বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বাসর কাহিনি

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আরমান হোসেন (০ পয়েন্ট)

X বাসর কাহিনি .. .. বিয়ে করার কোন ইচ্ছেই আমার ছিল না। সবেমাত্র একটা নতুন চাকরিতে যোগ দিয়েছি। চাকরিতে থিতু হওয়ার আগেই মা আর বাবা মিলে আমাকে চেপে ধরলো বিয়ে করার জন্য। প্রথম প্রথম আমি রাজি হয়নি। কিন্তু যখন দেখলাম কয়েকদিন যাবত মা বাবা মুখ ভার করে আছে তখন আর মানা করতে পারলাম না। তারা আর এমন কি চাচ্ছে? চাইছে শুধু পুত্রবধুর মুখ দেখতে। তাই অবশেষে রাজি হয়ে গেলাম। .. একমাসের মধ্যেই ধুমধামের সাথে আমার বিয়ে হয়ে গেল। আজ আমার বাসর রাত। ভাবতেই অবাক লাগে। আমার স্ত্রীর নাম তানিশা জাহান নীলা। তাকে আমি এখন পর্যন্ত একবারই দেখেছি। তাও খুব বেশি সময়ের জন্য নয়। .. আস্তে করে ঘরের দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলাম। নীলা খাটের মাঝখানে বসে আছে। অনেক গল্প এবং সিনেমায় দেখেছি বাসর রাতে বউরা ইয়া লম্বা ঘোমটা দিয়ে বসে থাকে। কিন্তু এখানে এমন কিছুই দেখছি না। আমার কিছুক্ষন আগে বিয়ে করা বউ খাটে বসে আছে, তবে মাথায় ঘোমটা নেই। তার পরিবর্তে হাতে আছে মোবাইল। মোবাইল থেকে টুং টুং শব্দ হচ্ছে। তার মানে আমার তিনি এখন কারো সাথে চ্যাটিং করছে। .. মুহূর্তের মধ্যে মনের আকাশে সন্দেহের মেঘ দানা বাঁধলো। নীলা কি তার কোন ছেলে বন্ধুর সাথে.......? মনে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ নিয়ে খাটের কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম। আমার দিকে একবার মাত্র তাকালো। তারপর আবারো মোবাইলের দিকে মনযোগ প্রদান করলো সে। আমি কি করবো ভেবে পাচ্ছি না। কি করা উচিত আমার এখন? - উফ আপনার আসতে এতো দেরি হলো কেন? আমার এই পরিস্থিতিতে কি করণীয় তাই ভাবছিলাম। এমন সময় নীলা আমাকে উপরের কথাটা বলে উঠলো। অসম্ভব রকম শান্ত আর মিষ্টি কন্ঠ। আমি তার কথার জবাব না দিয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছি। মুখে অতিরিক্ত পরিমান প্রসাধনী ব্যবহারের ফলে আসল সোন্দর্য্যটা প্রকাশ পাচ্ছে না। - কি ব্যাপার হা করে কি দেখছেন? আমার পাশে বসুন।(নীলা) নীলার কথায় কিছুটা লজ্জা পেলাম। তারপর ধীরে সুস্থে খাটের উপর উঠে বসলাম। - আচ্ছা আপনি বসুন আমি একটু এই গয়নাগুলো খুলে আসছি। এগুলো অনেক ভারী। (নীলা) আমি অবাক হয়ে নীলার দিকে তাকিয়ে আছি। মেয়েটার মধ্যে কোন জড়তা নেই। আজ তার বাসর রাত, এবং আমি মোটামুটি অপরিচিত একজন পুরুষ। কিন্তু তার মনে কোন সংকোচ বোধ নেই। .. পাক্কা পনের মিনিট পর সে ফিরলো। শুধু গয়না খুলেই আসেনি, হাত মুখ ধুয়ে এসেছে বোধহয়। কারন মুখের সেই ভারী মেকআপ নেই। - আপনি আসতে দেরী করছিলেন তাই একটু বান্ধবীদের সাথে চ্যাটিং করছিলাম। কিছু মনে করেননি তো? (নীলা) আমি হালকা মাথা নেড়ে জবাব দিলাম। বুঝাতে আমি মোটেও কিছু মনে করিনি। - আচ্ছা