বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ব্রেকআপ অতঃপর বিয়ে
আকাশ:দেখো নীলা এই সম্পর্ক টা টিকিয়ে রাখা এখন আমার পক্ষে সম্ভবনা।
নীলা :মানে তুমি কি বলতে চাচ্ছ?
:আমি ব্রেকআপ চাচ্ছি
:কিন্ত কেন?
:তোমাকে আর ভাল লাগেনা, তোমার মাঝে নিজেকে অনেক খুঁজেছি কিন্ত পেয়েছি শুধু শূন্যতা, তাছাড়া তুমিও আর আমাকে আগের মত ভালবাসনা হয়তো তোমার জীবনে অন্য কেউ এসেছে,তাই ব্রেকআপটা হলেই ভালই হয়
:ঠিক আছে। কথাটা বলেই অঝোর নয়নে কাঁদতে কাঁদতে পার্ক থেকে বের হয়ে অতীতের কথাগুলো ভাবতে ভাবতে পথ চলতে থাকে নীলা।
.......
সময় ২০১৫। মা বাবার অতি আদরের দুলালী ভাইবোনের সবচেয়ে ছোট নীলা তখন সবেবর্ষে ইন্টার ১ম বর্ষে চিলমারী মহিলা কলেজে ভর্তি হয়েছে। নীলা ছিল খুবই শান্ত প্রকৃতির মেয়ে, তার কাজ ছিল কলেজে যাওয়া আর ক্লাস করে বাড়ি ফেরা,প্রযোজন ছাড়া কারো সাথে কথা বলতো না একাকী থাকতে ভালোবাসত। অন্যসব বান্ধবীরা যখন ক্লাস শেষে মজায় মেতে উড়তো নীলা তখন বইয়ের মাঝে নিজেকে ডুবিয়ে রাখতো। আর আকাশ সবেমাত্র গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করে চাকরির জন্য ছোটাছোটি করছে। নীলার কলেজে যাবয়র পথটা ছিল আকাশের বাড়ির পাশ দিয়ে।
আর তখনি কলেজে আসা যাওয়ার পথে আকাশ আর নীলার দেখা হয়। নীলা মেয়েটা দেখতে আহামরি ফর্সা না হলেও মেয়েটার চোখ দুটিতে আছে মায়া,তার আচরণ কথা সব যেন ছোট বাচ্চাদের মত তাইতো আকাশ এই মেয়েটার প্রেমে পড়ে যায়। বেশ কিছুদিন মেয়েটাকে ফলো করে দেখার পর একদিন আকাশ তাকে প্রপোজ করে আর নীলা আকাশকে না করে দেয়। তার পরো আকাশ হাল ছাড়েনি এবং শেষ পর্যন্ত নীলা রাজি না হয়ে পারেনি। কথা গুলো ভাবতেই নীলার মনটা আরো ডুকরে কেদে উঠলো। কারণ যে আকাশ তাকে একদিন না দেখে থাকতে পারতো না,তার জন্য সারাদিন রাস্তার মধ্যে দাড়িয়ে অপেক্ষা করতো সেই আকাশ কিভাবে ব্রেকআপ করলো। কোন হিসাবই মেলাতে পারলো না নীলা।
নীলা বাসায় এসে শুয়ে আকাশের কথা গুলো একাকী ভাবতেই,আর তখনি ওর মা এসে বলতেছে নীলা মা তুই তোর বন্ধু বান্ধবীদের কাকে কাকে ডাকা লাগে ডেকে নে আগামী ২১ ডিসেম্বর তর বাবার বন্ধুর ছেলের সাথে তোর বিয়ে, আর শোন তর পছন্দ থাকলে বলতে পারিস,তোর বাবা জানতে চেয়েছে। নীলা মায়ের কথার উওরে কিছুই না বলে ভাবতে থাকে আকাশ যদি ব্রেক না করতো তবে ওর কথা বাবাকে বলে বিয়েটা ভেংগে দিতে পারতো,আকাশ নামটা যে তার মনের মধ্যে লিখিত হয়ে গেছে,ওকে ছাড়া অন্য কাউকে জীবন সাথী হিসাবে কল্পনা করতেও পারে না। পরক্ষণে এটাও ভাবতে থাকে আকাশ যদি আমাকে ছেড়ে থাকতে পারে তবে আমি কেন ওর কতা ভেবে নিজেকে কষ্ট দেব। তাই সে মাকে বলে সে আব্বু যা করবে আমি সেটাই মেনে নেব।
অবশেষে কাংখিত ২১ ডিসেম্বর চলে আসে,নীলাকে তার বান্ধবীরা লাল বেনারশী শাড়ি পরিয়ে দিয়ে খুব সন্দর করে সাজিয়ে রেখেছে,এর মধ্যে একবারও আকাশ ফোন করে নীলার খোজ নেয়নি।
বিয়ের সকল কার্য শেষে গাড়িতে উঠে খেয়াল করে দেখে তার পাশে বরের সাজে থাকা ছেলেটি আর কেউ না আকাশ!আকাশকে দেখে নীলার প্রচুর রাগ উঠে তাকে এতটা কষ্ট দেবার জন্য।
নীলা একাকী বসে আছে একটা সাজানো খাটে,আজ তাদের বাসর রাত। এরপর আকাশ রুমে প্রবেশ করে দরজা লাগিয়ে নীলার দিকে এগিয়ে যেতে থাকে তখনি নীলা বলে আপনি আমাকে বিয়ে করলেন কেন?
