বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
জানুয়ারী ২০০৬ থেকে ২০০৬
ডিসেম্বর… এর মাঝে অনেক
উত্থান পতন হয়েছে দুজনেরই…
এসেছে কিছু পরিবর্তন… ৪ বছর বয়স
বেড়েছে… কলেজ শেষ হয়েছে…
২০০৭ এর জানুয়ারী থেকে আমি
মেডিকেল ছাত্রী হয়েছি আর ও
হয়েছে ইঞ্জিনীয়ার ছাত্র|
তখনো মাঝেমাঝে ই-মেইলCheck
করতাম… হঠাৎ ২৯ জানুয়ারী ২০০৭
একটা ই-মেইল নজরে পরলো… from
Md. Sarwer Hossain| আমি বিশ্বাস
করতে পারছিলাম না| ই-মেইলটা
ওর নতুন Address থেকে
পাঠিয়েছিল ওর Contact list এর
সবাইকে| আমি আর সবাই এক
হলাম!? এই ভেবে আর Reply করা
হলোনা|
তারপর ২১ ফেব্রুয়ারী ২০০৭
আরেকটা ই-মেইল এলো| ই-মেইল
পড়ে প্রথমে খুব রাগ হলো… কারণ
as usual সেখানে আমাকে Jealous
করানোর মত কথা লেখা ছিল| ই-
মেইলের শেষ লাইন গুলো ছিল
এরকম “SunSi dr ri porteSo khubi valo.
amr amma Sune khub khuSi hoiSe. kau dr
hoiSe Sunle amma khuSi hoya jay, amder
aaSe paSe Sob to enginr tai. ajk to
monehoy tmr bondo. ok valo thako....
bye… connection raikho amak vuila
gaSo ? ? ! ? ! ! ! ?”
তখন কেন জানি আর রাগ করে
থাকতে পারলাম না… reply একটা
করেই দিলাম| তারপর আবার শুরু
হলো যোগাযোগ| ও যেমন
আমাকে প্রায়ই Jealous করানোর
মত কথা বলতো আমিও ওকে সব সময়
Jealous করার চেষ্টা করতাম…
কিন্তু ওর কোনো প্রতিক্রীয়াই
ছিলনা! খুব রাগ হতো আমার!
২০০৮ এর ১৩ ফেব্রুয়ারী… আমি
ওকে “Yahoo!” তে Chat-এ বেশ ভয়ে
ভয়ে জিজ্ঞেস করলাম, “আচ্ছা,
তোমার কাল কি কোনো
Programme আছে?” ও বললো, “নাহ্,
কাল কি Programme থাকবে? কেন
থাকবে?” আমি বললাম, “তাহলে
আমরা কি কাল TSC-তে দেখা
করতে পারি?” আমি
ভেবেছিলাম ও “না” বলবে|
কিন্তু ও বললো “হ্যাঁ”!! বলে আমার
বিপদ বাড়িয়ে দিল|
প্রচন্ড রকমের ভয় ভর করলো মাথায়|
এতই ভয় আর উত্তেজনা পেয়ে
বসলো আমায় যে আমার হারিয়ে
যাওয়া মোবাইলের সাথে যে
ওর মোবাইল নাম্বারটাও যে
হারিয়ে গিয়েছে সেটাও
ভুলে গিয়েছিলাম| আর হঠাৎ
করে ওর নাম্বারটাও কিছুতেই
মনে পড়ছিল না| কিন্তু ততক্ষনে
আমরা Sign out করে ফেলেছি|
হঠাৎ মনে পরলো একটা
ডায়রীতে ওর নাম্বার লিখে
রেখেছিলাম, কিন্তু কোনো
লাভ হলোনা…
ডায়রীটা খুঁজে পেলাম না| তাই
১৪ ফেব্রুয়ারী ২০০৮ TSC যাওয়া
হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু বইমেলার
মানুষের ভীরে আমরা দুজন
দুজনকে খুঁজে পেলাম না| পরদিন
“Yahoo!” তে ও আমাকে নাম্বার
দিল… ঠিক হল ১৭ ফেব্রুয়ারী
দেখা করবো| আবারো সেই ভয়
আর উত্তেজনা পেয়ে বসলো
আমায়|
১৭ ফেব্রুয়ারী ২০০৮… তখন আমি
হোস্টেলে থাকতাম| TSC
গেলাম… একমাস ব্যাপি
বইমেলা… প্রচন্ড মানুষের ভীর|
আমি পৌঁছেই ওকে ফোন
দিলাম… ও কাছেই কোথাও
ছিল… ৫ মিনিট অপেক্ষা করতে
বললো| এই ৫ মিনিটে আমার ভয়
ক্রমোশ বেরেই চললো| মাথায় কত
চিন্তা ভর করলো! এই প্রথম আমি
আর ও কোথাও এভাবে দেখা
করতে যাচ্ছি… কতদিন পর দেখবো
ওকে… ২ বছরের বেশি… ও কি
পাল্টে গেছে… নাকি সেই
আগের মতই আছে… ওকে চিনতে
পারবো তো বা ও আমাকে
চিনতে পারবে তো!?
