বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মা... ও মা... ডাক শুনে আমার ভাবনায় বাধা পড়লো...। হৃদিতার প্রশ্ন, “ এত মন দিয়ে কি ভাবছো? পায়েল টা দেখার পর থেকেই তুমি কেমন আনমনা হয়ে গেলে !!!! এটা কার মা? ”
“এটা নীলাঞ্জনার। ভালোবেসে আকাশ তাকে পরিয়ে দিয়েছিল।বিরাট গল্প... বাদ দে। ”
গল্প টা বলো না ...মা !!
আমি আবারও অতীত হাতড়ে খুজচ্ছিলাম... হৃদিতাকে বলতে লাগলাম আকাশ নীলার কাছে আসার গল্প...... আকাশের সাদামাটা জীবনে কি করে নীলা স্বপ্ন আর বাস্তবের রঙ্গে রাঙ্গিয়েছিল। ভালোবাসার মায়াজালে এক মুহূর্তের জন্য নীলা বুঝতে দিত না তাদের মাঝের দূরত্ব টুকু। আকাশের দিনের প্রতিটা কাজেই নীলার খেয়াল ছিল। নীলার ভালোবাসার তীব্রতা অনুভব করে আকাশ প্রায় ই ভাবত এই পাগলীটা না এলে তার জীবন টাই বৃথা হতো !!! কখনও নীলা গান শোনাত আর আকাশ কবিতা আবৃতি করত!! নীলা নিজের লিখা কবিতা উপহার দিত আর আকাশ দিত নীলার অজস্র ছবি !!! অনেক ঝড় ঝাঁপটাই ছোট্ট দুটি প্রাণ একসাথে সামলেছে !!
“ তারপর কি হলো মা ?”
“আর কি!!! তার কয়েক পর অনার্স পাশের পর নীলার বিয়ে হয়ে গেলো !! এখন সে সংসার করছে। তার একটা মেয়ে আছে ,নাম হৃদিতা!!!!”
চোখ ছলছলে আবেগী আমার মেয়েটা বলল, “এটা তোমার তাই না ?”
“হুম ! আমার ই ”
“আর আকাশ ? তার কি হলো? ” আকাশ আর নীলার বিচ্ছেদ সে কোন ভাবেই সহ্য করতে পারছেনা যেন !!! এই বয়সের মেয়েরা খুব আবেগী হয়। আমার মেয়ের মায়াকারা গোল গোল চোখ গুলো দেখে আমার মা হিসেবে খুব গর্ব ই হচ্ছে ,যে এত্ত সুন্দর পরীর বাচ্চটা আমার মেয়ে !!!
আমার উত্তর দেওয়ার আগেই আমার বর অফিস থেকে ফিরে আমাদের ঘরে ঢুকল। হৃদিতা ধ্রুত চলে গেলো যেন বাবা তার চোখের পানি না দেখতে পায় !! আমি ১৮ বছর হলো এই মানুষটার সাথে সংসার করছি কখনও আমায় অযাচিত প্রশ্ন করতে দেখিনি !
“হৃদিতার কি হয়েছে? ও এভাবে মন খারাপ করে চলে গেলো কেন ??? ” মেয়ে নিয়ে চরম উৎকন্ঠা তার প্রশ্নে বুঝতে পারছি ।
“ তোমার মেয়ে তুমি যেয়ে জিজ্ঞাসা কর।। ”
“কি রে মা... কি হয়েছে তোর ? মা কি বকেছে ?”
“না- বাবা...।”
“তাহলে?”
“তোর হাতে ওটা কি ?”
“ এটা মার। সুন্দর না বাবা ?”
রুমে ঢুকে দেখলাম, কপাল কুছকে পায়েল হাতে বসে আছে হৃদিতার বাবা। “এটা তোমার কাছে এখনও আছে ?” আমায় প্রশ্ন করল !!!
“বাবা প্লীজ মাকে কিছু বোলো না। আমি জানতাম না এটা দেখলে তুমি রেগে যাবে” কাঁদো কাঁদো মুখে মেয়ের আকুতি।
“বলবো না মানে !! কত জরুরী কাজ তোর মা ভুলে জায়,কিন্তু ২০বছর আগের আমার দেওা জিনিষ ঠিক ই যত্নে রেখেছে। ”বলেই আবারও আমায় মেয়ের সামনে পায়েল পরিয়ে দিলো আমার বর্তমান বর মানে আমার আকাশ !!!
“তুই তো সব তা না জেনেই কেঁদে কেটে অস্থির হয়ে গেলি বকা মেয়ে...!!! তোর বাবাই তো আমাকে নীলাঞ্জনা নামে ডাকতো আর আমি ডাকতাম আকাশ বলে !!!”
শুনে খুশিতে জরিয়ে ধরল আমার মেয়ে, “ মা তুমি তাহলে এতক্ষণ আমায় বোকা বানাচ্ছিলে ??!!!”
হাসতে হাসতে আমার মাঝ বয়সী আকাশ পিছন ঢুকল আমাদের রুমে এসে ঢুকল। ওর হাসিটা এখনও আমার কাছে শিশুর মতই সরল লাগে !এই এতগুলো বছরে একটুকু ও বদলায়নি আমাদের ভালোবাসা।
সত্যি কিছু জিনিস কখনও বদলায় না !!!
“বউ শোনো...।।”
“কি হলো বলো? ওভাবে কি দেখছ? বুড়ো হয়ে গেলে দেখে দেখে...। আর কত? ”
“আমার নীলাঞ্জনার কাছে আমি চির তরুন। ভালোবাসাও আছে আগের মতই। তোমায় দেওয়া কথা রেখেছি। তোমার সব স্বপ্ন গুলোকে সত্যি করেছি। ”
তারপর কানের কাছে ফিস ফিস করে বলল সেই শব্দ টা...
যা কখনও পুরানো হুয়না।যুগ যুগ পার হয়ে গেলেও এখন নতুন লাগে। আজও আমার গাল দুটা লাল হয়ে উঠে ঠিক প্রথম শোনার পর যেমন হয়েছিল !! আরো হাজার বছর শুনতে চাই.........
“ভালোবাসি”
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now