বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ক্লাসের শেষের বেঞ্চে বসে ছিলাম।একা,একদম একা। অনেকেই ডাকলো। কিন্তু গেলাম না। আমার তিনটা জায়গা। কবলা করাই ভাবতে পারেন। প্রথম সারির ডান দিকের বেঞ্চের ডান কোণ। আবার বাম দিকের বেঞ্চের বাম কোণ। অন্যথা দ্বিতীয় সারির বাম দিকের বাম কোণ।
অনেকে ডাকলো তাদের সাথে বসতে। কিন্তু আমি গেলাম না।
শাহার স্যার ক্লাসে এলো। আমাকে শেষের বেঞ্চে একা বসে থাকতে দেখলেন। কিছু বললেন না। ক্লাস করার সময়ও কিছু বললেন না। যখন ক্লাস শেষ হলো তখন তিনি ডান হাত উপরে তুলে তর্জনী দিয়ে আমাকে ইশারা দিয়ে ডাকলেন। আমি উঠে সামনে গেলাম। তিনি বললেন,তুমি আমার সাথে ছুটির পর দেখা করবে। আমি মাথা নেড়ে সায় দিলাম।
আমি ছুটির পর টিচার্স রুমে গেলাম। সেখানে ছুটির পরও কয়েকজন স্যার বসে গল্প করে। আজ দেখি কেউ নেই। শুধু শাহার স্যার একা বসে আছে। আমাকে দেখে আবার আঙুল ইশারায় ডাকলেন। আমি গেলাম।
-- বস,
-- না স্যার,
-- স্যার,এখানে আপনারা বসেন। আমি কিভাবে বসতে পারি?
-- এখন তো কেউ নেই,
-- না স্যার আমি দাড়িয়েই ভালো আছি।
-- ঠিক আছে। আচ্ছা, বলতো তোর কি সমস্যা?
-- না। আমার কোনো সমস্যা নেই।
-- আমি তো কিছুই বুঝি না, তাই না রে?
-- স্যার, এসব কি বলছেন।
-- তাহলে বল তোর কি হয়েছে।
-- স্যার, আসলে আমি কি বলি বলেন তো।
-- ওহ্! তুই আবার কি বলবি। আরে গাধা তুই আজ পেছনের সিটে বসেছিলি কেন?
-- এমনি।
-- সিট নিয়ে ঝগড়া লেগেছে?
-- কি যে বলেন স্যার ! এখনো কি সিট নিয়ে ঝগড়া করি নাকি!
আরো কিছুক্ষণ এরকম করে তিনি আমায় ছেড়ে দেন। এভাবে তিনি প্রায় ডাকেন।
একদিন আমি ওনার ক্লাসে খুব খুশি মনে ক্লাস করছিলাম। বসেছি সামনের বাম সারির বাম কোণে। আজও তিনি আমায় ডাকলেন। গেলাম ছুটির পর। তিনি বললেন, কি ব্যাপার! আজ তোকে এতো খুশি খুশি লাগছে।
-- হ্যাঁ স্যার। আজ আমি খুশি।
-- কেন? কি হয়েছে আজ।
-- স্যার, আমাদের সিনিয়র দিপকদাকে চেনেন তো।
-- হুমমম।
-- তাদের এলাকার ঐ স্কুলে একটা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলো।
-- ও হ্যাঁ। পাঞ্চালী ম্যডাম বলেছিলো। আর তুই নাকি দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছিস।
-- হ্যাঁ স্যার।
-- আর সেজন্যই আজ তুই খুশি?
-- একরকম সেটাই বলতে পারেন স্যার।
--তার মানে তুই এখনো কিছু লুকোচ্ছিস। যা এবার বলে ফেল তো কি হয়েছে।
-- আসলে স্যার কি যে বলি।
-- দেখ। আমি কিন্তু সব ছাত্রছাত্রীদেরকে বন্ধুদের মতো মনে করি। আর ওরাও আমাকে সব মনের কথা বলে।
-- আমি জানি স্যার।
-- আর কিছু বিষয় থাকে যা শুধু বেষ্ট ফ্রেন্ডকে বলা যায়। যেমন, কোনো মেয়ের ব্যাপার যদি হয়। তো তুই সেটা তোর বেষ্ট ফ্রেন্ডকেই বলবি?
-- আসলে স্যার তা নয়। যদি আমি আপনাকে সেটা বলি, তো আপনি আমাকে অহংকারী ভাববেন।
-- যদি অহংকার করার মতো কিছু থাকে তাহল অহংকার করতে দোষ নেই।
-- আসলে স্যার, কিভাবে যে বলি।
-- তোর মতো করে বল।
-- স্যার আপনি আমাদের সিনিয়র রবিকে(ছদ্মনাম) চেনেন তো। সে তো স্কুলের সর্বোচ্চ মার্কস পাওয়া ছাত্র। সে নিজেকে অনেক বড় ব্রিলিয়ান্ট ভাবে। ভাবুক তাতে ক্ষতি নেই। কিন্তু সেদিন ও....
