বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বেজি উপন্যাস ১ম গল্প—নিশির জন্যে ভালোবাসা [পর্ব ২]

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X রন মাথা নাড়ল, “আমার নূতন জীবনটি কতটুকু নূতন কে জানে !“ নিশি খিলখিল করে হেসে বলল, “এডভেঞ্চারের দিকে তোমার যত ঝোক আমি নিশ্চিত তুমি এক দুইবার ছেলে থেকে মেয়ে হয়েছ, মেয়ে থেকে ছেলে হয়েছ ! দুই হাজার বৎসরে কত কী করা যায় !“ রন কোন কথা না বলে একটু হাসল। নিশি হঠাৎ মুখ গম্ভীর করে বলল, “আমার কী ইচ্ছে করে জানো ?“ “কী ?“ “আমার খুব সন্তানের মা হতে ইচ্ছে করে। এরকম ছোট একটা বাচ্চা হবে, আঁকুপাকু করে নড়বে, আমি বুকে চেপে ধরে রাখব, ভাবলেই আমার বুকের ভিতর কেমন জানি করতে থাকে।“ রন নিশিকে øেহভরে কাছে টেনে নিয়ে বলল, “তুমি খুব ভালো করে জান সেটি হবার নয়। পৃথিবীতে নূতন শিশুর জন্ম দেয়া বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় এক হাজার বৎসর আগে।“ “জানি। তবুও ইচ্ছে করে।“ “পৃথিবী যত মানুষকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে এখানে তার থেকে অনেক বেশি মানুষ। আমার শুধু কী মনে হয় জানো ?“ “কী ?“ “পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যা আবার বুঝি আশঙ্কা-সীমা পার হয়ে গেছে।“ নিশি চমকে উঠে বলল, “কী বলছ তুমি !“ “হ্যাঁ। মনে নেই গত কয়েক মাস থেকে খাবার পরিবহনে ত্র“টি দেখা দিয়েছে, পানীয়ের সরবরাহ কম।“ “হ্যাঁ।“ “আমার ধারণা এগুলো পরিবহনের বা সরবরাহের ত্র“টি নয়।“ নিশি ভয়-পাওয়া গলায় বলল, “তাহলে এগুলো কী ?“ “এগুলো অভাব। শুধু-যে খাবারের অভাব তাই নয়, জ্বালানির অভাব, জায়গার অভাব। তুমি লক্ষ্য করেছ আমাদের এই দুইহাজার তলা দালানে একটি এপার্টমেন্ট খালি নেই? দেখেছ? “হ্যাঁ। দেখেছি।“ পৃষ্ঠা - ৯ “মনে আছে পোশাকের মূল্য শতকরা বিশভাগ বাড়ানো হলো। মনে আছে ?“ নিশি মাথা নাড়ল, তার মনে আছে। রন গম্ভীরমুখে বলল, “আমার এইসব দেখে মনে হয় কী জানো ?“ “জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের একটা ব্যবস্থা নেয়া হবে ?“ “হ্যাঁ।“ নিশির বুক কেঁপে উঠে, পৃথিবীতে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্যে গত দুই হাজার বৎসরে বেশ কয়েকবার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, সেই স্মৃতি তাদের মস্তিষ্ক থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে, কিন্তু তবু তারা সেগুলো জানে। পৃথিবীর মানুষ এখন এই ভয়াবহ আতঙ্ক নিয়ে বেঁচে থাকে, কখন পৃথিবীর প্রয়োজনে তাকে পৃথিবী থেকে অপসারণ করিয়ে দেয়া হয়। নিশির ভয়-পাওয়া মুখের দিকে তাকিয়ে রন গভীর ভালোবাসায় তাকে বুকের মাঝে টেনে নেয়। অপূর্ব রূপসী এই রমণীটিকে সে মাত্র তিনশত বৎসর আগের থেকে চেনে। ছেলেমানুষী সরল এই মেয়েটিকে তার বড় ভালো লাগে। গভীর রাতে তীক্ষè সাইরেনের শব্দে নিশি চমকে জেগে উঠল। বিছানায় তার পাশে শূন্য জায়গা, রন আগেই উঠে গেছে। নিশি ভয়-পাওয়া গলায় ডাকল, “রন। কোথায় তুমি ?