আপনি কি বোবা? (নীলা) এই কথায় মোটামুটি চমকে উঠলাম। মেয়ে বলে কি? - নাহ আমি মোটেও বোবা নই। (কিছুটা জোর গলায় বললাম) - যাক বাবা বাঁচলাম। আমি তো মনে করেছিলাম আপনি বোবা। - এটা মনে করার কারন কি? - কারন ঘরে ঢুকে আপনি কোন কথাই বললেন না। তাই ভাবলাম.......। - আসলে কি বলবো বুঝতে পারছিলাম না। - ওমা কি বলবেন জানেন না? - না। - আমি কিন্তু জানি। - তাহলে আমায় শিখিয়ে দাও। - আজ যেহেতু আমাদের বাসর রাত সেহেতু আজ আমরা সারারাত জেগে থেকে আমাদের জীবনের যত স্বপ্ন আছে তা বলবো। আমি আপনারটা শুনবো আর আপনি আমারটা। - ও তাই বুঝি? - হুম তাই। আপনি শুরু করুন আপনার জীবনের স্বপ্নের কথা। - নাহ আগে তুমি শুরু করো। - আচ্ছা ঠিক আছে আমিই বলছি। আমার জীবনের স্বপ্ন একটাই। আমি আমার স্বামীর সাথে একটাই বালিশে ঘুমাবো। আমার স্বামীর মাথার নীচে বালীশ থাকবে আর আমি ঘুমাবো আমার স্বামীর বুকে। সকালে আমার স্বামীর কপালে একটা চুমু দিয়ে আমার দিন শুরু হবে আর আমার কপালে স্বামীর একটা চুমু দিয়ে আমার দিন শেষ হবে। .. নীলার স্বপ্ন শুনে মনে মনে পুলকিত বোধ করলাম। এবার আমার স্বপ্নের পালা। - আমারও জীবনের স্বপ্ন একটাই। আমার স্ত্রীর সাথে প্রেম করা। তাকে নিয়ে প্রতিদিন পার্কে ঘুরতে যাওয়া এবং তাকে প্রতিদিন একটা লাল গোলাপ দিয়ে প্রোপোজ করা। যদি আমি রেগে যাই সেও রেগে যাবে। যার ফলে রাগে রাগে কাটাকাটি হয়ে শুধু থেকে যাবে ভালবাসাটা। আর ও রেগে গেলে আমি ওর রাগ ভাঙ্গাবো। যাতে এই ভালবাসাটা আরও শক্ত হয়। কারন দুঃখ না পেলে কখনো সুখ অনুভব করা যায়না। যখন সে ঘুমাবে তখন আমি না ঘুমিয়ে তাকিয়ে থাকবো তার মায়াবী ঘুমন্ত মুখের দিকে। সকালে তার আদুরে ডাকে আমার ঘুম ভাঙ্গবে আর তার ঠোটের মিষ্টি ছোঁয়ায় আমার সকালটা হয়ে যাবে ডায়াবেটিসময়। .. আমার কথা শুনে খিলখিলিয়ে হেসে উঠলো নীলা। ওর হাসিটা অতিশয় অসাধারন। - জানেন বিয়ের আগে আমি কমপক্ষে একশোটা প্রোপোজাল পেয়েছি। কিন্তু আমি কখনো প্রেম করিনি। কারন আমি আমার ভালবাসাটা জমিয়ে রেখেছিলাম আমার স্বামীর জন্য। আজ আমার হৃদয়ের সবটুকু ভালবাসা আমি উজাড় করে দেব আমার স্বামীকে। (মুচকি হাসি) - আমি এখনো কাউকে প্রোপোজ করিনি বা পাইনি। তবে আজ প্রোপোজ করবো। এই কথা বলেই আমি আমার হাত নীলার দিকে বাড়িয়ে দিলাম। - তোমার ভালবাসার সাগরে হাবুডুবু খেতে চাই আমি, চাই কাটতে সাঁতার। যদি দাও অনুমতি, তবে পাড়ি দিতেও প্রস্তুত সপ্ত পারাবার। দেবে কি আমায় অনুমতি? - (হাসতে হাসতে) দিতে পারি তবে একটা শর্তে। - কি সেই শর্ত মহারানী? - আমি আর তুমি সারারাত আজ ছাদে গিয়ে বসে থাকবো। আকাশে আজ চাঁদ উঠেছে। সারারাত চাঁদ দেখবো। তবেই অনুমতি পাবে। - কি দরকার ছাদে যাওয়ার? যেখানে ঘরের ভিতরেই বসে আছে আরেকটা চাঁদ? .. লেখক : আরমান হোসেন


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বাসর কাহিনি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now