বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
.
লামিয়ার হঠাৎ করেই মন খারাপ হয়ে গেল । এইমাত্র লামিয়ারর সামনে দিয়েই আর-রহমান ও তার স্ত্রী তানিয়াকে নিয়ে হাসাহাসি করতে করতে রিক্সা করে চলে গেল । তা দেখে লামিয়ার মেজাজটাই বিগড়ে গেল । আর বিগড়ানোরই তো কথা । এই আর-রহমান যাকে কি না লামিয়া তার জীবনের চেয়ে বেশি ভালোবাসতো । আর-রহমানও লামিয়াকে খুব ভালোবাসতো কিন্তু একটা দূর্ঘটনা তাদেরকে জীবন থেকে আলাদা করে দিলো ।
.
সেদিন ছিল কুয়াশা আচ্ছন্ন এক সকাল । লামিয়ার বাবা বাজার করে বাজার হতে ফিরছিলেন । কুয়াশার মধ্যে রাস্তা পার হতে গিয়ে লামিয়ার বাবা এক প্রাইভেট কারের সাথে একসিডেন্ট করে মারা যান । ফলে লামিয়ার মা ও তার ছোট বোনের দায়িত্ব লামিয়ার উপরই বর্তালো । এই জন্যে যে লামিয়া পরিবারের বড় সন্তান । এতে অবশ্যই লামিয়ার কোনো অসুবিধা হচ্ছিল না কেননা তখন লামিয়া একটা ছোট খাটো চাকরি করত । সেই অফিসেরই তার কলিক আর-রহমানের সাথেই লামিয়ার প্রেম ছিল । আর-রহমানের পরিবার আর-রহমানকে বিয়ের বিষয়ে চাপ দিচ্ছিল । আর এই দিকে আর-রহমান লামিয়াকে বিয়ের চাপ দিতে লাগল । লামিয়াও আর-রহমানকে বিয়ে করতে রাজি ছিল কিন্ত তাদের বিয়ের মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়াল লামিয়ার পরিবার । আর-রহমান কোনোভাবেই লামিয়ার পরিবারের দায়িত্ব নিতে রাজি হল না কেননা আর-রহমানেরও পরিবারে অসুস্থ বাবা ,মা ও ছোট দুইটা ভাই আছে । তাই আর-রহমানেই বা কি করে লামিয়ার পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারে । লামিয়ার পরিবাররের দায়িত্ব না নেওয়াই লামিয়া আর-রহমানকে বিয়ে করতে রাজি হল না । তখনই আর-রহমান তার পরিবারের পছন্দের মেয়ে তানিয়াকে বিয়ে করে , তানিয়াদের কোস্পানিতে এমডি পদে চাকরি করছে । এই জন্য অবশ্য লামিয়ার কোনো অভিযোগ নেই আর-রহমানের উপর । কারন আর-রহমানের পক্ষে দুইটা পরিবারের দায়িত্ব নেওয়া সত্যি অসম্ভব ছিল । আজ লামিয়া সেই অফিসেই পোমোশন পেয়ে সিনিয়র অফিসার হয়েছে ।
.
এই সব ভাবতে ভাবতে লামিয়া বাড়ির কাছে চলে এসেছে বুঝতেই পারে নি । রিক্সাওয়ালার কথায় লামিয়ার ঘোর কাটতেই রিক্সার ভাড়া দিয়ে লামিয়া ভেতরে গিয়ে দেখে অনন্ত ড্রয়িং রুমে বসে টিভি দেখছে । অনন্ত লামিয়ার স্বামী । আর-রহমান যেদিন লামিয়ার পরিবারের দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করে চরে গিয়েছিল । সেই সময়ই লামিয়ার হাত ধরেছিল তারই বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই অনন্ত । সেদিন অনন্ত লামিয়াকে বিয়ের প্রোপোজাল দিয়েছিল । কিন্তু লামিয়া না করে । কারণ লামিয়া কারো করুণা নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই নি । অনন্ত অবশ্য তা শুনে পিছ পা হয়নি বরং লামিয়ার মাকে রাজি করে ছিল । তাই লামিয়ার মত না থাকা সত্বেও অনন্তকে সেদিন লামিয়া বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছিল । লামিয়া বাসর রাতেই অনন্তকে নিষেধ করছিল লামিয়ার কোনো বিষয়ে নাক না গলাতে । আর বলেছিল অনন্ত কোনো ভাবেই যেন লামিয়া স্পর্শ না করে । অনন্ত লামিয়ার সব শর্তই মেনে নিয়েছিল ।
.
