বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
- জানু কি করো ? (নেহা)
- এইতো বসে আছি। তুমি ? (আমি)
- শুয়ে আছি। আচ্ছা, আমরা আজ দেখা করি...? (নেহা)
- আচ্ছা ঠিক আছে। (আমি)
- তাহলে বিকেল ৩ টায় ঐ নদীর ধারে দেখা হচ্ছে। (নেহা)
- কোন নদী...? (আমি)
- কেনো, আমরা যেখানে প্রায়ই দেখা করি সেই নদীর ধারে। (নেহা)
- ওহ ! ভুলেই গেছিলাম। আচ্ছা ঠিক আছে। (আমি)
- হুম। আসার কথা আবার ভুলোনা যেন। (নেহা)
- আরে কি বলো....! এতোটাও কম স্মৃতি আমার নয়। (আমি)
- আচ্ছা মনে থাকে যেন। (নেহা)
- হুম। এখন বাই। (আমি)
- আচ্ছা বাই। (নেহা)
নেহা ! নামটা শুনলেই যেন মনে হচ্ছে ও আমার হবু স্ত্রী আর আপনাদের হবু ভাবি তাইনা..? হুম ঠিক তাই। আমি ওকে প্রচন্ড এর থেকে একটু বেশিই ভালোবাসি। ওকে না পেলে আমি বাঁচবো। অবশ্যই বাঁচবো। কারণ আমি মারা গেলে তো আমাদের ভালোবাসাই মরে গেল। আর যে ভালোবাসার শেষ আছে, সেটা কোনো ভালাবাসাই না। তবে ওকে হারানোর প্রশ্নই আসে না। কারণ আমাদের ভালোবাসাতে কোনো ভিলেন নেই। শুধুমাত্র মৃত্যুই আমাদের আলাদা করতে পারবে। তাছাড়াও আমাদের আলাদা করার মতো আরো অনেকেই আছে। যেমন আবেগ, নেহা, ওর মন মানসিকতা ইত্যাদি। আমার ভালোবাসা কতটা শক্ত জানি না। তবে আমি ওকে ভালোবাসতে একটুও কমতি রাখি না।
বিকেলে ওর সাথে দেখা করতে গেলাম। ও আগে থেকেই অপেক্ষা করছিলো।
- একা একা দাড়িয়ে কি করো...? (আমি)
- আমার কচ্ছপ জানুর জন্য অপেক্ষা করছি। (নেহা)
- কি..! আমি কচ্ছপ ? (আমি)
- নয়তো কি শুনি। আমি কখন থেকে দাড়িয়ে আছি, আর তুমি এতক্ষনে আসলে। (নেহা)
- আরে আমি তো ঠিক সময়েই আসছি। ( আমি)
- ঠিক সময়ে আসছো না ! দেখা করার কথা ছিলো ৩টায়। তুমি আসলে ৩ টা ২ মিনিটে। ১২০ সেকেন্ড ধরে অপেক্ষা করছি।
- এটা অনেক সময় ? (আমি)
- হুম অবশ্যই। সময়ের দাম আছে তো নাকি...!
- আচ্ছ সরি। অনেক দেরি করছি আর হবে না। এবার খুশি তো..? (আমি)
- আচ্ছ চলো এখন একটু বসে কথা বলি। (নেহা)
- আচ্ছা চলো। (আমি)
দুজনে নদীর ধারে গিয়ে বসলাম। অনেক ধকল গেল আমার উপর দিয়ে। দেখলেন তো। মনে হলো ঘূর্ণিঝড়।
- আচ্ছা একটা বলি...? (নেহা)
- হুম বলো। (আমি)
- তুমি আমাকে কতটা ভালোবাসো ? (নেহা)
- এটা আবার বলতে হয় ! তুমি তো জানোই। (আমি)
- তবুও.. তোমার মুখ থেকে শুনতে চাই। (নেহা)
- অনেক ভালোবাসি। (আমি)
- সবার চাইতে বেশি, তাইনা ?
