বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
.স্নিগ্ধা মেয়েটাকে আমি ছোট থেকে চিনি। আমার কমপক্ষে দুবছরের ছোট হবে। যখন প্রথম দেখেছিলাম তখন মনে হয়েছিল এর সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে নিয়ে যখন বড় হব তখন বউ করে নিবো। এখনো ইচ্ছাটা আছে। তবে ছোটবেলার ইচ্ছাটা ছোটবেলার মতোই শিশুসুলভ থাকলেও এখন ইচ্ছাটা বয়স বাড়বার সাথে সাথে যথেষ্ট পরিণত। তবে সেই স্নিগ্ধাকি আর রয়েছে আগের মতো!
.
পিঠ থেকে ব্যাগ খুলে নিয়ে বিছানায় রেখে চারদিক চাওয়া চাওয়ি করলাম। মামি এসে বললেন..
- কি খুঁজছিস রে?
- অণু কোথায়?
- অণু তো কলেজে।
- ওহ আচ্ছা। ভাত দিয়ে দাও বাড়ি থেকে কিছু খেয়ে আসিনি।
- আচ্ছা।
সকালে ঘুম থেকে উঠেই টার্গেট ছিল প্রথম ট্রেনটা ধরবো, তাই চা খেয়েই মামার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেই। দুপুরেরটা ধরলে আজকে আর দেখতে পাবো না স্নিগ্ধাকে। পরশু পরীক্ষা শেষ হয়েছে। মাঝে পড়ালেখার চাপ আর নানা ব্যস্ততায় পাঁচ বছরের মাঝে আসা হয়নি মামার বাড়ি! সেই ক্লাস এইটে থাকতে স্নিগ্ধাকে দেখা!
.
খেয়ে শরীর বিছানায় একটু এলিয়ে দিলাম। হঠাৎ ঠাণ্ডা কিছুর অনুভূতি পেয়ে উঠে দেখি অণু হাতে গ্লাস নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। চোখে পানি ছিটা দিলো।
- কখন আসছিস?
- একটু আগে।
- হালা এতোদিন পর আসলি ক্যান?
- ইচ্ছা হইছে আসছি।
- তোর আলগা ভাব ছাড়। বল কেন আইলি?
- আজব তো! মামার বাড়ি আসতে কারণ লাগে?
- তুই কারণ ছাড়া আসার পাত্র নাহ।
.
বকবকানি চললো প্রায় বিশ মিনিট। অণু আমার এক বছরের ছোট। কিন্তু কথাবার্তায় মুরুব্বিপণা দেখলে মনে হয় অন্ততপক্ষে দশ বছরের বড় আমার থেকে। অনেকক্ষণ পর অণু একটা ভালো কথা বললো।
- মেলায় যাবি?
আমার চোখেমুখে আনন্দের ছাপ ফুটে উঠলো।
- মেলা কোথায়?
- আমাদের কলেজে। হেঁটে যাবো। স্নিগ্ধা আর আমি যাব। তুই আসায় ভালই হলো। তোকে সাথে নিয়ে গেলে একটু দেরিতে ফিরলে সমস্যা হবে না। উঠ।উঠ।
.
অণু আমাকে টেনে উঠিয়ে দিলো।স্নিগ্ধা নাম শুনে বুকের মাঝে চেৎ করে উঠলো। পাঁচ বছর আগ দেখা সেই পিচ্চি স্নিগ্ধাকে অবশেষে দেখবো! না জানি এখন কতো সুন্দর হয়েছে! আগের বাচ্চামিগুলার কতো পরিবর্তন হয়েছে।
.
সেইসময় ও স্নিগ্ধার সাথে মেলায় গিয়েছিলাম। নাগরদোলা চলছিলাম। আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম। জীবনের প্রথম নাগরদোলা চলা। প্রতিবার নামার সময় মনে হতো বিমান থেকে প্রবল বেগে মাটিতে পড়ছি। আমি আর অণু ভয় পেলেও স্নিগ্ধা আমাদের ভয় পাওয়া দেখে প্রচুর হাসছিলো।
সেই স্মৃতি মনে হলে ঠোঁটের কিনারায় কিঞ্চিৎ হাসি খেলা করে।
.
অণু শাড়ী পড়তে চাইলে আমি না করি। মেলায় শাড়ি পরে যাওয়া ঠিক না। তারপর লেহেঙ্গা আর পায়জামা পরে এসে বলে..
- এবার তো ঠিক আছে?
- বাহ! আমার বোন তো বেশ সুন্দরী হয়ে গেছে! বিয়ে দিয়ে দিতে হয়। কি বলিস?
- ওই চুপ থাক। চল এবার।
.
বাড়ি থেকে রাস্তায় উঠে আমাকে দাঁড় করিয়ে অণু স্নিগ্ধাদের বাড়িতে ঢুকতে ঢুকতে বলল..
- তুই দাঁড়া।
- ওই আমিও আসি তোর সাথে?
- না তুই থাক। এমনিতেই ওর বাবা যেতে দিবে কিনা সিউর না।তুই গেলে তো!
- আমি গেলে কি হবে?
অণু উত্তর না দিয়ে বাড়ির ভিতর ঢুকলো। আমার ভিতর কেমন নার্ভাস নার্ভাস ভর করছে। পাঁচবছর পর দেখব। স্নিগ্ধা কি আমাকে চিনবে এখন আর? মনে হয় চিনবে না। সুন্দর মেয়েরা বেশিদিন টাইম পাস করার সঙ্গীকে মনে রাখে না। কথাটা ভেবেই বুকের মাঝে কেমন অদ্ভুত শিহরণ জাগানো অনুভূতি হলো। আমি কি টাইম পাস করার সঙ্গী ছিলাম ছোটবেলায়? জীবন সঙ্গী হওয়া যায়না?
সুন্দরী মেয়েরা বেশিদিন সিংগেল থাকে না। তবে কি! না, ভাবতে পারছি না।
.
আমি ভাবতে ভাবতে কিছুটা পথ এগিয়ে দু টা রাস্তার অন্য একটা রাস্তায় সামান্য চলে এসেছি।
- ওই এইদিকে কি তোর শ্বশুর বাড়ি?
.
পিছন থেকে অণু কথাটা বলে হাসলো। হাসির শব্দ উচ্চভাবে।সাথে আরেকজন সুর মিলাচ্ছে। পিছনে তাকিয়ে দেখি অণুর পাশে বেশ ফর্সা নিয়ে একটা মেয়ে। এটাই তাইলে স্নিগ্ধা! ভয়ংকর সুন্দর হয়ে গেছে। পাঁচবছরে শরীরের পরিবর্তন খুব ভালোই হয়েছে দেখছি। আগে বেশ শুকনা ছিল। এখন মাঝারি স্বাস্থ্য নিয়ে শরীর। চোখের কথা বলা যাবে না।আমি কোনো মেয়ের চোখের সঠিক বৈশিষ্ট্য দিতে পারিনা। মেয়েদের চোখের গঠন, চাহনি আমার কাছে খুব অপরিচিত লাগে। অবশ্য অপরিচিত মেয়েদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। পরিচিত মেয়েদের চোখের ভাষা বুঝতে পারি মোটামুটি।
.
স্নিগ্ধার দিকে বেশ আগ্রহ নিয়ে তাকালাম।বুঝাতে চাইলাম," চিনতে পারছো? আমি শুভ্র। আরেকবার যখন মামার বাড়ি আসছিলাম তখন অণু আর তোমার সাথে কতো খেলেছিলাম। মনে পড়েতো?
কিন্তু সেসব কিছুই বলতে পারিনি। আমি খুব চাপা স্বভাবের। তুচ্ছ "হাই" টুকুও বলতে পারিনি। অণু আর স্নিগ্ধা সামনে হাঁটছে আর আমি পিছন পিছন। আরে মেয়ে আমি না হয় সংকোচবোধে বলতে পারিনি। তুমি তো কিছু বলতে পারতে! তুমি তো খুব চপল স্বভাবের ছিলে! চিনলেই না আমাকে!
.
মেলায় ঢুকে আমি অবাক।এটা দেখি ছেলে মেয়ের মিলনমেলা। বয়স্ক মানুষ নেই একদম। অণুকে শাড়ি পরতে না করেছিলাম, এখন দেখি প্রায় সব মেয়েই শাড়ি পরে আছে। হাতে হাত রাখা জুটিগুলোর কথা নাইই বললাম! আমার কেমন একা একা লাগছে। কিছুক্ষণ অণু আর স্নিগ্ধার পিছন শুধু শুধু মেলায় হেঁটে আমি মেলা থেকে বের হয়ে বট গাছের ছায়ায় দাঁড়িয়ে রইলাম।
.
কিছুক্ষণ পর অণু আর স্নিগ্ধা আমার সামনে আসলো।
- পালিয়ে আসলি? টাকা খরচের ভয়ে? গর্দভ এবার ফুচকা খাওয়া।
- প্রচুর জ্যাম থাকায় আর কি!
বলে একটু হাসলাম।
- দাঁত বের করিস না।চল খাওয়াবি।
অণুর পাশে থাকা স্নিগ্ধা এবার মুচকি হাসলো। অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করলো। বোন তুই বারবার গালি দিস প্লীজ।স্নিগ্ধার ওই হাসিটা দেখব। কথাটা মনে মনে রয়েই গেল।
.