অনন্ত লামিয়াকে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার দিন হতে ভালোবাসে । কিন্তু সুযোগের অভাবে কোনো দিন্ই বলতে পারে নি । তাই একবার সুযোগ পেতেই অনন্ত আজীবনের জন্যে লামিয়াকে নিজের করে নিয়েছে । অনন্ত খুব ভালো করেই জানে লামিয়া ও আর-রহমানের ভালোবাসার কথা । তবুও অনন্তের তাতে বিন্দুমাত্র ভালোবাসা কমে নি । তবে অনন্তে খুব কষ্ট হতো লামিয়ার জন্য লামিয়া যখন বৃষ্টিতে দাড়িয়ে আর-রহমানের কথা ভেবে কান্না করত । লামিয়ার চোখের জ্বল ও বৃষ্টির পানি আলাদা করা না গেলেও অনন্ত ঠিকই বুঝতে যে লামিয়া কান্না করছে । তখন অনন্তের খুব ইচ্ছা করত লামিয়ার চোখের জ্বল মুছে দিয়ে বলতে , লামিয়া কান্না করো না , আমি তো আছি । কিন্তু না অনন্ত কখনই তা বলতে পারে নি । তারপর লামিয়া যখন সকালে গোসল করে আসতো তখন লামিয়ার গায়ের বিন্দু বিন্দু জ্বল লামিয়াকে আরও মায়াবী করে তুলতো । যা দেকে অনন্তের খুব ইচ্ছা করতো লামিয়াকে প্রাণভরে দেখতে কিন্তু তাও অনন্ত বলতে পারে নি । লামিয়া যখন গভীর রাতে আর-রহমানের জন্য কান্না করত তখনও অনন্ত বলতে পারত না যে লামিয়া আর কান্না করো না আমি তোমাকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমার আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে রাখব ।
.
অনন্ত রোজ একবার করে লাঞ্চের সময় লামিয়াকে ফোন করত । কিন্তু লামিয়া ভালোভাবে কথা বলতো না । লামিয়া অনন্তের সব কাজই করুণা মনে করত । এতমধ্যে লামিয়া একদিন অফিস হতে ফেরার সময় একসিডেন্ট করে পা ভেঙ্গে ফেলে । ফলে লামিয়া রান্না করতে পারে নি চল্লিশ দিন । এই কয় দিন অনন্ত নিজে লামিয়ার জন্য রান্না করত । লামিয়ার সকল কাজ করত । লামিয়ার মা বোনের খোজও রাখতো । রাতে যখন লামিয়া ব্যাথার যন্ত্রণায় ছটফট করত । অনন্ত তখন নিজ হাতে ব্যাথার ইনজেকশন করে , নিজ হাত খাইয়ে দিত । তারপর রাতে ঘুমানোর আগে লামিয়ার মাথায় হাত বুলিয়ে দিত । এ সব কাজের জন্য লামিয়াও কখন যে অনন্তের প্রেমে পড়ে যায় তা সে নিজেই জানে না । হয়ত অনন্তের ভালোবাসার দায়িত্ব দেখেই লামিয়া অনন্তের প্রেমে পড়ে ।
.
একদিন অফিসে বসে অনন্ত কাজ ছিল । হঠাৎ করেই অনন্তের ফোনে লামিয়ার ফোন আসে । লামিয়ার নাম্বার দেখে অনন্ত ভাবে লামিয়ার কোনো বিপদ হলো কি না । কারণ এর আগে লামিয়া কখনই অনন্তকে ফোন করে নি । অনন্ত ফোন ধরেই
-লামিয়া , তুমি কি ঠিক আছো ।
-...........................
