বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভালবাসার ডাকপিয়ন

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রায়হান আহমেদ (০ পয়েন্ট)

X অাবির অপলকে চেয়ে অাছে অধরার দিকে। ঘুম চেহারাতে কত সুন্দর লাগছে অধরাকে। অাবিরের কাঁধে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছে অধরা। বাসের জানালা দিয়ে অাসা বাতাস মাঝে মাঝে অধরার চুল উড়িয়ে অাবিরের মুখ ঢেকে দিচ্ছে। অধরার চুলে অধরার মুখও ঢেকে যাচ্ছে। অাবির চুল গুলো সরাচ্ছে না।কারণ এভাবে অধরাকে অনেক সুন্দর লাগছে। . অাবির অার অধরা পালিয়ে যাচ্ছে। তাদের গন্তব্য কোথায় তারা জানেনা। হাত একবারেই খালি। টাকা পয়সা খুব কম।শুধু অধরা কিছু এনেছে অার অাবিরের কাছে কিছু অাছে। ভালবাসাতে দু'জন দু'জনকে অাপন করে পেতেই বুঝি ;অজানাতে তাদের এই হারিয়ে যাওয়া।বাস চলছে অাপন গতিতে অার অাবির অপলকে দেখছে অধরাকে, অদ্ভুত এক মাইয়া এই মেয়েটার মুখে। যার কারণে অাবিরকে সবকিছু ছেড়ে পালাতে হচ্ছে। . সমাজ তাদের মেনে নিবেনা। কারণ অাবির মুসলিম অার অধরা হিন্দু। ধর্ম তাদের ভালবাসাকে সবমসময় অালাদা করে দিবে। কিন্তু তারা অালাদা হতে চাই না।তাইতো সবাইকে ছেড়ে এই অালাদা হওয়া। . অাবির অার অধরার পরিচয়টা একটু ভিন্ন ভাবে হয়।অাবিরের বাবা হলো ডাকপিয়ন।নিজের এলাকা, পাশের এলাকা প্রায় কয়েকটা গ্রামেই চিঠি বিলি করে অাবিরের বাবা।সেদিন অাবিরের বাবা অসুস্থ ছিলেন। অার অনেকগুলো চিঠিও সেদিন ছিলো। যা বিলি করতেই হবে।অাবির তার বাবার অসুস্থতা দেখে ;বাবার কাছে বলে নিজেই সেই দিনের চিঠি বিলি করার দ্বায়ত্বটা নেয়।তার বাবা জিঙ্গেস করে সবার বাড়ি চিনবি নাকি। অাবির বলে ঠিক চিনতে পারবো। . সব চিঠি বিলি করা শেষ।মানে যার যার চিঠি তার তার কাছে পৌঁছে দিয়েছে। হাতে অার একটা চিঠি সেটা হল পাশের এলাকাতে।অার চিঠিটা হলো হিন্দু বাড়ির। সেদিন রাত হয়ে যাওয়াতে অার ঐ চিঠি নিয়ে যায়নি। . পরের দিন খুব ভোরে চিঠি নিয়ে যায় হিন্দুতে বাড়িতে। রুমের সামনে গিয়ে ঠুক্কা দিয়ে নক করে।অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর বাসার ভেতর থেকে একজন মহিলা বললো কি চাই।অাবির বললো চিঠি এসেছে কলকাতা থেকে।তখন ঐ মহিলা অধরা নাম ধরে বললো।অধরা মা চিঠিটা রাখতো। . তখন একটা মেয়ে বের হয়ে চিঠি নিতে অাসলো।অাবির সেই মেয়ে মানে অধরাকে দেখে পাথরের মূর্তির মতো হয়ে যায়। রাতের অাকাশের চাঁদটা অনেক অাগেই অাকাশ থেকে হারিয়ে গেছে।কিন্তু এই কোন চাঁদ। তাহলে রাতের ঐ চাঁদটা কি এখানে। না এখানে কেমনে অাসবে। এই চাঁদটার মুখে যতটা মায়া অাছে ;ততটা মায়া ঐ চাঁদে নেই।যাই হউক ঘুর কাঁটিয়ে চিঠিটা অধরার হাতে তুলে দিলো।চিঠিটা অধরার হাতে দেওয়ার সময়, অাবিরের হাতটা অধরার হাতের স্পর্শ পেল।হঠাৎ করেই যেন কোন অজানা অনুভূতির ভালো লাগা কাজ করলো অাবিরের মনে। যাকে বলে লাভ ইজ ফাস্ট সাইড। . সেদিনের পর থেকে অাবির প্রতি সপ্তাহে একটি করে চিঠি নিয়ে যায়'সেই বাড়িতে'।অার সেটা অন্য ঠিকানাতে নয় অাবিরের ভালবাসা অধরার ঠিকানাই।অধরার নামে।অাবিরের মনের অাবেগ অনুভূতি দিয়ে লেখা চিঠি প্রত্যেক সপ্তাহে একটি করে দিয়ে অাসে অধরার কাছে। . এদিক দিয়ে অধরা প্রতি সপ্তাহেই যেন অাকাশ থেকে পড়ে। প্রতি সপ্তাহে প্রেরকহীন চিঠি অাসে।যেখানে প্রেরকের মনের অনুভূতি অধরাকে গিরে তার ভালবাসার কথা লেখা থাকে।এতো সুন্দর করে কেও চিঠি লিখতে পারে : তা অধরার জানা ছিলো না।কিন্তু অধরা বুঝতে পারেনা ;কে সেই অচেনা মানুষ। যে প্রতি সপ্তাহে তাকে চিঠি দেয়।কিন্তু চিঠিতে কোন ঠিকানা নেই অধরাও যেন অাস্তে অাস্তে সেই অচেনা চিঠি প্রেরকের প্রেমে পড়ে যাচ্ছে। তারও মন চাই সেই ঠিকানাই চিঠি লিখতে ;যেখান থেকে এতো সুন্দর চিঠি অাসে তার কাছে।কিন্তু সেতো ঠিকানা জানেনা। . এদিক দিয়ে অাবির প্রতি সপ্তাহে ঠিক চিঠি দিয়ে যাচ্ছে। তার প্রদি সপ্তাহে চিঠি দিতে ভালো লাগেনা। অাবির চাই প্রতি দিন চিঠি দেওয়া যেত যদি।বা সপ্তাহে চিঠির বদলে একবার মনের অনুভূতি তার সাথে কথা বলে বুঝাতে পারা যেত। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয় না।অার অাবির মুখিয়ে অাছে । কোনদিন অধরা তাকে বলবে ;যে প্রতি সপ্তাহে ঠিকানাহীন চিঠি কেমনে অাসে। কে দেয় চিঠি। . সেই দিনটা অাবিরের জন্য খুব একটা অপেক্ষা করেনি।হঠাৎ একদিন অধরা অাবিরকে বাড়ির পেছনে ডেকে নেয় যখন অাবির চিঠি দিতে অাসে। বাড়ির পেছনে গিয়ে অাবির অবাগ হয়।কেননা অধরা তাকে প্রশ্ন করে ---অাপনি কি অামাকে ভালবাসেন। অাবির কি বলবে বুঝতে পারছিলো না।তবুও সত্যিটাই প্রকাশ করলো। --তার মানে অাপনিই চিঠি গুলো অামাকে লিখেন। অামি যদি এখন অামার বাসায় বিচার দেয় তখন কি হবে। ---জানিনা কি হবে।তবে অামার বিশ্বাস অাপনি বিচার দিবেন না। ----কেনো দিবোনা বিচার। এতো কনফিডেন্স কেমনে হল। --জানিনা কেমনে। তবে অামি অাপনাকে ভালবাসি এটাই সত্য।অামার চিঠি গুলো অবশ্যই অাপনার মনে সেই অজানা মানুষটির প্রতি ভালবাসার জন্ম দিয়েছে ; যে মানুষটি অামি। অার যদি ভালবাসা না জন্মনেয় তাহলে বিচার দেন।অার অামি বুঝবো অামার ভালবাসা অামি জানাতে পারিনি। . ---অাপনি জানেন অামাদের ধর্ম অালাদা। সমাজ কখনোই মেনে নিবেনা। ---চাই না সে সমাজ যেখানে ভালবাসার দাম নেই।শুধু অাপনি পাশে থাকলে অামি নতুন সমাজ গড়তেও রাজি।যেখানে অাপনি অার অামি থাকবো।যদি দু'জনার মধ্যে ভালবাসা থাকে ;তাহলে সমাজ কিছুই না। ---অামাকে নিয়ে পালাতে পারবেন। এমন কথা শুনার জন্য অাবির প্রস্তুত ছিলোনা। তবুও মাথা নেড়ে হ্যাঁ বললো। --কিন্তু কেনো পালাবো? --কারণ তুমি মুসলিম অামি হিন্দু। তোমার চিঠি অামার মনে ভালবাসার সৃষ্টি করেছে। যা ভুলাটা এখন দায়। অার অামার বিয়ের কথা শুনছি। সব দিব থেকে পালাতে হবে। ---ঠিক অাছে। . সেই দিনের পর তাদের ভালবাসার সূর্য উঁকি দেয় পূর্বা অাকাশে।অাজ তারা পালিয়ে যাচ্ছে।হঠাৎ বাসের ভেতর গান ছেড়ে দিলো। "চলো না হারিয়ে যায় দূর অজানাই, যেখানে তুমি অার অামি ছাড়া অার কেহ নাই "।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৬৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভালবাসার ডাকপিয়ন

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now