মেলা থেকে বের হয়ে আগেরমতো আমি ওদের পিছনে পড়ে রইলাম। কিছুক্ষণ হাঁটার পর অণু বলল
- ভাইয়া, উফ ভুলে গেছি আমার মোবাইলে বিশ টাকা ছেড়ে আসবি প্লীজ?
.
কথাটা শুনে আমার মুখটা চুপসে গেল। এখন আর স্নিগ্ধার সাথে যেতে পারবো না। ইচ্ছামত নিয়ম করে অণুকে থাপ্পড়াইতে ইচ্ছা করছে। কিন্তু মুখে একটু হাসি এনে রাস্তায় থাকা প্লাস্টিকের বোতলে কিক মারতে মারতে বাজারে ঢুকলাম। ততক্ষণে ওরা অনেক জায়গা যেয়ে যাবে।
.
সন্ধ্যার দিকে অণুকে একটু পড়া দেখাতে বসলাম। কিছুক্ষণ পড়া দেখিয়ে দেওয়ার পর বললাম..
- এটা সেই স্নিগ্ধা না? যার সাথে আমরা প্রতিদিন খেলতাম?
- হুম।কেন?
- না, অনেকদিন পর দেখলাম তো তাই। বাট আমি প্রথমে দেখেই চিনে ফেলেছি।
- ওহ! হাহা।
.
অণুর ভাব দেখে গা জ্বলে উঠলো। বুঝা যাচ্ছে আমি তাকে বলে দিচ্ছি,"এই স্নিগ্ধা আমার সাথে প্রেম করবে?" সেসব কিছু বলছিনা, এইটুকু বলতেই কেমন শয়তানের মতো চেয়ে আছে।
.
ঘুম থেকে উঠে ব্রাশ হাতে নিয়ে রুম থেকে বের হতে যাব দেখি স্নিগ্ধা বই হাতে নিয়ে সোফায় বসে আছে। চোখাচোখি হলো। একটু ইতস্ততভাবে ঘর থেকে বের হয়ে উঠানে এসে দাঁত ব্রাশ করতে থাকলাম। স্নিগ্ধা কি সত্যি সত্যি আমাকে ভুলে গেল নাকি? একবার ও তো আমাকে কিছু বলল না। কতো আড্ডা, ফুর্তি সব ভুলে গেল নাকি।
.
ধ্যাত সম্ভবত রিলেশন করে। তাইতো আর মনেই নেই আমার কথা, থাকলেও দরকার নেই ভালো মন্দ জিজ্ঞেস করার। পাঁচবছর পর এসে বাছাধন ভাবছো পাবে এই মেয়েকে! মাঝে আসা উচিৎ ছিল। কালই বাড়িতে চলে যাব। দরকার নেই শুধু শুধু এখানে থাকার। সেই পাঁচবছর আগে কাটানো মুহুর্তগুলো বাড়িতে এসে নিত্য ভাবতাম।
প্রথম তিন চারদিনতো প্রতিটা মুহুর্ত স্নিগ্ধার কথা ভাবি। আস্তে আস্তে সবসময় না হলেও মাঝেমাঝে স্নিগ্ধার কথা ভেবে ভেবে কাটিয়ে দিতাম।
.
একবার তো ক্লাস টেনে থাকতে হাতে স্নিগ্ধা নাম দেখে ফিজিক্স স্যার মূর্তা বেত দিয়ে হাতে কয়েকটা দিয়ে দিয়েছিলেন। অবশ্য ক্লাসে স্নিগ্ধা নামের কেউ না থাকায় আমার উপড়ে ধকলটা তেমন যায়নি। পরে ফিজিক্স স্যার মাথায় হাত বুলিয়ে বুলিয়ে এই বয়সে প্রেমের বেড এফেক্টগুলা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। ফিজিক্স স্যারকে খুব পছন্দ করতাম, তাই উনার মারাটা মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছিলো। চোখ দিয়ে কয়েক ফোঁটা জল পড়েছিল।
পরেরদিন আবার স্নিগ্ধা নাম বাম হাতে লিখে গেলাম। স্যার ঘনঘন হাতের দিকে তাকিয়েছিলেন।কিছু বলেন নি। তবে রাতে ধকলটা ভালোভাবেই যায়। বাবা খুব গালিগালাজ করেন। ফিজিক্স স্যার আমাদের এলাকারি।বাবার পরিচিত। তারপর হাতে লেখে না গেলেও বই খাতায় ঠিকই স্নিগ্ধা শব্দটার অস্তিত্ব থাকতো। হৃদয়ের মাঝে আছে কিনা সেটা তো আর বলতে হবেনা
.