-কি হল লামিয়া কথা বলছো না কেন ? কোনো বিপদ হয় নি তো ?
-না ।
-তাহলে ফোন করলে যে এই সময় ?
-কেন ? খুব ব্যস্ত নাকি ? তাহলে রাখি ।
-আরে ব্যস্ত না ।তুমি কখনো আগে ফোন করো নি তো তাই জিজ্ঞেস করলাম আর কি ?
-ও ।
-কিছু বলবে ।
-হুম ।
-বল ।
- তোমার কি একটু সময় হবে । আসলে আমি তোমার অফিসের নিচে দাড়িয়ে আছি ।
- কি বল ? আগে বলবে তো ।
.
বলেই অনন্ত নিচে নেমে গিয়ে দেখে লামিয়া নীল শাড়ি পড়ে দাড়িয়ে আছে । এতে লামিয়াকে যে কি সুন্দর লাগছে তা বলাই বাহুল্য । অনন্ত ঠিক যেমন ভাবে লামিয়াকে কল্পনা করত ।
-অনন্ত , তুমি ফ্রি আছো ।
-হুম ।
-লাঞ্চ করবো । খুব খিদে লাগছে ।
-ও । চলো , আমাদের ক্যান্টিনেই করি ।
-না । খিলগাঁ রেসটুরেন্ট এ চল ।
লামিয়ার কথা শুনে অনন্ত অবাক হয়ে লামিয়া এ কি সব বলছে ? একে তো লামিয়া আজ অনন্তের সাথে লাঞ্চ করবে তাও খিলগাঁও রেটুরেন্ট এ গিয়ে ।
-তোমার সমস্যা থাকলে যেতে হবে না ।
- না । কোনো সমস্যা নেই ।
এর পর দুই জন একটা রিক্সা করে রেসটুরেন্ট এ যাওয়ার সময় হঠাৎ করেই বৃষ্টি নামে । বৃষ্টিতে লামিয়া ভিজে যেতে লাগলে অনন্ত ছাতা বের করতে চাইলে লামিয়া বারণ করে । অনন্ত বুঝতে পারে এটাকে হয়ত লামিয়া করুণা মনে করেছে । কিন্তু না লামিয়া অনন্তের ডাইরি পড়ে জানতে পারে অনন্তের অনেক দিনের সখ লামিয়ার সাথে বৃষ্টিতে ভিজবে । তাই লামিয়া আজ অনন্তরের সাথে বৃষ্টিতে ভিজতে লাগল । কিন্তু লামিয়া অনন্তকে খুলে বললো না । হঠাৎ করেই লামিয়ার চোখ পড়ল রাস্তার পাশের ফুলের দোকানে । লামিয়া অনন্তকে ফুল আনতে বলে । অনন্ত লামিয়ার জন্য ফুল কিনে আনতে গেল । লামিয়া ভাবলো অনন্ত ফুল কিনে আনলে অনন্তকে ফুল দিয়ে প্রোপোজ করতে বলব । এই কথা ভেবে লামিয়ার মুখে এক চিলতে হাসি দেখা যায় । তারপর অনন্তের কাধে মাথা রেখে সারা রাস্তা যাবো । মনে মনে অনন্তও ভাবে যে ফুল গুলো দিয়ে লামিয়াকে আজ প্রোপোজ করবে । তারপর লামিয়ার কাধে মাথা রেখে সারা রাস্তা যাবো । অবশেষে হলেও অনন্ত লামিয়ার ভালোবাসা পাবে । অনন্ত লামিয়ার জন্য গোলাপ কিনে রাস্তা পার হয়ে আসার সময় গাড়ি আঘাতে ছিটকে গিয়ে পড়ে । লামিয়া দৌড়ে গিয়ে অনন্তের মাথা কোলের উপর তুলে নেই । কিন্তু আবসোসের বিষয় এই , অনন্ত জানতে পারলো না , লামিয়া ভালোবেসে অনন্তের মাথা কোলে তুলে নিয়েছে ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now