বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভালবাসার রুপ

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X মেয়েটির নাম অহনা। দেখতে শ্যামলা।তবুও অদ্ভূত এক মায়া আছে মেয়েটির মাঝে। দুই বোনের মধ্যে ও বড়।ওর ছোট বোনের নাম অরিন। অহনার বাবা একজন সরকারি চাকুরিজীবি আর মা হাউজওয়াইফ।একদম সুখী পরিবার। . এইচ এস সি পরিক্ষার পর অহনা বেশির ভাগ সময় ফেসবুকে সময় কাটাতো। একদিন অহনা"রাজকুমার অয়ন" নামের একটি আইডি থেকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পায়। অহনা কাছে আইডির নামটা অনেক ভাল লাগে।তাই একসেপ্ট করে। তারপর থেকে শুরু হয় ওদের আলাপচারীতা। . . অয়ন- হাই, আমার রিকুয়েস্ট একসেপ্ট করার জন্য ধন্যবাদ। অহনা-ওকে,ওয়েলকাম। অয়ন-অহনা তোমার নামটা অনেক সুন্দর।তুমি নিশ্চয়ই তোমার নামের মত সুন্দর। অহনা- না আমি সুন্দর না।আপনার ধারনা ভুল। অয়ন-ওকে তুমি একটা পেত্নি। অহনা-হুম। অয়ন-তোমার নামের সাথে আমার নামের অনেক মিল আছে।অহনা & অয়ন খুব সুন্দর মিল তাইনা। অহনা- হুম। অয়ন-শুধু হুম!! আর কিছু বলবানা? অহনা-আপনি ভালো আছেন? অয়ন-আগে ভালো ছিলাম না কিন্তু এখন খুব ভালো আছি তোমার সাথে পরিচিত হয়ে। অহনা- হা হা হা। অয়ন- বাহ তোমার হাসিটা অনেক সুন্দর।আচ্ছা তুমি কিসে পড়? অহনা- এবার এইচ এস সি পরীক্ষা দিলাম।এখন রেজাল্টের অপেক্ষায় আছি।আপনি? অয়ন- আমি বি বি এ করছি সেকেন্ড ইয়ার। অহনা-গুড। . . এভাবে প্রতিদিন দুজনের কথা হতো।খুব ভাল ফ্রেন্ড হয়ে গেল দুজন। এরপর একদিন অয়ন অহনার কাছে মোবাইল নাম্বার চাইলো। অহনা অয়নকে খুব ভালো জানতো তাই নাম্বার দিয়ে দিলো। তারপর থেকে তাদের প্রতিদিন ফোনে কথা হতো। এভাবে দুজন দুজনকে ভালোবেসে ফেলে। তাই অয়ন একদিন অহনাকে বললো" আই লাভ ইউ অহনা"। অহনা কিছুক্ষন চুপ থাকার পর বলে তুমি আমাকে না দেখেই ভালোবেসে ফেললে? অয়ন-তুমি দেখতে যেমনি হও আমি তোমাকেই চাই। আমি তোমায় অনেক ভালোবাসি প্লিজ আমায় ছেড়ে যেওনা। একথা শুনার পর অহনার মনে অনেক মায়া হলো তখন অহনাও বলে দিলো"আই লাভ ইউ টু অয়ন"। . . এভাবেই কাটতে থাকে দিন।এবার তারা দেখা করবে। যথারীতি অহনা দেখা করতে চলে আসলো। অয়ন ও আসলো কিন্তু অহনাকে দেখে অয়নের পছন্দ হলোনা। সে আসেপাশের সুন্দরি মেয়েদের দিকে তাকিয়ে রইল। অহনার দিকে তার কোন মনোযোগ নেই।অহনা বুজতে পারলো অয়নের তাকে পছন্দ হয়নি। অয়ন অহনার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেল।বাড়িতে এসে অহনা অয়নকে ফোন দিল। . . - হ্যালো... অয়ন তুমি এভাবে চলে আসলে কেন?