বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
—হঠাৎ একটা হাত প্রান্তির গায়ের ওপর এসে
পড়ে ৷ চমকে যায় প্রান্তি , চুপচাপ শুয়ে
থাকে সে ৷ অত্যান্ত বিরক্তের সাথে হাতটা
সরিয়ে দেয় ৷
এখন রাত ৩টে হবে হয়তো ৷ গত ১ বছর হলো
প্রান্তি আর নাহিদ সাহেবের বিয়ে হয়েছে ৷
.
তবুও নাহিদ সাহেবের সাথে ঘুমুতে প্রান্তির
অত্যান্ত অসস্তি লাগে ৷
প্রায় রাতেই ঘুম আসেনা ৷ তখন রাত জেগে
নানা ধরনের উদ্ভট সব কথা ঘুরপাক খায় তার
মনে ৷
.
--১ টা বছরেও প্রান্তি নাহিদ সাহেব কে
একটুও ভালবাসতে পারেনি ৷
সাহেব ই বলা চলে নাহিদ সাহেবের বয়স ৩০
এর ওপরে কলেজের প্রফেসর ৷ প্রান্তি সবে
ইন্টারমেডিয়েট পাস করেছে বয়স ১৮ হবে ৷
বিয়ের পর থেকে অনেক মানিয়ে নেয়ার
চেষ্টা করে প্রান্তি কিন্তু পারে না৷ দিন
দিন অধৈর্য্য হয়ে পড়ে ৷
--চঞ্চল প্রান্তি বৃষ্টিতে ভিজতে পছন্দ করে
৷ পছন্দ করে জোছনা রাতে খোলা আকাশের
নিচে শুয়ে থাকতে ৷
সুন্দর করে সেজে রাস্তার ধারে ফুচকা
খেতে ভিষন ভালোলাগে তার ৷
যখন আকাশ ভেংগে মুষল ধারে বৃষ্টি নামে ,
তখন প্রান্তি স্বামির কাছে গিয়ে বলে , চল
না ছাদে গিয়ে বৃষ্টিতে ভিজি ৷
নাহিদ সাহেব হাসি হাসি মুখ করে বলে এখন
কি আর বৃষ্টিতে ভেজার বয়স আমাদের
আছে ? এই বয়সে বৃষ্টিতে ভিজলেই অসুখ
বাঁধবে ৷
তুমি যাও না বৃষ্টিতে ভেজো ৷ প্রান্তি
জানে নাহিদ অত্যান্ত ভালোমানুষ , তাকে
খুব ভালবাসে , কিন্তু ভালবাসাটাকে প্রকাশ
করতে পারে না ৷
.
—প্রান্তি একা একায় ছাদে যায় বৃষ্টিতে
নেমে পড়ে ভিজতে ৷ প্রান্তি কিছু একটা
অনুভব করে, মনে হয়, নাহিদ যদি তার হাতটি
ধরে তার সাথে বৃষ্টিতে ভিজতো তাহলে
তার চেয়ে বেশি কেও আনন্দিত হতো না ৷
এসব ভাবতে ভাবতেই, প্রান্তির চোখে পানি
এসে যায় ৷
.
--বয়স বেশি দেখেও প্রান্তি বিয়েতে রাজি
হয়েছিল ৷
নিঃস্ব একটা মানুষ বাবা -মা ছোটো বেলায়
মারা যায় ৷
মামার কাছে মানুষ ৷
প্রথমবার দেখেই লোকটির প্রতি প্রচন্ড
মায়া জন্মে প্রান্তির ৷
.
ভেবেছিলো বিয়ের পর স্বামিকে খুব
ভালবাসবে ৷ দুজন মিলে খুব মজা করে
বৃষ্টিতে ভিজবে, রাস্তায় দাড়িয়ে ফুচকা
খাবে ৷
কিন্তু কল্পনা কল্পনায় থেকে গেছে , বাস্তব
রুপ লাভ করেনি ৷
.
-প্রান্তি প্রেগনেন্ট , নাহিদকে এখনো কিছু
জানায় নি ৷
এসব ভাবতে ভাবতেই প্রান্তির মনে
একধরনের জেদ চাপে, মুক্তি পেতে হবে
মুক্তি ৷
প্রান্তি এর থেকে মুক্তির পথ খোজে ৷
.
