বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অফিসে কাজ সেরে একদিন দুপুরে লাঞ্চ করার জন্য হোটেলে ঢুকবো তখনই হোটেলের পাশে বসা এক ভিখিরি হঠাৎ আমার হাত ধরে বললো, মাগো, পনেরো বছর হলো বিরিয়ানি খাই নাই, আমারে বিরিয়ানি খাওয়া। প্রথমে ভয় পেয়ে গেলাম। পরে বললাম, "চাচা আপনি দাড়ান। আমি বিরিয়ানি নিয়ে আসছি।" হোটেল থেকে এক প্যাকেট বিরিয়ানি কিনে চাচার হাতে দিলাম। বিরিয়ানির প্যাকেট হাতে নিয়ে তিনি খুব কাঁদলেন। বললাম, "চাচা আপনি কাঁদছেন কেন?" তখন চাচা বললো, "বিরিয়ানি আমার খুব পছন্দ। টাকার অভাবে খেতে পারতাম না। অনেকের কাছেই বিরিয়ানি খেতে চেয়েছি কিন্তু সবাই পাগল মনে করে এক টাকা, দুই টাকা দিয়ে চলে যেত।" বিরিয়ানির প্যাকেট নিয়ে চাচা তার পুটলির ভেতরে ভরলো।
চাচাকে বললাম, "চাচা আপনি বিরিয়ানি পুটলির ভেতরে ঢুকাচ্ছেন কেন, খাবেন না? " চাচা বললো, "বাড়ি গিয়ে বৌ আর নাতনিকে নিয়ে খাবো।"প্রশ্ন করলাম, "আপনার বৌ আছে, নাতনি আছে, তাহলে আপনি ভিক্ষা করেন কেন?" তিনি বললেন, তার বৌয়ের দুই চোখই অন্ধ আর নাতনির এক পা অবশ, কোনো কাজ করতে পারেনা। তিনি আরো বললেন,"ভিক্ষা করতে লজ্জা লাগে। কিছু টাকা পেলে কাজ করবো, ভিক্ষা করবো না।" তখন হোটেল থেকে আরো দুই প্যাকেট বিরিয়ানি কিনে চাচাকে দিয়ে বললাম, "চাচা তিন প্যাকেট বিরিয়ানি দিলাম, তিনজনেই পেট ভরে খাবেন"। আর তিন হাজার টাকা দিয়ে বললাম, "আজকে থেকে আর ভিক্ষা করবেন না, এই টাকাগুলো দিয়ে ছোটখাটো ব্যবসা করবেন"। চাচা খুশিতে কি করবেন যেন বুঝতেই পারছেনা।
চার মাস পরে একটা কাজে ইসলামপুর গেলাম। ছিলাম রিক্সায়। দেখলাম এক বয়স্ক লোক ছোট্ট একটা চায়ের দোকানে চা বিক্রি করছে, লোকটিকে চেনা চেনা লাগছে। রিক্সা থেকে নেমে সামনে গিয়ে দেখলাম ইনি সেই চাচা। সামনে যেতেই আমাকে চিনে ফেললেন এবং সালাম দিলেন। জিজ্ঞেস করলাম, "চাচা কেমন আছেন? " চাচা বললেন, "খুব ভালো আছি। এখন আমি ভিক্ষুক নই, চা বিক্রেতা। কারোর কাছে আমাকে আর হাত পাততে হয়না।"
সেইদিন আমার খুবই ভালো লাগল এটা ভেবে যে আমি একজন ভিখিরিকে তার পেশা পরিবর্তন করে অন্য পেশায় নিয়ে যেতে পেরেছি।
আমাদের দেশের বিত্তবানরা যদি সমাজের এ শ্রেণীর লোকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেয় তাহলে আমাদের দেশে আর ভিক্ষুক থাকবে না।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now