বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ভাই
লেখকের কথা-১
প্রশ্ন একটাই, কে আমি?
উত্তর কিন্তু একটা না, অসংখ্য।
বুঝতে পারছেন না? বুঝিয়ে বলব?
ক্লাসে গিয়ে পিছনে বসে মজা মেরে আড্ডা দিচ্ছেন, কানের তিন হাত উপর দিয়ে চলে যাচ্ছে লেকচার - বলুন তো, কে আপনি? উত্তর, ফাঁকিবাজ ছাত্র।
বাজার থেকে সস্তায় ইলিশ কিনে বাসায় ফিরে বিশাল ভাব নিয়ে বউয়ের সামনে দাঁড়িয়েছেন, বউ দেখেই বুঝল ফরমালিন দেয়া - বলুন তো, কে আপনি? উত্তর, অনভিজ্ঞ ক্রেতা।
বাপ দিনের পর দিন ফোন করে আপনাকে পায় না, অথচ অপরিচিত নাম্বার থেকে কল এলে আপনি লাফ দিয়ে রিসিভ করেন - কে আপনি? কুলাঙ্গার সন্তান।
এরকম আর বহু উদাহরণ দিয়ে প্রমান করা যাবে যে, আপনি একটা - ‘ফকির’, ‘হ্যাংলা’, ‘ভিতুর ডিম’, ‘মেনি বিড়াল’, ইত্যাদি ইত্যাদি।
ফিলসফি বহুত ঝাড়লাম। এখন কাজের কথা বলি।
আমি কে? আমি অমুক, বাপের নাম তমুক।
এছাড়াও নিজস্ব যুক্তিতে আমি - ‘সন্তান’, ‘ছাত্র’, ‘ক্রেতা’, ‘দাতা’ - ইত্যাদি ইত্যাদি। (বিশেষণ ছাড়া অবশ্য)
তবে আমার আরও একটি পরিচয় আছে।
আমি একজন ‘বড় ভাই’।
কেমন বড় ভাই?
বাসায় গেলেই বিকট শব্দে ‘ভাইয়া’ চিৎকার দিয়ে একজন আমার বুকে ঝাপিয়ে পড়ে।
একজনের যত রকম আবদার আছে সব আমাকেই ধৈর্য ধরে শুনতে হয়।
বাবা-মায়ের উপর যত রাগ যত অভিযোগ সব আমার কাছেই ব্যক্ত করে একজন।
প্রতিটি গল্পের বই, কম্পিউটারের সামনে প্রতিটি মুহূর্ত, স্কুলের প্রতিটি ঘটনা, দুষ্টুমির প্রতিটি প্ল্যান - আমার সাথেই শেয়ার করে একজন।
প্রতিরাতে আমাকে পরম নির্ভরতায় জড়িয়ে ধরে রাত কাটে একজনের।
আমি চলে আসার সময় প্রতিবারই কান্নার রেকর্ড ভাঙ্গে একজনের।
এবার বলুন তো, আমি কেমন ভাই?
হিংসা হচ্ছে নাকি, প্রিয় পাঠক? আমাদের সুন্দর-স্নিগ্ধ-শুভ্র সম্পর্ক কি আপনার হৃদয়কে দগ্ধ করছে ঈর্ষার আগুনে?