এই মেয়ের জন্য এতো কষ্ট করা অথচ আমাকে চিনেই না। আর এরচে' বেশি চিন্তা তো দূরের কথা।
.
বিকালে অণু আর আমি বসে বসে টিভি দেখছি। কিছুক্ষণ পর স্নিগ্ধা এসে অণুর পাশে বসলো। ডিসকোভারি চ্যানেল দেখছিলাম। স্নিগ্ধা অণুকে ইশারা করলো। অণু বলল..
- ওই স্টার প্লাসে দে।
- দেখছিস না আমি একটা ডকুমেন্টারি দেখছি।
- দে প্লীজ।
স্নিগ্ধা বহুকাল পর মুখ খুলল।বলল..
- দেন না।
.
আমি স্নিগ্ধার দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে স্টার প্লাসে দিলাম। ফেসবুক চালাচ্ছি আর মাঝেমাঝে টিভির দিকে তাকাচ্ছি। অণুকে মামা ডাকায় মামার রুমে গেল। এখন শুধু স্নিগ্ধা আর আমি টিভ দেখছি। কিছুক্ষণ পর শুরু হলো নায়ক- নায়িকার লীলাখেলা।স্নিগ্ধা বেশ অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়েছে। আমি হাসি চেপে রাখলাম আর আড়চোখে মাঝেমাঝে স্নিগ্ধার দিকে তাকাতে লাগলাম। উঠে যেতেও পারছে না আবার কিছু বলতেও পারছে না। আর না পেরে বলল..
- অন্যকোথাও দেন?
- কেন?
আমার মুখ থেকে এমন প্রশ্ন শুনে স্নিগ্ধা অবাক চোখে তাকালো। নিশ্চয় মনে মনে ভাবছে, " ওরে গাদ্ধু দেখিস না কি দিচ্ছে, বলে দিতে হয় চেঞ্জের কথা!"
স্নিগ্ধা সেটা বলল না। নরম সুরে বলল..
- একটু পর আনিয়েন।
.
আমি কথা আর না বাড়িয়ে চেঞ্জ করলাম।
.
ক্লাস এইটে থাকতে যখন আসছিলাম, তখন স্নিগ্ধারা নতুন বাড়ি বানিয়ে এসেছে এখানে। প্রতিদিন বিকালে এসে অণুর সাথে লুডু খেলতো, আমিও খেলতাম। খেলায় একটা ঘুটি মারলে প্রচুর খুশি হতো, আমি খুশিমাখা মুখ দেখে অবাক হতাম। কি সুন্দর লাগে হাসলে!
ইচ্ছে করেই অণুর ঘুটিকে টার্গেট করে রাখতাম। স্নিগ্ধার ঘুটি বাইপাস করতাম। এটা নিয়ে অণু রেগে লাল হয়ে যেতো। একদিন লুডুর বোর্ডই ছিড়ে ফেলে। রেগে ঘরে চলে যায়, আমরা মামাদের পাশের ঘরে খেলতাম। স্নিগ্ধা তখন বলল..
- তুমি আমার পক্ষ নেও কেন?
- এমনিই। অণুকে রাগাই।
.
আমার তখন ছোট মানুষের ছোট মন দিয়ে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে অন্যকিছু বুঝানোর উপায় ছিল না, বলারও ক্ষমতা নেই।
- আর এমন কইরো না।
- আচ্ছা।
.
তবে চোখের ভাষা পরিণত ছিল, যথেষ্ট পরিণত। মাঝেমাঝে একদৃষ্টিতে স্নিগ্ধার দিকে চেয়ে থাকতাম। স্নিগ্ধা কিছু বলতো না। রাগতোও না। অনুভূতিহীন থাকতো।
.
বাড়িতে ফিরার আগের দিন বললাম..
- আমি চলে যাব কাল।
- ওহ। আর কবে আসবে?
- জানিনা। এস,এস,সি দিয়ে আসতে পারি।
- ওহ। অনেক দেরি।
আস্তে করে বলল..
- কী বলছো?
- কিছুনা। ভাল থেকো।
- হুম।
.
কিন্তু আসলাম অনার্স প্রথম বর্ষের পরীক্ষা দিয়ে। দেরি নয়, অনেক দেরি হয়ে গেছে। সেইজন্য কি আমাকে চেনেনা এখন আর!
