বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
৪
টেলিফোন করে ওর সঙ্গে যোগাযোগ করল সুরাইয়া। রিহার্সেল
নেই, সন্ধ্যায় ওকে নিয়ে অপেরায় যেতে চায় সে। ‘ঠিক আছে,
পৌঁছে যাব,’ বলল ও।
অপেরা থেকে ট্যাক্সি নিয়ে ফিরছে ওরা, রানার দিকে ফিরে
সুরাইয়া বলল, ‘কী বলে যে তোমাকে ধন্যবাদ দেব!’ হাতব্যাগ
থেকে বের করে রানার দিকে একটা এনভেলাপ বাড়িয়ে ধরল
সে।
‘আমাকে ধন্যবাদ দিতে হবে কেন?’ এনভেলাপ খুলে ভিতর
থেকে একটা কার্ড বের করল রানা।
রয়াল অ্যালবার্ট হল-এ সুরাইয়া ফারদিনের জন্য একক
সঙ্গীত সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়েছে, এটা তারই আমন্ত্রণ-লিপি;
মাসুদ রানার নামে একটা বক্স বরাদ্দ করা হয়েছে সেখানে।
‘সব ধন্যবাদ তোমারই তো প্রাপ্য,’ আবার বলল সুরাইয়া।
‘আয়োজকরা বলছেন, তুমি অকুণ্ঠ প্রশংসা না করলে তাঁরা আমার
গান শুনতে আসতেন না। আর গান না শুনলে জানতেও পারতেন
না... নাহ্, থাক।’
‘তোমার সঙ্গে আমি একমত হতে পারলাম না, সুরাইয়া,’
মাথা নেড়ে বলল রানা। ‘প্রতিভা কখনও চেপে রাখা যায় না।’
রয়াল অ্যালবার্ট হল-এ আজ সেই অনুষ্ঠান।
সেন্ট্রাল অ্যারেনার চারপাশের বক্স ও গ্যালারিগুলো ভরে
উঠেছে। কয়েক হাজার শ্রোতা উপস্থিত; বেশিরভাগই তাঁরা বিদগ্ধ
শ্রোতা, সঙ্গীত ও সুরের সমঝদার।
নেপথ্য থেকে ভেসে আসছে রবাব-এর কোমল সুর। যন্ত্রীরা
সবাই প্রস্তুত, কেউ কেউ মৃদু টুং-টাং শব্দে সূক্ষ্মভাবে সুর বাঁধছে
তাদের যন্ত্রে যে-কোনও মুহূর্তে মঞ্চের পরদা উঠবে। দর্শক-
শ্রোতারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
পরদার আড়ালে আয়োজকরা সবাই খুব ব্যস্ত। তবে কেন
যেন তাদের সবার মধ্যে চাপা একটা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
সেই উত্তেজনা ধীরে ধীরে গভীর উদ্বেগে পরিণত হচ্ছে।
এতক্ষণ নিজের বক্সেই বসেছিল রানা, সুরাইয়ার আসতে
দেরি হচ্ছে দেখে স্টেজের পিছনে চলে এল। আয়োজকদের
উদ্বেগ লক্ষ করে ভ্র কোঁচকাল ও।
আরও দশ মিনিট পর আতংকে ঘামতে শুরু করল তারা।
‘কী ব্যাপার?’ তাদের একজনকে ডেকে জিজ্ঞেস করল রানা।
ভদ্রলোক জানালেন, সুরাইয়ার ফ্ল্যাট থেকে রয়াল অ্যালবার্ট
হল মাত্র পাঁচ মিনিটের পথ। চলি−শ মিনিট আগে রওনা হয়েছেন
তিনি। এখনও তাঁর না এসে পৌঁছানোর কারণটা তাঁরা বুঝতে
পারছেন না।
চিন্তারই কথা, ভাবল রানা। বলল, ‘হয়তো ট্রাফিক জ্যামে
আটকা পড়েছেন।’
মাথা নাড়লেন ভদ্রলোক। ‘আমরা খবর নিয়েছি, রাস্তা
একেবারে ফাঁকা, কোথাও কোনও জ্যাম নেই। ওদিকে কোনও
অ্যাক্সিডেন্টও হয়নি। সবচেয়ে যেটা আশ্চর্য, ম্যাডামকে আমরা
সেল ফোনেও পাচ্ছি না, সেটটা সম্ভবত বন্ধ করে রাখা হয়েছে।’
এবার বিচলিত না হয়ে পারল না রানা। ‘পুলিশ ও স্কটল্যান্ড
ইয়ার্ডকে জানানো দরকার,’ বলল ও।
‘কিছুক্ষণ আগে থানাকে সব জানানো হয়েছে,’ বললেন
উদ্যোক্তা ভদ্রলোক।
ওদিকে হল ভর্তি লোকজন এতক্ষণ উসখুস করছিল, এবার
তাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিতে শুরু করেছে। অভিযোগে সরব
হয়ে উঠছে তারা।
নিজের সেল ফোন থেকে সুরাইয়ার মোবাইল ফোনে বার
কয়েক রিং দিল রানা। কোনও সাড়া নেই। তার ফ্ল্যাটে ল্যান্ড
ফোন আছে, ডায়াল করলে রিঙ হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু রিসিভার
তুলছে না কেউ।
.
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now