বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ভালবাসার জগতে
..
..
- এই আপনার নাম কি? (অহনা)
- আমার নাম জেমস বন্ড। (আমি)
মেয়েটা ভ্রু কুঁচকে আমার দিকে তাকালো। মেয়েটার এই চাহনিটা আমার কাছে বেশ লাগলো।
- জানো তোমার চোখদুটো কিন্তু অনেক সুন্দর। (আমি)
এবার মেয়েটা আমার দিকে রাগী দৃষ্টিতে তাকালো। তার এই চাহনিটাও আমার কাছে খুবই অসাধারন লাগলো।
- কি ব্যাপার এভাবে তাকাচ্ছো কেন? (আমি)
- আপনি একটা পাগল। আশা করি আর কখনই আমার পিছু নেবেন না। যদি পিছু নেন তাহলে খবর আছে। (অহনা)
অহনা চলে গেছে। তবে যাওয়ার আগে আমার দিকে তাকিয়েছিল একবার। তার চোখের ভাষা আমি পড়ে ফেলেছি। তার চোখ আমাকে বলছিল ' কাল যদি না আসেন তাহলে খবর আছে।'
..
আজ প্রায় একবছর হয়ে গেছে আমি অহনার প্রেমে পড়েছি। প্রতিদিন ওর পিছু পিছু যাওয়া এবং ওর পিছু পিছু ফিরে আসাটা প্রতিদিনের নিয়মে পরিনত হয়েছে।
প্রথম প্রথম অহনা আমাকে ধমক দিত, অনেক কড়া কড়া কথা বলতো। কিন্তু আমি অহনার পিছু ছাড়িনি কখনো। কারন অহনাকে ভালবেসেছি ছেড়ে দেওয়ার জন্য নয়।
আগে অহনা আমাকে দেখলে কথা বলতো না। কিন্তু ইদানিং মাঝে মাঝে আমার সাথে কথা বলে। যেমন কিছুক্ষন আগেই সে আমার সাথে কথা বললো। তবে তার কথায় একটা বাড়তি টান আমি টের পাই। তবে এখন পর্যন্ত ভালবাসি কথাটা বলার সাহস মনে সঞ্চয় করতে পারিনি।
তাই শুধু পিছু নিয়েই সন্তুষ্ট থেকেছি।
..
আজ সকালে মনে মনে একটা প্রতিজ্ঞা করেছি। অহনাকে আজ আমার মনের কথা খুলে বলবই। হয় এসপার নয় ওসপার। বিকাল সাড়ে তিনটায় অহনা কোচিং এ যায়। পড়তে নয়, পড়াতে যায়।
সেই অনুযায়ি আজও আমি দাঁড়িয়ে আছি অহনার অপেক্ষায়। কিছুক্ষনের মধ্যেই অহনাকে দেখতে পেলাম। আজ হালকা গোলাপি রংয়ের পোশাক পরেছে সে। গোলাপি আমার সবচেয়ে অপছন্দের রং। কিন্তু প্রিয়জনের গায়ে যেহেতু লেগে আছে এই রং সেহেতু এটাও এখন আমার প্রিয় রং।
অহনা আমাকে আড়চোখে দেখলো। তারপর দ্রুতগতিতে আমার সামনে দিয়ে চলে গেল।
আমিও তার অনুসরন করলাম। হাঁটছি শুধুই হাঁটছি তার পিছু পিছু। মাঝে মাঝে অহনা পিছন ফিরে তাকাচ্ছে। আমায় দেখে আবার চোখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
কোচিংয়ের কাছাকাছি চলে এসেছি। এমন সময় অহনা ঘুরে দাঁড়ালো। তার রাগী চোখদুটো আমাকে আবারো মুগ্ধ করলো। প্রতিনিয়তই আমি অহনাকে দেখে অবাক হচ্ছি।
- এই আপনার সমস্যা কি?
অহনার তরফ থেকে এলো প্রশ্নটা। আজকে একটু বেশিই অন্যরকম লাগছে অহনাকে। আগে তার এমন রুপ দেখিনি। আজ অহনা চোখে কাজল দিয়েছে। তাই হয়তো তাকে অন্যরকম লাগছে।
- এই যে কি হয়েছে হুম? হা করে তাকিয়ে আছেন কেন?