যদি তাই হয়, তবে আসুন, আরও কিছু ভিতরের কথা জানি। এগুলো শুনতে আপনার ভাল নাও লাগতে পারে; তাই অতিসংবেদনশীল পাঠককে এই লেখার বাকি অংশ টুকু না পড়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।
*******************************
একটি নিছক গল্প
আমি যখন ক্লাস টুতে, তখন আমার ভাইয়ের জন্ম হয়।
আমি নিজে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে হয়েছিলাম। তাই পরের সন্তান নেবার সময় আব্বু আম্মু বেশ দেরি করেছেন। এ কথাটা অবলীলায় বলে দিলাম, আমি তো এখন আর ছোট নই।
ছোটবেলা থেকেই আমি পড়াশোনায় ভালো ছিলাম। তাই আমাকে নিয়ে বাবা-মার কখনই বেশি চিন্তা করতে হয় নি। ছোটভাইয়ের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ঠিক উলটো হল।
ও কিছুটা বড় হল।
দেখা গেল, পড়াশোনায় আমি যতটাই ভাল, ও ততটাই খারাপ।
আম্মু সারাদিনই ওর পিছনে লেগে থাকতেন।
টুতে পড়ার সময়ই ও সারাদিন স্কুল করে বিকালে কোচিঙে যেত। তারপর সন্ধ্যায় এক ম্যাডামের কাছে পড়ে রাতে সবচেয়ে বড় ম্যাডাম, ‘আম্মু’ ম্যাডামের কাছে পড়তে বসত।
‘আম্মু’ ম্যাডামের পড়ানোতেই রাত এগারটা বেজে যেত। তারপর শ্রান্ত ক্লান্ত ছোটভাই সারাদিনের পড়া মাথায় নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ত।
সকাল থেকে আবার আগের দিনের পুনরাবৃত্তি।
আম্মু ছিলেন সরকারি চাকুরে। আব্বু বিশাল শিল্পপতি। একজন বিশাল শিল্পপতি যে কেন তার স্ত্রীকে সরকারি চাকরি করতে দিলেন - এটা ছিল বিশাল এক রহস্য। বোধহয় আম্মুর ego-র কাছে শিল্পপতি সাহেবের টাকার জোর পরাজিত হয়েছিল।
আমার ভাই যখন থ্রি-তে, আমি তখন SSC দিলাম। SSC-র পরেই বেশ বড় একটি ছুটি পেলাম।
তখনি আম্মু আমার কাঁধে ছোটভাই পড়ানোর মহান দায়িত্বটি অর্পণ করলেন।
প্রথম দুএকদিন বেশ ভালই কেটে গেল।
তৃতীয় দিনের মাথায় সন্ধ্যার সময় আম্মু ছোটভাইকে English পড়াচ্ছিলেন।
কি একটা ইংরেজি শব্দের অর্থ আমার ভাই ভুল বলল।
আম্মু নিজেও শিওর ছিলেন না। ভাইকে জিজ্ঞেস করলেন, “বইতে আছে?”
ও উত্তর দিল, “ভাইয়া শিখিয়েছে”।
আমি তখন পাশেই বসে ছিলাম। ভুলটা ধরিয়ে দিতে যাব, এমন সময় দেখি আম্মু আমার রেফারেন্স মেনে নিয়ে আরেকটা শব্দে চলে গেলেন।
হঠাৎ পরিবারে আমার অবস্থানটা দেখে আমার মাথা ঘুরে গেল। ভাল ছাত্র হবার এত সুবিধা?
ব্যাপারটা আমার মাথার ভিতর ঘুরপাক খেতে লাগল। ঘুম এল না অনেক রাত পর্যন্ত। বারবার মনে পড়ল বিভিন্ন সময়ে ছোটভাইকে দেয়া আম্মুর ডায়লগ -
‘তুই তো একটা গাধা’।
‘তোর ভাইয়ার পা ধুয়ে পানি খেলেও তুই ভাল করতি’।
‘তোর ভাইয়া ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হবে, আর তুই হালচাষ করবি’।
‘আর একবার ফেল করলে তোকে রিকশা কিনে দেব, তোর আর পড়াশোনার দরকার নাই’।
ইত্যাদি ইত্যাদি।
সেই রাতে আমার মনোজগতে একটা বড় ধরনের চেঞ্জ হল। যা আমি ছাড়া আর কেউ ধরতে পারল না।
I made a plan.
পরদিন ভাইকে পড়ানোর সময় আমি বললাম, ‘আম্মু তোমাকে সারাদিন খুব বকে, তাই না?’
ও বলল, ‘হ্যাঁ ভাইয়া, সারাদিন’।
আমি বললাম, ‘ঠিক আছে, তোমাকে আর এত পড়তে হবে না। আমার কাছে তোমার পড়াশোনা করার দরকার নাই। সন্ধ্যায় তুমি গল্পের বই পোড়ো, আম্মু জিজ্ঞেস করলে আগের পড়া দেখায়ে দিবা’।
ছোটভাইয়ের চোখে আলো ঝিলিক দিয়ে উঠল। ‘তাই?’
আমি ওকে জড়িয়ে ধরে বললাম, ‘ছোটো, তুমি একদিনে যতটা পড়াশোনা কর, আমি তো কখনই ততটা করতাম না। এত পড়ার কোন দরকার নেই। আম্মু তো বোঝে না, তাই খালি বকে আর পড়তে বলে। কিন্তু আম্মুকে বোল না আবার যে আমি গল্পের বই পড়তে বলেছি...’।
আমার প্ল্যান কাজ করা শুরু করল।
যথারীতি ছোটভাই পরের পরীক্ষাতে ফেল করল।
আম্মু এসে করুণ মুখ করে আমাকে বললেন, ‘ওর কি হবে আব্বু? সারাদিন পড়েও যদি না পারে...তোমার ব্রেনের এক পারসেন্টও যদি ওর মাথায় থাকত...’
