বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#বেহায়া মন
আজ শুক্রবার।সময় কাটানোর জন্য উপায় ছিল না।তাই বিকাল চার টায় একাই বেড়িয়ে পড়লাম একটু ঘোরার জন্য।রাস্তা টা বড়ও ছিলো আর ফাঁকাও ছিলো।হাঁটতে হাঁটতে পৌর ক্যাম্পাসে এসে পড়লাম।বসে পরলাম গাছের নিচে বসার জায়গাটায়।পাশে ছোট ছোট ঝাউগাছ।বসে আছি আর হাতে ফোন নিয়ে ফেসবুক এ নাড়াচাড়া করছি আর বন্ধুর সাথে কথা বলছি-
>কিরে কই তুই?
>এই যে পৌর ক্যাম্পাসে বসে আছি।
>তুই না বললি আজ বাসা থেকে বের হবিনা?
>ভালো লাগছিলো না তাই হাঁটতে হাঁটতে চলে এলাম।
চোঁখটা ফোন থেকে সরে গিয়ে কোথাও যেন আঁটকে গেলো।
একটু দূরে একটা মেয়ে আর সাথে একজন ৬০/৬২ বয়সের দাদিমা।হয়তো মেয়েটার দাদি হবে।মেয়েটাকে দূর থেকে অপরূপ লাগছিলো। মাঝে মাঝে বাঁকা চোঁখে দেখছিলাম।কী করব?বয়সের দোস।ওরা পায়চারি করছিলো।মেয়েটাকে লেহেঙ্গাতে ভালোই লাগছিলো।খোলা চুলগুলো বাতাসে দুলছিল। মুগ্ধ চোঁখে তাকিয়ে ছিলাম।
কিছুক্ষণ বাদে খেয়াল করলাম আমার দিকে তাকাচ্ছে।হয়ত খেয়াল করেছে যে আমি নিষ্পলক ভাবে তাকিয়ে ছিলাম।ওর মুখটা চকচকে হয়ে গেলো। মেয়েরা স্বভাবতই নিজের চেহারার প্রশংসা পেলে আনন্দিত হয়।কিন্তু আমি?লজ্জায় মাথা নামিয়ে নিলাম।আবার ফেসবুকে ঢুঁ মারছি। কিন্তু মনোযোগ তো ঐ দিকে।
অল্প হাঁটাহাঁটি করার পর দেখি ওরা আমার দিকে আসছে।কিছুক্ষণ আনন্দিত হয়ে, মনে পড়লো মেইন গেট তো আমার পিছনে।তাহলে তাদের গন্তব্য আমি না মেইন গেট। হয়তো বারি ফিরে যাবে।মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেলো।
তাও বার বার বাঁকা চোখে তাকাচ্ছিলাম।সত্যিই মুগ্ধ করার মত চেহারা। ও আমার যত কাছে আসছে আমার হার্টবিট তত বেড়ে যাচ্ছে।আর আমিও তার চোখ দু'টো পড়ে ফেলছি।যত কাছে আসছে তার মায়াবিনী চোখ আমাকে চৌম্বকের মত তত কাছে টানছে।আমার মনে হয় ঐ সময় পৃথিবীটা স্তব্ধ হয়ে গেলে সবথেকে ভালো হত।যত খুশি তত দেখতে পেতাম বাঘিনীর চোখজোড়া।
>বাবা,ভিতরে ঢোকার কোনো রাস্তা আছে?(ঐ মহিলা হঠাৎ আমার ভ্রমটাকে নষ্ট করে দিয়ে জিজ্ঞাসা করল)
>কোথায় ঢোকার রাস্তা?(আমি)
>ঐ যে বাগানটায়।
>আজ তো শুক্রবার। আজকে সবকিছু তালা দেয়া।
কথা বলছি আর মেয়েটার দিকে তাকাচ্ছিলাম।ও আমার দিকে একবারো তাকায় নি।কিন্তু পাশফিরে যে মুচকি হাসছে ওটা আর ও অগোচর করলো না।আমি এবার ওর হাসিতে মুগ্ধ।আমি পুরো পৃথিবীর শান্তি ওর মুখেই খুজে পাচ্ছিলাম।কেমন এক ভালোলাগা কাজ করছে।যদি ওর হাসিটা সারাজীবন দেখতে পেতাম।
পাশ দিয়ে তিনটা বড় আপু যাচ্ছিল। তাকালাম।কী করব? জোরে জোরে হাসছিলো যে।কিছুক্ষণ তাকিয়ে আবার মেয়েটার দিকে ফিরলাম।মনটা ভেঙে গেলো।মেয়েটার ঐ মুচকি হাসি হারিয়ে গেছে।মুখে এখন হাঁসির বদলে কেমন রাগি রাগি ভাব।সে তার দাদির সাথে চলেও যেতে লাগল।এখন অনুশোচনা ছাড়া করার কিছুই নেই।ভাবতে ভাবতে দেখলাম কিছু দূর চলে গেছে।এখন রাস্তার বাঁক নিলে ওকে আর দেখা যাবে না।হতাশায় আমি আরো আচ্ছন্ন। কিন্তু বাঁক নেয়ার আগে যে ও একবার ফিরে তাকাবে তা আমি কল্পনাও করি নি। যতক্ষণ ওকে দেখছিলাম এই প্রথম ও আমার দিকে পূর্ণাঙ্গভাবে তাকালো।দূরে ছিলো জন্য মুখের ভঙ্গিমাটা ঠিক বোঝা যায় নি।
এবার যেন অনুতাপের বোঝাটা একটু কমলো।
সে হারিয়ে গেলো একটা সরু রাস্তা দিয়ে।হয়তো বাসাটা ওখানেই।
ফোনের দিকে তাকালাম---
>থাক বসে থাক,আমরা স্কুল ক্যাম্পাসে আড্ডা মারছি।
>মিস করিস না,তাড়াতাড়ি চলে আয়।
>কিরে?
>আবে,রিপ্লাই দিস না কেন?
আমি আর কোনো রিপ্লাই না দিয়ে বাসার দিকে হাঁটা দিলাম।মনে মনে হাঁসছি বন্ধুর ম্যাসেজ মনে করে।ঐ আড্ডা মিস করার কারনেই হয়ত আমার জীবনে একটা টার্নিং পয়েন্ট পেয়ে গেছি।হাঁটছি আর ভাবছি-কিন্তু ভাবনা জুড়ে কিছুই নেই ওই লেহেঙ্গা,চুল,বাঘিনী চোখ আর ঐ মুচকি হাঁসি ছাড়া।
এক সপ্তাহ শেষ। আজ আবার শুক্রবার।আজ আবার চারটা বেজে গেছে।হাতে আবারো ফোন।মনে আবারো ঐ কথাই দুলছে।গন্তব্য পৌর ক্যাম্পাস।হয়ত সেও আসবে।কী করব? বেহায়া মন তো মানে না ওই মুচকি হাঁসি ছাড়া।
------- আসিফ তৌহীদ
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now