-- কি হয়েছে বল।
-- ও অনেক কথা শুনিয়ে ছিল। একটা বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলো। আমি সেটা জানতাম না। আর ও বলেছিলো যে, তোদের মতো ছাত্র যে কেন স্কুলে আসে আমি বুঝি না। তো উচিৎ ছিলো গরুর মতো মাঠে কাজ করা।
-- এসব বলেছে! এবার বুঝলাম। তুই কেনো মন খারাপ করেছিলি। আর আজ কেন অত্যন্ত খুশি। আমি শুনেছি যে সেই প্রতিযোগিতায় রবি পঞ্চম স্থান লাভ করেছে।
-- হ্যাঁ স্যার। এটাই আমার গর্ব। আমি চারটি স্কুলের মধ্যে দ্বিতীয়। এতে গর্ব নেই। কিন্তু, আমি দ্বিতীয় আর রবি পঞ্চম। এটাই আমার গর্ব।
-- এটা অবস্যই। তুই এজন্য আমি গর্বিত। যে তুই রবির মুখে ঝামা ঘসে দিছিস। তো আজ তোকে কিছু কথা বলবি। রবি তোকে এভাবে বলেছিলো। তুই কষ্ট পেয়েছিস। একা একা। যদি তুই এটা কোনো বন্ধুর সাথে শেয়ার করতি তাহলে তোর এতোটা কষ্ট হতো না। কষ্ঠ ভাগ করলে কষ্ট কমে। আর সুখ ভাগ করলে সুখ বাড়ে।
-- কিন্তু স্যার। আমার কষ্ট অন্যরা কেন শুনবে। ওদের কাছে এসব শোনার সময় কোথায় !
-- ঠিক বলেছিস। কিন্তু একজন আছে। যার সাথে শেয়ার করা যায়। আর সে মনোযোগ সহকারে শোনে ও একটা বিহিত করে।
-- কে সে স্যার?
-- বেষ্ট ফ্রেন্ড।
-- কিন্তু স্যার আমার তো কোনো বেষ্ট ফ্রেন্ড নেই।
-- আমি জানি তাই তুই দেখ কে তোর সাথে মিশতে চায়।কে তোর সাথে যেচে থেকে কথা বলতে চায়। কে তোর সাথে বেশি ভাব জমাতে চায়। কে সব কথা তোকে খুলে বলে। কে তোর কাছে ঘেসতে চায়। তুই তাকেই বেষ্ট ফ্রেন্ড করে নে।
-- কিন্তু স্যার আমি তো কাউকেই দেখি না!
-- খোঁজ। অবস্যই একদিন পাবি।
-- তবে হ্যাঁ। তোর রাগকে কন্ট্রোলে রাখিস।
কতোদিন কেটে গেলো।আমি আমার রাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি নি। আর কারোর সাথে স্যারের দেয়া বর্ণনা অনুযায়ী মেলে না। তবু অপেক্ষায় আছি।
একদিন এলো সে। একটি অপরিচিত মেয়ে। সে আমাকে প্রথম একটা প্রশ্ন করলো। আমি উত্তর দিলাম। সে আমাকে আরো কিছু প্রশ্ন করলো।
আমি সেদিনই ঠিক করে নেই সেই হবে আমার বেষ্ট ফ্রেন্ড। তাই আমি তার সাথে মিশতে শুরু করি। কিন্তু কে জানে যে এমন হবে?
সে ভাবতে লাগলো যে আমি হয়তো তার সাথে প্রেম করতে চাই। তাই সে এরিয়ে যেতে লাগলো। তবুও আমি কখনো তার সাথে যেচে কথা বলতাম। কখনো সেও বলতো। কিন্তু একদিন সে কথা বলা বন্ধ করে দিলো। কারণ আমি তার সাথে একটা মজা করেছিলাম। আর তাতে সে ভাবলো যে আমি ওকে ভালোবাসি।।।
তাই ঠিক যে কখনও একটা ছেলের বেষ্ট ফ্রেন্ড কখনও একটা মেয়ে হতেই পারে না।
এই কথাটা আমাকে শাহার স্যার বলেনি। যে ছেলেদের বেষ্ট ফ্রেন্ড ছেলে। আর মেয়েদের বেষ্ট ফ্রেন্ড মেয়ে হয়।
এখন মনে হয় যে কখনো আমার জীবনে বেষ্ট ফ্রেন্ড না থাকাই ভালো। কারণ, পৃথিবীতে আমি একজনই আছি। যার ভাবনার সাথে কারোরই মিল নেই।তাই কোনো বেষ্ট ফ্রেন্ডও নেই।
তাছাড়া আমার রাগ আমার শত্রু। যার কারনে আমাকে সবাই ভয় পায় আমার সাথে মিশতে। এ রকম বদ মেজাজির সাথে কেইবা মিশতে চায়!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now