আকাশ:ভালবাসি বলে। (নীলাকে জরিয়ে ধরে)
(এক ঝটকায় নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে নীলা বলতে থাকে)কিন্ত আমি আপনাকে ভালোবাসি না,আমি অন্য আরেকজন কে ভালবাসি।
তাছাড়া আপনি নিজেও তো বলেছেন যে আমার মাঝে শূন্যতা ছাড়া কিছুই নেই,আমাকে ভাল লাগে না।
:আমি তো তোমাকে সারপ্রাইজ দেব বলে মজা করে বলেছি।
:কিন্ত আমি মজা করে বলছি না,আমি আমার ক্লাস ফ্রেন্ড সাদমানকে ভালবাসি। ওর সাথে আমার কথা হয়েছে আমার আগামীকাল অন্যএ চলে যাব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আর আপনি বেড়িয়ে যান,আমাকে স্পর্শ করবেন না।
এ কথ শুনে আকাশ আর কিছু না বলে বাইরের বারান্দায় গিয়ে দাঁড়িয়ে আকাশের তারা গুলোর দিকে তাকিয়ে থাকে, নীল আাকাশটা মেঘ ঢেকে গেছে যেকোন সময় বৃষ্টির সময় বাসর রাতটা নাকি অনেক মধুর হয় কিন্ত তার বেলা সেটা পাল্টে গেল ভাবতেই বিন্দু বিন্দু জল তার গাল বেয়ে গড়িয়ে মাটিতে পড়তে লাগল। সেই সাথে ঐ নীল আাকাশ থেকেও বৃষ্টির বারি ধারা বইতে লাগল। বারান্দায় দাঁড়িয়ে আকাশ বৃষ্টির পানি গুলোকে নাড়াচারা করতেছে।
এদিকে নীলা একাকী খাটে বসে ভাবতেছে একি করলাম আমি আকাশ তো আমাকে ভালবেসে সারপ্রাইজ দিবে বলে এমনটা অভিনয় করেছিল আর আমি কিসের জন্য ওকে ভালবেসে কাছে পাবার পরো দূরে তাড়িয়ে দিলাম।
দেখি পাগলটা এখন কি করছে......
আকাশ একাকী বসে বৃষ্টি দেখতেছে এমন সময় কাঁদে কারো হাতের স্পর্শ পিছনে ফিরে দেখে নীলা দাড়িয়ে আছে। কিন্ত বলতে যাবে তার আগে নীলা বলতে থাকে চলো ভিতরে চলো আমাকে একা রেখে এখানে বৃষ্টি বিলাশ হচ্ছে তাই না।
:তাছাড়া কি করবো,আর তুমি একা মানে তোমার মনে তো ক্লাস ফ্রেন্ড সাদমান আছে।
:সাদমান কে?সাদমান নামে আমি তো কাউকে চিনি না। আমার মনে তো শুধু ১ জন আছে আর সে তো আমার সামনেই আছে।
:কেউ নেই তবে আমাকে বের করে দিলে কেন?জানো আমি সাদমান নামটা শুনে কতটা কষ্ট পাইছি।
:সেই দিন তোমার কাছে ব্রেকআপ কথাটা শুনে আমিও অনেক কষ্ট পাইছি। জানো এই কয়েকটা দিন বেঁচে থেকেও মনে হয়েছিল আমি যেন মৃত লাশ। তাই তার থেকে কিছুটা তোমাকে উপহার দিলাম মাএ।
:তাই তো দেখতে পাচ্ছি আমার পাগলি বউটাকে এত হালকা মনে হচ্ছে কেন?(কোলে তুলে নিয়ে)
:কি আমি মোটা ছিলাম বলেই আকাশের বুকে কয়েকটা কিল ঘুসি মারতে থাকে। আর আকাশ নীলাকে বুকের মাঝে শক্ত করে ধরে রুমের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে।
এরপর বৃষ্টি আর দমকা বাতাসে বৈদ্যুতিক সংযোগ বিছিন্ন হওয়ায় এই ঘোর অন্ধকারে আমি আর কিছুই দেখতে পারিনি।
উৎসর্গঃ সেই বান্ধবীটি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now