বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভালবেসে কাছে আসা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X এই ৭ টা দিন তিথি ঘুমাতে পারেনি সবসময় শুধু আপনের কথা মনে পড়ছে, নিজেকে খুব অপরাধি মনে হচ্ছে তার। পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয় আপনের সাথে তিথির। দিন ভালই চলেছিল কিন্তু হঠাৎ সব থমকে দাড়িয়ে যায়! বিয়ের ৩ মাস পর রোড এক্সিডেন্ট করে আপনের চোখ দু’টি নষ্ট হয়ে যায় তাই তিথির বাবা তিথিকে বাড়ি নিয়ে আসে,বিয়ের বয়স তো বেশিদিন না এখনি যদি জীবনটা শেষ হয়ে যায়? তার চেয়ে নতুন করে আবার সাজাতে হবে। তিথিও সেটায় ভেবে বাবার কথায় সম্মতি জানায়। কিন্তু প্রথমে যতটা সহজ মনে হচ্ছিল এখন তার চেয়ে কঠিন মনে হচ্ছে কাজটি। বাসর রাতে আপন তিথিকে বলেছিল “আচ্ছা আমি তো বিয়ের আগে প্রেম করতে পারিনি এখন কিন্ত আপনার সাথে প্রেম করবো আপনি প্লীজ ছ্যাকা দিয়েন না। কারন এই ছ্যাকা খাওয়ার ভয়ে আমি জীবনে প্রেম করতে পারিনি।” তিথি হি হি করে হেসে উঠলো আর বলল “আচ্ছা ঠিক আছে আমি ছ্যাকা দিবো না।” কথাটা আজ খুব মনে পড়ছে তিথির,সে তো কথাটা রাখতে পারলো না! ঠিকই আপনকে ছেড়ে চলে আসলো। যেদিন অফিস থেকে ফিরতে আপনের দেরি হয়ে যেত তিথি রাগে ফুলে যেত। কিন্তু আপন যখন লাল গোলাপ নিয়ে দরজার সামনে দাড়িয়ে কলিং-বেল টিপতো তখন ছুটে গিয়ে দরজা খুলে দিতেই আপন লাল গোলাপটা বাড়িয়ে দিয়ে বলতো “সরি একটু কাজ ছিল তাই ফিরতে দেরি হয়েছে।” তিথি আর একটু ও রাগ করে থাকতে পারতো না আপনের আহত পাখির মত কথা শুনে নিমিষে রাগ পানি হয়ে যেত তার। মাঝ রাতে যখন তিথি ঘুম ভেংগে যেত তখন দেখতো আপন তাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে আছে। তিথির অজানা কোন সুখে চোখে জল চলে আসতো,সে আবার চুপটি করে ঘুমিয়ে পড়ত। সকালে যখন তিথি আপনকে ডাকতো “এই যে ৮ টা বেজে গেছে এখন উঠেন মিস্টার।” তখন আপন তার হাত ধরে টান দিয়ে খাটের উপর বসিয়ে তিথির কোলে মাথা রেখে বলত “আর একটু ঘুমায় তুমি মাথায় হাত বুলিয়ে দাও না!” তিথি হেসে বলত “আহারে লক্ষী বাবু আমার উঠে পড়। আমার এখন তোমার জন্য নাস্তা তৈরি কররে হবে।” তাই বলেই চলে যেত এক রাশ লজ্জা নিয়ে রান্না ঘরে চলে যেত তিথি। আপন উঠে গোসল করে শার্ট-প্যান্ট পড়ে রান্না ঘরে ডুকে তিথিকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরত। তিথি তখন লজ্জাতে লাল হয়ে যেত। নাস্তা সেরে অফিস যাওয়ার আগে ম্যানিব্যাগ রেখে যাওয়া আপনের প্রতিদিনের রুটিন হয়ে গেছিল! কিন্তু বাসা থেকে বের হতেই তিথি ফোন দিত “এই তোমার ম্যানিব্যাগ নিবে না?” আপন আবার রুমে এসে তিথির কপালে চুমু দিয়ে বলত “আমার লক্ষী বউ।” না তিথি এত আর পারছে না কি করে আপনকে ছেড়ে থাকবে সে? না এত নিষ্ঠুর সে হতে পারবে না। প্রতিটা মুহুত আপনের কথা মনে পড়ছে তিথির। আজ নিজেকে অনেক অপরাধি মনে হচ্ছে তিথির,একটা মানুষ আজ বিপদে আর সে কিনা নিজের স্বর্থের কথা ভেবে তাকে ছেড়ে চলে আসবে? না আপনে তো এখানে দোষ নাই! এইটা নিয়তির লেখা তাই কারো হাত নেই । বিকালে তিথি হসপিটালে আসলো আপনকে দেখার জন্য। কিন্তু আজ সকালে নাকি আপনে বাসায় নিয়ে গেছে! তাই দেরি না করে ডাক্তারের সাথে কি নিয়ে কথা বলে আপনদের বাসায় চলে এলো তিথি। তিথি বাসায় আসতে সবাই বিস্মিত হয়ে গেল। তিথি ঘরে ডুকেই বলল “মা আপন কই?” “বেলকুনিত” ছোট করে জব্বাব দিল আপনের মা। তিথি ছুটে চলে গেল বেলকুনিত,গিয়ে দেখে কালো সান গ্লাস পরে চেয়ারে বসে আছে আপন। তিথি আর সইতে না পেরে আপন কে জড়িয়ে ধরলো। আপন বুঝতে পারলো এইটা তিথিই হবে তাই সে বলল.. “কখন আসলে তিথি?” “এইত এখনি।” “আচ্ছা ডিভোর্স দিবে তাই বলবে সেজন্য আসছো?” “ওই খুন করে দিবো তোমাকে কিন্ত চুপ!” “সেটাও দাও তাইলে তো বেঁচে যাবো।” “চুপ একদম চুপ!” “দেখ তিথি আমার জন্য মায়া দেখিয়ে নিজের ক্ষতি কর না!” “আপন আমি অনেক ভেবে চিন্তে তোমার কাছে ফিরে এসেছি। তুমি কি আমাকে ফিরিয়ে দিতে চাও?” “সেটা না কিন্তু তুমি কেন আমার জন্য জীবনটা নষ্ট করবে? তুমি অনেক সুন্দরী তোমার জন্য দেখ একটা রাজপুত্র মিলে যাবে। সে তোমাকে অনেক ভালবাসবে,অনেক সুখে রাখবে। “চেয়েছিলাম সেটা কিন্তু আমি পারবো না আপন! যে হাতে তোমার ছোঁয়া লেগে আছে সেই হাতে অন্য কেও ধরবে এইটা আমি মানতে পারবো না।” “যা করবে একটু ভেবে চিন্তে কইরো তিথি।” “হুম করছি তো বাবুইসোনা” “এই তোমার হাত টা একটা বাড়িয়ে দাও তো খুব ধরতে ইচ্ছা করছে।” তিথি আপনের হাতের উপর হাতট রাখলো,আর আপন হাতটা ধরে বলল “তুমি থাকবে তো সত্যিই আমার পাশে?” তিথি কাঁদো কাঁদো শুরে বলল “না থাকলে কি করে হবে? তুমি যে আমাকে যাদু করেছো। ডাক্তারের সাথে কথা বলেছি তোমার চোখ দুইটাই ড্যামেজ তাই আমি একটা চোখ দিবো তাইলে ইনশাল্লাহ আমারা আবার আগের মত হয়ে যাবো। তুমি আবার আমাকে দেখতে পাবে ।” আপন কিছু বলল না কিন্তু তার কালো সান গ্লাসের নিচে দিয়ে যে জল গড়িয়ে গড়িয়ে পড়ছে সেটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল। হয়ত শুরু হবে নতুন কোন জীবনের পথচলা,শুরু হবে নতুন কোন ভালবাসার আধ্যায়ের।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভালবেসে কাছে আসা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now