বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভালবাসা "১ম পর্ব

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান selfiAan Razon (০ পয়েন্ট)

X বাসার কাঠের আলমারিটা পরিষ্কার করতে গিয়ে রীতিমত ঘাম ছুটে গেলো হৃদিতার ।ড্রয়ারের এক কোণে কাঠের ছোট একটা গয়নার বাক্সে চোখ আটকে গেলো তার। ‘মা...মা ও মা......’ ডাক শুনে রান্নাঘর থেকে জলদি ঢুকলাম আমার শোবার ঘরে। এখানেই আমার মেয়ে গুরু যজ্ঞ চালাচ্ছে। আমার পুরাতন কাঠের আলমারি পরিষ্কার অভিযান !!! ‘এটা কি তোমার ? দেখো মা, এর ভিতর কত্ত সুন্দর একটা পায়েল পেয়েছি।’হৃদিতার এক হাতে ধরা আমার অনেক পুরাতন একটা গয়নার বাক্স আর আরেক হাতে সেই বাক্স থেকে বের হওয়া একটা রুপালি রঙের পায়েল !! আমার ভেতর টা কেমন যেন মোচড় দিয়ে উঠল ।!! বহু বছরের পুরানো স্মৃতি চোখের সামনে ভেসে উঠল। ভেসে উঠল ১৩\১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর মুখ। নীলাঞ্জনাই তো নাম ছিল তার !!!! মেয়ের কথা যেন শুনতেই পাইনি এমন একটা ভাব করে বললাম, ‘তুই যে কি! রান্নাঘরের কাজ ফেলে অযথা দৌড়ে আসলাম ! যাই আমি। তুই যা খুশি কর ।’’ ও মা, আমি এটা পড়ি ? আচ্ছা বাবা, পড় যা !!! কিছুটা বিরক্ত হয়ে কেটে পড়লাম !!! সেদিন বিকেলে খুব ঝুম ঝুম বৃষ্টি শুরু হল... মেঘের গুর গুর শব্দে আমি অতীতে হারিয়ে যাচ্ছিলাম... আজ অনেক দিন পর একটা গল্প লিখতে ইচ্ছে করছে...। নীলাঞ্জনা আর আকাশের গল্প....।।!! বাস্তবতা কখনও কল্পনাকেও হার মানায় ! বিধাতার লিখা গল্প মানুষের রুপকথা গুলোকেও হার মানায়। মানুষের জীবনের গল্পটায় শেষটায় কি আছে টা সৃষ্টিকর্তা ছাড়া কেউ জানেন না ............।।!! ২ সেপ্টেম্বর ২০০৪ সাল !!দুপুর থেকেই খুব উত্তেজনা অনুভব হচ্ছে।এই প্রথম আজ কোন অনুষ্ঠানে আজ শাড়ি পরবে নীলাঞ্জনা। ক্লাস ৮ এ পড়ে !!আজ তার বান্ধুবি লাবণ্যের চাচার হলুদ ।শুধু নীলা একা নয়, তার আরও বান্ধুবিরা ... অহনা, চৈতি ,ফারহা, বৃষ্টি আরও অনেকেই শাড়ি পরবে। হলুদ শাড়ি আর ফুল দিয়ে চুল বাধবে এটা সবাই মিলে ঠিক করেছে। নীলার শাড়িটা ল্যামন ইয়োলো কালারের তার মাঝে ব্লকের ফুল পাতার নকশা করা।সব থেকে পছন্দ শাড়িটার নীল পাড়। নীল ওর প্রিয় রঙ।সন্ধ্যা কখন হবে এই ভেবেই মনে মনে অপেক্ষা করছে এই মায়াভরা চোখের অধিকারিণী মেয়েটা !!! ************************************ পরীক্ষার হলে কিছুতেই মন বসছেনা আকাশের !! বাংলা ২য় পত্র পরীক্ষা আজ।মন পড়ে আছে তার ছোট মামার গায়ে হলুদে । আজ সন্ধ্যায় হলুদ অথচ সে কিনা পরীক্ষার হলে !!!!! কত গুলো যে ভুলভাল নৈব্যত্তিক দাগালো তার হিসেব নেই। কোন রকমে পরীক্ষাটা দিয়েই ছুটল বাড়ির দিকে। উফ !! এ কি !!- কপাল কুছকে বাহিরের অঝর ধারার বৃষ্টিকে মনে মনে বকতে লাগল !! লাফ দিয়ে জলদি রিকশায় উঠে পড়লো । যেতে যেতে ভাবতে লাগল ওদের বাসা থেকে ঢাকায় নানার বাসায় যেতে তিন ঘন্টা তো লাগবেই !!! আধ ভেজা অবস্থায় বাসায় পৌঁছেই ছুটে গিয়ে ভেজা কাপড় গুলো বদলে নিলো। তারপর ছুটোছুটি করে আব্বু আম্মু কে ব্যাগ গুছাতে সাহায্য করল, নিজের কাপড় গুলিও ব্যাগে ভরে নিলো। ক্লাস নাইনে পড়ে আকাশ কিন্তু ওর বয়সী বন্ধুদের তুলনায় একটু বেশীই যেন শান্ত আর অনেক গুছালো স্বভাবের। বাবা মা চাকুরীজীবী বলে সারাদিন নিজে একা থাকতে থাকতে একটু বেশীই চুপচাপ হয়ে গেছে ।