বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভাইয়ের বন্ধু যখন বর

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান sabbir (০ পয়েন্ট)

X সেদিন অনেক রাত পর্যন্ত চারজন মিলে গল্প করলো।এর পর রায়হান ও নিলয় চলে গেলো।তাওহিদ আর জিসানও নিজেদের রুমে চলে গেলো।জিসান তিশার ঘুমন্ত মুখটার দিকে তাকিয়ে রইলো অনেকক্ষন, এর পর তিশাকে শক্ত করে জরিয়ে ধরে শুয়ে পরলো।কেনো জানি জিসানের ঘুম আসছে না হয়তো তিশাকে হারাবার ভয়টা একটু বেশিই পেয়েছে আজ।তাইতো নিজের অজান্তেই চোখ দিয়ে কিছু নোনা পানি তিশার কপালে পরছে।তিশা যদি জাগনা থাকতো তাহলে হয়তো দেখতে পারতো জিসানের কস্টটা আজ। কেনো তোকে হারানোর ভয়টা আজকাল আমায় তাড়া দেয় বেশি।কোনো মনে ভয় তকে ছেড়ে দিলে হয়তো আর পাবো না।বড্ড ভালোবাসি তোকে, আমি পারবো না তোকে ছাড়া থাকতে,আমি পারবো না।বলেই তিশাকে নিজের আরো কাছে টেনে নেয়। সকালে ঘুম ভাঙ্গলে মনে হয় কেউ আমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে ধরে আছে।মাথাটা উঠিয়ে তাকে দেখতে লাগলাম, কেনো জানি তাকে নিজের থেকে আজ ভালোবাসতে মন চাইছে,তাই লজ্জা শরম ভুলে তার কপালে গালে কিস করে,তার বুকে ও একটা কিস করে নিজের থেকে জরিয়ে ধরে শুয়ে রইলাম।~তিশা। কিছুক্ষন পর জিসান, ঘুম কেমন হলো ম্যাডামের।আমাকে জরিয়ে ধরেই প্রশ্ন করলেন। হুমমমম.... ভালো।কখন উঠলেন।~তিশা। যখন তুই চোরের মতো আমাকে কিস করছিলি।আর ঘুমের মধ্যে আমার ইজ্জত নিয়ে টানাটানি করছিলি।~জিসান। আমি মাথাটা উঠিয়ে আড়চোখে তার দিকে তাকিয়ে আপনে তো ঘুমিয়ে ছিলেন জানলেন কি করে। কারন আমার ঘরে একটা চোর আছে,আর সে চোর আমি ঘুমিয়ে থাকলেই আসে,আর এই সুযোগে ওই চোরটা আমাকে আদর করে,জাগনা থাকলে সাহস পায় না,কেমন ভিতু বলতো। হঠাৎ তিশা জিসানের উপর উঠে পরে,আর জিসানের কলার ধরে একদম কাছে এসে বলে,ওই কি বললেন, আমি চোর, ভিতু। আমি কি তোকে বলছি,আমাকে যে কিস করছে আমি তাকে বলছি। ওই হিটলার এই ঘরে আমি ছাড়া আর কোন চুন্নি আছে,আর কার এতো বড় সাহস আপনাকে কিস করবে।একদম কাছে গিয়ে কথাগুলো বললাম,এতে আমার গরম নিশ্বাস জিসানের মুখের উপর পরছে।আর জিসান নেশাভরে চোখে আমার দিকে তাকিয়ে,একটা বাকা হাসি দিলো।কি হলো,হাসছেন কেনো। সর আমার উপর থেকে,আমি বিশ্বাস করিনা....তুইতো একটা আনরোমান্টিক মহিলা। কিকিকিকিকি এতো বড় ইনসাল্ট,আমি নাকি মহিলা।আমি জিসানের মুখটা ধরে ওর ঠোঁটটি নিজের ঠোঁট দিয়ে আবদ্ধ করে নিলাম। জিসান হয়তো ভাবতেও পারেনি আমি এমন কিছু করবো,তাই প্রথমে শোকড হলো ব্যাচারা। জিসানের এক হাত আমার চুলগুলো আকড়ে ধরে আছে,আরেক হাতদিয়ে আমার পিঠে স্লাইড করছে।