আসলে আমার উদ্দেশ্যেই ছিল এবার স্নিগ্ধার সাথে ভালভাবেই সম্পর্ক গড়ে তুলবো। পাঁচবছর ও'কে নিয়ে কল্পনায় ভাবছি । কল্পনা বাস্তব করা দরকার। কিন্তু বাস্তবতা আসলে কঠিনই।
.
- লুডু খেলবি ভাইয়া?
.
অণু এসে বলল।
চ্যানেল চেঞ্জ করে ভাবনায় চলে গিয়েছিলাম। স্নিগ্ধা দেখি নেই রুমে! চ্যানেল তো আর রিটার্ন করে আগের জায়গায় আনি নি! বাকিটুকু না দেখেই চলে গেল?
- তুই আর আমি শুধু?
- হুম।
- না ভাললাগে না। আমি একটু ঘুমাই।
- আয় বলছি!
. অণুর রক্তচক্ষু দেখে বিরক্তি নিয়ে উঠলাম।বললাম..
- কোথায়?
- আমার রুমে।
.
গিয়ে দেখলাম অনিক, স্নিগ্ধা বসে আছে। অনিক ঘুটি সাজাচ্ছে। অনিক পাশের ঘরের মামাতো ভাই। এবার টেনে পড়ে। স্নিগ্ধাকে দেখে শরীরে অচেনা এক শিহরণ বয়ে গেল। রাজকন্যা বসে আছে রাজকুমারের জন্য। আহা!
.
খেলায় বসতেই অণু বলল
- কোনোরকম পক্ষাপক্ষি করবি না বান্দর। সেবার কি আহ্লাদ দেখছিলাম। আমাদের একজন প্লেয়ার কম তাই তোকে আনলাম।
.
কথাটা শুনে আমি একটু হাসলাম। কিন্তু স্নিগ্ধা আমার দিকে অবাক চোখে তাকালো!
স্নিগ্ধা অল্পস্বরে বলল
- শুভ্র?
অণু জোরে হেসে বলল
- এখন চিনেছিস? হাহা।
অণুর মতো আমার একই প্রশ্ন! মাত্র পাঁচবছরেই ভুলে যায় চেহারা! মানতে পারলাম না। ভাব নিচ্ছে। নিশ্চিত ভাব নিচ্ছে!
অবশ্য আমার চেহারার অনেক পরিবর্তন হয়েছে, আমি জানি। তবে এতটুকু পরিবর্তন হয়নি যে প্রায় একমাস নিত্য দেখার পরেও ভুলে যাবে।
.
- কেমন আছো।
- ভাল..!
.
- উঁহু তোদের আজাইরা পরিচয় পরে হবে। এখন খেলবো।
আমাকে আর বলার সুযোগ দেয়নি অণু। অণুর নাক বরাবর একটা ঘুসি দিতে ইচ্ছে করছে।
.
কিছুক্ষণ খেলার পর অনিক ফার্স্ট হয়। সেকেণ্ড অণু। আমি আর স্নিগ্ধা বাকি। কিন্তু আমার অবস্থা করুণ পর্যায়ে। একটা ঘুটিও পাশ করাতে পারিনি। স্নিগ্ধা দুটা করে ফেলছে। তবে এটা নিয়ে যতটা না রাগ তার চেয়ে বেশি রাগ অণুকে নিয়ে। বারবার শিখিয়ে দিচ্ছে স্নিগ্ধাকে। স্নিগ্ধাও সুযোগ নিয়ে মিটমিটেয়ে হাসছে। তবে হঠাৎ করেই স্নিগ্ধার চাল দেওয়া দেখে অবাক হয়ে গেলাম।অনেক নিচের ঘুটি দেওয়া শুরু করলো। ঘরে প্রায় ঢুকবে ঘুটিটা দিচ্ছে না। অণু আমার দিকে অন্যরকমভাবে তাকালো। আমি কি করবো বুঝতে পারছি না। শেষদিকে স্নিগ্ধার একটা আর ঢুকাতে পারেনি, আমার শেষ হয়ে গেল।
- ওপস, জিতে গেলে তুমি।
আমি না হেসে অণুর মুখের দিকে তাকাই। অণু এখনো অদ্ভুতভাবে চেয়ে আছে। তবে এবার আমি একটু হাসলাম অণুর দিকে চেয়ে। অণু রিটার্ন একটু হালকা হাসলো।
.
- সোজাসুজি উত্তর দিবি কিন্তু!
সন্ধ্যার পরে অণুকে পড়াতে বসলাম। ভিতরে ভিতরে নার্ভাস ছিলাম। খেলার সময় তখন এমন করলো কেন অণু! কিছু বুঝেছে?
কিছুক্ষণ অন্যমনষ্ক থাকায় অণু প্রশ্নটি করলো।
- কি?
- স্নিগ্ধাকে তোর ভাললাগে?
