বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বেস্ট চাচা

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রায়হান আহমেদ (০ পয়েন্ট)

X এক ------ -এই তোকে বলেছিলাম না? ওইযে ওই বিষয় টা! আবারও খুব ঝামেলা করছে রে দোস্ত! -কী? কিসের মধ্যে কী বলছিস? কে ঝামেলা করছে? কিসের ঝামেলা? -ধুর।তোর এই এক সমস্যা,কিছু একটা বললে কোনদিন মনে রাখিসনা! -আরে রাগ করিসনা। ভুলে গেছি তো! ভুলে গেলে আমি কী করব? তুই একটু কষ্ট করে আমাকে মনে করিয়ে দে...! তুই না আমার বেস্ট দোস্ত?? -..............। -এই শান্তা? কিরে চুপ করে আছিস কেন? বলনা...! -দাঁড়া অতো ব্যস্ত হোসনা! রাগ টা একটু কমতে দে! -ঠিকাছে অপেক্ষা করছি! . কয়েক মুহূর্ত পরে শান্তা নিঝুর দিকে তাকিয়ে বলল . -শোন,কিছুদিন আগে বললাম না,একটা ছেলে ফেসবুকে খুব জালাতন করছে? সেই ছেলের বোন গতকাল আমাকে রিকুয়েস্ট পাঠিয়ে ম্যাসেজ দিয়েছে। তাই আমি লিস্টে ঢুঁকিয়ে নিলাম। আর তারপর থেকেই শুরু করেছে তার ভাইয়ের প্যাঁচাল। শুধু একই কথা,রিলেশন কর রিলেশন কর,আমার ভাই কোন দিক থেকে কমা ইত্যাদি ইত্যাদি নানান রকমের কথা! -ও,এইবার মনে পড়েছে! তোকে আমি আগে অনেকবার বুঝিয়েছি এরকম অপরিচিত আউল-ফাউল ছেলেদের সাথে ম্যাসেজিং করিস না! কিন্তু কে কার কথা শোনে! -দ্যাখ নিঝু এখন এসব বলিসনা তো।এমনিতেও খুব ঝামেলাই আছি! এখন কী করব তাই বল। -সোজা সবকয়টারে ব্লক করে দে! -না রে! সেটা সম্ভব না! -কেন? -এমনিতে ওই ছেলে খুবই ইমোশনাল। হাত-পা কেঁটে-কুটে সেটা আবার ভিডিও করে আমার কাছে পাঠায়! ব্লক ট্্লক করে দিলে দেখা যাচ্ছে মাথা কেঁটে বোনকে দিয়ে ছবি পাঠাবে! এমনিতে মরার কথা বলেছে আমাকে! -হুইর।এইসব সব মুখের কথা। কিচ্ছু করবেনানে! কিছুদিন একটু দেবদাশ দেবদাশ ভাব ধরবে তারপর নিজেই ভেবে নেবে,"এরকম মেয়ে কত যাবে কত আসবে!" -নারে করতেও পারে। -তাহলে আরকি?এতো দরদ তো প্রেম কর! -না।আমি ওইসব রিলেশন-টিলেশন করতে পারব না! আমি তো ওকে ভাইয়ের মত ভাবতাম! -এহ্,আইসে আমার ভাই ভাবাওয়ালি! রাখ তোর ভাই। আসল দোষ তোর! তুই অতো মানুষের সাথে ওরকম লুতুপুতু টাইপ ম্যাসেজিং করিস কেন? আমাকেও তো কত মানুষ ম্যাসেজ দেয়,রিকুয়েস্ট পাঠায় আমি তো কারোর রিপ্লে দিইনি! ঝামেলায়ও পড়িনি! আর তুই? যাহ্ যা পারিস তাই করগা! আমাকে আর এসব বলতে আসবি নি! নিজেই খারাপ সেদিকে খেয়াল নেই আসছে অন্যজনের ভুল ধরতে! -আসলে তোকে বলা ই ভুল হয়েছে! বিপদে পড়েছি। কোথায় কিভাবে বাচঁবো সেই বুদ্ধি দিবি তা না ফ্রেন্ড হয়ে আমাকেই বকা দিচ্ছিস!! -একবারেই বললাম ব্লক করে দে! সে কথা তো পছন্দ হয়না! এই ছাড়া বাঁচার আর কোন রাস্তা নেই। -ঠিকাছে যা,ব্লকই করে দেব! . দুই ------ "আপু প্লিজ আমার কথা টা একবার বোঝার চেষ্টা কর।" ফেসবুকে ঢুকেই দেখি সাবিতের আপুর এই ম্যাসেজ। মেজাজ টা চরম খারপ হল।ইচ্ছে করেই আরো একটু মেজাজ খারাপ করে আমি রিপ্লে দিলাম -ওই সমস্যা কী আপনার? হ্যা? সমস্যা কী? এক কথা ছাড়া আর কোন কথা জানেন না? যত্তোসব ফালতু! আমি কোন রিলেশন করতে পারব না! রিপ্লে এলো কিছুক্ষণ পরেই -নাহ্ আর না!