এভাবে অনেকক্ষন থাকার পর আমি উঠতে চাইলে আমার কোমড় কে আকড়ে ধরে ফাজিল টা।আমাকে ছাড়ার নামই নাই,তাই আমি একটা কামড় দিয়ে দি। আআআআআ তিশা কি করলি,ব্যাচারার ঠোঁটটা কেটে গেলো।আমাকেও ছেড়ে দিলো,আমিতো হেসে কুটিকুটি হয়ে যাচ্ছি। কি হলো মি:জিসান বউ নাকি রোমান্টিক না।বেশি রোমান্টিক হলে এমন দশাই হবে।আমি হাসছি আর জিসান আমার দিকে তাকিয়ে আছে।কিছুক্ষন পর আমি দেখি উনি এখনো তাকিয়ে আছে।কি দেখেন এভাবে। তোকে.....!!তোর হাসিটা অনেক সুন্দর,নিজের যতো কস্ট আছে সব জেনো শেষ হয়ে যায় এই হাসির সামনে। হয়েছে আর পাম্প মারতে হবে না উঠুন অফিস এ যাবেন না।আমিও উঠে দাঁড়ালাম।আর তখনি জিসান আমার হাত ধরে নিজের কোলে বসিয়ে তার দুহাত দিয়ে আমাকে আবদ্ধ করে ফেললো।আজ অফিসে যাবো না। কেনো....।~তিশা। আজ তোকে নিয়ে সারাদিন ঘুরবো, সোপিং করবো।তার পর কাল আমরা ঝুমুর আপুর গায়ে হলুদে যাবো। ওকে,,,তাই ফ্রেস হয়ে নাস্তা করে রেডি হো তারাতারি। ওকে....বলেই ওয়াসরুম এর দিকে দৌড় দিলাম আমি।~তিশা। আরে দাঁড়া, দেখ চলো গেলো।যাক ভালোই হলো কালকের কোনও কথা মনে না পরলেই ভালো।তাই আজকের দিনটা সারাক্ষন তোর সাথেই কাটাবো।~জিসান। তিশা ও জিসান নাস্তা করে রেডি হয়ে বেরিয়ে গেলো।সোপিং শেষ করে দুজনে বাহিরেই দুপুরের খাবার খেয়ে নিলো।এর পর জিসান তিশাকে শহর থেকে একটু দূরে একটা ঝিলের সামনে নিয়ে গেলো,চারদিকে সবুজ, কিছু দূরে কাশফুলও দেখা যাচ্ছে অনেকেই এই জায়গাটা চিনেনা বলে লোকজনও কম আসে,কিন্তু জায়গাটা সুন্দর, তিশার খুব পছন্দ হয়েছে। ওরা একটা গাছের ছায়ায় গিয়ে বসলো।চারদিকে সুন্দর বাতাস বইছে,আর বাতাসে তিশার চুলগুলো উড়ছে।তিশা সামনের ঝিলের দিকে তাকিয়ে আছে আর জিসান তার মায়াবী তিশার দিকে। জায়গাটা অনেক সুন্দর, আপনে এখানে আগে এসেছেন।~তিশা। জিসান সামনের দিকে তাকিয়ে,হুমমমম,আমি রায়হান আর কিছু ফ্রেন্ডস যখনি সময় পেতাম এখানে এসে আড্ডা দিতাম।পছন্দ জায়গা গুলোর মধ্যে এটি। এভাবে অনেকক্ষন থাকার পর জিসান ও তিশা সন্ধ্যার দিকে রওনা দেয়।রাতের ডিনার ও বাহিরে করে বাসায় চলে আসে। পরের দিন..... তিশা সব গুছিয়েনে মনে করে।আমরা কিছুক্ষন পরই রওনা দেবো,ঝুমুর আপু ফোন দিয়ে পেরেশান করে ফেলছে। আমার হয়ে গেছে,শুধু শাড়ীটা চেন্জ্ঞ করে আসি।আমি শাড়ীটা নিয়ে ওয়াসরুমের দিকে পা বাড়াতে নিলেই জিসান আমার হাতটা ধরেই কাছে টেনে আনে,উনার বুকে আমার পিঠ ঠেকিয়ে আমাকে জরিয়ে ধরে,আমার কাধে নিজের থুতনি টা রেখে,কোথায় যাস। শাড়ী চেন্জ্ঞ করতে,ছাড়ুন দেরি হয়ে যাচ্ছে।~তিশা তাহলে ওয়াসরুম এ কেনো যাচ্ছিস।~জিসান ওয়াসরুম এ না গেলে কোথায় করবো।~তিশা। কেনো এখানে।ভ্রু কুচকিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে।~জিসান। ঠিক আছে তাহলে আপনে বাহিরে জান।~তিশা। কেনো.....!!!~জিসান কেনো আবার আপনে না বললেন,তাহলে রুম থেকে বের হন আমি রুমেই শাড়ী চেন্জ করি। আমি পারবো না বাহিরে জেতে,এখানেই আমার সামনে কর।~জিসান। কিকিকি,আমার চোখ কপালে উঠে গেছে।~তিশা। কি আবার কি,আমি মনে হয় পর কেউ যেভাবে রিয়েক্ট করছিস।আর কি এমন আছে যা আমি দেখিনি এখনো। জিসান তিশার দিকে একটু আড়চোখে তাকিয়ে,তুই কি এমন কিছু লুকিয়ে রেখেছিস যা আমি দেখিনি।কি রে....। উফফফফ এই লোকটার মুখে কিছু আটকায় না।কি সব আবোলতাবোল বলে।আমি কি লুকাবো আর।লুকানোর জিনিসতো দেখেই ফেলেছেন। ছারুন,,,,, নতুন করে দেখানোর কিছু নাই আমার কাছে। তাইইই,তাহলে এতো লজ্জা কিসের আমার সামনে চেন্জ করতে, শাড়ী খোল বলেই জিসান তিশার শাড়ীটা একটান দিয়ে খুলে ফেললো।অবশেষে তিশাকে নিজের সামনেই চেন্জ্ঞ করালো জিসান।জিসানের জিদের কাছে তিশার লাজ শরম হার মানলো। তিশা চুল আছড়াচ্ছে আর আয়না দিয়ে জিসানকে দেখছে।জিসান খাটে বসে আধোশোয়া হয়ে মোবাইল টিপছিলো।তিশা মনে মনে হাজারটা গালি দিচ্ছে জিসানকে।আর রাগে নিজের চুল আছড়াচ্ছে কম ছিঁড়ছে বেশি। গালাগালি কম কর আর ,আমার রাগ চুলের উপর কেনো দেখাচ্ছিস।আর একটা চুল যদি ছিড়ে মনে রাখিস কি করবো কল্পনাও করতে পারবি না।জিসান তিশার দিকে তাকিয়ে কথা গুলো বলছে। বদমাইশ ব্যাটা, আমার চুল আমি ছিড়লে তোর কি।এমন হাজারো কথা তিশা শুধু মনে মনেই করতে পারে।বলতে আর পারে না।যা আর আছড়াবো না।তিশা চুলগুলো একটা কাটা দিয়ে বেধে নিলো। জিসান আর চোখে দিয়ে সব দেখছে,আর মনে মনে হাসছে।তিশাকে মাঝে মাঝে রাগাতে ভালোই লাগে।তাইতো আজ এমন করলাম। এর পর দুজনেই রওনা দিলো।বিয়ে বাড়ীর উদ্দেশ্যে।সারা রাস্তায় জিসান টুকটাক কথা বললেও তিশা তেমন কিছু বলেনি একটু অভিমান করে। পৌছাতে পৌছাতে বিকেল হয়ে গেলো।তিশা এই প্রথম জিসানের কোন আত্মীয়র বিয়েতে এসেছে।আর অনেকেই তাকে দেখেনি,তাই বিয়ে বাড়ীতে আসতেনা আসতেই তিশা ব্যস্ত হয়ে পরলো,তিশার শ্বাসুড়ী এর সাথে ওর সাথে কতো মানুষের সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে,ব্যাচারী এসে বিশ্রাম ও নিতে পারছে না।হঠাৎ ঝুমুড় এসে সবার সামনে থেকে তিশাকে হাত ধরে নিয়ে জেতে লাগলো,,,, আরেরেরে আপু কি করছেন।এভাবে গরুর মতো টানছেন কেনো।উনারা কি ভাববে বলুনতো। ঝুমুড় একটা রুমের সামনে এসে বলে,দেখো তিশা কে কি ভাবছে, আমার যায় আসে না।