বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
♥️♥️♥️♥️♥️
গ্রামের একটি গরীব ছেলে। অতিশয় ভাল বলা চলে। বাবা মারা গিয়েছিল তার জন্মের আগে। মাও চলে গেল যখন সে কলেজ ভর্তি হয়। কলেজ জীবন শেষ। বিটা বাড়ি রেখে শহরে আসে।
♥️♥️♥️♥️♥️
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। প্রচন্ড অভাব।কারো কাছে হাত পাতে না সে। অন্য রকম ব্যক্তিত্ব। বিশ্ববিদ্যালয় পড়াকালীন একটি মেয়েকে ভালবাসে সে। মেয়েটি ছেলেটিকেও। তবে মেয়েটির চাহিদা বেশি ছিল। যা ছেলেটি খুব কষ্টে মেয়েটির চাহিদা পূরণ করত।
♥♥♥♥♥
একদিন মেয়েটি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে দুটি চোখই অন্ধ হয়ে যায়। ছেলেটি মেনে নিতে পারি নি। তাই তার দুটি চোখই তাকে দান করে অন্ধ হয়ে যায়। মেয়েটি কিছুই জানত না। একদিন সে ছেলেটি দেখে অবাক হয়ে। কয়েকদিন পর তাদের বিয়ে। মেয়েটি বিয়েতে অমত করে বসল।
- আমি তোমাকে বিয়ে করতে পারব না, আবির।
- কেন? হঠাৎ এমন করছো কেন?
- তুমি অন্ধ হলে কিভাবে?
- সে অনেক কথা! তুমি বিয়ে অমত করলে কেন, আনিকা?
- বিয়ে তো ছেলেখেলা নয়! আর তুমি অন্ধ! মানে প্রতিবন্ধী! আমি কোন প্রতিবন্ধী বিয়ে করতে পারব না। আমার জীবনটা আমি ভালভাবে গড়তে চাই। আমাকে ভুলে যাও।
যে দুটি চোখ দিয়ে অন্ধ হয়ে গেল তাকে প্রতিবন্ধী বলে অবহেলা করা হয়। এটাই কি ভালবাসার প্রতিদান? নিরবে কেঁদে যায় আবিরের মনটা। প্রচন্ড ভালবাসে আনিকাকে। কিন্তু আনিকা উচ্চ বিলাসিতার আশায় আবিরকে ভুলে যায়। আনিকা প্রেম করে এক বড় লোকে ছেলের সাথে। কয়েক মাস না যেতেই আনিকার গর্ভে আসে পাপের ফসল। কিন্তু বড়লোকের ছেলে তাকে প্রত্যাখান করে।
আনিকা আত্মহত্যা করতে যায়। আবির তাকে কোন রকমে আত্মহত্যার পথে থেকে সরিয়ে আনে। আনিকা অবস্থা আরো গুরুতর হয়। কারণ সঙ্গদোষে।অতিরিক্ত মদ্যপানে আনিকার একটি কিডনিও নষ্ট হয়ে যায়। আর সে ছিল নয়।মাসের প্রেগন্যান্ট। এ অবস্থায় মা ও শিশুকে বাঁচানো কষ্টকর হবে। তাই আবির তার একটি কিডনি আনিকাকে দিয়ে দেয়। আবির ভেবেছিল আনিকার সন্তানের বাবার পরিচয়ে সে বেঁচে থাকবে।
♥♥♥♥♥
কিন্তু আবিরের ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল ছিল। আনিকা তার সন্তানকে নিয়ে যায় বড়লোকের ছেলের কাছে। তবুও আবার প্রত্যাখান হয়। আদালতে কেস করা হয়। কিন্তু বড়লোকের ছেলের কিছু হয় না। বরং প্রস্টিটিউশনের অপবাদে আনিকাই ফেঁসে যায়। মামলা মুকদ্দমায় সমস্ত সম্পত্তি খোয়াতে হয় আনিকার বাবার। অবশেষে মেয়ে গিয়ে একটা চড় কষিয়ে বলে,
- তোর ভুলের কারণে একটা নয়। দুটো জীবন নষ্ট হয়ে গেলে।
- আমাকে মাফ করে দাও বাবা।
- আমি না হয় মাফ করে দিলাম। আবির তোকে মাফ করবে না।
- কেন বাবা? আমার জন্য আবিরের কি হলো?
- শুনতে চাস কি হয়েছে? শুন তাহলে।
" এই দুটি চোখে কতই না বড়াই করছিস, জানিস এ চোখ দুটি কার? আবিরের। আবির আমাকে না করেছিল জানাতে। আর তুই না তোর সন্তান বাঁচত! তোর তো একটা কিডনিও নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। আল্লাহর রহমতে আবির একটি কিডনি না দিলে মা ও সন্তান বাঁচত না। আর কাকে তুই প্রতিবন্ধী বলছিস? যে দুটি চোখ দিয়ে অন্ধ হয়ে গেল তাকে!!একটি কিডনি দিয়ে মৃত্যু যন্ত্রণা ভুগছে তাকে!! তুই যে আমার মেয়ে এটা ভাবতে আমার কষ্ট হচ্ছে। "
- আবির কোথায় বাবা?
- ও তো গ্রামে চলে গেছে, মা, আনিকা।
- চলো, বাবা! আমাকে আবিরের কাছে নিয়ে চলো।
♥♥♥♥♥
আবির শহর থেকে গ্রামে চলে এসেছে। অন্ধ অবস্থা গ্রামেই পড়ে থাকে। যাহোক, তার অর্ধেক সম্পত্তি আনিকার বাবার নামে লিখে দেয়। কারণ আনিকার ভুলে খেসারত তার বাবা কেন দিবে?
- কেএএএএ?
- আমিইইই?
- আনিকা তুমি?
- হ্যা, আমি ভুল করেছি। আমাকে ক্ষমা করে দিও। আমার সন্তানের বাবা হবে কি?
- আমি তো তাই চেয়েছিলাম।
- তুমি এত কিছু করেছো আমার জন্য।আর আমি তোমাকে কষ্ট দিয়েছি। তুমি তো আমাকে জানাতে পারতে। তাহলে আমি এত বড় ভুল করতাম না।
- আমি তোমাকে এখনো ভালবাসি, আনিকা।
♥♥♥♥♥
আবিরের ভালবাসা ছিল অকৃত্রিম। এর ভালবাসার প্রতিদানের জোরেই সে আনিকােক পেয়েছে। আনিকা কি আবিরের ভালবাসা প্রতিদান দিবে কি? হ্যা দিয়েছিল। আবিরের দেওয়া একটি চোখ ফিরত দেয় আনিকা। যেন দুজনেই দুজনকে দেখতে পারে। এটাই ছিল ভালবাসার প্রতিদান।
যে প্রতিদানের কোন আকুতি নেই, চাওয়া নেই, শুধু আছে বুক ভরা ভালবাসা। আমি তো সেই ভালবাসা আজো খোঁজে বেড়াচ্ছি যে ভালবাসার প্রতিদান এমনই হবে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now