তার বিয়ের আগে একটা ছেলে তাকে খুব
"ভালবাসতো কিন্তু প্রান্তি ছেলেটিকে
ভালবাসতে পারে নি ৷
ছেলেটি অনেক আগে আমেরিকা চলে গেছে
৷
প্রান্তির বিয়ের কথা জেনেও সেই ছেলে
প্রান্তিকে এখনো ফোন করে , চিঠি পাঠায় ৷
.
প্রান্তি ঠিক করে সে আমেরিকা ছেলেটির
কাছে চলে যাবে ৷ ছেলেটি ফোন করলে সব
খুলে বলে প্রান্তি৷
ছেলেটি প্রান্তিকে ওর কাছে চলে আসতে
বলে ৷ , কিছুদিনের মধ্যে ভিষা পাঠিয়ে
দেবে বলে জানায় ৷ ৷
.
--এর মধ্যে প্রান্তির কোলে ফুটফুটে এক
মেয়ে হয় ৷
মেয়ের কথা ভেবেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে
না প্রান্তি ৷ সে ভালবাসার কাংগাল৷ সাত
সুমুদ্র পাড়ি দিয়ে হলেও ভালবাসা খুজতে
যাবে সে ৷
কিছুদিন পর ভিষা চলে আসে ৷ চলে যাবে
প্রান্তি মাস খানেক পরেই ৷
.
সব কিছু কেনাকাটা শেষ করে ফেলে ,
মেয়েকে বাবার কাছে রেখেই চলে যাবে
সে ৷
.
--১ সপ্তাহ আগে বড় করে একটা চিঠি লেখে
প্রান্তি , তার স্বপ্নের কথা, নাহিদের
ভালবাসতে না পারার অনুভুতির কথা ,
আমেরিকা চলে যাবার কথা ৷ চিঠি লিখে
বিছানার নিচে রেখে দেয় ৷
প্রান্তির চলে যাবার ২ দিন আগে মানিব্যাগ
খুজতে গিয়ে চিঠিটি খুজে পায় নাহিদ ৷
.
--এই কয়টা দিন প্রান্তির আর রাতে ঘুম আসে
না ৷ তাদের মেয়ে মীরার মুখের দিকে চেয়ে
সারারাত জেগে বসে থাকে ৷
মাঝরাতে নাহিদ ঘুম থেকে জেগে দেখে
প্রান্তি উঠে বসে আছে ৷
নাহিদ উঠে কপালে হাত রাখে প্রান্তির ,
চমকে উঠে প্রান্তি, কি ঠান্ডা হাত,,
জিগ্গেস করে নাহিদ কি ঘুম আসছে না ?
অসুস্থ ? প্রান্তি কথা বলে না ৷
.
--আজ কেনো জানি নাহিদের হাতটা কে
অসস্তি লাগছে না তার কাছে , নাহিদ কে
তার কাছে কেনো জানি আজ খুব আপন মনে
হচ্ছে ৷
নাহিদ বলে তুমি ঘুমোও আমি মাথায় হাত
বুলিয়ে দি ৷ বাধ্য মেয়ের মত শুয়ে পড়ে ,
মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় নাহিদ ৷
.
পরম আরামে চোখের পাতা ভারি হয়ে আসে ৷
ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে যায় প্রান্তি ৷
আর নাহিদ ডুকরে ডুকরে কাঁদে ৷ চিঠিটা
পড়েও কিছু বলে নি প্রান্তিকে ৷ তাকে
মুক্তি দেবে নাহিদ ৷
.
—আজ চলে যাবে প্রান্তি ......
সকাল বেলায় উঠে নাহিদকে জানায় তার এক
আত্বীয় অসুস্থ দেখতে যাবে, মেয়েকে রেখে
যাবে বিকেলেই ফিরে আসবে ৷
শুনেই চমকে ওঠে নাহিদ ৷ ভেতরটা ডুকরে
কেঁদে ওঠে ৷
মেয়েকে কাজের মেয়ের কাছে রেখে
ট্রেনে তুলে দিয়ে আসতে যায় প্রান্তিকে ৷
বুকের চাপা কষ্টটাকে বেঁধে রেখে সারা
রাস্তা বকবক করতে করতে যায় নাহিদ ৷
প্রান্তি একটাও কথা বলে নি ৷
ট্রেনের সময় হয়ে গেছে কিছুক্ষণ পরেই ট্রেন
ছাড়বে, চলে যাচ্ছে প্রান্তি ৷
.