কিন্তু তোমার কারনে আমার ভাই জিসান যদি চলে যায় এখান থেকে তাহলে আমি তোমাকে এই রাতের বেলায় পুকুরে ফেলে দেবো। কেনো আপু আমি কি করলাম। কি করলে মানে, এসেই তুমি ব্যস্ত হয়ে পরলে,আমার ভাই যে তোমার কারনে না খেয়ে আছে তা খেয়াল করছো। কেনো না খেয়ে আছে, আমি কি খেতে মানা করেছি তাকে,নাকি এখন তাকে আমার খাইয়ে দিতে হবে। হে তাইই দেও,যাও। ও তোমার জন্য এখনো না খেয়ে আছে,বলে তুমি নাকি সারাদিন কিছু খাওনি তাই তোমার সাথেই খাবে। আমি রুমে গেলে আপু বাহির থেকে দরজাটা লাগিয়ে দেয়।জাতে কেউ এই রুমে না আসে।আমি গিয়ে দেখি সাহেব শোফায় বসে মুখ ফুলিয়ে মোবাইল টিপসে। আমি তার সামনে বসে জিঙ্গেস করলাম সমস্যা কি। উনি আমার দিকে একবার তাকালো আবার সাথে সাথে চোখ সরিয়ে ফেললো। কি হলো কথা বলছেন না কেনো,আর এখনো খাবার খাননি কেনো।সোজা হয়ে বসুন আমি খাবার বেরে দিচ্ছি। আমি খাবো না, তুই যা তোর কাজে।আমাকে নিয়ে ভাবতে হবে না।মুখটা ফুলিয়ে।~জিসান। তাইইই,আমি ভাববো না তো কে ভাববে বলুন।নাকি এসেই কোন শাঁকচুন্নি কে পেয়ে গেছেন। জিসান আমার দিকে রাগি লুক নিয়ে তাকিয়ে আছে,মনে হয় চোখ দিয়ে খেয়ে ফেলবে। আমি ভাতটা মেখে তার মুখের দিকে ধরলাম,নিন খান।কি হলো।কিন্তু সে মুখ খুললো না। আমি নিরাশ হয়ে তার দিকে তাকিয়ে বললাম,আমি কি করবো বলুন তো,মা আমাকে বাড়ীর মুরুব্বিদের মাঝখানে বসিয়ে দিয়েছে।আমি তাকে কি করে বলবো তার পাগল ছেলে যে আমাকে সামনে না পেলে মুখ ফুলিয়ে বসে থাকবে।বলুনতো কি ভাববে তারা। আমারও অনেক ক্ষুধা পেয়েছে কেউ যদি না খায় তাহলে আমি আর খাবোনা।কেউ যদি মনে করে তার একাই জিদ আছে, তাহলে ভুল আমিও তার বউ আমারও কম জিদ না।এই বলে উঠে চলে জেতে নিলে,আমার হাতটা ধরে ফেলে।আমার দিকে ঘুড়ে হ্যা করলে আমি খাইয়ে দি।এবং নিজেও খেতে থাকি। ঝুমুর আপু এসে,আআআআ কি রোমান্টিক দৃশ্য। তোদের দেখে তো আমারি হিংসা হচ্ছে। তাহলে আমাদের দেখো কেনো,নিজের হবু বরকে গিয়ে দেখো। চলবে..... ভাইয়ের বন্ধু যখন বড়???? writer-TaNiA Part-31 আজ ৫ মাস চলছে,, তিশা চলে গেছে জিসানকে ছেড়ে, জিসানের ভালোবাসাকে ত্যাগ করে,ঘর সংসার,মা-বাবা, এমনকি প্রিয় ভাইকেও ছেড়ে চলে গেছে।এই পাঁচ মাসে সবাই কিছুটা স্বাভাবিক হলেও একজন মানুষ এখনো স্বাভাবিক হতে পারেনি। আর মনে হয় পারবেও না,সে হচ্ছে জিসান। তিশা চলে যাবার প্রথম একমাস নিজেকে ঘরে বন্দি করে রেখেছিলো।রাতদিন ঘর থেকে বের হতো না,সারা দিন তিশার ছবির দিকে তাকিয়ে থাকতো।নাওয়া খাওয়া দাওয়ার কোন ঠিক ছিলো না।কেউ এসে জোর করে কিছু খাইয়ে দিলে খেয়ে নিতো।করো সাথে কোন কথাও বলতো না।দিনটা যেমন তেমন পার হতো কিন্তু রাতটা জেনো জিসানের পারই হতে চেতো না।প্রতিরাতেই জিসানের ঘর থেকে কান্নার শব্দ পাওয়া যেতো।যা শুনে পরিবারের সবাই কস্ট পেতো কিন্তু জিসানকে এই কস্ট থেকে মুক্তি করার কোন পথ জেনো খুঁজে পাচ্ছিলো না কেউ। জিসান তিশার স্মৃতি গুলো বুকে নিয়েই যেনো পার করছে।