- আরে ধুর কি বলো। সব চাইতে বেশি আমি নিজেকে ভালোবাসি। (আমি)
- কি...! তার মানে তুমি আমাকে ভালোবাসো না। সবাই তাদের গার্লফ্রেন্ডকে নিজের জীবনের চাইতেও বেশি ভালোবাসে আর তুমি কিনা নিজেকে বেশি ভলোবাসো....? (নেহা)
- কে জীবনের চাইতেও বেশি ভালোবাসে...? একজনের নাম বলোতো শুনি। (আমি)
- আমার বান্ধবী নিশি। ওর বিএফ ওর জন্য জীবন পর্যন্ত দিতে পারে বুঝলে। আর তুমি...... (নেহা)
- হা হা হা। তাই নাকি ! ওর বিএফ এর মাথায় যদি বন্দুক রেখে বলি যে নিশিকে ভুলে যা, তাইলে বলবে নিশি কে ? আমি তো চিনিই না। ওরা শুধু মুখেই বলে জীবন দিবে। কাজের কাজ কিছুই না। মেয়েদের মনে জায়গা করে নিতে ঐসব বলে বুঝছো। (আমি)
- কথা খুব একটা খারাপ বলোনি। তুমি তো মিথ্যে হিসেবেও আমাকে বলতে পারো। যাতে খুশি হই। তাও তো বলোনা। (নেহা)
- আমি মিথ্যে বলে কাউকে খুশি করতে চাইনা। কারণ একদিন সেই মিথ্যে কষ্টের কারণ হয়ে দাড়াতে পারে। (আমি)
- হুম বুঝলাম। (নেহা)
- কি বুঝলে ? (আমি)
- এই, যে তুমি অনেক ভাষণ দিতে পারো। (নেহা)
- সব সময় মজা করো না। জায়গা বুঝে মজা করবে। (আমি)
- আচ্ছা সরি। (নেহা)
- হুম। ঠিক আছে। (আমি)
- আচ্ছা চলো বাসার দিকে যাওয়া যাক। (নেহা)
- হুম চলো। (আমি)
পরের দিন সকালে গেলাম একটু চা খেতে। হঠাৎ নেহার ফোন।
- কোথায় তুমি ? (নেহা)
- এইতো চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছি। কি হয়েছে ? (আমি)
- এক্ষুণি আমার সাথে দেখা করো ঐ নদীর ধারে। (নেহা)
- আরে কি হয়েছে সেটা তো বলো ? (আমি)
- আগে দেখা করো তারপর বলছি। (নেহা)
- আচ্ছা, আমি আসছি। (আমি)
তারপর আমি চলে গেলাম নদীর ধারে। যেখানে আমরা প্রায়ই দেখা করি।
- কি ব্যাপার ! কি হয়েছে ? (আমি)
- আমার বাবা আমার বিয়ে দেয়ার জন্য ছেলে দেখেছে। কাল আমাকে দেখতে আসবে। যদি পছন্দ হয় তাহলে কালই আমাদের বিয়ে দিয়ে দিবে। (নেহা)
- হঠাৎ করেই ? (আমি)
- হুম। আমিও জানতাম না। আজ সকালে বাবা আমায় বলল। (নেহা)
- ওহহ। আমি এখন কি করব বলোতো ? (আমি)
- কি করবে মানে ? আমায় নিবে পালাবে। (নেহা)
- দেখো তোমায় নিয়ে পালালাম, তারপর এক সাথে সংসার করব। কিন্তু আমার পরিবারের কি হবে ? আমার মা-বাবাকে কে দেখবে ? তাই বলছি, আমি তোমাকে নিয়ে পালাতে পারব না। (আমি)
- কি...! আমাদের ভবিষ্যত এর চাইতে তোমার বাবা-মা বড় হয়ে গেলো ? ঐ বুড়ো-বুড়ির জন্য......... (নেহা)
তখনি নেহার গালে জোরে একটা থাপ্পর মারলাম।
- আর একটা কথাও বলবে না আমার বাবা-মাকে নিয়ে। ঐ বুড়ো-বুড়ির জন্যই আজ আমি এত বড় হয়েছি, এই পৃথিবীরর মুখ দেখছি। আমার বাবা-মার কারনেই আমি আজ শিক্ষিত সন্তান। তারা কি আমায় তাদের ছেড়ে চলে গিয়ে স্বার্থপর এর মতো বাঁচার জন্য জন্ম দিয়েছে ? যার মধ্যে একটুখানি বিবেক আছে, সে বাবা-মাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা ভাববে না। (আমি)
- হুম। সবসময় আমিই ভুল কথা বলি। তুমিই সবসময় ঠিক। আচ্ছা ঠিক আছে, আমি ভুল নিয়েই বাঁচব। তুমি তোমার বাবা-মাকে নিয়ে থাকো। (নেহা)
- হুম চলে যাও। তোমার প্রয়োজন আমার আর নেই। (নেহা)
নেহা কাঁদতে কাঁদতে বলল.....
- আমাকে কি একবারও থামতে বলবে না ? (নেহা)
আমিও চোখে জল নিয়ে বললাম....
- নাহ। আজ আর থামতে বলব না। তোমাকে থামিয়ে আমার কোনো লাভ নেই। আমার বাবা-মাকে নিয়ে যে চিন্তা করবে এমন কাউকে আমার দরকার। যাও তুমি। চলে যাও। তোমার মতো অনেক মেয়েই হয়তো পাবো। বাবা-মা আর একটাও পাবো না। যাও। (আমি)
নেহা চলে গেল। আজ কোনো আফসোস নেই আমার। হয়তো আপনারা এটা বলতে পারেন যে, আমি কখনো তাকে ভালোইবাসিনি। আর যদিও ভালোবাসি তাহলে এভাবে যেতে কেন দিবো। ভাবতে ইচ্ছে হলে ভাবুন। না করব না। কিন্তু আমার ভালোবাসা এতটাও মহান না যে বাবা-মা কে ছেড়ে স্বর্থপর এর মতো বাঁচবো।
(এটা গল্পের ১ম চ্যাপটার। এখানেই গল্প শেষ না। ২য় চ্যাপটার তাড়াতাড়ি নিয়ে আসবো।)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now