অনেক বুঝাইছি তোমাকে,আর না। আমার ভাইয়ের সাথে চ্যাট কিরার আগে মনে ছিলনা? সে এখন তোমাকে ভালবেসে ফেলেছে! আর তুমি কেমন ভাবে,কেমন কেমন ভাষায় কথা বলেছ আমি দেখেছি। ওইরকম করে কথা বললে যেকোন ছেলেই ভাববে তুমি তাকে ভালবাস! সেও ঠিক সেরকমই ভেবেছে! -তো আপনি এখন কী বলতে চাচ্ছেন? আমাকে আপনার ভাইয়ের সাথে রিলেশন করতেই হবে? দ্যাখেন,আমি ওইসব পারব না!আর আপনি কি জানেন না,প্রেম-ভালবাসা বিয়ের আগে ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম?? -ও.....! এখন ধর্মের দোহাই দিচ্ছ? তা যখন স্বামী ব্যাতিত অন্য পর-পুরুষের সাথে ম্যাসেজে সারাটা দিন কথা বলেছ,তখন তোমার ধর্ম কই ছিল? এইটা ইসলামে খুব জায়েজ তাইনা? তোমাদের মত এরকম মুসলিমদের জন্যই আজ ইসলামের এই অবস্থা! তোমরা ধর্ম মানো ঠিকই কিন্তু ঠিক ততোটুকুই যতোটুকু মানলে সুবিধা হবে। ধর্মের যেটুকু মানলে অসুবিধায় পড়তে হবে,সেটুকুর ধারে কাছেও যাওনা! লুচু মেয়ে কোথাকার! -দেখুন আপনি কিন্তু সীমা ছাড়াচ্ছেন।......sending...... Sorry you can't reply to this conversation. যাব্বাবা!আমি ব্লক মারব কোথায় আর এ নিজেই ব্লক করে বসে আছে! যাক ভলই হলো আপদ একটা নিজেই বিদায় হলো! . তিন ------ আমার একটা চাচা আছে। আমাকে খুব আদর করে।কোন সমস্যা হলে তাঁর কাছে বললেই সমাধান পাওয়া যায়!একদম বন্ধুর মত করে আমাকে সবসময় সাপোর্ট দেয়! খুব সুন্দর করে বুঝিয়ে দেয় সবকিছু! ধর্ম সম্পর্কিত জ্ঞানও প্রচুর।তাই তাঁর কাছেই ম্যাসেজ দিলাম -এই চাচু আমাকে না একটা ছেলে খুব ডিস্টার্ব করছে।কী করব বলো তো! -কিভাবে ডিস্টার্ব করছে? -ফেসবুকে। আমি অনেক রকম করে বুঝিয়েছি।কাজ হয়নি।ধর্মের নিষেধের কথাও বলেছি।কিন্তু সে বলে আমায় নাকি বিয়ে করবে।গ্যারান্টি দিচ্ছে! আর বিয়ের আগ পর্যন্ত তার সাথে প্রেম করতে হবে! করতে হবে মানে,করতেই হবে এমন ব্যাপার!! -উম্....।বুঝলাম। তুই এক কাজ কর,তোর আইডি টা আমার কাছে দে!আমি একটু 'তুই' সেজে কথা বলে দেখি! -ঠিকাছে নাও। আমার নাম্বার তো তুমি জানোই আর পাসওয়ার্ড হচ্ছে ********। -আচ্ছা।আমি একটু বোঝানোর চেষ্টা করে দেখি।আশা করি পারব।তুই এইসব টেনশন বাদ দিয়ে ভাল করে পড়!যা পড়তে বস। -ঠিকাছে! . চার ------ -এই তুমি কখন থেকে অনলাইনে আছো,কিন্তু আমার ম্যাসেজের রিপ্লে দিচ্ছোনা কেন? চাচুর কাছে আমার আইডি দেওয়ার পর যদিও চাচু বলেছিল আমাকে পড়তে বসতে কিন্তু আমার কি আর পড়া হচ্ছে?টেনশনে আমার পাগল হওয়ার যোগাড়!এদিকে আবার নতুন ঝামেলার কথা মনে পড়ে গেল! সাবিত একসময় আমার কাছে ফোন নাম্বার চেয়েছিল।তখন আমি আমার একটা বন্ধ সিনের নাম্বার দিয়েছিলাম। কিন্তু কিছুদিন আগে আম্মার সিম নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আমার কাছ থেকে একটা সিম চেয়েছিল।আমি অতোকিছু বা ভেবে ওই সিমটাই দিয়ে দিছি। এখন সাবিত যদি আমার ওই সিমে ফোন দিয়ে আম্মাকে উল্টাপাল্টা কিছু বলে আমাকে নিশ্চিত বাড়ি থেকে বের করে দেবে আর আমার বাবা যদি জানতে পারে তাহলে তাঁর ব্রিটিশ আমলের দোনলা বন্দুক দিয়ে সাথে সাথেই গুলি কিরে মেরে দেবে! . আমি সাবিতের এখনকার এই ম্যাসেজ সিন করিনি।শুধু ম্যাসেঞ্জারে স্ক্রোল করছি। আরও অনেকেই ম্যাসেজ দিচ্ছে।