বলতে গেলে বেঁচে আছে। অতিত.... আজ ও মনে আছে সেই দিনের কথা, ঝুমুর আপুর গায়ে হলুদে তিশা নিজ হাতে আমাকে খাইয়ে দিচ্ছিলো,আর তা দেখে ঝুমুর আপু কতো কথা বললো,তার সাথে কিছুক্ষন পর তাল মেলাতে আমার বাকি সব কাজিনরা ও চলে এলো।তারাতো হাসাহাসি করছে আমাদের ভালোবাসা দেখে। কিগো ভাবী, মামীর কথার জবাব দিলানা।~দিশা। কি কথা রে.....~জিসান। ভাবীর চুন্নুমুন্নু কবে আসবে।~কাজিন দিশা। ওওও এই কথা মামীকে বলে দিস প্রসেসিং চলছে।রেজাল্ট খুব শীঘ্রই পাবে।তিশার দিকে তাকিয়ে এক চোখ টিপ মারে জিসান। আর তখনিই সবাই হো হো করে হেসে দিলো। আমি তো অবাক এই লোকটার কথা শুনে,এই লোকটার আসলেই লজ্জা শরম নেই।বড় ছোট কিছু মানে না, ভাইবোনদের সামনে কিসব বলছে।মনে মনে~তিশা। আমি একটু রেগেই বললাম,এই আপনে চুপ থাকবেন।কিসব বলছেন।এখানে বড় আপু বসে আছে। দেখ তিশা তুই মাইন্ড করলে করতে পারিস, কিন্তু এরা কেউ মাইন্ড করবে না।কারন এগুলো একেকটা বদের হাড্ডি একটু সুযোগ পেলে বাসর রাতে কি করেছি তা জানার জন্য উঠে পরে লেগে যাবে।~জিসান। আমি জানতাম আপনেই একজন বেহায়া এখন তো দেখছি সব গুলো একি দলে আপনারা।~তিশা। আহা ভাবী রাগ করো কেনো আমরা তো একটু মজা করি।এছাড়া আর কিছু না।আর আমাদের শখ নেই তোমার বাসর রাতের কাহিনী শোনার,তা আমরা আগেই জেনে গেছি।~জিসানের কাজিনারা। আমিতো অগ্নি দৃষ্টিতে জিসানের দিকে তাকালাম,ব্যাচারা এই প্রথম আমাকে মনে হয় ভয় পেলো।~তিশা। ভয়ে ব্যাচারা শুকনো একটা ঢোক গিললো।দেখ বউ আমি কিছু বলেনি।এসব কি বলার জিনিস।এই পিচ্ছি গুলো ঈদানিং বেশি পেকে গেছে।আপুর বিয়ের পর এগুলো সবাইকে এক এক করে বিদায় করতে হবে।~জিসান। যে দলের বুইরার লাজ শরম কম থাকে,সে দলের পিচ্ছিরা তো পাকবেই।বলে চলে গেলাম এখান থেকে এখানে থাকলে আমিও পাগল হয়ে যাবো।~তিশা। আরে কই যাস দাঁড়া,তোর বুইরাটাকে সাথে করে নিয়ে যা।আরে দেখলি তোদের করনে আমার বউটা রাগ করলো।~জিসান। হইছে ভাইয়া আর বলতে হবে না,এবার যাও,তোমাকে ডাকছে বাহিরে।জিসানও চলে গেলো। সন্ধ্যায় হলুদ আরম্ভ হলো,আজ তানজিলা তিশাকেও খুব সুন্দর করে সাজিয়ে দিলো।নরমালি তিশা এতো সাজে না,তাই তানজিলা একটু জোর করেই সাজিয়ে দিলো।আজ তো তিশার দিক থেকে চোখ ফেরানো যাচ্ছে না। দেখো আমি বলে দিলাম জিসান আজ তোমাকে দেখলে আবার প্রেমে পরবে।তিশাকে আয়নায় দাঁড় করিয়ে তানজিলা কথাগুলো বললো। তানজিলা ভাবীর কথা শুনে আমার নিজেরি লজ্জা লাগছে।আমিও তাই জিসানের রিয়েকশন দেখার জন্য রুমে গেলাম যেখানে জিসান রেডি হচ্ছিলো।