বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভালবাসি

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X 'ভালোবাসি' . -এই উঠো অনেক বেলা হয়েছে। -আর একটু ঘুমাই না। -না উঠো বলছি। -আর একটু! -এই পানি ঢেলে দিবো কিন্তু বললাম। -এই না না! -হি হি হি! খিল খিল করে হেসেঁ উঠলো নুশরাত। নুশরাত আমার একমাত্র স্ত্রী। কেন যে ও এত্ত ভালো মেয়ে আল্লাহ জানেন। ওকে স্ত্রী হিসেবে পেয়ে সত্যিই আমি ধন্য। সবাইকে কিভাবে খুব সহজেই আপন করে নিতে পারে পাগলিটা। ভাবিনি কখনও ও আমাকেও এতোটা আপন করে নিবে। . -এই অনিক? পিছন থেকে কারো একটা আওয়াজ শুনলাম। আমার নাম ধরেই ডাক দিলো মনে হচ্ছে। পিছন ফিরে তাকাতেই দেখলাম নুশরাত। -কোথায় যাচ্ছিস? -বাসায়। কেন তুই বাসায় যাবি না? -হুম চল! তোর সাথেই যাই। মাঝ পথে নেমে যাবো নে। নুশরাত আমার সেই ছোট্টবেলাকার বন্ধু। ছোট বেলা থেকে একসাথেই পড়শুনা করছি। এখন দুজনেই ভার্সিটিতে পড়ি কিন্তু দুজন দুই ডিপার্টমেন্টে। একটা রিক্সা ডেকে রিক্সায় চরে বসলাম দুজনেই। রিক্সা চলছে আর আমি মোবাইল টিপতে মন দিলাম। আর নুশরাতও চুপচাপ বসে রয়েছে। হঠাৎ বলে উঠলো; -অনু কেমন আছে রে? -জানিনা। -কেন? ঝগড়া হয়েছে নাকি? -সেটা নতুন কি। অনু হল আমার গার্লফ্রেন্ড। ভার্সিটিতে ভর্তি হবার কিছুদিন পরই আমাদের রিলেশন হয়ে যায়। কিন্তু অনু মেয়েটাকে ঠিক বুঝে উঠতে পারিনা। কেমন যেন ও। -আচ্ছা আসি। নুশরাতের বাসার সামনে এসে গেছি। ও চলে গেল আর ওর চলে যাওয়া তাকিয়ে দেখছি আমি। কেন যে অনু ওর মত হলো না। . সকাল সকাল নুশরাতের বাসায় চলে আসলাম। কারন প্রতিদিন ওকে সাথে নিয়েই ভার্সিটি যাই আমি। ওর রুমে ডুকলাম ডুকেই একটা ডায়রি দেখলাম টেবিলের উপর। পড়া শুরু করলাম। সেখানে সব লেখা আমায় আর নুশরাতকে নিয়ে। সবটা লেখা। এটাও লেখা দেখলাম 'যেদিন ওকে প্রথম অনুর সাথে দেখলাম জীবনের সবথেকে ভয়ানক কষ্টটা তখন পেলাম'। এরকম হাজারো কষ্টের কথা। হঠাৎ নুশরাত এসে ডায়রিটা নিয়ে বললো; -আমার ডায়রি কেন ধরছিস? -না! এমনি। তখন ওকে কিছু জিজ্ঞেস করিনি। জানি পাগলিটা আমায় ভালোবাসে। ভার্সিটি গিয়ে ক্লাসে ডুকার আগে ওকে জিজ্ঞেস করলাম; -ভালোবাসিস আমায়? -কি বলছিস এসব। -ডায়রি থেকে সব পড়েছি আমি নুশরাত। -না মানে.... -তুই তো জানিস আমি অনুকে ভালোবাসি নুশরাত। তাহলে এরকম কেন করছিস? -জানিনা। -আমায় ভুলে যা নুশরাত। অন্য কাউকে জীবন সঙ্গি হিসেবে বেছে নে তুই। কিছু না বলেই চলে গেল নুশরাত। জানি পাগলিটা কোন কথাই শুনবেনা। এত্ত ভালো কেন তুই নুশরাত। এরপর প্রতিদিন আমার আর অনুর কথা জিজ্ঞেস করতো ও। কেমন আছি কেমন রিলেশন চলছে এসব ব্লা ব্লা। . সকাল থেকে অনেকের ফোন অনেকের ম্যাসেজ পেলাম। দিনটা হলো আমার জন্মদিন। অনেক গিফট পেয়েছি যার ভিতর নুশরাতের একটা গিফটও আছে। এই মেয়েটা কখনও আমার জন্মদিন ভুলে না। কিন্তু অনু ঠিকই ভুলে বসে আছে। জন্মদিনে এবার নুশরাত একটা শার্ট গিফট করেছে। হালকা নীল রংয়ের একটা শার্ট। নুশরাত জানে নীল রংয়ের প্রতি খুব দুর্বল আমি। সকাল ১১ টা, ভার্সিটি যেতেই পথিমধ্যে দেখা অনুর সাথে। -শুভ জন্মদিন অনিক। -ধন্যবাদ। এত্তক্ষন পর মনে পরলো মহারানী? -অনিক একটা কথা বলতে চাই তোমাকে? -বলো। চলো ওখানটায় গিয়ে বসি। দুজনে একটা গাছের ছায়ায় বসলাম। -কি বলবে বলো? -আমি আর পারছি না। পারছি না বললে ভুল হবে আমি আর চাচ্ছি না। -কি চাচ্ছো না? কি সব বলছো বল তো? -আমি চাচ্ছি না আমাদের রিলেশনটা আর থাকুক। -কি? -স্যরি।