিলো! চিঠিটা অনেক বড় ছিলো, তাই শেয়ার করলাম না। এরপর আমাদের চিঠিতে যোগাযোগ হয়। শুরু হয়ে যায় চিঠিতে আমাদের প্রেমের আদান প্রদান। আমি লেখাপড়া খুব ভালভাবে শেষ করি। ব্যাংকে ভাল একটা চাকরি পাই। ম্যানেজার পদে। ততদিন জেরিন আপুও.. (ওহ্ না, 'আপু' না) 'জেরিন'। জেরিন আমার জন্য অপেক্ষা করেছিলো। জেরিনের অনেক বিয়ের অফার এসেছিলো। শুধু আমার জন্য বিয়ে করেনি। তারপর সবাইকে আমাদের ভালবাসার কথা জানাই। জেরিনের কথা শুনে আব্বু আম্মুও খুশি হয়েছিলো। সবার সম্মতিতে আমাদের বিয়ে হয়। সেই "জেরিন আপুু" এখন আমার জীবন সঙ্গীনী। আমার সাধনা। আমার ঘরের লক্ষী..! আমরা অনেক সুখী। . ভাই-বোনেরা যদি ভালো লাগে তবে 1+ Star দিয়ো...&...কেমন লাগলো কমেন্ট কইরো... (আর.এম.রকি মাহমুদ)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৬১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভালোবাসা সিনিয়র জুনিয়র মানে না
→ ভালোবাসা সিনিয়র - জুনিয়র মানে না

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now