হলুদ কালার পান্জাবী, বুকের সামনে একটা ময়ূরী দেয়া স্টোনের, দেখতে আমার হিটলার টাকে কোনো হিরোর থেকে কম লাগছে না,তাই আমিও ঢেং ঢেং করতে করতে জিসানের সামনে দাঁড়ালাম। রেডি হচ্ছিলাম,এমন সময় আয়নায় তিশাকে দেখতে পেলাম,ওকে দেখে আমার মেজাজটা বিগড়ে গেলো,এতো সাজগোজ কেনো,আরে নিজের বিয়েতেও এতো সাজতে দি নাই আর এখানে মহারাণী অন্যের বিয়েতে পরী সেজে ঘুরছে।ওকে দেখলে যে কোন ছেলের মাথা নস্ট হয়ে যাবে।তখন আমার হবে যন্ত্রণা।~জিসান। বলেনতো আমাকে কেমন লাগছে।~তিশা। এভাবে সং সেজেছোস কেনো,অনেকটা ধমক দিয়ে। চোখে মুখে এসব কি,এতো সাজগোজ কোন খুশিতে।আমাকে দিয়ে হয়না নাকি আশিক আরো লাগবে তোর। কার জন্য সেজেছিস। আমি না তোকে এসব লাগাতে মানা করছি,বলেই একটা টিসু নিয়ে আমার ঠোঁটের লিপস্টিক টা নিজেই মুছতে লাগলো এতে লিপস্টিক ঠোঁটের চারপাশে আরো ছড়িয়ে গেলো।টিসুটা ছুড়ে ফেলে,এখনি মুখ ধুয়ে আস।আর এসব কিছু খোল।,,,,আমি কি বলছি কানে যায় না। আমি সামনে দাঁড়াবার সাথে সাথে জিসান চিল্লিয়ে উঠলো।আমি ওর চিল্লানি তে বিষণ ভয় পেয়ে গেলাম,কারন এর আগে এমন কখনো করেনি।আমি কিছুই বোঝার আগে নিজেই লিপস্টিক মোছার চেস্টা করলো,না পেড়ে আমাকে মুখ ধুতে পাঠালো,আমার মন চাইছিলো উনার মাথাটা ফাটিয়ে ফেলি,শয়তান,বজ্জাত নিজে নায়ক সেজে যাবে,কিন্ত আমি সাজলে দোষ। আমি তারাতারি মুখ ধুয়ে শাড়ীটা পাল্টিয়ে নিলাম।হালকা গহনা আর একদম সিম্পল সাজ দিলাম।আর এতোক্ষন উনি মুখ ফুলিয়ে বসে বসে দেখছিলেন আমি কি করি।আমি রেডি হয়ে বাহিরে চলে গেলাম,পুরো গায়ে হলুদে আমি আর কোন কথাই বলিনি উনার সাথে।তানজিলা ভাবী আমাকে দেখে ৪২০ ভোল্টেজ ঝটকা খেলো মনে হয়। তিশা এসব কি কতো কস্ট করে সাজিয়ে ছিলাম তোমায়।আর তুমি....!!!! ভাবী আপনিতো জানেন আমি বেশি সাজিনা,আমার খুব অস্বস্তি লাগছিলো তাই...ওসব খুলে ফেলেছি। সত্যিই তাই, নাকি জিসান কিছু বলেছে।~তানজিলা। আরে না ভাবী,চলুন আপুকে হলুদ দিয়ে আসি। হুমমমম,চলো।~তানজিলা। জিসান দূর থেকে তিশার কথা গুলো শুনেছে।তিশা কখনো ওদের স্বামী স্ত্রীর কথা কাউকে বলে না।তিশার এই দিকটা জিসানকে সব সময় মুগ্ধ করে। জিসানকে কেউ খারাপ ভাবুক তা ও চায়না।কারন জিসান কেমন আর কেনো করে তা তিশা দেরিতে হলেও বুঝে। সেদিন জিসান চুপি চুপি কিছু পিক তুলে ছিলো, সে ছবি গুলো আজ দেখছে আর চোখ দিয়ে মনে অজান্তেই অশ্রু জরছে। কেনো করলি তিশা আমার সাথে এমন, কেনোওওওওও....।কিকিকিকিকি দোষ ছিলো আমার। কেনো এতো কস্ট দিলি আমায়।কেনো আমায় ছেড়ে গেলি,কি নিয়ে বাঁচবো আমি,কি নিয়ে থাকবো।বল তিশাশাশা। হাতের ফোনটা আছাড় মেড়ে।আমি তোকে কোনদিন ক্ষমা করবো না তিশাশাশা। কোনদিনও না। জিসান ওর মাথাটা ধরে চিৎকার করে বসে পড়লো, জিসানের চিৎকার শুনে বাড়ীর সবাই এসে পড়লো।জিসান ওর মাকে জরিয়ে কাঁদতে লাগলো। মা আমার তিশাকে এনে দেও,প্লিস মা।