আব্বু কিন্তু অতটা হতাশ হলেন না। বললেন, ‘অত চিন্তা কোর না তো। ওর (আমার) কাছে পড়লেই ......( ছোটভাই) আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে।
আর আমি ওকে একটা সুন্দর খেলনা হেলিকপ্টার কিনে দিলাম। ভাবখানা এমন, এটা পরের পরীক্ষায় ভাল করার উৎসাহ প্রদানের জন্য।
ক্লাস ফোরের ফাইনাল পরীক্ষা। ছোটভাই আবার ভেলকি দেখাল। দুই মার্কের জন্য ফেল করল।
তাকে টানা তিন ঘণ্টা বাথরুমে আটকে রাখা হল।
তার পিঠে ভাঙ্গার জন্য পেয়ারা গাছের নয়টা ডাল ভেঙ্গে আনা হল।
সাতটা ভাঙল ওর পিঠে। আর দুইটা আমার পিঠে। ওকে সেভ করতে গিয়ে।
এর ঠিক তিনদিন পরে আমি ফুটপাথ থেকে একটা পর্নোগ্রাফিক পত্রিকা কিনলাম।
আমি খারাপ ছেলে নই, পত্রিকাটা আমি হাত দিয়ে স্পর্শ করিনি। পুঁচকে দোকানি নিজেই পত্রিকাটা ব্যাগে ঢুকিয়ে দিল।
বাসায় এসে আমি ময়লা মোছার কাপড় দিয়ে ধরে পত্রিকাটা ছোটভাইয়ের ড্রয়ারের মধ্যে ঢুকিয়ে রাখলাম।
বিকালে ড্রয়ার খুলতে গিয়ে ও টের পেল ব্যাপারটা। সোজা আমার কাছে পত্রিকাটাকে নিয়ে এল সে।
‘এটা কী, ভাইয়া?’
‘কোনটা?’
আমি ভ্রূ কুঁচকে তাকালাম। ‘কী এটা?’
‘জানিনা। কে যেন ড্রয়ারে ঢুকিয়ে রেখেছে’।
‘কে রেখেছে? যাও ভাগো, আমি পড়াশুনা করছি।‘
আমি হাত নেড়ে ওকে তাড়িয়ে দেবার ভঙ্গি করলাম। ও হতভম্ব হয়ে গেল। এরকম ব্যবহার ও কখনই আশা করে নি।
ও চলে গেল।
আমি জানি ও এখন কি করবে। দরজা বন্ধ করে বইটা পড়বে।
সত্যি কথা বলতে কি, আমি তা-ই চাই।
It’s a part of my plan.
এক বছর পর।
ফাইভের বৃত্তি পরীক্ষায় অনেকেই বৃত্তি পেল। আর সে পাশমার্কের অ্যানসার-ই করেনি।
তো যা হবার কথা, আম্মু তাকে বেদম মার দিলেন। এমন মার, ও বিছানায় পড়ে থাকল এক সপ্তাহ।
আব্বুর প্রেশার বেড়ে গেল। উনি খাওয়াদাওয়া একদম ছেড়ে দিলেন।
আর আমি একটা খারাপ সিডি এনে কম্পিউটারে সেভ করে রাখলাম। মাঝে মাঝে ওর বা ফ্রেন্ডরাও PC ইউজ করে, তাই সন্দেহের তীরটা যে আমার দিকে আসবে না, এটা আমি ভালই জানতাম।
সিক্সে সে কোথাও অ্যাডমিশন টেস্টে টিকলো না। আব্বু আম্মুর মধ্যে বিশাল ঝগড়া হল। আম্মু দরজা বন্ধ করে খাওয়াদাওয়া বন্ধ করে থাকলেন দুই দিন।
আমি বসে বসে দেখতে থাকলাম।
সিক্স-সেভেন-এইটে কোনমতে গেল। এরই মধ্যে আমার ভাই পুরোদস্তুর পেকে গেছে, ঠিক যেমনটি আমার প্ল্যানে ছিল।
আমি জানতাম, স্টারটিংটা ভালই করেছি, এখন ফলাফল এমনিতেই আসবে।
নাইনে খবর এল, ও ড্রাগ অ্যাডিকটদের সাথে মেলামেশা করে।
এবার আমার প্ল্যানের সেকেন্ড পার্ট।
ওকে অনেক করে বোঝালাম। অনেক। ওর পিছনে প্রচুর সময় ব্যয় করলাম। আব্বু তো আমার কেয়ারিং দেখে পুরো impressed হয়ে গেলেন। বললেন, ‘তুমি না থাকলে যে কি হত...’
