বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বেশ কিছু দিন আগের ঘটনা

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X বেশ কিছু দিন আগের ঘটনা। মোবাইলে ফ্লেক্সি করতে দোকানে গেলাম। পকেটের বেশ খারাপ অবস্থা চলছিল তখন। পকেটে তখন মাত্র দুইটা নোট। একটা ছেড়া-ফাটা ৫০ টাকার, আরেকটা চকচকা ১০০ টাকার নোট। দোকানীর ব্যবহার সম্পর্কে আমার হালকা-পাতলা জ্ঞান ছিল আগে থেকেই। ২০ টাকা লোড করে তাকে ১০০ টাকা দিলে, ভাঙা দেই নাই বলে পুরা এলাকার লোক জড়ো করে ফেলবে। আর এই চকচকা নোটটা ভাঙানোরও আমার কোন ইচ্ছা নাই। দোকানীকে তাই ৫০ টাকার নোটটা দিলাম। ছেড়া-ফাটা বলতে তেমন একটা ছেড়া ছিল না, শুধু একটা কোনায় হালকা একটু ছেড়া ছিল। তবে বেশ দোমড়ানো-কুঁচকানো আর মলিন ছিল নোটটা। তবে অচল না, চালানো যাবে টাকাটা। দোকানীকে নোটটা দিয়েই পড়লাম বিপদে। সে এই মলিন টাকা নিবেই না। আমি কয়েকবার বললাম যে, 'ভাই টাকাতো অচল না, পকেটে থাকতে থাকতে একটু কুঁচকায়া গেছে আর কি!' কে কার কথা শুনে? দোকানী ঐ টাকা নিবেই না, ঐটা অচল টাকা, চলবেই না... হেন তেন হাবিজাবি... শেষমেশ, কি আর করার বুকে পাথর বাইধা চকচকা ১০০ টাকার নোটটা দিলাম। আরেক বিপদের শুরু। 'ভাঙা নাই?' 'ভাঙা তো আগে দিছিলামই?' বলে আবার ৫০ টাকার নোটটা দোকানীর দিকে এগিয়ে দিলাম। 'এইডা চলব না।' বলে ১০০ টাকাটা হাতে নিয়ে টাকা ভাংতির উপরে বিশাল একটা লেকচার দিল। মেজাজটা চরম গরম হইতেছিল আমার। খালি অন্য কোন দোকান খোলা নাই আর ফ্লেক্সি করাটা জরুরী দেখে তার লেকচার শুনতেছিলাম। দোকানী অবশ্য লেকচার দিতে দিতে ভাংতি ৮০ টাকা দিল। সেই ভাংতি দিছিল। ১৬ টা ৫ টাকার নোট। প্রতিশোধের সুযোগ পাইলে আর কে সুযোগ নষ্ট করে? আমিও নষ্ট করি নাই। শুরু করলাম - 'ভাই এইডা তো এক্কেরে কালা দেখা যায়। এইডা কি আসলেই ৫ টাকা?' 'হ।' 'বুঝা যায়না তো। বদলায়া দেন।' দোকানী কিছু বলে নাই। তার নিজের মুখ কালো করে ঐ পাচ টাকার নোট বদলিয়ে দিল। 'এইডার তো মাঝখানে অর্ধেকটা নাই। বদলায়া দেন।' - 'এইডার তো এক কোনা তেলচুরায় খায়ালছে। বদলায়া দেন।' - 'খাইছেরে! এইডার চার কোনার একটাও নাই। এই গোলগাল ৫ টাকার নোট তো চলব না। বদলাইন এইডা।' - 'এইডা তো ব্রিটিশ আমলের ৫ টাকা মনে হইতাছে। এই আমলে এইডা চলত না। বদলায়া দেন।' দোকানীর চেহারার তখন সেই রাহি-ত্রাহি অবস্থা। মনে মনে হয়ত বলতেছিল, 'ছাইড়া দে বাপ! কাইন্দা বাঁচি।' মায়া জন্মাইল লোকটার উপর, তাই আর বেশি ক্যাচালে যাই নাই ঐ দিন। এরপর থেইকা, দোকানী তার দোকানের আশেপাশে আমার ছায়া দেখলে এমন একটা ভাব কইরা মাটিতে ঝুকে যেন হয়ত কিছু খুজতেছে, 'আমার কলমডা কই পড়ল?' [] রাফায়েত রহমান রাতুল []


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বেশ কিছু দিন আগের ঘটনা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now