আমি যে ঘুমাতে পারছি না মা,আমি যে শান্তি পাচ্ছি না।আমার নিশ্বাস জেনো বন্ধ হয়ে আসছে।মা আমার তিশা চাই।যেখান থেকে পারো এনো দেও।মাআআআআআ.....বলেই জিসান কাঁদতে লাগলো।ঠিক একটা ছোট বাচ্চার মতো। সামনে দাঁড়িয়ে তানজিলা ও নিশিও কাঁদছে। আর তাওহিদ নিরবে সব দেখছে।কিন্ত তাওফিক সাহেব ছেলের এমন অবস্থা সইতে না পেড়ে সেখান থেকে চলো যায়। জিসান কাঁদতে কাঁদতে এতোটাই ক্লান্ত হয়ে যায় যে,জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।।সবাই অনেক চেস্টা করেও যখন জ্ঞান ফিরাতে না পারে তখন তাড়াতাড়ি সবাই জিসানকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।রায়হান খবর পেয়ে হাসপাতালে চলে আসে। সবাই রুমের বাহিরে দাঁড়িয়ে আছে,ডাক্তারে এর জন্য।ডাক্তার নাঈম জিসানকে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।অবশেষে জিসানকে দেখে বাহিরে বের হয়ে আসে। কি হলো নাঈম সব ঠিক আছে।জিসান কেমন আছে।~তাওহিদ। ভাইয়া ও মনে হয় অনেক রাত না গুমিয়ে কাটিয়েছে,তার উপর শরীল অনেক দূর্বল, মনে হয় টিক মতো খাওয়া দাওয়া করে না,আর এভাবে ও শারীরিক ও মানসিক সব ভাবে ভেঙ্গে পরছে।এখন তো ঠিক আছে,কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে বেশিদিন ঠিক থাকবে না।ওকে যতো তারাতারি পারেন স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনেন।আমি কি বলছি আপনে বুজতে পারছেন। হুমমমম,তুমি চিন্তা করো না,আমি আমার ভাইকে এভাবে ভাঙ্গতে দেবো না। আমি ওকে স্যালাইন আর ঘুমের ওষুধ দিয়ে দিয়েছি,তাই ও আজ রাত আর উঠবে না,একজন বাদে সবাই চলে জেতে পারেন।~নাঈম। ঠিক আছে,,,,,,,তাওহিদ গিয়ে ওর মার পাশে বসলো,তাওহিদ এর মা এখনো কান্না করছে।মা প্লিস কান্না বন্ধ করো,জিসান ঠিক আছে।তোমরা চলে যাও, আমি আছি জিসানের সাথে। তাওহিদ আমার জিসানকে বাঁচা বাবা।ও নিজেকে শেষ করে দেবে,মা হয়ে আমি আর দেখতে পারছি না।আমার ছেলেকে ফিরিয়ে আন তাওহিদ। আমি যে আর পারছি না.... তুমি চিন্তা করোনা,আমার ভাই এতোটা দূর্বল না,ওকে আমি আবার আগের জিসান করে তুলবো,তুমি একটু ধৈর্য্য ধরো,আর আল্লাহ কে ডাকো। সে রাতে তাওহিদ আর রায়হান বাদে সবাই চলে যায়। ঠিক তিনদিন পর জিসানকে বাসায় নিয়ে আসা হয়,বাসায় আনার পর জিসানকে কেউ একলা থাকতে দেয়না,কেউনা কেউ সারাক্ষন ওর সাথে থাকে। কিন্তু রাতে জিসান কাউকে সাথে থাকতে দেয় না।ও একলাই থাকবে,বলে সবাইকে জানিয়ে দেয়। কিন্তুু রাতে তাওহিদ এসে ওর পাশে বসে।নিজে একটা সিগেরেট জ্বালিয়ে জিসানের দিকে এগিয়ে দেয়। কেনো আসছো ভাইয়া,আমি এখন ঠিক আছি,আমাকে নিয়ে টেনশন করোনা।এতো তারাতারি মরবো না। কিন্তু সবাইকে মারার প্লানিং করছিস।