আমি কথা শুনে থম ধরে গেলাম। অণুকে বলবো কি ভালো লাগে যে? অণু আবার মামা- মামীকে বলে দিবে না তো। এই মেয়েকে নিয়ে একটুও ভরসা নাই।
আমি নীরব হয়ে রইলাম।
- বল?
- হুম।
- কিন্তু!
- কিন্তু?
- ও'র বিএফ আছে তো!
- সত্যি?
- হুম। দু বছর ধরে।
- ওহ!
.
মনটা খারাপ হয়ে গেল সাথেসাথে। আমি কোথায় পড়ে আছি। কাকে নিয়ে এতো স্বপ্ন দেখছি এতোটা কাল! সকল চাওয়া- পাওয়া মনের মাঝে রয়ে গেল। স্নিগ্ধাকে আর বলা হলো না। ইশ, অণু বিএফ আছে সেকথা না বলে স্বাগতম এই সেই বলতো যদি! অন্ততপক্ষে এতোটা কষ্ট পেতাম না। দূর বা*।
.
সকালে উঠে ব্যাগ গুছাতে লাগলাম। অণু চোখ মুছতে মুছতে বলল
-আজই চলে যাবি।
- হুম। পরশু থেকে ক্লাস।
- আজ থাকলেই হতো!
বলে অণু একটু মৃদু হাসলো। থাপ্পড় মেরে গাল লাল করতে ইচ্ছে করছে। অণুকে মারতে ইচ্ছে করছে কেন! স্নিগ্ধাকে মারা উচিৎ। ওইটার জন্যই তো এতো পেইন।
.
রাস্তায় উঠে স্নিগ্ধাদের বাড়ির দিকে তাকালাম। কিছুক্ষণ তাকানোর পর গেইট খুলার শব্দ শুনে হাঁটা দিলাম। আড়চোখে একবার গেইটের দিকে তাকাতে দেখলাম স্নিগ্ধা বই নিয়ে বের হচ্ছে। আড়চোখে তাকাতেই চোখাচোখি হলো। বুঝলাম স্নিগ্ধা কপাল ভাঁজ করে তাকালো।
রাগ নিয়ে মুখ ঘুরিয়ে হাঁটা দিলাম।
কিছুক্ষণ যাওয়ার পরে আবার ঘুরে তাকালাম। দেখলাম স্নিগ্ধা এখনো তাকিয়ে আছে। আমি আর না দাঁড়িয়ে হাঁটতে থাকলাম।
.
বাড়িতে এসেও মন খারাপ রইলো। বারবার স্নিগ্ধার কথা মনে পড়ছে। সেইবার কি স্নিগ্ধার আমার প্রতি একটুও আবেগ কাজ করেনি? না করলে কেন আমি একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলেও কোনো প্রতিবাদ করতো না! সবকিছু সহজে ভুলে গিয়ে অন্য একজনকে মন দিয়ে বসে রইলো। ওই ছেলেকে কেটে কুচিকুচি করে পদ্মায় ভাসালে শান্তি পেতাম।
.
এভাবে কয়েকদিন কেটে গেল। ফোন আসলো অণুর বার্থডেতে যেতেই হবে। মা যাবেন। বাবা যাবেন না। তাই আমাকে যেতে হবে। একদম ইচ্ছে করছিলোনা যেতে, অন্ততপক্ষে স্নিগ্ধার বিয়ে হয়ে যাবার আগে। মায়ের জোরাজুরি আর অণুর একরোখা কথাবার্তা এড়াতে না পেরে বিশদিন পর আবার যেতে হবে। তবে শর্ত ছিল আমি পরেরদিন বিকালেই চলে আসবো। মা থাকবেন কিছুদিন।
.
সন্ধ্যার দিকে যাই। এটা নিয়ে অনেক রাগারাগি করলো অণু। একদম টাইম মতো কেন আসলাম। আগে আসলাম না কেন। ইচ্ছে করেই দেরি করে বের হয়েছি।
কিছুক্ষণ সোফায় বসে এফবি চালাচ্ছিলাম। ইরিত্রিয়া স্নিগ্ধা আইডি থেকে ম্যাসেজ আসলো
- একটা কথা বলি। তুমি এখন বাড়িতে নেই। হাহা।
- কিভাবে বুঝলে?
.