আজ বড় বেশী অস্থির সে।তার মামাত বোন লাবণ্য। শুধু এই বোনটার সাথেই তার রাজ্যের ভাব !সকল কথা বোন কে বলা চাই ।শুনেছে তার মামার বিয়েতে লাবন্যের একগাদা বান্ধুবির পাল ও নাকি আসছে !এত হইচই আকাশের ভালো লাগেনা। আর ছোট বোনের বান্ধুবিদের থেকে পালাতে পারলেই সে বাঁচে। বড় লাজুক প্রকৃতির ছেলে সে। এসব বাস এ ভাবতে ভাবতেই ঢাকায় পৌছাতে সন্ধ্যা হলো। তাদের জন্যই হলুদে সবাই অপেক্ষা করছিল , ঢুকতেই অনুষ্ঠান শুরু হলো। বাড়ি ভর্তি মানুষ, অনেক অচেনা মেয়েদের মুখ দেখা জাচ্ছে।তারা সবাই শাড়ি পরা আর মাথায় গাঁদা ফুল। বুঝতে বাকি রইল না যে লাবণ্যের বান্ধুবিরা এসে পরেছে।হলুদ পাঞ্জাবিটা পড়ে নিলো সে। হাজার হোক বড় ভাই বলে কথা!! এত গুলো সুন্দরীদের মাঝে তাকেও তো সুন্দর লাগা চাই !!! অহনা আর চৈতি কে আকাশ চেনে।আগে দু একবার দেখা হয়েছে।বাকিদের কখনও দেখেইনি, পরিচয় তো দুরের কথা !!ক্যামেরা হাতে ছবি তুলে বেরাচ্ছে আকাশ, হঠাৎ সিঁড়ির মাথায় লাবণ্যের দুবান্ধুবির ডাক,’ এই যে ভাইয়া, আপনাকে ডাকছে’। শুনে আকাশের কান দুটা লাল হয়ে গেলো। মেয়েদের সাথে বরাবরই সংকোচ বোধ হয় তার। তাই কোন রকমে নিজেকে সামলে বলল, ‘আমাকে বলছেন?’ হ্যাঁ, আপনাকেই... বলে তারা খিক খিক করে হাসতে হাসতে চলে গেলো। ‘মেয়েরা এত হাসে কেন কে জানে !!!!’ আনমনেই বিড় বিড় করতে করতে উপরে গেলো আকাশ। ............হলুদের অনুষ্ঠান প্রায় শেষ। এখন বাসায় শুধু ঘরের মানুষ ,বোনের বজ্জাত বান্ধুবিগুলা আর তাদের মায়েরা !! উপরে গিয়ে তো আকাশের চোখ কপালে !! রুম ভর্তি লাবণ্যের বান্ধুবিরা হিন্দি ‘বিন্দাস’ গানের সাথে নাচ্ছে! মায়েরা হাত তালি দিচ্ছে। ওর পিচ্ছি মামাত ভাই তাও মেয়েগুলির সাথে নাচ্ছে ! ওপাশ থেকে কে যেন ওকে ধাক্কা মেরে নাচার জন্য রুমের মাঝে ঢুকিয়ে দিল!! কতক্ষণ হতভম্বের মত মেয়েদের মাঝে সে দাড়িয়ে থেকে রুম থেকে বের হয়ে আসলো। কিন্তু ফাজিল মেয়েগুলো নাচতে নাচতে অস্থির হয়ে যাচ্ছে। ওদের এত আনন্দ কোথা থেকে আসে কে জানে !!! দু \তিন মাস পরের কথা, দু ভাইবোন হলুদের ছবি দেখছে । আকাশ একটা মেয়ে ক দেখিয়ে বলল তোর এই বান্ধুবিটাই খালি সুন্দর বাকি গুলা একটাও ভালো না !!তার লাজুক ভাই কাকে দেখাচ্ছে দেখতে লাবণ্যও ছবির উপর হুমড়ি খেয়ে পড়লো!! ‘এটা তো নীলা, মানে নীলাঞ্জনা !!’ ,লাবণ্য বলল। দুষ্টুমি ভরা হাসি দিয়ে আকাশ বলল, যেয়ে বলিশ ওকে আমার পছন্দ হয়েছে। পরদিন ক্লাসে নীলাঞ্জনা দেখল, মুচকি মুচকি হাসতে লাবণ্য এগিয়ে আসছে তার দিকে। এসে যা বলল সেটা শুনে ও তো হেসেই উড়িয়ে দিল, আর বলল... তোর ভাই কে বলে দিস এসব কথা যেন আরও বড় হলে বলে। নিলা তো আকাশকে খেয়াল ই করেনি। চেহারাও মনে পরছে না !!পছন্দ টছন্দের জন্য ওরা তখনও ছোটই ছিল। এই ঠাট্টার কথা নীলা বেমালুম ভুলেই গেলো !! গল্পটা এখানেই শেষ হতে পারত কিংবা এখান থেকেই শুরু হতে পারত !!!!কিন্তু এত ছোট্ট ঘটনা আকাশ বা নীলা কারোর ই মনে রাখার মত কিছু ছিলনা।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভালবাসা "১ম পর্ব

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now