বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বেদুঈন কন্যা—০২

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ২ গান শেষ হতে যখন আর মাত্র মিনিট দশেক বাকি, রানাকে চমকে দিয়ে কে যেন ওর কানের কাছে ফিসফিস করল, ‘সার? মিস্টার মাসুদ রানা?’ ঘাড় ফেরাতে প্রমে মস্ত একজোড়া পাকা গোঁফ দেখতে পেল রানা। গোঁফের মালিক প্রকাণ্ডদেহী এক নিগ্রো, কুচকুচে কালো। হাসছে, দাঁতগুলো ঝকঝকে সাদা। নিকষ কালো রঙের ঢোলা সুট পরায় ভীতিকর দেখাচ্ছে চেহারাটা। ‘আমি ইউসুফ মোরদেজা, সার। ম্যাডাম সুরাইয়ার বডিগার্ড। আপনার জন্যে একটা মেসেজ আছে, সার।’ ‘হ্যাঁ, বলো।’ ‘আমার সঙ্গে যদি একটু আসতেন, সার,’ বলল নিগ্রো বডিগার্ড। ‘ম্যাডাম বলে দিয়েছেন গান শেষ হবার আগেই আমি যেন আপনাকে তাঁর টেবিলে নিয়ে গিয়ে বসাই।’ ইতোমধ্যে রানা জেনেছে, সুরাইয়ার জন্য একটা টেবিল রিজার্ভ করা থাকে, গানের অনুষ্ঠান শেষ হলে ওখানে বসে কফি খায় সে। চেয়ার ছেড়ে লোকটার মুখোমুখি হলো রানা। বিস্মিত হয়েছে। জিজ্ঞেস করল, ‘তুমি জানলে কীভাবে তোমার ম্যাডাম আমাকেই নিয়ে যেতে বলেছেন?’ ‘কালও ঠিক এই টেবিলে বসেছিলেন আপনি, সার,’ বলল নিগ্রো দেহরক্ষী। ‘চেহারার বর্ণনা দিয়ে আপনাকে দেখে রাখতে বলেছিলেন ম্যাডাম।’ মাথা ঝুঁকিয়ে সবিনয়ে তার পিছু নেওয়ার জন্য ইশারা করল সে। নির্দিষ্ট টেবিলটায় এসে বসল রানা। ওকে অপেক্ষা করতে বলে বার-এর এক কোণে নিজের পজিশন নিল নিগ্রো বডিগার্ড ইউসুফ মোরদেজা। একটু পরেই গানের অনুষ্ঠান শেষ হলো। গায়িকার প্রতি সম্মান দেখিয়ে উপস্থিত সবাই যে যার চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে পড়েছে, করতালিতে মুখর হয়ে উঠল বার। কাঁধে একটা পশমি চাদর ফেলে স্টেজ থেকে নেমে আসছে সুরাইয়া ফারদিন। নিজের টেবিলে পৌঁছাতে বেশ একটু দেরি হলো তার, কারণ অনেকেই তার অটোগ্রাফ নিচ্ছে। তারপর এক সময় সোজা হেঁটে এসে রানার সামনে দাঁড়াল সে। ‘হাই!’ বলে হাসল রানা। ‘হাউ আর ইউ!’ বলে হ্যান্ডশেকের জন্য রানার বাড়ানো হাতটা ধরল সুরাইয়া। ‘খুব ভাল গান আপনি, একথা আপনার জানা আছে,’ বলল রানা। ‘অতুলনীয়া সুন্দরী, একথাও নিশ্চয়ই শুনছেন সেই ছোটবেলা থেকেই। আজ আরও দুটা কথা জেনে নিন : আশ্চর্য রহস্যময় আপনার রেশমি চুল, আর হাঁটার ভঙ্গিটা সত্যিই ভারি চমৎকার!’ ওর কণ্ঠের আন্তরিকতা স্পর্শ করল মেয়েটিকে। আপাদমস্তক দেখল রানাকে প্রশংসার দৃষ্টিতে। মিষ্টি গলায় বলল, ‘আপনার চেহারায় সাহসী একজন মানুষের ছাপ দেখতে পাচ্ছি। এবং, নো ডাউট, আকর্ষণীয়।’ একসঙ্গে হেসে উঠল দুজন। বসল মুখোমুখি দুটো চেয়ারে। ‘সাহসী, তাতে কোনও সন্দেহ নেই,’ বলল রানা। ‘দেখুন না, আপনি ডাকতেই সাহস করে চলে এসেছি। আর বাকিটুকু আপনি বলেছেন ভদ্রতা করে। রোজ একবার করে আয়নার সামনে দাঁড়াই শেভ করতে Ñ আকর্ষণীয় আমি মোটেও নই। তবে, বিশ্বাস করুন, আমি কিন্তু আপনার সম্পর্কে একটুও বাড়িয়ে বলিনি।’ মৃদু হাসল মেয়েটি। ‘শিল্পী ছাড়াও আমার আরও বড় একটা পরিচয় আছে,’ বলল সে, গর্বিত ভঙ্গিতে নিজের বুকে আঙুল ঠেকাল। ‘আমি বেদুঈনকন্যা, ফিলিস্তিনি।’ শুনে ভাল লাগল রানার। জমে উঠল গল্প।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বেদুঈন কন্যা—০২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now