বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

☆☆♡ভালবাসার শেষ ট্রেন ♡☆☆

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Merina Afrin Mou (০ পয়েন্ট)

X —হঠাৎ একটা হাত প্রান্তির গায়ের ওপর এসে পড়ে ৷ চমকে যায় প্রান্তি , চুপচাপ শুয়ে থাকে সে ৷ অত্যান্ত বিরক্তের সাথে হাতটা সরিয়ে দেয় ৷ এখন রাত ৩টে হবে হয়তো ৷ গত ১ বছর হলো প্রান্তি আর নাহিদ সাহেবের বিয়ে হয়েছে ৷ . তবুও নাহিদ সাহেবের সাথে ঘুমুতে প্রান্তির অত্যান্ত অসস্তি লাগে ৷ প্রায় রাতেই ঘুম আসেনা ৷ তখন রাত জেগে নানা ধরনের উদ্ভট সব কথা ঘুরপাক খায় তার মনে ৷ . --১ টা বছরেও প্রান্তি নাহিদ সাহেব কে একটুও ভালবাসতে পারেনি ৷ সাহেব ই বলা চলে নাহিদ সাহেবের বয়স ৩০ এর ওপরে কলেজের প্রফেসর ৷ প্রান্তি সবে ইন্টারমেডিয়েট পাস করেছে বয়স ১৮ হবে ৷ বিয়ের পর থেকে অনেক মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে প্রান্তি কিন্তু পারে না৷ দিন দিন অধৈর্য্য হয়ে পড়ে ৷ --চঞ্চল প্রান্তি বৃষ্টিতে ভিজতে পছন্দ করে ৷ পছন্দ করে জোছনা রাতে খোলা আকাশের নিচে শুয়ে থাকতে ৷ সুন্দর করে সেজে রাস্তার ধারে ফুচকা খেতে ভিষন ভালোলাগে তার ৷ যখন আকাশ ভেংগে মুষল ধারে বৃষ্টি নামে , তখন প্রান্তি স্বামির কাছে গিয়ে বলে , চল না ছাদে গিয়ে বৃষ্টিতে ভিজি ৷ নাহিদ সাহেব হাসি হাসি মুখ করে বলে এখন কি আর বৃষ্টিতে ভেজার বয়স আমাদের আছে ? এই বয়সে বৃষ্টিতে ভিজলেই অসুখ বাঁধবে ৷ তুমি যাও না বৃষ্টিতে ভেজো ৷ প্রান্তি জানে নাহিদ অত্যান্ত ভালোমানুষ , তাকে খুব ভালবাসে , কিন্তু ভালবাসাটাকে প্রকাশ করতে পারে না ৷ . —প্রান্তি একা একায় ছাদে যায় বৃষ্টিতে নেমে পড়ে ভিজতে ৷ প্রান্তি কিছু একটা অনুভব করে, মনে হয়, নাহিদ যদি তার হাতটি ধরে তার সাথে বৃষ্টিতে ভিজতো তাহলে তার চেয়ে বেশি কেও আনন্দিত হতো না ৷ এসব ভাবতে ভাবতেই, প্রান্তির চোখে পানি এসে যায় ৷ . --বয়স বেশি দেখেও প্রান্তি বিয়েতে রাজি হয়েছিল ৷ নিঃস্ব একটা মানুষ বাবা -মা ছোটো বেলায় মারা যায় ৷ মামার কাছে মানুষ ৷ প্রথমবার দেখেই লোকটির প্রতি প্রচন্ড মায়া জন্মে প্রান্তির ৷ . ভেবেছিলো বিয়ের পর স্বামিকে খুব ভালবাসবে ৷ দুজন মিলে খুব মজা করে বৃষ্টিতে ভিজবে, রাস্তায় দাড়িয়ে ফুচকা খাবে ৷ কিন্তু কল্পনা কল্পনায় থেকে গেছে , বাস্তব রুপ লাভ করেনি ৷ . -প্রান্তি প্রেগনেন্ট , নাহিদকে এখনো কিছু জানায় নি ৷ এসব ভাবতে ভাবতেই প্রান্তির মনে একধরনের জেদ চাপে, মুক্তি পেতে হবে মুক্তি ৷ প্রান্তি