বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কলেজে যাওয়ার উদ্দেশ্য বাসা থেকে রওনা দিলাম।এই শীতে এমন রোদ খুবই ভালো লাগছে।সৃষ্টিকর্তা আসলেই কত মহান।মানুষের পক্ষে যা আরামদায়ক তাই তিনি করেন।হাত দিয়ে সূর্যটাকে আড়াল করতে চেষ্টা করলাম।কিন্তুু পারলাম না।এমনসময় কলেজে ডুকে পড়লাম।এই মাসে প্রথম কলেজে আসলাম।ভিতরে ডুকেই তো আমি হতভম্ব।কিসের যেন আলোচনা করা হচ্ছে।পরে আমি জানলাম সামনেই নাকি বিশ্বভালোবাসা দিবস।তো এবার ১৪ ই ফেব্রুয়ারি পড়েছে শুক্রবার।এখন এটই আলোচনা হচ্ছে কলেজ বন্ধ থাকবে নাকি খুলা থাকবে।বিশ্ব ভালোবাসা দিবস বলে কথা।কিছুটা অনুষ্ঠান হাতে হাতে ফুল এসব না দিলেই যে নয়।এমনসময় আমাদের সবার প্রিয় রনবীর স্যার মাঠে এমন এক ভাষন দিলেন যে আমার কাছে মনে হলো আমি যেন ১৯৭১ সালের ৭ ই মার্চ রেসকোর্সের প্রান্তরে বসে আছি।তো আর কী অনেকেই হাত তালি দিল খুব।আর কিছু যারা আমার মতো যাদের কোন গার্লফ্রেন্ড নেই তারা নির্বাক হয়ে তাকিয়ে রইল কারন তাদের কাছে আর ভালোবাসা দিবস??শেষে সিদ্ধান্ত হলো কলেজ খুলা থাকবে ১২ টা পর্যন্ত।সবাই যার যার ক্লাসে চলে গেল।আমিও গেলাম।একটু পরেই হাসিমুখে রনবীর স্যারের আগমন।যেন তিনি এইমাএ এভারেস্ট জয় করে এলেন।ক্লাসে ডুকতেই আমি দাড়িয়ে স্যারকে বই দিতেই তিনি বললেন রাখত আজকে বই।আজ আমি তোমাদের বলব কিভাবে এই ভালোবাসা দিবস আসল।এমনিতেই মেজাজ বিগড়ে আছে তার উপর স্যারের কথা শুনে অজ্ঞান হবার মতো অবস্হা।কিন্তুু প্রকাশ করতে পারলাম না।এতক্ষনে স্যার তার ভাষণ দেওয়া শুরু করছে।তিনি ভালোবাসা দিবসকে এমনভাবে উপস্হাপন করলেন যে সবাই হতবাক।ক্লাস পুরো নিস্তব্দ।এমনসময় হঠাৎ স্যারের আমাকে প্রশ্ন।
স্যার:: কী ভালোবাসা দিবসকে তুমাদের ইসলাম কী বলে?ইসলামে কী কোন ভালোবাসা দিবস আছে??
আমি:: স্যার ইসলাম এমন এক ধর্ম যাতে সকল কিছুই বিদ্যমান।ভালোবাসা,সৌহার্দ,স্নেহ,মায়া-মমতা,সম্পৃতি।সবকিছুর শিক্ষা দেয় ইসলাম।আমাদের পুরো জীবনে প্রতিটা দিনই ভালোবাসা বিদ্যমান।মা-বাবার সন্তানের প্রতি।সন্তানের বাবা-মার প্রতি শ্রদ্ধা,ভাই-বোনের প্রতি স্নেহ সম্মান।সবকিছুই বিদ্যমান যেকারনে বছরে মাএ একটি দিন ভালোবাসা দিবস পালন করা আমাদের কোন দরকার পড়ে না বলে মনে করি যেখানে আমাদের প্রতিটি দিন প্রতিটি সময় ভালোভাসায় পরিপূর্ন।এটা তারা পালন করবে যাদের জীবনে সারা বছর কোন ভালোবাসা নেই।বছরে একটি দিন তারা ভালোবাসাকে খুজে পায়।আর ইসলাম সমর্থনের ব্যপার? এটা কখনই ইসলাম সমর্থন করবে না।কারন আজকাল ভালোবাসা দিবস মানেই প্রেমিক-প্রেমিকা।আর এই দিনে এমন কোন অশ্লীলতা আর বেহায়াপনা নেই যা সংগঠিত হয় না।যা সম্পূর্ন ইসলামের নিয়ম-নীতি বিরুধী।
স্যার:: আচ্ছা যাও যে যারটা পালন করবে।যার যেমন ভালোলাগবে সে তেমন চলবে।
আমি মুচকি হেসে:: ঠিক বলছেন স্যার।
স্যার:: আরেকটা বিষয় তুমরা আই মিন মুসলীমরা বলে থাক ইসলাম নাকি মানবতার ধর্ম।এটা কিভাবে?কিভাবে ইসলাম মানবতার ধর্ম হলো?? আজকাল মুসলীমদের দ্বারা এমন কোন অন্যায় নেই যা সংগঠিত হয় না।সারা বিশ্বে মুসলীমদের এই দল সেই দল।যারা অন্যায়ভাবে অনেককে হত্যা করছে।এটাই কী তোমাদের তথাকথিত মানবতা??
