বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভালবাসার চিঠি....৫

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রামীম (০ পয়েন্ট)

X কেমন আছ? আমি যদি তোমাকে চিনতে ভুল না করি তাহলে বলব তুমি ভালো নেই। ভালো না থাকারই কথা। আমি যে তোমার পাশে নেই দীর্ঘদিন! প্রতিনিয়ত তোমাকে দেখতে ইচ্ছা করে। কিন্তু মনের ভেতর থেকে কে যেন বাধা দেয়। বলে, যে তোমাকে না দেখে এতটা দিন থাকতে পারে তার জন্য এত কষ্ট কেন? অভিমান কি তুমি একাই করতে পার? আমার কি সেই অধিকার নেই? সোনালী, ভালো লাগা আর ভালোবাসা এক পর্যায়ে মাপাটা কঠিন। ভালো লাগলেই যে ভালোবাসতে হবে এমন কোনো কথাও নেই। তবুও মানুষ ভালোবাসে। একই স্কুলে পড়তাম আমরা। আমি যখন দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ি তখন তুমি প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছিলে। প্রথম কিছুদিন তোমার বাবা তোমাকে স্কুলে নিয়ে এলেও পরে আমি আর তুমি একসঙ্গে স্কুলে এসেছি। তোমার সঙ্গে আমি অনেক খুনসুটি করেছি। তুমি খুব অভিমানী এটা আমি ভালো করেই জানি। ছোটবেলা থেকেই আমি তোমার অভিমানগুলো দেখে আসছি। সামান্য ঘটনাগুলোও তুমি অনেক বড় করে দেখতে। তার পরই তোমার গাল ফুলিয়ে থাকা, মাসের পর মাস কথা না বলে থাকা। আমি যখন এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র তখনকার কথা কি তোমার মনে আছে? তখন তুমি এসএসসি পরীক্ষার্থী। তোমাকে একটা গোলাপ কিনে দেইনি বলে তুমি অভিমান করে ছিলে প্রায় ২ মাস। এই দুই মাসে তোমার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল ঠিকই, তবে কথা বলার সুযোগ দাওনি। আমার ধারণা তারপর থেকেই তোমার ওপর অন্যরকম এক ভালো লাগা চলে আসে আমার। তারপর ভালো লাগা থেকেই একটু একটু করে ভালোবাসা। আমি হয়তবা তোমার মন কিছুটা হলেও বুঝতে পেরেছিলাম। তাই তো রাখঢাক না রেখেই তোমাকে সরাসরি প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বসেছিলাম। মৌনতাই সম্মতির লক্ষণ। তুমি সেদিন মুখ দিয়ে কিছু বলনি, আমার দিকে চোখ তুলেও তাকাওনি। তবে তোমার মৌনতাই বলে দিয়েছিল অনেক কিছু। তারপর থেকে তুমি আমার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করেছ, কথাবার্তা বলেছ সেই আগের মতোই। তবে ভালোবাসার প্রশ্নে তুমি মুখ ফুটে কিছুই বলতে না। অনার্স ৪র্থ বর্ষে ওঠার পরও আমি তোমার মুখে ‘ভালোবাসি’ কথাটা শুনতে পাইনি। ‘ভালোবাসি না’ এমন কথাও মুখ দিয়ে কখনো বের হয়নি। যদি তোমাকে হারিয়ে ফেলি এমন ভয়ে না পেঁচিয়েই আমার পরিবারকে তোমার কথা সরাসরি বলেছিলাম। পেয়েছিলাম সবুজ সঙ্কেত। তারপর তুমি এলে আমার ঘরে। বুঝলাম ভুল করে ফেলেছি। নিজের খুঁটিটাই নড়বড়ে অথচ ওই খুঁটির উপর ভর করেই তোমাকে এনেছিলাম ঘরে। তবে তুমি নড়বড়ে খুঁটিটাকে শক্ত করার চেষ্টা করেছিলে। এই পাগলের সামান্য খামখেয়ালীতে অভিমান করে তুমি আজ অনেক দূরে। বছর হতে চলল তোমার মুখ দেখি না। তোমার সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেছি অনেকবার। অনুরোধ করেছিলাম ফিরে আসতে। তোমার কথা ছিল একটাই : যে স্ত্রীকে চড় মারতে পারে তার সঙ্গে ঘর করা অসম্ভব। অনেক চেষ্টা করেও তোমাকে বোঝাতে পারিনি যে দাম্পত্য জীবনে সামান্য ঝগড়া হওয়া স্বাভাবিক। তুমি আমাকে উদ্দেশ্য করে একটা চিঠি লিখেছিলে। তোমার চিঠিটা আমি প্রতি রাতেই পড়ি। চোখের জলে ভেসে যাই প্রতি রাতেই। তুমি যে এত অভিমানী সেটা আমার কল্পনারও বাইরে। পূর্ণিমার রাতে কষ্টে আমার বুকটা ফেটে যেতে চায়। এরকম রাতে আমি আর তুমি যে সারারাত ছাদে দাঁড়িয়ে থাকতাম। এখন পূর্ণিমার রাতে আমি চোখের জলে ছাদে দাঁড়িয়ে থাকি।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৬৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভালবাসার চিঠি....৫

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now