নিজেকে ভালমত প্রস্তুত করলাম। আজ মনের কথা বলতেই হবে।
- কি ব্যাপার কথার উত্তর দিচ্ছেন না কেন? (অহনা)
- কি উত্তর দিব? (আমি)
- আপনার সমস্য কি?
- সমস্যা তো অনেকগুলো। কোনটা আগে বলবো?
- যেটা আপনার মন চায় সেটাই বলুন।
- প্রথম সমস্যাটা তোমার চোখ। তোমার ওই চোখের চাহনিতে মনে অসম্ভব ঝাঁকুনির সৃষ্টি হয়। যার ফলে আমি সম্মোহিত হয়ে যাই।
- দ্বিতীয় সমস্যাটা কি?
- দ্বিতীয় সমস্যাটা হচ্ছে আমার বেপরোয়া মন। এই মনকে যতই বারন করি এই মন তত বেশিই তোমার পিছু ছুটে যায়। মাঝে মাঝে মনে হয় এই মনটা আমার নয়। মনটা তোমারই, হয়তো ভুলে আমার কাছে চলে এসেছে।
- আর কি কি সমস্যা আছে?
- শুধু সমস্যার কথাই শুনবে? আমি তো এই সমস্যাগুলোর সমাধান পেতে চাই।
- সমাধান কিভাবে পাবেন?
- সমাধান আছে তোমার কাছেই। তোমাকে পেলেই আমার এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে চিরদিনের জন্য।
- কি বলতে চান সরাসরি বলুন। (সামান্য রাগী কন্ঠে)
- ভালবাসি।
- কি?
- অনেক ভালবাসি তোমায়।
- পাগল নাকি?
- হুম পাগল। তোমার প্রেমে পাগল।
- যান রাস্তা মাপেন।
- তোমার জন্য শুধু রাস্তা কেন? মাঠ-ঘাট, পাহাড় পর্বত সব মেপে ফেলবো। শুধু বলো ভালবাসি।
- ( হাত ঘড়ির দিকে তাকিয়ে) আপনার এইসব কথা শোনার সময় নেই।
..
অহনা কোচিংয়ের গেটের ভিতর চলে গেল। আমি দাঁড়িয়ে আছি। মনে দানা বেধেঁছে চরম হতাশা। তবে কি তাকে পাবো না?
আজ আর অহনার পিছু পিছু বাড়ি ফিরবো না। তাই আমি ফিরে আসছি।
- এই যে মি. জেমস বন্ড, দাঁড়ান।
নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারছি না। অহনা কি আমাকে ডাকছে? নাকি সবটাই আমার অবচেতন মনের কল্পনা?
অবিশ্বাস আর ভাললাগার দোলাচলে দুলতে দুলতে আমি পেছন ফিরে তাকালাম।
অহনা কোচিংয়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। আমি পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়ালাম। অহনা দ্রুতগতিতে হেঁটে আমার সামনে এসে দাঁড়ালো।
নিজের চোখ, কান কোনকিছুকেই বিশ্বাস করতে পারছি না মোটেও। সবটাই কি স্বপ্ন?
- মি. জেমস বন্ড আজ আর কোচিংয়ে ক্লাস করাবো না। আমাকে আজ রিকশায় করে বাসায় পৌছে দিবেন। এতদিন তো পিছু পিছু এসেছেন, আজ নাহয়........।
..
রিকশায় আমি আর অহনা পাশাপাশি বসে আছি। আমার কাছে মনে হচ্ছে পৃথীবি দ্রুতগতিতে চলতে শুরু করেছে। শুধু আমি আর অহনাই অতি আস্তে আস্তে সামনে এগুচ্ছি।
- আচ্ছা মি. জেমস বন্ড আপনার আসল নামটা কি?
..
আমি অহনাকে কিছুই বললাম না। শুধু তার চোখের দিকে তাকিয়ে হারিয়ে গেলাম ভালবাসার জগতে।
..
লেখকঃ আরমান হোসেন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now