বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভালো থাকুক সব সময়

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান এম.এ আব্দুল্লাহ শেখ (০ পয়েন্ট)

X যেখানেই থাকুক না কেন ভালো থাকুক সব সময় নাবিলের সঙ্গে অর্চির প্রথম দেখা হয় ক্যাডেট কোচিং করতে গিয়ে। ভালো ছাত্রী হিসেবে সুনাম ভালোই ছিল অর্চির। একটু নিজের মতো থাকতেই পছন্দ করতো ও। কোচিং এ দুর্দান্ত ইংলিশ জানা ছেলে নাবিলকে দেখার পর থেকেই কেন যেন রাগ লাগতো অর্চির। প্রথম প্রথম নাবিল কে সহ্য হতো না ওর। নিজের প্রতিযোগী মনে হতো। এরপর কেন যেন আস্তে আস্তে একটা ভালো লাগা কাজ করতে শুরু করলো। বন্ধুত্ব হয়ে গেলো কিছুদিনের মাঝেই। দুজনের বন্ধুত্ব যখন তুঙ্গে, হঠাৎ করেই নাবিলের পরিবার শহর বদলে চলে গেলো। অর্চি হয়ে গেলো বন্ধুহীন। ভার্সিটিতে ভর্তির পর পর হঠাৎ একদিন নাবিলের সাথে দেখা হয়ে যায় অর্চির। বহুদিনের পুরনো বন্ধুত্বটা ভালোবাসার সম্পর্কে পরিণত হয় খুব অল্প সময়েই। কী হবে এরপর? নাবিল আর অর্চির ভালোবাসা কি হতে চলেছে পূর্ণ? কয়েকমাস পর হঠাৎ অর্চি একদিন ভার্সিটিতে আসার পথে এক্সিডেন্ট করে। হাসপাতালে নেওয়া হয় ওকে। মাথায় প্রচন্ড আঘাত পেয়ে প্রায় দুই মাস চিকিৎসায় থাকতে হয় অর্চিকে। ডাক্তার জানায় অর্চির মাথায় আঘাত পাওয়ার কারণে মস্তিষ্কের কিছু অংশ অচল হয়ে গিয়েছে। ওর আর সুস্থ হওয়া সম্ভব না। এই ঘটনা জেনে অর্চির পরিবার ও নাবিল ভয়ানক মুষড়ে পড়ে। এদিকে অর্চির মানসিক ও শারীরিক অবস্থা আরো খারাপ হতে থাকে। হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরে নিজেকে কেমন ঘর বন্দী করে ফেলে ও। নাবিলের পরিবার জানায় এমন অসুস্থ মেয়েকে তারা ঘরে আনতে চায় না। অর্চির পরিবার নাবিলকে জানায়, নাবিল যেন অর্চিকে ভুলে যায়। পরিবারের অমতে ওদের বিয়ে করার কোন প্রয়োজন নেই। কী হবে এখন? নাবিলের পরিবারই কি কোনদিন মেনে নিতে পারবে অর্চিকে? ভালোবাসাকে দূরে ঠেলে দেওয়ার পাত্র নয় নাবিল। নাবিল তার বাসায় জানিয়ে দেয় বিয়ে করতে হলে সে একমাত্র অর্চিকেই করবে, অন্য কাউকে নয়। নাবিল প্রতিদিন ক্লাস শেষ করে অর্চির সাথে দেখা করতে যায়। অর্চিকে বই পড়ে শোনায়, গান শোনায়, বেঁচে থাকতে উৎসাহ দেয়। অর্চি ঘুমিয়ে গেলে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে বলে- তোমার সুখের দিন গুলোতে আমি ছিলাম সবচেয়ে কাছের? এখন আমি তোমাকে ছেড়ে কোথায় যাবো? এভাবে কেটে যায় প্রায় একটা বছর। অর্চির প্রতি নাবিলের এই ভালোবাসা দেখে একসময় নাবিলের পরিবার সবকিছু মেনে নেয়। নাবিলের ভালোবাসার শক্তির কাছে পরাজিত হয় সব বাধাই। অসম্ভব সুন্দর একটি দিনে অর্চি আর নাবিলের বিয়ে হয়। নাবিল জানে অর্চির সুস্থভাবে বেঁচে থাকার অনিশ্চয়তার কথা। তবুও সে মন থেকে অর্চিকে ভালোবেসে যায়। এপ্রিল মাসের ৮ তারিখে খুব সকালে অর্চির হারিয়ে যায় নাবিলকে ছেড়ে। বিয়ের পর অর্চি বেঁচে ছিল মাত্র তিন মাস। নাবিল এখনও অর্চিকে ভালোবেসেই যাচ্ছে। অর্চি যেখানেই থাকুক না কেন ভালো থাকুক সব সময়। অর্চিকে ঘিরে থাকুক নাবিলের ভালোবাসা। এই ছিল নাবিল আর অর্চির কাছে আসার সাহসী গল্প ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভালো থাকুক সব সময়

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now