শুধু আব্বু না, আশে পাশের সবাই কঠিন impressed হলেন। ঠিক যেমনটি আমি চেয়েছিলাম।
ও যখন প্রাইভেট ভার্সিটিতে পড়ে, তখন আমি কিছু ‘সম্ভ্রান্ত’ পরিবারের বাজে মেয়ের নাম্বার জোগাড় করলাম। ফেক ইমেইল আইডি বানিয়ে ওকে নাম্বারগুলো ইমেইল করলাম।
ফলাফল, দু মাস পর সে ‘রেপ’ করতে গিয়ে ধরা পড়ল।
মেয়ের বাপ মাইর দিয়ে তার ঠ্যাঙ ভেঙ্গে দিল।
যথারীতি, আমিই বোঝাবার দায়িত্ব নিলাম।
আব্বু আগে দুবার স্ট্রোক করেছিলেন। তৃতীয়বার আর থেকে স্ট্রোক থেকে রিকভার করতে পারলেন না।
অতঃপর বিশাল সম্পত্তি ভাগাভাগি করার সময় এল। প্ল্যানের থার্ড পার্ট।
দেখা গেল আব্বু উইলে সব সম্পত্তি তার ‘শিক্ষিত’ বড় ছেলেকে দিয়ে গেছেন।
আম্মু আর ছোটভাইকে দেখাশোনা করার দায়িত্বও তার।
আম্মুর জন্য বেশি ওয়েট করতে হল না।
চারমাসের মধ্যে তিনি আত্মহত্যা করলেন।
শেষ পর্যন্ত দৃশ্যপটে রইলাম আমি আর আমার ছোট ভাই। সবাই ভাবল, এবার আমি ওকে নিজের কাছে রেখে মানুষ করব।
আপনারাও কি তাই ভেবেছেন এতক্ষণ?
ভুল ভেবেছেন।
একটা ড্রাগ অ্যাডিকট, বখাটে, রেপিস্টকে তো আর আমি গ্রহণ করতে পারি না।
ওকে বললাম, ‘তোর মুখ যেন আর না দেখি’।
আমাকে মুখ দেখানোর কোন ইচ্ছা বোধহয় ওর আর অবশিষ্ট ছিল না। হয়ত ও আমার সামনে হীনমন্যতায় ভুগত। হয়তবা আমার তুলনায় নিজেকে পোকামাকড় জ্ঞান করত।
যাই হোক, ও চলে গেল। হয়ত চিরদিনের মতোই। কোথায় গেল জানি না।
আর বিশাল শিল্পপতির বিশাল সম্পত্তির মালিক হয়ে আমি খালি একটা কথাই ভাবতে পারলাম, ‘wow, that was a plan.’
***********************
লেখকের কথা-২
কি পাঠক, হতাশ? আরও ফাটাফাটি কিছু আশা করেছিলেন? সুন্দর একটা নোট ফ্রি ফ্রি পড়ার লোভে পড়ে হুদাই টাইম নষ্ট করার জন্য নিজেকেই কিলাতে ইচ্ছা হচ্ছে এখন?
কাজের কথা বলে শেষ করে দিই। আমি যে নিজেও একজন বড় ভাই সেটা আপনাদের প্রথমেই বলেছি। আমি বাসায় গেলেই আম্মু আমার মহাদুষ্টু ছোটভাইকে পড়ানোর জন্য আমাকে রিকুয়েস্ট করেন, যা আমি সযত্নে এড়িয়ে যাই। বরং ওর সাথে কম্পিউটার গেম খেলতে আমার মহা উৎসাহ। এই নিয়ে বাসায় একটু ঝগড়াঝাঁটিও হয়েছে। যাই হোক, পড়ানোর এই অনীহা নিয়ে অর্থহীন চিন্তা করতে করতেই আজকের গল্পটির জন্ম, প্রিয় পাঠক। অবশ্য গল্পে আমি চিন্তার ডালপালা ইচ্ছামত বিস্তার করার সুযোগ নিয়েছি, যা সাধারণত কোন ফ্যামিলিতেই ঘটে না তেমন ঘটনা উল্লেখ করেছি। আমার গল্প নিছক একটি গল্পই, এটি থেকে খারাপ কোন আইডিয়া নিলে কিন্তু তা কপিরাইট আইনের আওতায় পড়ে যাবে!
সবাইকে ধন্যবাদ।
-সালেহ তিয়াস
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now