আমাকে তোমার পছন্দ হয়নি? অয়ন- আমি তোমাকে এত কথা বলতে পারবো না। শুধু বলব আমি তোমাকে অনেক সুন্দরি মনে করতাম ঠিক তোমার কন্ঠের মত কিন্তু তুমিতো শ্যামলা। অহনা- আমিতো প্রথমেই বলছি না দেখে আমাদের রিলেশনে জড়ানো ঠিক না। তুমি বুঝতে চাওনি। এখন কেন আমাকে ছেড়ে চলে যাবে।আমি তোমাকে ছাড়া কিভাবে থাকবো? অয়ন- তুমি কিভাবে থাকবা আমি জানিনা কিন্তু আমায় আর ডিস্টাব করবা না ওকে। অহনা- তুমি এভাবে বলোনা অয়ন।আমি তোমায় অনেক ভালোবাসি। তোমাকে ছাড়া আমার সারা দুনিয়া অন্ধকার।আমিতো একদম কালো নই। অয়ন- কালো বা শ্যামলা এইসব আমি এবং আমার ফ্যামিলি লাইক করেনা। আমি সুন্দরি মেয়ে চাই ওকে। অহনা- ওকে। . . কান্নার জন্য আর কিছুই বলতে পারেনা অহনা।এইদিকে অহনার বাবা ব্রেইন স্ট্রোক করে মারা যায়। অহনাদের ফ্যামিলিতে অভাব দেখা দেয়।অহনার বাবা কিছু টাকা দুই মেয়ের বিয়ের জন্য ব্যাংকে রেখে গেছেন। সেই টাকা দিয়ে এখন সংসার চালানো হয়। অহনার মা অহনার বিয়ে নিয়ে অনেক চিন্তিত। একেতো মেয়েটা শ্যামলা তারপর আবার বাবা নেই। তাই অহনার মা ঘটকের সাথে কথা বললেন। তারপর ঘটক ছেলে ও ছেলে বাবা মা কে নিয়ে অহনাদের বাড়িতে আসল। এইদিকে পর পর দুইটা শোকে অহনা একদম শুকিয়ে গেছে মুখে কোন হাসি নেই। অহনাকে ছেলে পক্ষের সামে নিয়ে যাওয়া হল।ছেলেটির নাম জাহিদ। প্রথম দেখাতেই জাহিদের কাছে অহনা অনেক ভালো লাগলো এবং খুব নিষ্পাপ মনে হলো। জাহিদ তার পছন্দের কথা তার বাবা মা কে জানালো। তারা অহনাকে আন্টি পড়িয়ে বিয়ের দিন ঠিক করে গেলো। . আজ অহনার বিয়ে।ভাল বর এবং ভাল ঘর দুটোই পেয়েছে অহনা। বাসর ঘরে অহনা বসে কান্না করছে।এমন সময় জাহিদ ঘরে প্রবেশ করল। জাহিদের দিকে অহনার কোন খেয়াল নেই সে এক মনে কান্না করেই যাচ্ছে। জাহিদ অহনার কাছে গিয়ে চোখের পানি মুছে দিল।আর এক পলকে অহনার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। আর বলল এত মায়াময় মুখ তোমার দেখলেই প্রেমে পড়ে যাই।অহনা অবাক হয়ে জাহিদের দিকে তাকিয়ে আছে। জাহিদ আবারও বলল জানো আমি অনেক মেয়ে দেখেছি শুধু তোমাকেই ভাল লেগেছে। তখনি অহনা বলল- আমিতো শ্যামলা আমাকে কিভাবে পছন্দ হলো। জাহিদ- হা হা হা... আমার পাগলিটা কি বলে শ্যামলার কারনেইতো তোমায় এত ভাল লাগে। আর তুমিতো আমার শ্যামলা পরী।আই লাভ ইউ শ্যামলা পরী। . . তখন অহনার চোখে আনন্দে পানি চলে আসল।জাহিদ তখন অহনাকে তার বুকে আগলে রাখল। আর অহনাও জাহিদের বুকে মাথা রেখে আর ভাবতে লাগল আমি এতদিন মিথ্যা ভালোবাসার জন্য কান্না করছি আর এখন আমি আসল ভালোবাসার মানুষ পেয়েছি যে আমাকে ভালোবাসে। আল্লাহর কাছে অনেক শুকরিয়া আদায় করে অহনা।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভালবাসার রুপ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now