স্নিগ্ধা নামের আইডিটির সাথে পরিচয় মামার বাড়ি থেকে আসার দু দিন পর থেকে। এক্সেপ্ট করে এমন কোনো তথ্য পাইনি যেটা প্রমাণ করবে ওইই আমার চেনা স্নিগ্ধা। তাছাড়া অণুর আইডিও ওই আইডির লিস্টে নেই। যখন একটিভ হতাম তখনই ম্যাসেজ দিতো। প্রথম প্রথম আপনি করে বললেও দু তিন দিন পর থেকে তুমি করে ডাকা শুরু করলো। আরো দু তিন দিন পর থেকে আমাকে জান ডাকা শুরু করলো। তখন বিরক্তি চলে আসলো। ফেইক আইডি ভাবতে পারলাম না। ম্যাসেঞ্জারে অনেকবার কথা হয়েছে। এভাবেই চলছিল। আমাকে নিয়ে অনেক ফালতু স্বপ্ন বুনা শুরু করলো। স্বপ্নগুলো শুনে কখনো ভালো লাগতো এই ভেবে যে আমিও তো স্নিগ্ধাকে নিয়ে ওর মতো করে স্বপ্ন দেখতাম, রাগ উঠতো কখনো এই ভেবে যে স্বপ্নগুলোর কোনো মানে আছে?
.
আমি বলতাম.. "স্বপ্ন দেখে লাভ নেই। একজনকে ভালবাসি, তাকেই ভালবেসে যাব।"
উত্তরে মিহি বলতো, তোমাকে ওই একজনের কাছ থেকে ছিনিয়ে আনবো। ও'র নাম মিহি বলছিলো।
এভাবেই চলছিল ফেইক ভালোবাসা।
.
মিহি এখন জানলো কিভাবে আমি বাড়িতে নেই! আমিতো সকালে ম্যাসেজে আসার কথা বলিনি।
- সোফা থেকে উঠে চারদিকে একটু ঘুরতে হয় গো জান। কত্তো সুন্দর সুন্দর মেয়ে ঘুর ঘুর করছে।
.
আমি এবার সম্পূর্ণরূপে বোকা বনে গেলাম।আমার প্রোফাইলে পিক থাকায় দেখেছে, কিন্তু আমি মিহিকে দেখিনি। বলিও নি কখনো দেখার কথা। মিহি কি এখানে আসছে? কিন্তু, ও তো ঢাকা থাকে বলল। হয়তো মামীর আত্মীয়।
.
সোফা থেকে উঠে ঘরের সব রুমে নজর দিলাম। কোন মেয়ের হাতে মোবাইল। অণুকে সাজানোর রুমে ঢুকতেই অনেক মেয়েকে দেখলাম। সোফায় বসে বসে স্নিগ্ধা মোবাইল টিপছে। এই মেয়েকে তো আমি দেখতে চাই না। আমি বরং চলে যাই। আমি উঠানে এসে হাঁটছিলাম। ম্যাসেঞ্জারে টুং করে ম্যাসেজ আসলো...." ki hlo jan amk dkhte ese cole gla kno,, ami rag korchi jaw, huh,"
.
এবার মাথা ভনভন করছে। আমি বললাম..
- তুমি বাইরে আসবে একটু?
সিন করে রিপ্লাই দেয়নি। ঘরে ঢুকতেই স্নিগ্ধার সাথে ক্রসিং হলো। আমি একটু অস্বস্তি নিয়ে চেয়ে ভিতরে চলে গেলাম।
.
কিছুক্ষণ পর অণু কেক কাটার জন্য আসলো। অণুর পাশ থেকে স্নিগ্ধা আমার একটু পাশে আসলো। এসে অদ্ভুতভাবে তাকিয়ে অণুকে কি করতে হবে দেখিয়ে দিচ্ছে। অদ্ভুতভাবে তাকানোটা ছিল এরকম যে না আমার দিকে তাকাচ্ছে না অণুর দিকে।
- কেমন আছো?
এতোটা পাশ ঘেঁষে ছিল যে আমি অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়ে গিয়েছিলাম। সরবো কি সরবো না। তখন স্নিগ্ধা জিজ্ঞেস করলো।
- ভালোই, তুমি?
- ভালো না।
- কেন?
- কেন আবার! চেনার মানুষ চিনে না। আস্ত গাদ্ধু!
- ওহ ঠিক হয়ে যাবে। রিলেশনের মাঝে এরকম হয়ই।
- কিসের ঠিক হবে! শুরুই হয়নি?
- ওহ।
.
আমি না বোঝেই ওহ বললাম। কথা বলতে কেমন অস্বস্তি লাগছে। চারদিকে তাকিয়ে মিহিকে খুঁজার চেষ্টা করলাম।
- কাউকে খুঁজছো বুঝি?
.