এর থেকে মুক্তির পথ খোজে ৷ . তার বিয়ের আগে একটা ছেলে তাকে খুব "ভালবাসতো কিন্তু প্রান্তি ছেলেটিকে ভালবাসতে পারে নি ৷ ছেলেটি অনেক আগে আমেরিকা চলে গেছে ৷ প্রান্তির বিয়ের কথা জেনেও সেই ছেলে প্রান্তিকে এখনো ফোন করে , চিঠি পাঠায় ৷ . প্রান্তি ঠিক করে সে আমেরিকা ছেলেটির কাছে চলে যাবে ৷ ছেলেটি ফোন করলে সব খুলে বলে প্রান্তি৷ ছেলেটি প্রান্তিকে ওর কাছে চলে আসতে বলে ৷ , কিছুদিনের মধ্যে ভিষা পাঠিয়ে দেবে বলে জানায় ৷ ৷ . --এর মধ্যে প্রান্তির কোলে ফুটফুটে এক মেয়ে হয় ৷ মেয়ের কথা ভেবেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে না প্রান্তি ৷ সে ভালবাসার কাংগাল৷ সাত সুমুদ্র পাড়ি দিয়ে হলেও ভালবাসা খুজতে যাবে সে ৷ কিছুদিন পর ভিষা চলে আসে ৷ চলে যাবে প্রান্তি মাস খানেক পরেই ৷ . সব কিছু কেনাকাটা শেষ করে ফেলে , মেয়েকে বাবার কাছে রেখেই চলে যাবে সে ৷ . --১ সপ্তাহ আগে বড় করে একটা চিঠি লেখে প্রান্তি , তার স্বপ্নের কথা, নাহিদের ভালবাসতে না পারার অনুভুতির কথা , আমেরিকা চলে যাবার কথা ৷ চিঠি লিখে বিছানার নিচে রেখে দেয় ৷ প্রান্তির চলে যাবার ২ দিন আগে মানিব্যাগ খুজতে গিয়ে চিঠিটি খুজে পায় নাহিদ ৷ . --এই কয়টা দিন প্রান্তির আর রাতে ঘুম আসে না ৷ তাদের মেয়ে মীরার মুখের দিকে চেয়ে সারারাত জেগে বসে থাকে ৷ মাঝরাতে নাহিদ ঘুম থেকে জেগে দেখে প্রান্তি উঠে বসে আছে ৷ নাহিদ উঠে কপালে হাত রাখে প্রান্তির , চমকে উঠে প্রান্তি, কি ঠান্ডা হাত,, জিগ্গেস করে নাহিদ কি ঘুম আসছে না ? অসুস্থ ? প্রান্তি কথা বলে না ৷ . --আজ কেনো জানি নাহিদের হাতটা কে অসস্তি লাগছে না তার কাছে , নাহিদ কে তার কাছে কেনো জানি আজ খুব আপন মনে হচ্ছে ৷ নাহিদ বলে তুমি ঘুমোও আমি মাথায় হাত বুলিয়ে দি ৷ বাধ্য মেয়ের মত শুয়ে পড়ে , মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় নাহিদ ৷ . পরম আরামে চোখের পাতা ভারি হয়ে আসে ৷ ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে যায় প্রান্তি ৷ আর নাহিদ ডুকরে ডুকরে কাঁদে ৷ চিঠিটা পড়েও কিছু বলে নি প্রান্তিকে ৷ তাকে মুক্তি দেবে নাহিদ ৷ . —আজ চলে যাবে প্রান্তি ...... সকাল বেলায় উঠে নাহিদকে জানায় তার এক আত্বীয় অসুস্থ দেখতে যাবে, মেয়েকে রেখে যাবে বিকেলেই ফিরে আসবে ৷ শুনেই চমকে ওঠে নাহিদ ৷ ভেতরটা ডুকরে কেঁদে ওঠে ৷ মেয়েকে কাজের মেয়ের কাছে রেখে ট্রেনে তুলে দিয়ে আসতে যায় প্রান্তিকে ৷ বুকের চাপা কষ্টটাকে বেঁধে রেখে সারা রাস্তা বকবক করতে করতে যায় নাহিদ ৷ প্রান্তি একটাও কথা বলে নি ৷ ট্রেনের সময় হয়ে গেছে কিছুক্ষণ পরেই ট্রেন ছাড়বে, চলে যাচ্ছে প্রান্তি ৷ . পেছন থেকে হাতটা টেনে ধরে নাহিদ, চমকে পেছনে তাকায় প্রান্তি, নাহিদের দিকে চেয়ে আছে অবাক হয়ে, চোখের কোনে একবিন্দু জল ৷ করুন চোখে তাকায় নাহিদ, অনেক কিছুই বলার ছিলো, কিছুই বলতে পারে না, শুধু ভালো থেকো, ভালভাবে যেও এটুকু বলেই হাতটা ছেড়ে দেয় সে, ট্রেনে উঠে পড়ে প্রান্তি ৷ . --ট্রেন ছেড়ে দেয় ধিরে ধিরে চলতে শুরু করে , ট্রেনের দরজায় দাড়িয়ে আছে প্রান্তি , দুর থেকে নাহিদকে বলে, বিছানার নিচে একটা চিঠি আছে তোমার ৷ পকেট থেকে হলুদ খামের চিঠিটা বের করে নাহিদ ৷ চমকে যায় প্রান্তি , অবাক বিস্বয়ে তাকিয়ে থাকে নাহিদের দিকে ৷ . ধিরে ধিরে চলে যাচ্ছে ট্রেন ৷ চলে যাচ্ছে নাহিদের সুখে থাকার একমাত্র অবলম্বন ৷ নাহিদের বার বার মনে হয় প্রান্তি যেতে পারবে না ফিরে আসবে তার কাছে৷ ঝাপসা চোখে ট্রেনের চলে যাওয়া দেখছে নাহিদ ৷ ট্রেন যাচ্ছে ঝম ঝম ঝম ঝম শব্দে ৷ . --দুর থেকে কে যেনো ডাকছে বাবা বাবা বলে , ঘুম থেকে উঠে দেখে তার মেয়ে মীরা ডাকছে ৷ মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে বাবা ৷ না সেদিন আর ফেরেনি প্রান্তি ৷ আমেরিকা গিয়ে ডিভোর্স পেপার পাঠিয়ে দিয়েছিলো ৷ ঐ ছেলেকে বিয়ে করেছে ওখানে ৷ . ---বাবা তুমি এখনো ঘুমাচ্ছো? সকাল ১০ টা বাজে , অফিসে যাবে না ? . -নারে মা , আজ আর যাবো না , শরীর টা ভালো লাগছে না ৷ -কি হয়েছে জ্বর? দেখি দেখি, বাবার কপালে হাত দেয় মীরা ৷ -কিছু হয় নি রে মা, এমনি যেতে ইচ্ছে করছে না ৷ -ঠিক আছে নাস্তা দিচ্ছি খেয়ে নাও ৷ . --নাহিদ সাহেব ভাবে সবে ১৪ বছর বয়স মীরার ৷ এখনি পুরো সংসারের দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছে ৷ মীরা চলে যাচ্ছে পেছন থেকে ডাকে বাবা ৷ -এদিকে একটু আয় তো মা, এখানে একটু বোস ৷ . -কি হলো বাবা? -বাবা বলে তুই এতটুকু মেয়ে এত কাজ করিস কেনো ? তোর কষ্ট হয় না ! -বাবা আমি ছাড়া তোমার কে আছে বলো , কে করবে? মা তো আমাদের ছেড়ে পালিয়ে বেঁচে গেছে ৷ আমাকেই তো সব দেখতে হবে তাই না ? . --বাবা ,,,মা খুব খারাপ, খুব সার্থপর তাই না? আমাদের ছেড়ে চলে গেছে , বলে বাবাকে জড়িয়ে ধরে ঝরঝর করে কেঁদে ফেলে মীরা ৷ বাবা তুমি আমাকে ছেড়ে যাবেনা তো? তোমাকে খুব ভালবাসি বাবা ৷


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ☆☆♡ভালবাসার শেষ ট্রেন ♡☆☆

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now