পেছন থেকে হাতটা টেনে ধরে নাহিদ, চমকে
পেছনে তাকায় প্রান্তি, নাহিদের দিকে
চেয়ে আছে অবাক হয়ে, চোখের কোনে
একবিন্দু জল ৷
করুন চোখে তাকায় নাহিদ, অনেক কিছুই
বলার ছিলো, কিছুই বলতে পারে না, শুধু
ভালো থেকো, ভালভাবে যেও এটুকু বলেই
হাতটা ছেড়ে দেয় সে, ট্রেনে উঠে পড়ে
প্রান্তি ৷
.
--ট্রেন ছেড়ে দেয় ধিরে ধিরে চলতে শুরু করে
, ট্রেনের দরজায় দাড়িয়ে আছে প্রান্তি , দুর
থেকে নাহিদকে বলে, বিছানার নিচে একটা
চিঠি আছে তোমার ৷
পকেট থেকে হলুদ খামের চিঠিটা বের করে
নাহিদ ৷ চমকে যায় প্রান্তি , অবাক বিস্বয়ে
তাকিয়ে থাকে নাহিদের দিকে ৷
.
ধিরে ধিরে চলে যাচ্ছে ট্রেন ৷
চলে যাচ্ছে নাহিদের সুখে থাকার একমাত্র
অবলম্বন ৷ নাহিদের বার বার মনে হয় প্রান্তি
যেতে পারবে না ফিরে আসবে তার কাছে৷
ঝাপসা চোখে ট্রেনের চলে যাওয়া দেখছে
নাহিদ ৷ ট্রেন যাচ্ছে ঝম ঝম ঝম ঝম শব্দে ৷
.
--দুর থেকে কে যেনো ডাকছে বাবা বাবা
বলে , ঘুম থেকে উঠে দেখে তার মেয়ে মীরা
ডাকছে ৷
মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে বাবা ৷
না সেদিন আর ফেরেনি প্রান্তি ৷
আমেরিকা গিয়ে ডিভোর্স পেপার পাঠিয়ে
দিয়েছিলো ৷ ঐ ছেলেকে বিয়ে করেছে
ওখানে ৷
.
---বাবা তুমি এখনো ঘুমাচ্ছো? সকাল ১০ টা
বাজে , অফিসে যাবে না ?
.
-নারে মা , আজ আর যাবো না , শরীর টা
ভালো লাগছে না ৷
-কি হয়েছে জ্বর? দেখি দেখি, বাবার
কপালে হাত দেয় মীরা ৷
-কিছু হয় নি রে মা, এমনি যেতে ইচ্ছে করছে
না ৷
-ঠিক আছে নাস্তা দিচ্ছি খেয়ে নাও ৷
.
--নাহিদ সাহেব ভাবে সবে ১৪ বছর বয়স
মীরার ৷ এখনি পুরো সংসারের দায়িত্ব নিয়ে
নিয়েছে ৷ মীরা চলে যাচ্ছে পেছন থেকে
ডাকে বাবা ৷
-এদিকে একটু আয় তো মা, এখানে একটু বোস ৷
.
-কি হলো বাবা?
-বাবা বলে তুই এতটুকু মেয়ে এত কাজ করিস
কেনো ? তোর কষ্ট হয় না !
-বাবা আমি ছাড়া তোমার কে আছে বলো ,
কে করবে?
মা তো আমাদের ছেড়ে পালিয়ে বেঁচে
গেছে ৷ আমাকেই তো সব দেখতে হবে তাই
না ?
.
--বাবা ,,,মা খুব খারাপ, খুব সার্থপর তাই না?
আমাদের ছেড়ে চলে গেছে , বলে বাবাকে
জড়িয়ে ধরে ঝরঝর করে কেঁদে ফেলে মীরা ৷
বাবা তুমি আমাকে ছেড়ে যাবেনা তো?
তোমাকে খুব ভালবাসি বাবা ৷
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now