বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
২০১০ সাল। অ্যাডমিশন টাইম!!! নীলা অনার্সে ঢাকার বাইরের ইউনিভার্সিটি তে ভর্তি হলো। আর আকাশ ?? ঢাকায় পরছে ।তার অনার্স ১ম বর্ষের ফাইনাল চলছে।। হঠাৎ লাবণ্যের আবদার ‘ভাইয়া তোমার ফেসবুক থেকে কয়েকটা বান্ধুবিকে রিকুয়েস্ট পাঠাবো !!! অনুমতি পেয়ে অহনা, চৈতি আর নীলা কে রিকুয়েস্ট পাঠালো লাবণ্য। নাইনের সেই লাজুক কিশোর আর আজকের আকাশের মাঝে আজ অনেকটা পার্থক্য।
অনেকটা বিষণ্ণতা আর একাকিত্তের মাঝেই কাটছিল আকাশ আর নিলার জীবন। দুজনেই পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে দূরে ছিল লেখাপড়ার খাতিরে।
সেদিন কি মনে করে যেন নিজের ফেবু ঘাটতে ঘাটতে এক মেয়ের ছবিতে চোখ আটকে যায় আকাশের।সাদা জামা পরা, মাথায় লাল ফুল গোজা, গাছের নিচে দাড়িয়ে উপরে তাকিয়ে কি যেন দেখছে, কপালে তার আলপনা আঁকা!! কমেন্টস না দিয়ে পারল না ... “এতদিন কোথায় ছিলে?” !!!
তখনকার দিনের খুব প্রচলিত গানের লাইন ছিল এটা । মেয়েটা আর কেউ না!! ওটা ছিল নীলাঞ্জনা !!!
খুব মন খারাপ নিয়ে বসে আছে নীলা। পছন্দের জায়গায় ভর্তি না হতে পারার কষ্টে আছে সে। ফেবু তে আকাশের কমেন্টস টা পেয়ে লাবণ্য ভেবে গানের ২য় লাইন টা লিখে দিলো। পরে যখন জানল যে ওটা তো আকাশ ভাইয়া ছিল। লজ্জা পেল ও। সরি লিখে মেসেজ দিলো আকাশ কে ফেবুতে। যোগাযোগ টা গাঢ় হতে লাগল দিন দিন। ফোনে মেসেজ দেয়া শুরু হলো ওদের। দুজন যেন দুজনের সাথে একাকীত্বটা ভাগ করে নিতে লাগল। একদিন আকাশ মেসেজ এ লিখল যে ‘ তোমার পাল্লায় তো ৬বছর আগেই পরেছি !” দুষ্টু নীলা এতদিন আকাশের কোথায় তেমন সিরিয়াস হয়নি, কিন্তু এই মেসেজটা যেন একটু আলাদা। ৬ বছর আগে কি হয়েছিল নীলা মনে করতে পারল না। আকাশ ই তার ৬ বছর আগের মামার হলুদের ছবির গল্পটা বলল্... নীলা কিন্তু এতেই মনে মনে খুব ইমপ্রেস হয়েছিল। এতদিন আগে থেকেই ওর মনে নীলার জন্য একটা কিছু ছিল জেনে এক অন্যরকম ভালো লাগার স্রোত বয়ে গেলো নীলার মনে।
যেদিন প্রথম এত বছর পর ওদের দেখা হয়েছিল ,আকাশ ছিল লাবণ্যের বাসায়। সেদিন শুধু সে নীলাঞ্জনা কে দেখছিল, ফেল ফেল করে হাবার মত তাকিয়ে ছিল কিন্তু একটা কথাও বলেনি।আকাশের চুপ করে থাকাটায় নীলা অবাক হয়ে ছিল ঠিক ই কিন্তু রাগ করেনি। তারপর থেকে ওদের কখনও পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। নীলার কাছেই ভালোবাসার দুনিয়ায় আকাশের প্রথম হাতে খড়ি। আকাশের না পারা গুলো কে, জড়তা গুলো কে একটু একটু করে নীলা শুধরে দিয়েছে।। দু শহরের দূরত্ব তাদের মাঝে কখনও বাধা হতে পারেনি। একদিন আকাশের সরল স্বীকারোক্তি “ ভালবাসি তাই”। নীলা ও সাড়া না দিয়ে আর পারলনা !!! আকাশের ভালোমানুষি তে, সরলতায় , নীলার উপর নির্ভরশীলতা দেখে আকাশ ভালো না বেসে পারলো না আর সে !!! তাদের ভালবাসার সাক্ষী ঐ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ চাঁদ, ঐ রেল লাইন যেখানে ওরা হাত ধরে হেঁটেছিল, মরা ঘাসগুলো, জানালার সেই কাঠ ঠোকরা পাখিটাও যে কিনা রোজ সকালে নীলার ঘুম ভাঙাত!!!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now