আমি অবাক দৃষ্টিতে স্নিগ্ধার দিকে তাকালাম। আমার মাথায় ভুত চাপলো। টান মেরে স্নিগ্ধার হাত থেকে মোবাইল নিয়ে নিলাম। ম্যাসেঞ্জারে ঢুকে আমার আইডির সাথেই চ্যাটিং, ম্যাসেজ দেখলাম। বুঝতে বাকি রইলো না এটাই মিহি। আমি কৌশলে স্নিগ্ধার হাতে টান দিয়ে বাইরে আনলাম।
- এসবের মানে?
- সরি জান।
.
বলেই মাথানিচু করে ঠোঁটে এক চিলতে হাসির আভাস দিলো।
- কেন এমন অভিনয় করলে?
- তুমি অভিনয় করছো না? মুখে এক মন আরেক।সেদিন হুট করে চলে গেছো। অণু মজা করে বলেছিল বুঝবার আগেই দেমাগ দেখাইয়া চলে গেলা।অণু আমাকে সব বলছে। তারপর নিউ আইডি খুলে..!
.
স্নিগ্ধার কথাশুনে চোখবন্ধ করে কপালে হাত দিলাম।
- সরি। আমার আইডির সাথে তুমি ম্যাসেজ করতে না। আমার রিলেশন শুনে তুমি যে হার্ট হয়েছিলে।
.
আমি চোখ তুলে তাকালাম স্নিগ্ধার দিকে। স্নিগ্ধা আবার বলল..
- অণু বলছিলো তো!
একটু স্বাভাবিক হয়ে বললাম..
- আমাকে সত্যি ভালোবাসবে তো?
স্নিগ্ধা হৃদয় নাড়িয়ে দেওয়া হাসি দিয়ে বলল..
- হা জান। একটা কথা ছিল?
- বলো।
- ধরো মিহি অন্য কেউ হতো যদি তাহলে আমাকে ভুলে যেয়ে ওর সাথে..!
.
স্নিগ্ধাকে আর বলতে না দিয়ে বললাম..
- আমার আচরণে এরকম মনে হয়েছিল কখনো?
- না।
- সেই ক্লাস এইটে থাকতে যখন ফার্স্ট দেখেছিলাম তখনই তোমাকে মনে মনে আপন করে নিয়েছিলাম। বিশ্বাস করো, অণু যখন বলছিলো তোমার রিলেশন আছে তখন পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গিয়েছিল।
- হুম। এখন কেমন লাগছে?
কথাটা বলে স্নিগ্ধা হাসলো আমিও হাসলাম।
- মনে হচ্ছে মঙ্গল গ্রহ কিনে ফেলেছি।
- হাহা। আচ্ছা এখন মিহি আইডি থেকে ম্যাসেজে জান বলে ডাকলে রাগবা আর? বিরক্ত হবা আর?
.
স্নিগ্ধার কথায় অভিমানের সুর পেলাম। মজা করে বললাম..
- ব্লক দিবো
- কি?
মনে হচ্ছে আমার গায়ে হাত দিতে যাবে।তাই আগেভাগেই বললাম..
- মানে এখন স্নিগ্ধার রিয়েল আইডি আছে না? তাই আর কি!
- পার্টিতে আসো গো।আমি যাই।
ঘর থেকে শুনলাম অণু স্নিগ্ধা বলে ডাকছে।তাই স্নিগ্ধা ভিতরে চলে গেল। বিশ মিনিটের ভিতর কি থেকে কি হয়ে গেল এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না। স্নিগ্ধা আমাকে ভালোবাসে! আমাকেই?
স্নিগ্ধা নামটা আমার নামের সাথে জোড়ে দিতে পারবো। চুপচাপ থাকা মেয়েটা আমাকে নিয়ে স্বপ্ন সাজাবে আমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে! অদ্ভুত তো! স্বপ্ন নয়তো! খুব ইচ্ছে করছে স্নিগ্ধার হাতে হাত রেখে একটু কথা বলি। তারপর চুপচাপ চোখে চোখে চেয়ে থাকি!
বিশ্বাস হচ্ছে না স্নিগ্ধা আমাকে ভালোবাসে। যাই বলি স্নিগ্ধা আমাকে ভালোবাসে কিনা।
হয়তো এইকথা শুনে খুব করে হাসবে আর বলবে..
" ভালোবাসি! ভালোবাসি! তোমাকেই ভালোবাসি শুভ্র! "
আমি নিষ্পলক স্নিগ্ধার দিকে তাকিয়ে অনেক তৃপ্তি নিয়ে শুনতে থাকবো। এতেও মন না ভরলে বারবার শুনার জন্য ব্যাকুল হবো। আর স্নিগ্ধা বারবার বলবে " ভালোবাসি "!!
.
লেখকঃ -নীল আহম্মেদ (পড়াচোর)
----------------------------------------
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now