বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ছেলেটি খুব
ভালোবাসতো মেয়েটিকে! মেয়েটিও
ছেলেটিকে খুব ভালোবাসতো! প্রায় প্রতিটা সময়ই এক
সাথে থাকতো দু'জনে! দু'জন দু'জনকে ছাড়া কিছুই যেন
বুঝতেই চাইতো না!
.
মেয়েটির ছোট ছোট দুষ্টমি,কথাবার্
তা,হাসি-ঠাট্রা সব
কিছুই মুগ্ধ করতো ছেলেটিকে!
.
মেয়েটি খুব শাসন করতো ছেলেটিকে! এই এটা করবা
না,এই ওটা করবা না,ওর সাথে মিশবা না,খাওয়া-
দাওয়া
ঠিক ভাবে করবা! বাইরের খাবার খাবানা! ভুলেও
কোন
মেয়ের দিকে তাকাবা না! রাস্তা দিয়ে হাটার
সময়
মাথা নিচু করে হাটবে ইত্যাদি ইত্যাদি!
.
আর ছেলেটি তা মাথা নেড়ে অবর্থনা জানতো! আচ্ছা!
.
একদিন ছেলেটি বন্ধুদের সাথে সিগারেট খেয়ে
দেখা
করতে এসেছিল মেয়েটির সাথে! সেদিন মেয়েটি
বলেছিল- কি ব্যাপার তোমার শরীরে সিগারেটের
গন্ধ
কেন???
.
ছেলেটি ভয়ে তখন কোন কথা বলতে পারেনি! শুধু মাথা
নিচু করে বসে ছিল বাচ্চাদের মত!
.
মেয়েটি তখন চোখ রাঙিয়ে ছেলেটির দিকে
তাকিয়ে
ছিল অনেকক্ষন! ছেলেটি হালকা মাথাটা উচু করে
মেয়েটির চোখের দিকে তাকিয়ে বিন্দু বিন্দু অশ্রু
কনা
দেখতে পেয়েছিল! বুঝতে পেরেছিল মেয়েটি অনেক
কষ্ট
পেয়েছে!
.
তখনই ছেলেটি মনে মনে শপথ নিয়েছিল আর কখনও
মেয়েটির কথার অবাধ্য সে হবে না! আর কখনও হয়ও নি!!
যা বলেছে, বাধ্য ছেলের মত করে চলছিলো! যাতে করে
মেয়েটি মনে কষ্ট না পায়!
.
মেয়েটি সবসময় ছেলেটিকে বলতো জানো আমাদের
সংসারর কেমন হবে??
.
--কেমন হবে??
.
--আমাদের ছোট্র একটা সংসার হবে! ছোট একটা ঘর,ছোট
একটা খাট,একটা বালিশ,একটা প্লেট,একটা গ্লাস সব
কিছুই একটা একটা হবে যাতে কেউ কাউকে ছাড়া চলতে
না পারি! কি সুখের একটা সংসার হবে তাই না! ইস
ভাবতেই ভালো লাগছে!
.
ছেলেটি শুধু গভির দৃষ্টিতে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে
মেয়েটির মনের কল্পনার জগৎটা উপলব্ধি করা চেষ্টা
করছিল!
........
এক রাতের কাহিনি রাত তখন দুইটা বাজে! প্রচন্ড শীত
পরেছিল সে রাতে! ছেলেটি গভির ঘুমে মগ্ন তখন!
মেয়েটি সেই সময় ফোন দেয় ছেলেটিকে!
.
--ঐ কি করো এখন???(মেয়েটি)
.
--পাগলের মত এটা কেমন প্রশ্ন? মানুষ এত রাতে কি
করে??
.
--ঐ আমি পাগল না পাগলি হি হি হি!!
.
--তুমি এখনও জেগে থেকে দাত কেলিয়ে হাসছো হ্যা?
.
--তুমি এখনই আমাদের বাড়ির সামনে রাস্তায় এসে
দাড়াও! তোমাকে দেখতে মনে চাইছে!
.
--কি বলছো তুমি এসব?? এত রাতে কি করে সম্ভব??
.
--আমি জানি না তুমি এখনই আসো,টু টু টু..
.
মেয়েটি ফোন কেটে দেয়! ছেলেটি তখন কোন উপায় না
দেখে কম্বল শরীরে জরিয়ে ও ভাবেই চলে যায়
মেয়েটির বাড়ির সামনে! মেয়েটি ছেলেটির ঐ
অবস্থা
দেখে খুব হেসেছিল সেদিন!
.
ছেলেটি সেদিনও মুগ্ধ হয়ে মেয়েটির হাসি দেখছিল!
মানুষের হাসি এত সুন্দর হয় তা ছেলেটির জানা ছিল
না!
নিমিষেই সকল ক্লান্তি যেন কোথায় পালিয়ে
গিয়েছিল!
.
তখন ছেলেটির কাছে মনে হয়েছিল'এই সুন্দর হাসি
দেখার জন্য হাজার কষ্ট করতেও সদা প্রস্তুত!
..
মেয়েটি যেদিন চিকিৎসার জন্য লন্ডন যাচ্ছিল
সেদিনও
ছেলেটিকে বলে গিয়েছিল--
.
দেখো খাওয়া-দাওয়া, লেখাপড়া ঠিক ভাবে করবা!
মোটেও রাত জাগবা না! আর কম্পিউটারের সামনে
বেশিক্ষন বসবা না এতে চোখে সমস্যা হবে! আমার কথা
ভুলেও কখনও চিন্তা করবা না! আমার কিছুই হবে না! খুব
তারাতারি সুস্থ হয়ে ফিরে আসবো! আর এসে যদি শুনি
সিগারেট হাতে নিয়েছো তাহলে কিন্তু খবর আছে! কি
সব মনে থাকবে তো??
.
কথাগুলো বলার সময় মেয়েটির চোখে অশ্রু টলমল করছিল!
ছেলেটি দেখেও অন্য দিকে ফিরে গিয়েছিল তখন
কারন
মেয়েটির চোখের পানি সহ্য করার ক্ষমতা ছেলেটির
ছিল না!
.
ছেলেটি তখনও বাধ্য ছেলের মত মাথা নেড়ে বলেছিল
হ্যা থাকবে!
....
ছেলেটির আজ সব আছে শুধু নেই সেই মেয়েটি! আজ ১০
বছর হল ছেলেটি মেয়েটির জন্য অপেক্ষা করে চলছে
কিন্তু সেই পাগলী মেয়েটি আর ফিরে আসে নি!
.
মেয়েটির বাবা-মা সবাই ফিরে এসেছে শুধু সেই
মেয়েটি
আর ফিরে নি!
.
সকলেই ছেলেটিকে বুঝিয়েছে মেয়েটি নাকি না
ফেরার দেশে চলে গেছে, আর কোনদিনও নাকি ফিরবে
না! কিন্তু ছেলেটি বিশ্বাস করেনি! বিশ্বাস করবেই
বা
কিভাবে মেয়েটি যে ছেলেটিকে নিজের মুখে
বলেছে
যে সে ফিরে আসবে!
.
আর ছেলেটিও তাই আজও সেই বিশ্বাস বুক পাজরে
আকরে ধরে পথপানে চেয়ে আছে মেয়েটির অপেক্ষা!
মেয়েটি ফিরবে, অবশ্যই ফিরবে..................
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now