বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
৩
এভাবেই শুরু। পরস্পরকে ভাল লাগল ওদের। তারপর এক
সময় মনে হলো পরিচয় μমশ ঘনিষ্ঠতার দিকে এগোচ্ছে। সেই
সূত্রেই সুরাইয়া ফারদিন সম্পর্কে অনেক কথা জানা হলো রানার।
তার একটা রোমহর্ষক অতীত আছে।
লেবানন সীমান্তের কাছে বেদুঈনদের একটা উদ্বাস্তু ক্যাম্পে
ছিল তারা। ইজরায়েলি পে−ন থেকে বোমা ফেলা হয়েছিল
সেখানে। তখন তার বয়স মাত্র পাঁচ বছর।
ওই নৃশংস হামলায় তার মা-বাবা, ভাই-বোন ও অন্যান্য
আত্মীয়-স্বজন সবাই মারা গেছে। জ্ঞান ফেরার পর দেখল সে-ও
মারাত্মকভাবে আহত, কাছাকাছি একটা খ্রিশ্চান হাসপাতালে নিয়ে
আসা হয়েছে তাকে।
পুরোপুরি স্ুস্থ হয়ে উঠতে ছ’মাস লেগে গেল সুরাইয়ার।
কিন্তু কেউ নিতে না আসায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটা মিশনারি
স্কুলে পাঠিয়ে দিল তাকে। আঠারো বছর বয়স পর্যন্ত সেই স্কুলে
লেখাপড়া ও গান-বাজনা শিখেছে সুরাইয়া ফারদিন। তারপর
ওখান থেকে ওই মিশনারিদের পরিচালিত লন্ডনের একটা কলেজে
পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে তাকে।
পারফর্মিং আর্টস-এ অনার্স করেছে সে। বয়স চব্বিশ বছর
পুরো হতে মিশনারি কলেজ ছেড়ে কঠিন, অচেনা, অনিশ্চিত
দুনিয়ায় বেরিয়ে আসতে হয়েছে সুরাইয়াকে। ইংরেজি, হিব্র“ ও
আরবী ভাষা ভালই শিখেছে সে।
তারপর বেশ কিছুদিন এখানে-সেখানে চাকরি নিয়েছে আর
ছেড়েছে সুরাইয়া। ওর শিল্পের চেয়ে অনেক বেশি আকর্ষণীয়
লেগেছে মানুষের কাছে ওর রূপ-সৌন্দর্য। গুণের কদর না পেয়ে
ঘুরতে ঘুরতে কোথাও সুবিধে করতে না পেরে অবশেষে লন্ডন
হিলটনের অভিজাত রেস্তোরাঁ রেড কার্পেটের নিয়মিত গায়িকা
হিসেবে চাকরি নিয়েছে।
কিছুদিনের মধ্যেই ওদের পারস্পরিক আকর্ষণ এতই তীব্রতা
পেল যে, একদিন দেখা না হলে অস্থির হয়ে ওঠে মন, খালি মনে
হয় বুকের ভিতরটা। বেশ কয়েকবার চুপিচুপি রানার ফ্ল্যাটে
এসেছে সুরাইয়া, রানা ওর সুইটে গেলে এটা-ওটা আরবি খাবার
রেঁধে খাইয়েছে।
কথায় কথায় তাকে একদিন জিজ্ঞেস করল রানা, ‘এত ভাল
গলা তোমার, কেউ তোমাকে বলেনি যে অ্যালবাম বের করো,
আরও বড় স্টেজে গাও?’
‘কই, না,’ বলল সুরাইয়া, একটু যেন বিব্রত। ‘তার দরকারই
বা কী, এরা অনেক টাকা দেয় Ñ এই তো বেশ আছি।’
এটা সুরাইয়ার বিনয় বলে মনে হলো রানার। তবে ভাবল, এ
ব্যাপারে কি-ই বা করবার আছে ওর। পরমুহূর্তে একটা কথা মনে
পড়ে গেল।
রানার বন্ধুদের কেউ কেউ সঙ্গীত জগতের দিকপাল। তাদের
এজেন্ট আছে, যারা মিউজিকাল পারফরমান্স অর্গানাইজ করে।
সুরাইয়া ফারদিনের সঙ্গীত-প্রতিভার কথা জানতে পারলে তারা
হয়তো ওর জন্য কিছু একটা করবার আগ্রহ বোধ করবে।
বিশেষ তেমন কিছুই করল না রানা, শুধু ওই বন্ধুদের ডেকে
সুরাইয়ার গান শুনিয়ে দিল একদিন। ব্যস, হই-হই করে উঠল
তারা, বলল Ñ সুরাইয়া ফারদিন গোটা দুনিয়াটাকে নাকি মাতিয়ে
দিতে পারেন, তিনি নিজেও জানেন না কী বিপুল অর্থ ও খ্যাতি
তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে ইত্যাদি।
শুরু হয়ে গেল তাদের আয়োজন ও প্রচার। সেই সঙ্গে চলল
অর্কেস্ট্রেশনের সঙ্গে সুরাইয়ার কঠোর অনুশীলন ও স্টেজরিহাে
র্সল। শিল্পী নবীন হলে কী হবে, বিশেষজ্ঞদের বিচারে সঙ্গীত
জগতে নতুন একটা মাত্রা যোগ করতে চলেছে ফিলিস্তিনি এই
বেদুঈন গায়িকা; তাই প্রচারটা একটু বেশিই করা হলো।
এত কিছু হচ্ছে, কিন্তু এজেন্সির কাজে অত্যন্ত ব্যস্ত থাকায়
তেমন খবর রাখতে পারছে না রানা। এর মাঝে একদিন
.
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now