বাই ভালো থেকো। না আমি একটুও অবাক হইনি অনুর কথায় কারন আমাদের রিলেশনটা কোন রিলেশনই ছিলো না। অনু আমাকে ভালোই বাসতো না সেটা জানি আমি। কিন্তু আমার ভালোবাসা মিথ্যা ছিলোনা। আমি সত্যিই ভালোবাসতাম ওকে। -কি হয়েছে অনিক? -কিছুনা। -বলবি না? -অনু সব সম্পর্ক শেষ করে চলে গেছে। -কেন? -কারনটা জানিনা। -কষ্ট পাস না প্লিজ। অনেকক্ষন দুজনের নিরবতা। নিরবতা ভেঙ্গে নুশরাত বললো। - একটা কথা বলবো? -বল। -আমাকে তোর বউ বানাবি? -কি বলছিস এসব তুই? -যা সত্যি তাই বলছি। কি বানাবি তোর বউ আমাকে? -এটা হয়না নুশরাত। -কেন হয়না? তুই অনুকে ভালোবাসিস তাই। -তা জানিনা। বলেই চলে আসলাম ওর কাছ থেকে। এরপর থেকে নুশরাত যেন একটু বেশি করেই আমার কেয়ার নিতো। একটু বেশিই সাথে থাকতো। আমারও খারাপ লাগতোনা। আগে অবশ্য বিরক্তি লাগতো এখন ভালোই লাগে। ওর দুষ্টু মিষ্টি কথা,খিল খিল করে হেসেঁ উঠা, সব কিছুই। তাহলে কি নুশরাতকেও আমি ভালোবাসি। . তারপর পরিবারের সম্মতিতেই আমাদের বিয়ে হয়েছে। কারন দুজনকেই দুজনের পরিবার খুব ভাালো করে চিনিতো,পছন্দও করতো। ছয় বছর নয় মাস পনের দিন হলো আমাদের বিয়ে হয়েছে। -অনিক? হঠাৎ নুশরাতে ডাকে বাস্তবে ফিরলাম। বুঝলাম চোখের কোনে কিছু অশ্রু জমা হয়েছে। ও যেন না দেখে তাই অন্যদিক ফিরে মুছে বললাম, -কি হয়েছে? -তোমার রাজকন্যা কোথায়? -কেন? এই যে ঘুমাচ্ছে? -ঘুমাচ্ছে না। একদম তোমার মতো হইছে ফাজিল মেয়েটা। -ওই একদম ফাজিল বলবে না হু। ও আমার রাজকন্যা। -হু! সকালে উঠেছে পড়তে বসবে। কিন্তু বলে কি মাথা ব্যাথা করছে। -তাতে কি হয়েছে? মাথা ব্যাথা করতেই পারে। -হু কচু। মাথা ব্যাথা করলে কারো ঘুম আসে নাকি। ওই দেখ দিব্বি ঘুমোচ্ছে। ওটা একটা বাহানা যাতে পড়াশুনা না করা লাগে। -আরে বাচ্চা ঘুমাচ্ছে ঘুমোক না। -আমি ঘুমাই নি বাবাই। হঠাৎ আমার রাজকন্যা অত্রি মামুনি উঠে বসে কথাটা বললো। -এই তো আমার মামুনি! -তোমরা দুজনেই এত্ত জ্বালাও কেন আমায়। নুশরাত বললো কথাটা। - মামুনি তোমাকে যে এত্তগুলান ভালোবাসি তাই। অত্রি মামুনি কথাটা বললো আমার কোলের উপর বসে। আর খিল খিল করে হেসেঁ দিলো। -আমিও যে ভালোবাসি মামুনি তোমায়। -মাঝখান থেকে আমি কি উদাও হয়ে গেলাম? আমি বললাম। -তোমাকে তো এত্তগুলান ভালোবাসি বাবাই। সবাই অট্টহাসিঁতে হেসেঁ উঠলাম। নুশরাত-অত্রি দুজনই আমার জীবন। দুজনকেই দেখে মনে হবে যেন পিচ্চি। খিল খিল করে হেসেঁ উঠে যখন তখন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভালবাসি আজও ভালবাসি তোমায় সংখ্যা
→ আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি
→ আজও ভালবাসি তোমায়...
→ আল্লাহর জন্য ভালবাসি
→ "ভালবাসি"
→ ভালবাসি
→ হায় থেকে ভালবাসি (৪৬ দিন) পব ৩
→ হায় থেকে ভালবাসি (৪৬ দিন) পর্ব ৪
→ হায় থেকে ভালবাসি (৪৬ দিন) পব ২
→ ভালবাসি কিনা জানি না
→ বলব না অনেক ভালবাসি তোমায়
→ আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি
→ তবুও তোমাকে ভালবাসি ☺ লাস্ট পার্ট
→ তবুও তো ভালবাসি পার্ট 1☺
→ !!ভালবাসি তোহ!!

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now