~তাওহিদ। জিসান ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে আছে। তুই কস্টে থাকলে আমরা কিভাবে সুখে থাকবো বল।তুই কি আমার ভাই বলতো,আমার ভাই কবে থেকে এতোটা দূর্বল হয়ে পরেছে।~তাওহিদ। ভালোবাসার মানুষটা যখন পাশে না থাকে,তখন নিজেকে এমনেই দূর্বল মনে হয়,তুমি বুঝবে না, হারানোর বেদনাটা কি। জানোস জিসান তোর ভাবীকে বিয়ে করার আগে এক মেয়ের সাথে আমার ৩ বছর রিলেশন ছিলো।অনেক ভালোবাসতাম তাকে।এতোটাই যে ওকে ছাড়া নিজেকে চিন্তাও করতে পারতাম না।কিন্তু একদিন ও নিজে থেকে সম্পর্কের ব্রেকআপ করে নিয়েছে,কারণ কি ছিলো জানিস।ও জয়েন ফ্যামিলিতে নিজেকে এডজাস্ট করতে পারবে না।তখন নিজেকে খুব অসহায় মনে হয়েছিলো।সব কিছু শেষ করে দিতে মন চাইছিলো।ঠিক তখনি আমার জীবনে আশার আলো হয়ে তানজিলা আসলো।তানজিলা আমার ব্রেস্ট ফ্রেন্ড ছিলো ও আমার সম্পর্কে সব জানতো, তবুও আমার হাতটা শক্ত করে ধরে রেখেছিলো।বাসর রাতে আমি ওকে বলেছিলাম আমি হয়তো আর ভালোবাসতে পারবো না।কিন্তু তোর ভাবী কি বলেছিলো জানিস, সমস্যা নেই,আমি শিখিয়ে দেবে।আজ দেখ তোর ভাবী আমাকে নতুন করে ভালোবাসতে শিখিয়ে দিয়েছে।আজ আমার মনে হচ্ছে তানজিলা ই আমার জন্য, বেস্ট তাইতো আল্লাহ ওকে আমার সাথে একই সুতায় বেধে দিলো। জিসান কিছুক্ষন ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে,তুমি কি আমাকে তিশাকে ভুলে জেতে বলছো।তিশা আমার গার্লফ্রেন্ড না বউ ভাইয়া। তাইতো ওকে ভুলতে বলছি না,ওকে খুঁজে বের করতে বলছি।ওকে খুঁজে বের কর,তার পর সামনে বসিয়ে জিঙ্গেস কর কেনো ও তোর সাথে এমন করলো।কি এমন হয়েছিলো,যার জন্য ও তোকে ছেড়ে যাওয়ার মতো এতো বড় একটা সিদ্ধান্ত নিলো।ও কোথায় গেছে, কোথায় আছে,এসব জানতে হলে তিশাকে আগে খুঁজে বের করতে হবে।আর আমি জানি তিশাকে তুই ছাড়া কেউ খুঁজে বের করতে পারবে না,তাই আগে তোকে আগের জিসান হতে হবে।এভাবে দেবদাশ হয়ে থাকলে তুই কখনো তিশাকে পাবিনা।তাই বলছি ভাই, ঘর থেকে বের হো।নিজেকে শক্ত কর।আর মাঠে নেমে আস। জিসান অবাক হয়ে ভাইয়ের কথাগুলো শুনলো।ভাই আগে কেনো আসলে না,,,, তুমি ঠিকই বলছো,আমি বেকুবের মতো শোক পালন করছি।আর না.... অনেক হয়েছে।জিসান এবার নিজেই একটা সিগেরেট ধরিয়ে তিশার একটা ছবি দেয়ালে লাগানো তার সামনে এসে দাঁড়ালো, তুই যেখানে থাকোস,তকে আমি খুঁজে বের করবো।দুনিয়ায় যেই প্রান্তেই থাকোস তোকে আমার থেকে কেউ বাঁচাতে পারবে না।কেউ না।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১৪০৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভাইয়ের বন্ধু যখন বর

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now