আসলে এই সন্ধ্যার সময়ই সবার সাথে মোটামুটি কথাবার্তা হয়! তারপরেই দেখলাম হঠাৎ ওর ম্যাসেজ টা সিন হয়ে গেল।কিন্তু আমি তো করিনি! বুঝলাম চাচু ঢুকে পড়েছে! লজ্জায় আমার মাথা কাঁটা যাবার মতো অবস্থা! আমার সব ম্যাসেজ চাচু দেখে ফেলছে! উফ্,ভাবতেই লজ্জা লাগছে! কিছুক্ষণ পরেই দেখলাম আমার এখান থেকে সাবিতের ম্যাসেজে একটা রিপ্লে গেল।আমি কন্ভারসেশন টা ওপেন করে দেখি -এমনিই বিজি আছি! এই ম্যাসেজ যাওয়ার সাথে সাথেই সাবিতের আবার ম্যাসেজ এলো -কিসের ব্যস্ততা হ্যা?তুমি তোমার কাজ রাখো!আমার সাথে কথা বল,প্লিজ। আমি তোমাকে ছাড়া বাঁঁচবোনা!তোমার সাথে কথা বলতে না পারলে আমার দম বন্ধ হয়ে আসে!আমি তোমাকে খুব ভালবাসি শান্তা। আমাকে ফিরিয়ে দিওনা। -কী করব বল?আমার হাত-পা যে বাধা! -কেন? -দ্যাখো,তুমি আর আমি সেম এজ!তোমার এস্টাব্লিশ হতে যে সময় লাগবে সে সময় পর্যন্ত আমার বিয়ে হয়ে একটা বাচ্চাও হয়ে যাবে হয়ত। -আমিই তোমাকে বিয়ে করব।তোমার বাড়িতে কথা বলে বিয়ে নাহয় আপাতত ঠিক করে রাখলাম।ততোদিন আমরা প্রেম করব।তারপর পড়াশোনা শেষ করে আমরা বিয়ে করে ফেলব। -মানুষের জীবনের এক সেকেন্ডের নিশ্চয়তা যেখানে নেই সেখানে তুমি আমাকে প্রায় সারাজীবনের নিশ্চয়তা দিয়ে দিচ্ছো? -সেটা আলাদা ব্যাপার। -নাহ্,এটাই একমাত্র ব্যাপার।ধরো,তোমার আমার বিয়ে কোন না কোনভাবে ঠিক হয়েই গেল! তারপর আমরা বছর খানেক ধরে প্রেম করলাম।এতে আমার গোনাহ্ তো হলোই তারপরও আমি কথার কথা বলছি,ধরো তুমি এই একবছর পরে আমাকে বিয়ে করার আগেই এক্সিডেন্টলি মারা গেলে। তখন তো আর আমি শোকে চিরকুমারী হয়ে থাকব না! বিয়ে করব। কিন্তু বিয়ে যদি করি তাহলে আমার স্বামীকে কি ঠকানো হবে না?? বিয়ের আগে তোমার সাথে দীর্ঘদিন অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক করে পরে তাঁকে বিয়ে করব?এটা কি ঠিক হবে? -এরকম কিছুই হবেনা! -হবে কী হবেনা সেটা তুমি নও আল্লাহ্‌ ঠিক করবেন! তুমি নিশ্চয় অবুঝ নও তাই আশা করি সবকিছু বুঝবে। -কিন্তু....আমি যে তোমাকে ভালবাসি! -ভালই যদি বাসো তাহলে আমাকে পাওয়ার জন্য আগে নিজেকে যোগ্য কিরে তোল! -আমি যতদিন সম্ভব অপেক্ষা করব! -কিন্তু...... -আর কোন কিন্তু নয়।আমি আজ এখনি তোমাকে ব্লক করছি।আজ থেকে ঠিক ২ বছর পর,আমদের পড়াশোনা শেষে যদি আমি অবিবাহিত থাকি তাহলে ব্লক তুলে নেব! আর এর মাঝে যদি আমার বিয়ে হয় বা হয়ে যায় তাহলে বিয়ের আগের দিন হলেও আমার বিয়ের খবর তোমায় জানাবো। -প্লিজ.... -ভাল থেকো। তারপরেই ব্লক! আমি শুধু অবাক হয়ে চাচু আর সাবিতের কথোপকথন দেখছিলাম। সাবিতের এরকম মৌন পরাজয় দেখে আমার খুশিতে নাচতে ইচ্ছা করছিল।কী যে শান্তি পেলাম আমি।অনেক বড় একটা চিন্তা,সমস্যা,ঝামেলা মাথা থেকে নেমে গেল! এই অনুভূতি আমি লিখে প্রকাশ করতে পারব না! তার কিছুক্ষণ পরেই চাচু তাঁর নিজের আইডি থেকে আমাকে ম্যাসেজ দিল.... -পাসওয়ার্ড টা চেঞ্জ করে নে! আমি তাকে কোনভাবে ধন্যবাদ দিতেও পারিনি!সে ভাষা জানা ছিল না আমার।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বেস্ট চাচা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now