“ জানালার কাছে ছায়ামূর্তির মত রন দাঁড়িয়েছিল, বলল, “এই যে, আমি এখানে।“ “কি হয়েছে রন ? সাইরেন বাজছে কেন ?“ “পৃথিবীর মানুষের এখন খুব বড় বিপদ নিশি।“ “কি হয়েছে ? কেন বিপদ ?“ “পৃথিবীর জনসংখ্যা আশঙ্কা-সীমা পার হয়ে গেছে।“ “পার হয়ে গেছে ?“ নিশি আতঙ্কে চিৎকার করে বলল, “পার হয়ে গেছে ?“ “হ্যাঁ। শুনছ না বিপদের সাইরেন ?“ “এখন কি হবে ?“ “জনসংখ্যা কমাতে হবে।“ “কীভাবে কমাবে ? কাকে কমাবে ?“ .......পৃষ্ঠা - ১০........ “জানি না। যোগাযোগ মডিউল খুলে দেখি।“ রন যোগাযোগ মডিউলের নিয়ন্ত্রণ স্পর্শ করতেই ঘরের ভেতরে একজন মানুষের হলোগ্রাফিক প্রতিচ্ছবি ভেসে এল। মধ্যবয়স্ক কঠোর চেহারার মানুষ, বুকের উপর চারটি লাল রঙের তারা দেখে বোঝা যায় সে নিয়ন্ত্রণ বাহিনীর অত্যন্ত উচ্চপদস্থ কর্মচারী। মানুষটি কঠোর গলায় বলল, “পৃথিবী আবার ভয়ংকর বিপদের মুখোমুখি। মানুষের একটি বিশেষ সংখ্যায় পৌছে গেলে পৃথিবী তাকে বহন করতে পারে না, একটি অপ্রতিরোধ্য বিপর্যয় দিয়ে পৃথিবীর জনসংখ্যা কমে আসে। আমরা সেই অপ্রতিরোধ্য বিপর্যয়ের ভেতর দিয়ে যেতে চাই না। সেই বিপর্যয় নিয়ন্ত্রণহীন এবং তার ভেতর থেকে বের হয়ে আসা খুব কঠিন। “অতীতে জনসংখ্যা যখনই আশঙ্কার সীমা অতিμম করেছে তখনই মানুষের সংখ্যা কমিয়ে নূতন শিশুর জন্ম দেয়া হয়েছে। যারা পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে ইচ্ছুক তাদের তালিকা করে পৃথিবী থেকে অপসারণ করা হয়েছে। সেই সংখ্যা অত্যন্ত অপ্রতুল হওয়ায় লটারির মাধ্যমে নির্বাচন করে মানুষকে অপসারণ করা হয়েছে। মানুষকে অত্যন্ত দ্রুত হত্যা করতে পারে এরকম ভাইরাস তৈরি করে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়ে একবার এক-তৃতীয়াংশ মানুষ কমিয়ে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটেছে, এখন এক-তৃতীয়াংশ মানুষকে হত্যা করেও পৃথিবীকে রক্ষা করা যাবে না। এখন পৃথিবীর অর্ধেক মানুষকে কমিয়ে আনতে হবে। যেভাবেই হোক। “পৃথিবীর জনসংখ্যা কমানোর জন্যে এবার সম্পূর্ণ নতুন এবং কার্যকর একটি পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এই পদ্ধতি অবলম্বন না করা হলে মহা-বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়ার কোন উপায় নেই। পদ্ধতিটি অত্যন্ত সহজ। আজ রাতের জন্যে মানুষ হত্যাসংμান্ত বিধিনিষেধটি পৃথিবী থেকে তুলে নেয়া হল। পৃথিবীর প্রত্যেকটি জীবিত মানুষ অন্য একজন মানুষকে পৃথিবী থেকে অপসারণ করবে। এই হত্যাকাণ্ডের জন্যে তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে না, বরং সে পৃথিবীতে বসবাসের সুযোগ পাবে। তাকে যেন হত্যাকাণ্ডের অপরাধবোধে ভুগতে না হয় সেজন্যে কাল ভোরের আগেই তার পুরো স্মৃতিকে অপসারিত করে দেয়া হবে। “মানুষ হত্যা করা খুব সহজ ব্যাপার নয়। এর কার্যকর কয়েকটি পদ্ধতি সবাইকে জানিয়ে দেয়া হচ্ছে। পদ্ধতিগুলি হচ্ছে -“ ......