এরকম কত ভয়…! তারপর অতি
প্রতিক্ষীত ৫ মিনিট শেষ হলো…
দূর থেকে দেখেই চিনতে
পারলাম ওকে| নাহ্! খুব বেশি
পাল্টায়নি ও… তবে একটু মোটা
হয়েছে… মোটা বললেও ভুল হবে…
স্বাস্থ্যটা একটু ভাল হয়েছে| ও
কাছে এলো… আসার পর আমি
কিছুতেই ওর দিকে তাকাতে
পারছিলাম না| ভয় অথবা লজ্জা…
কিছু একটা কাজ করছিল| লজ্জা
পাচ্ছিলাম হয়তো লজ্জা নারীর
ভূষণ বলে, আর ভয়… কারণ… ও যদি
বুঝে ফেলে আমার দুর্বলতা!
সন্ধ্যা ৭.৩০ টা পর্যন্ত ছিলাম ওর
সাথে|
ও ওর স্বভাব সুলভ খুব নরমাল আচরণ
করছিল, আর আমি খুব চেষ্টা
করছিলাম নরমাল হওয়ার… কিন্তু
ব্যর্থ চেষ্টা! ও আমাকে রিকশায়
করে হোস্টেলে পৌঁছে দিয়ে
গেল| হোস্টেলে ফেরার পর
থেকে শুধু মনে হচ্ছিল ও কিছু
বুঝলো না তো!!?? সত্যিই তাই… ও
সেদিন বুঝে গিয়েছিল… কিন্তু ও
আমাকে বুঝতেই দেয়নি যে ও
বুঝতে পেরেছে|
একদিন কথায় কথায় মনে পড়লো
আমি ওকে কলেজে থাকতে
জোড়া ডলফিনের একটা শো-
পিস Gift করেছিলাম| লজ্জায়
লাল হয়ে গেলাম… কি নির্লজ্জ
মেয়েরে বাবা আমি! ও বললো
ওটা নাকি তখনি ওর Friend দের
বিশেষ কৌতুহলের কারণে দুই
টুকরা হয়ে গিয়েছিল| সাথে
সাথে আমার মনটাও দুই টুকরা হয়ে
গেল| তারপর ও বললো সেটা
নাকি ও আঠা দিয়ে জোড়া
লাগিয়েছে… তখন থেকে সেটা
ওর Aquarium এ শোভা পাচ্ছে|
এই কথা শোনার পর আমার মন তো
জোড়া লাগলোই… মনে হলো
কোথা থেকে যেন হালকা
একটা হাওয়া স্বজোরে একটা
দোলা দিয়ে গেল| মনে হলো…
তাহলে কি ওর ও মাঝে
দুর্বলতাটা কাজ করে!!?? তারপর
থেকে আবার শুরু হলো আমার
“Mission : Making Him Jealous”| এবার
বোধহয় কাজ হলো…
৩০ জুন ২০০৮… নাহ্! ১ জুলাই ২০০৮… ৩০
জুন ২০০৮ রাত ১২টার পর… সকালেই
আমারAnatomy Prof Written exam| ও
আমাকে চমকে দিয়ে জিজ্ঞেস
করলো, “অনু, তুমি কি কোনো
কারণে আমার প্রতি Weak?” যার
সত্যিকার অর্থে মানে ছিল, “অনু,
তুমি কি আমাকে ভালবাসো?”
আমি কি উত্তর দিবো ভেবে
পাচ্ছিলাম… আমার কি বলা
উচিত যে আমি শুরু থেকেই
Weak!!??
আমি বললাম… “কি হবে জেনে?
তোমার কাছে আমার সব Problem
এর Solution আছে, কিন্তু এই উত্তরের
কোনো Solution নেই”| ও বললো…
“বলেই দেখো… থাকতেও তো
পারে”| আমি বললাম… “হ্যাঁ, আছে
তোমার কাছে কোনো Solution?”
ও বললো… “এভাবেই চলতে
থাকি… কপালে থাকলে হবে”|
নিজেকে খুব ছোট মনে হলো…
মনে হলো “হে ধরণী! তুমি দ্বিধা
হও, আমি তোমার ভেতর প্রবেশ
করি”!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now