আমি:: স্যার ইসলামে আপনি মানবতার কমতি কোথায় দেখলেন? নারীদের সমাজে হীন,নীচ চোখে দেখা হত সেখানে ইসলাম এসে মর্যাদা বাড়িয়ে দিল।দাস প্রথা অন্যায়-অত্যাচার ব্যভিচার নিষিদ্ব করল।ইসলাম এসেই ধনী-গরিব সবাইকে সমান করল।ইসলাম এসেই সকলে শান্তি পেল,ফিরে পেল তাদের অধিকার,সকলে পেল ন্যায়বিচার এটা কী মানবতা নয় স্যার।ইসলাম যদি মানবতার ধর্ম না হয় পৃথিবীর অন্যকোন ধর্মই মানবতার আশেপাশেই থাকতে পারে না।
স্যার:: হুম ঐসব নাহয় মানলাম বর্তমান প্রেক্ষাপটকে তুমি কী বলবে?
আমি:: স্যার এতে একটা উদাহরন প্রয়োজন।আগে বলেন আপনি কোন কিছু মনে করবেন না।
স্যার কিছুটা চিন্তিত হয়ে:: আচ্ছা যাও কিছু মনে করব না।বলো।
আমি:: স্যার মনে করেন এই যে আপনি কলেজ শেষ করে বাসায় ফিরতাছেন এমনসময় আপনাকে কেউ ঠাস করে চড় মেরে গাল দুটো গোলাপ ফুল বানিয়ে দিল।আশেপাশে অনেক মানুষও আছে তখন আপনি কী করবেন??
স্যার:: কী আর করব।আমিও তার গালদুটো জবা ফুল বানিয়ে দিব।পারলে বরং আমি আরও বেশিই দিব।
আমি:: তাহলে স্যার পারলে আপনি একটু বেশিই দিবেন আপনার কী মানবতা নেই??
স্যার কিছুটা বিরক্তসূচক ভঙ্গিতে:: ধুরর এখানে মানবতার প্রশ্ন আসবে কেন? আমি কী তাকে আগে মেরেছি নাকি? সে যদি আমায় না মারত তবে কী আমি তাকে টাচ করতাম?এটাত তখন আমার অধিকার।
আমি মুচকি হেসে:: স্যার তাহলে যখন সারা বিশ্বে মুসলীমরা সবার সামনে নির্যাতিত আর অত্যাচারিত হচ্ছে ঠিক সেই সময় যদি একজন মুসলীম রুখে দাড়ায় তবে সেখানে কেন মানবতার প্রশ্ন উঠবে এটাত তাদের অধিকার।তাছাড়াও পৃথিবীতে এমন কোন ঘটনা দেখাতে পারবেন না যেখানে মুসলীমরা আগে কাওকে আক্রমন করেছে।কামান ছাড়তে না পারি ইটটাত ছুড়ার ক্ষমতা সবারই আছে।তাছাড়াও গোপনে নিস্তব্দে হারিয়ে যাচ্ছে আরও কত জীবন ঝরে যাচ্ছে কত ফুল হাজারও অত্যাচার সহ্য করে যা অজানা।
স্যার একটা জোর করে হাসি মারল।মানে যখন হাসি আসে না তবুও হাসতে হয়।পরক্ষনে স্যার দ্বিগুন উৎসাহে:: আচ্ছা এতেত অনেক মুসলীমরাও মারা যায় তাহলে এটাত আর অধিকার নয়?
আমি:: স্যার মনে করুন ঐ একই থাপ্পরটা যদি আপনাকে আপনার বাবা বা বড় ভাই দেয় তাহলে কী আপনি তাদের গালদুটোকেও জবা ফুল বানিয়ে দিবেন?? বুঝতে হবে আপনি কোন ভুল করেছেন বা বেয়াদবি করেছেন।আপনাকে সঠিক পথে আনতেই তারা আপনার গায়ে হাত তুলেছে।
স্যার:: হুম ঠিক।কিন্তুুু এটার সাথে মুসলীমদের সম্পর্ক কী??
আমি:: আছে স্যার।মুসলীমদের মধ্যেও এমন কিছু নামদারি মুসলীম আছে যারা প্রকৃতপক্ষে কাফেরদের ধূসর।এক কথায় বিশ্বাসঘাতক বা মোনাফিক।আর মুনাফিকের স্হান জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে।আর তাদের হত্যা করা মানে পুরো মুসলীমদের বাচানো।তাই এখানেওত মানবতার কোন প্রশ্ন থাকতে পারে না।
স্যার স্নান মুখে বলল:: হয়ত।
এতক্ষনে ক্লাসের ঘন্টার টিং-টং শব্দ হয়েছে আর তাই স্যারও আজকের মতো চলে গেল।স্যারকে দেখলে সত্যেই খুব মায়া হয় কতই না সহজ সরল লোক আমাদের স্যার।কিন্তুু
...............................................................
পরিষেশে বলছি লেখায় কোন বানান বা যাই হোক যদি কোন ভুল ক্রুটি থাকে তবে দয়া করে ক্ষমা করবেন।এবং পারলে ভুল ক্রুটিগুলো অবশ্যই ধরিয়ে দিবেন।।
[আল্লাহ হাফেজ]
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now