পৃষ্ঠা - ১১...... নিশি চিৎকার করে যোগাযোগ মডিউলটি বন্ধ করে দিতেই ঘরের মাঝামাঝি বসে থাকা কঠোর চেহারার মানুষের হলোগ্রাফিক প্রতিচ্ছবিটি অদৃশ্য হয়ে গেল। নিশি উদভ্রান্তের মতো রনের দিকে তাকাল, বলল, “এটা হতে পারে না। এটা কিছুতেই হতে পারে না।“ রন বিষনড়ব গলায় বলল, “কিন্তু এটা হয়ে গেছে।“ “একজন মানুষ আরেকজন মানুষকে হত্যা করতে পারে না।“ “প্রয়োজনের খাতিরে মানুষ অনেকবার অনেক মানুষকে হত্যা করেছে। পৃথিবীর ইতিহাস হচ্ছে যুদ্ধের ইতিহাস। যুদ্ধের অর্থ হচ্ছে হত্যাকাণ্ড। পরিকল্পিত সুসংবদ্ধ হত্যাকাণ্ড।“ নিশি ব্যাকুল হয়ে বলল, “কিন্তু এটি তো যুদ্ধ নয়।“ “কে বলেছে যুদ্ধ নয় ? মানবজাতিকে বেঁচে থাকার জন্যে এটিও একধরনের যুদ্ধ। এখানে মানুষ নিজেরা নিজেদের শত্র“। তাই এখন একে অন্যকে হত্যা করবে। মানুষকে যেন সেই হত্যাকাণ্ডের অপরাধবোধ বহন করতে না হয় সেজন্যে তার স্মৃতিকে পুরোপুরি অপসারণ করে দেয়া হবে। সে জানতেও পারবে না সে একটি হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছে।“ নিশি হিস্টিরিয়াগ্রস্তের মত মাথা নেড়ে বলল, “না-না-না। এটা হতে পারে না। কিছুতেই হতে পারে না। একজন মানুষ অন্যকে খুন করতে পারে না।“ রন বিষনড়ব গলায় বলল, “এটি সেরকম খুন নয়। এর মাঝে কোন μোধ, জিঘাংসা, স্বার্থ বা লোভ নেই। এটি একটি প্রμিয়া, পৃথিবীকে বাঁচিয়ে রাখার একটি প্রμিয়া। এর সিগ্ধান্ত কোনো মানুষ নেয়নি, তারা শুধুমাত্র নিয়মটি পালন করেছে।“ নিশি এবার মুখ ঢেকে আকুল হয়ে কেঁদে ফেলল, কাঁদতে কাঁদতে বলল, “কিন্তু আমি কেমন করে একজন মানুষকে খুন করব ? কাকে খুন করব ? কেমন করে খুন করব ?“ রন কিছু বলল না, গভীর মমতায় নিশির দিকে তাকিয়ে রইল। নিশি ব্যাকুল হয়ে রনের দিকে তাকাল, রন তাকে গভীর ভালোবাসায় আলিঙ্গন করে বলল, “নিশি, তোমার কাউকে খুন করতে হবে না। আমি তোমাকে রক্ষা করব নিশি।“ “কেমন করে তুমি আমাকে রক্ষা করবে ?“ রন কোন কথা বলল না, গভীর মমতায় সে নিশির মুখে হাত বুলিয়ে বলল, “এই যে। এইভাবে।“ [চলবে...]


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বেজি উপন্যাস ১ম গল্প—নিশির জন্যে ভালোবাসা [পর্ব ৩] শেষ
→ বেজি উপন্যাস ১ম গল্প—নিশির জন্যে ভালোবাসা [পর্ব ২]
→ বেজি উপন্যাস ১ম গল্প—নিশির জন্যে ভালোবাসা [পর্ব ১]

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now